কুশিয়ারানিউজ ডেস্কঃ সিলেটে নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন নৌকা প্রতীকের জয় হলে দেশের উন্নয়ন হয়, জনগণের কল্যাণ হয়। আওয়ামী লীগ শুরু থেকেই জনগণের অধিকারের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। উন্নয়নের জোয়ার সিলেটে এসেছে। আমরা সিলেট বিভাগে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করেছি। প্রতিটি এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। আমরা ১৬শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করতে পেরেছি। আজ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে, ভাগ্য পরিবর্তন হচ্ছে। সিলেটে শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছি। এখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ হবে। প্রবাসী যারা আছেন, তারাও বিনিয়োগ করতে পারবেন। সকলের বিনিয়োগের সুযোগ করে দিচ্ছি, যেখানে কর্মসংস্থান হবে।

শনিবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথাগুলো বলেন তিনি।

উন্নয়নের এ ধারাকে অব্যাহত রাখতে নৌকা প্রতীকে ভোট চান দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাড. লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের সঞ্চালনায় আয়োজিত জনসভায় তিনি আরো বলেন, নৌকা হচ্ছে মানুষের বিপদের বন্ধু, নৌকায় ভোট দিয়ে মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছিলো। নৌকায় ভোট দেয়ার কারণে দেশে উন্নয়ন হয়েছে। আগে বিদেশে গেলে ভিক্ষা চাওয়ার দেশ হিসেবে আমাদের চিনতো, এখন তারাই বলে বাংলাদেশ মানেই উন্নয়ন। এখন প্রতিটি ক্ষেত্রে সবাই সমান সুযোগ পাচ্ছে। আমরা উন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। আমরা মাথা উঁচু করে চলবো। পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্ব ব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ করেছিলো, আমি চ্যালেঞ্জ করেছি, বলেছি আমি নিজের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য রাজনীতি করি না, আমি দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য রাজনীতি করি। পরে তা প্রমাণ হয়েছে। পরে বলেছি ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের টাকা লাগবে না। আমাদের এই একটি সিদ্ধান্ত আমাদেরকে বিশ্বের কাছে মর্যাদা প্রদান করেছে।

জনসভায় উপস্থিত সকলের কাছে সিলেট বিভাগের ১৯ টি আসনের মহাজোটের সকল প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সিলেটে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, সিলেটের সকল জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করন প্রকল্প অনুমোদন, হাইটেক পার্ক, ওসমানী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করণ, সিলেটের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, নদী ড্রেজিং ও হাওর অঞ্চলের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে।

সিলেটের চার জেলার সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। আগামীতে ক্ষমতায় আসলে তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে নির্বাচনী প্রচারণার উদ্দেশ্যে সিলেট আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরপর তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.), হযরত শাহপরান (রহ.) ও সিলেটের প্রথম মুসলিম গাজী বুরহান উদ্দিনের মাজার জিয়ারত করেন।

আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা মাজার জিয়ারত শেষে জোহরের নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের জন্য নগরীর সার্কিট হাউজে অবস্থান করেন। এরপর বেলা ৩ টা ১২ মিনিটে সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জনসভাস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।। সেখানে তিনি বিকেল ৪ টা ৪ মিনিটে বক্তব্য শুরু করে ৪ টা ৩৮ মিনিট পর্যন্ত বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করুনঃ