ডেস্ক নিউজঃ মিয়ানমারের মানবাধিকার বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লি বলেছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরুর আশু কোনো সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না।

কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির থেকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সরকারকে ‘তাড়াহুড়ো’ না করারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সাত দিনের বাংলাদেশ সফরে আশ্রয় শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি এবং নোয়াখালীর ভাসান চরের অবস্থা নিজের চোখে দেখে ফিরে যাওয়ার আগে শুক্রবার ঢাকায় এক ব্রিফিংয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন ইয়াংহি লি।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গারা যে শিগগিরই মিয়ানমারে ফিরতে পারছে না, এটা এখন স্পষ্ট।”

মিয়ানমারের রাখাইনে নিপীড়নের শিকার বাংলাদেশে আসা এই জনগোষ্ঠীর এ দেশে অবস্থানের প্রশ্নে দীর্ঘমেয়দী একটি পরিকল্পনা করতে সরকারকে পরামর্শ দেন তিনি। 

২০১৭ সালের অগাস্টে রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরুর পর থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা।

তাদের কক্সবাজারের কয়েকটি কেন্দ্রে আশ্রয় দিয়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তায় জরুরি মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ সরকার।

আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চুক্তি করার পর ২০১৮ সালের নভেম্বরে প্রত্যাবাসন শুরুর প্রস্তুতি নিয়েছিল বাংলাদেশ।

কিন্তু মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে রোহিঙ্গাদের মনে আস্থা না ফেরায় এবং তারা কেউ ফিরে যেতে রাজি না হওয়ায় সেই পরিকল্পনা অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলে যায়।

জাতিসংঘ দূত বলেন, “রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত। কিন্তু তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির বদলে মিয়ানমার সহিংসতা আর নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে।”

নির্বাচনের ব্যস্ততা যেহেতু পার হয়ে গেছে, সেহেতু এখন রোহিঙ্গাদের বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী একটি পরিকল্পনা তৈরি করার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সেজন্য প্রস্তুত করার পরামর্শ দেন ইয়াংহি লি।

তিনি বলেন, “তা না করতে পারলে শরণার্থীদের ওপর যেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, তেমনি বাংলাদেশিদের মধ্যেও বিরূপ প্রভাব পড়বে, যারা ইতোমধ্যে শরণার্থীদের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন।”

শেয়ার করুনঃ