ডেস্ক নিউজঃ পরপর দুই সপ্তাহে দেশের দুটো আলাদা জায়গায় দুজন ধর্ষকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে! দুজনকেই গুলি করে খুন করা হয়েছে, আর দুটো লাশের পাশেই পাওয়া গেছে সাদা কাগজে লেখা চিরকুট, আর সেই চিরকুটে লেখা ছিল ধর্ষণের সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি!

গত ১৮ই জানুয়ারী সাভারের আমিন মডেল টাউন থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রিপন নামে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এই রিপন এক গার্মেন্টস কর্মীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী ছিল।

আর গত ৫ জানুয়ারি সাভারের আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানার এক নারী শ্রমিক সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। এর এক দিন পর ওই নারী মারা যান। পরে ঘটনায় ওই নারীর বাবা মামলা দায়ের করেন, সেই মামলার আসামী ছিল রিপন। ঘটনার দুই সপ্তাহের মাথায় সে খুন হয়।

রিপনের লাশ যখন উদ্ধার করা হয়, তখন তার গলায় বাঁধা ছিল একটা কাগজ, আর সেই কাগজে লেখা ছিল- ‘আমি ধর্ষণ মামলার মূল হোতা!’

ফের একই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। এবারের ঘটনাস্থল ঢাকা থেকে প্রায় তিনশো কিলোমিটার দূরের জেলা ঝালকাঠি। শনিবার দুপুর ২টার দিকে বলতলা গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া থানার পরির্শক এনামুল জানান, “মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সজলের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় সুতা দিয়ে ঝুলানো একটি চিরকুটে লেখা ছিল: ‘আমার নাম সজল, আমি কারিমা আখতারের ধর্ষক, তাই আমার এই পরিণতি’।”

ভাণ্ডারিয়া ও কাঁঠালিয়া থানা পুলিশ জানান, গত ১২ জানুয়ারি সকাল ১১টার দিকে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার নদমুলা গ্রামের বাড়ি থেকে পাশের হেতালিয়া গ্রামে নানা বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার পথে এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে মুখ চেপে ধরে তুলে নিয়ে পানের বরজের ভেতর গণধর্ষণ করা হয়। সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করে মেয়েটির পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। যেন এ ঘটনা কাউকে না জানায় এবং কোনো ধরনের মামলা না করে, মামলা করা হলে পরিণতি খুব খারাপ হবে বলেও শাসানো হয়। ভয়ে নির্যাতিতা মেয়েটির পরিবার ও স্বজনরা পালিয়ে পালিয়ে ছিলেন বেশ কিছুদিন।

এই ঘটনার ৩দিন পর গত ১৪ জানুয়ারি মেয়ের বড় ভাই বাদী হয়ে ভাণ্ডারিয়া থানায় সজল ও রাকিব হোসেনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকে উভয় আসামি পালাতক ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে পুলিশের খাতায় সজল পলাতক থাকলেও, নিয়তির হাত থেকে রক্ষা পায়নি সে। অজানা এক আততায়ী নিজেই তাকে সাজা দেয়ার ভার হাতে তুলে নিয়েছিল।

পরপর দুই সপ্তাহে দুটো ঘটনা ঘটলো, একই রকমের, একই ধাঁচে খুন করা হলো দুই ধর্ষককে, খুনের পরে লাশের পাশে পাওয়া গেল একই ভাষায় লেখা দুটো চিরকুট। কে বা কারা এই দুই ধর্ষককে খুন করেছে, পুলিশের কাছে সেই ব্যাপারে এখনও কোন তথ্য নেই।

যে বা যারা খুনগুলো করেছে, তারা কি একক কোন ব্যক্তি নাকি গোষ্ঠী, সেটাও নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। তবে দুটো হত্যাকাণ্ডের প্যাটার্ন বিবেচনা করলে এটা ভেবে নেয়াই স্বাভাবিক যে, একই ব্যক্তি বা দলের মাধ্যমেই খুনের ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই জোড়া খুনের মোটিভ কি?

ধর্ষণের বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার ব্যাপারটা আমাদের দেশে খুবই কমন একটা জিনিস। বছরের পর বছর গড়ায়, বিচার হয় না, প্রমাণের অভাবে ছাড়া পেয়ে যায় অপরাধী। অনেক সময় তো অপরাধীরা প্রভাবশালী হবার কারণে নির্যাতিতা এবং তার পরিবারই উল্টো হয়রানির শিকার হন।

ঘটনাগুলো যেভাবে ঘটেছে, তাতে এটা পরিস্কার যে প্রচলিত আইন-আদালতের ওপরে এই দলটির আস্থা নেই, তাই বিচারের কাজটা নিজেদের হাতেই তুলে নিয়েছে। কিন্ত সমস্যা হচ্ছে, ধর্ষণের ঘটনাগুলোর কোন সমাধান নয় এটা।

শেয়ার করুনঃ