সাহিত্য ডেস্কঃ গোলাপগঞ্জের কুশিয়ারা পাড়ের কৃতি সন্তান প্রবাসী কবি এ কে এম আবদুল্লাহকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত শান্তিনিকেতনের ‘সৎসংঘ পাঠাগার’এর পক্ষ থেকে সম্মাননা এওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে।

সৎসঙ্গ পাঠাগারের এক দশক পূর্তি উপলক্ষে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা দশটি বইয়ের লেখককে এ এওয়ার্ড প্রদান করা হয়। যার মধ্যে কবি এ কে এম আব্দুল্লাহকে ২০১৮ সালে তার লেখা ‘যে শহরে হারিয়ে ফেলেছি করোটি’ কবিতাগ্রন্থটির জন্য সম্মাননা এওয়ার্ডে ভূষিত করা হয়।

গত ৩ জানুয়ারী বোলপুরের জনমঙ্গল হিলসিটি হলে জাকজমকভাবে গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা দশজন লেখককে এ সম্মাননা এওয়ার্ড প্রদান করে সৎসঙ্গ পাঠাগার। এসময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাব্য বিশারদ প্রফেসর ড. অনুপম রায় চৌধূরী ( দিল্লি )।

পুরষ্কার প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন: পাকিস্তানের দুইজন, শ্রীলংকার দুইজন, চায়নার একজন, ফিলিপাইনের একজন, ভারতের দুইজন এবং বাংলাদেশের দুইজন।বাংলাদেশের একজন হচ্ছেন কবি এ কে এম আব্দুল্লাহ। 

বাংলাদেশী কবিদের এই বিরল সম্মান অর্জন করায় আমরা তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

কবি এ কে এম আব্দুল্লাহ তাঁর লেখনীর মাধ্যমে ইতোমধ্যে স্থান করে নিয়েছেন পাঠকের মণিকোঠায়। লেখনীর মাধ্যমে বেশ সম্মান কুঁড়াতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। পেয়েছেন ভারতের রাজস্হানের ড.শ্যাম সুন্দর মেমোরিয়াল ট্রাস্টের ( শতবছর পূর্তি পালন উপলক্ষে) পক্ষ থেকে ২৫ হাজার রুপি ও একটি স্বর্ণ মেডেল পুরস্কার। উল্লেখ্য এই সংগঠন প্রতিবছর সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদানের জন্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সাহিত্যিকদের এ পুরষ্কার দিয়ে থাকে। এছাড়াও পেয়েছেন নবধারা সাহিত্য সংঘ সম্মাননাসহ বেশ কিছু সম্মাননা পুরষ্কার।

কবি এ কে এম আব্দুল্লাহ’র ‘যে শহরে হারিয়ে ফেলেছি করোটি’ কবিতাগ্রন্থখানি কবিতাপ্রেমী পাঠকের মনের খোরাক মিটিয়ে আনন্দ, চেতনাবোধ ও অনুপ্রাণিত করে তুলেছে পাঠকের মন। ২০১৮ সালে মহান একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় তাঁর এই কবিতাগ্রন্থটি।

প্রকাশিত হওয়ার পর বইটি কবিপাড়ায় ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। একইসাথে পাঠকের কাছে হয়েছে ব্যাপক প্রশংসিত।
সমাজে ঘটেযাওয়া নানা ঘটনা তার উপলব্দিতে বাস্তবতাবোধের এক শৈল্পিক রুপ যেনো প্রকাশিত হয়েছে প্রতিটি কবিতায়।
‘যে শহরে হারিয়ে ফেলেছি করোটি’ বইটির উপর বেশ কিছু চমৎকার পাঠপ্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়েছে- জনপ্রিয় জাতীয় পত্রিকা দৈনিক জনকণ্ঠ, সিলেট বেতার, চ্যানেল আই অনলাইন, জলধি-সহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়।

তাঁর প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সচেতনা, হৃদয়ে রক্তক্ষরণ, মাটির মাচায় দন্ডিত প্রজাপতি, যে শহরে হারিয়ে ফেলেছি করোটি প্রভৃতি।
উপন্যাসসমূহের মধ্যে রয়েছে – ক্ষুধা ও সৌন্দর্য।

এছাড়াও কবি এ কে এম আব্দুল্লাহ’র রয়েছে বেশ কিছু যৌথ প্রকাশনা।
সম্পাদনা করেছেন অণুগল্প সংকলন ‘শব্দবিন্দু’।
তাছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পত্রিকা, অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা , সাহিত্য ব্লগ, লিটলম্যাগসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিয়মিত লিখছেন।

কবি এ.কে.এম. আব্দুল্লাহ সিলেট জেলার ঐতিহ্যবাহী গোলাপগঞ্জ উপজেলার কুশিয়ারা তীরবর্তী বুধবারীবাজার ইউনিয়নের বনগ্রামের নন্দিত সন্তান। পিতা মরহুম ক্বারী মোহাম্মদ ছুরাব আলী, মাতা মরহুমা ফাতিরা খাতুন। তিনভাই ও তিন বোনের মধ্যে কনিষ্ঠ সন্তান এ.কে.এম. আব্দুল্লাহ। স্থানীয় প্রাইমারী স্কুল, আল-এমদাদ হাইস্কুল এন্ড কলেজ এবং সিলেট এম সি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে বর্তমানে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বসবাস করছেন।

কবি আব্দুল্লাহ উচ্চবিদ্যালয় থেকেই লেখা-লেখি শুরু করলেও মধ্যে কিছুটা বিরতি শেষে প্রবাসের ব্যস্ততায়ও নিজেকে সাহিত্য চর্চায় নিয়োজিত রেখেছেন নিয়মিত।
লেখালেখির পাশাপাশি তিনি একজন সফল সংগঠকও বটে। তিনি সংহতি সাহিত্য পরিষদ, কবিতাস্বজন, মেট্রোমেঘসহ বিভিন্ন সাহিত্য সংঘটনের সাথে জড়িত রয়েছেন। বর্তমানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ ইউকে-এর কোষাধক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন।

এছাড়া তিনি শিক্ষার উন্নয়নের জন্য গঠিত সিলেটের গোলাপগন্জ উপজেলা এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে আল এমদাদ হাইস্কুল ও কলেজ এডুকেশন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

শেয়ার করুনঃ