পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পরিচালনা ও আইন শৃঙ্খলা খাতে সাড়ে সাতশ কোটি টাকার বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে।

আগামী ১০ মার্চ থেকে পাঁচ ধাপে এ নির্বাচন করার পরিকল্পনা সাজিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

দেশের ৪৯২ উপজেলার মধ্যে প্রথম ধাপে ৮৬টি, দ্বিতীয় ধাপে ১২৪টি, তৃতীয় ধাপে ১২৭টি ও চতুর্থ ধাপে ১২২টি উপজেলায় ভোট হবে। বাকি উপজেলাগুলোতে ভোট হবে জুনে।

নির্বাচন কমিশনের বাজেট শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব এনামুল হক জানান, এবার ৭৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচন পরিচালনায় ৩০০ কোটি টাকার বেশি এবং আইন শৃঙ্খলায় সাড়ে চারশ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হতে পারে।

এই বরাদ্দ সর্বশেষ ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ব্যয়ের প্রায় দ্বিগুণ।

পাঁচ বছর আগে সেই ভোটে প্রায় ৩৭৩ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল। তাতে নিরাপত্তা ব্যয় ছিল প্রায় ২০০ কোটি টাকা; আর পরিচালনায় খরচ হয় ১৭৩ কোটি টাকা।

তার আগে ২০০৯ সালে একদিনে সারা দেশে উপজেলা ভোট হয়। সেবার খরচ হয় প্রায় ১৩৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে আইন শৃঙ্খলায় ৪৯ কোটি টাকা এবং বাকিটা পরিচালনায় ব্যয় হয়।

এবারের নির্বাচনে উপজেলা পর্যায়ে প্রথমবারের মত ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর তাতে ইভিএম, ট্যাব ও আনুষাঙ্গিক খরচ বাবদ আরও ১৩০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রায় সমান ব্যয় হচ্ছে উপজেলার ভোটে।

গত ৩০ ডিসেম্বর ওই নির্বাচনে ৭৬৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়। এর মধ্যে নির্বাচন পরিচালনায় ৩০০ কোটি টাকা এবং নিরাপত্তা খাতে ৪৬৪ কোটি টাকা খরচ হয়।

ইসির বাজেট শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, ধাপে ধাপে ভোট করায়, ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষের সংখ্যা বাড়ায় এবং নির্বাচনী সামগ্রীর ব্যয় ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের ভাতা বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার ভোটের ব্যয় গতবারের তুলনায় বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।

আইন শৃঙ্খলাবাহিনী মাঠে থাকবে ৫ দিন

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে বলা হয়েছে, ভোটের আগে দুই দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পরে দুই দিন মিলিয়ে মোট পাঁচ দিন আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা মাঠে থাকবেন।

এবারের নির্বাচনের প্রথম চার ধাপের ভোট হবে ১০ মার্চ, ১৮ মার্চ, ২৪ মার্চ ও ৩১ মার্চ ।

পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার-ভিডিপি, কোস্টগার্ড, আর্মড পুলিশও ব্যাটালিয়ান আনসার সদস্যরা থাকবেন ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায়। নির্বাহী ও বিচারিক হামিকরা আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করবেন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে রিটার্নিং অফিসার নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেবেন।

৭ দিন আগে বৈধ অস্ত্র বহনও নিষিদ্ধ

ভোটের ৩২ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচার নিষিদ্ধ থাকবে। সেই সঙ্গে ভোটের ৭ দিন আগে থেকে বৈধ অস্ত্র লাইসেন্সধারীদের অস্ত্র বহন, প্রদর্শন নিষিদ্ধ করেছে জননিরাপত্তা বিভাগ।

সাধারণ কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৪ জন, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৫ জন এবং বিশেষ এলাকায় (পার্বত্য, হাওর ও দ্বীপ) সাধারণ কেন্দ্রে ১৫ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৬ জন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।

শেয়ার করুনঃ