আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরের পাশে ছুরি ও বেসবল ব্যাট নিয়ে হামলা চালিয়েছে এক সন্ত্রাসী। এতে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৯ বছরের এক কিশোর। লন্ডন পুলিশ বলছে, অতি-ডানপন্থীদের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে। তারা এই হামলার ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করছেন।

স্থানীয় সময় শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হিথ্রো বিমানবন্দরের পাশের সুরে গ্রামের স্ট্যানওয়েলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন, সন্দেহভাজন হামলাকারীর হাতে ছুরি এবং বেসবল ব্যাট ছিল। এসময় তাকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায় ‘মুসলিমকে হত্যা কর’, ‘শেতাঙ্গ আধিপত্যবাদ হত্যা কর।’

হামলায় আহত ১৯ বছরের এক তরুণকে উদ্ধারের পর স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। লন্ডনের কাউন্টার টেরোরিজম কর্মকর্তারা এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছেন।

খুনের চেষ্টা ও জাতিগত বিদ্বেষ ছড়াতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অভিযোগে সন্দেহভাজন হামলাকারী হিসেবে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে স্ট্যানওয়েল থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ব্রিটেনের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান নীল বসু বলেছেন, এই হামলার তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে আলামত দেখে এটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে মনে হচ্ছে; যা অতি ডানদের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে করা হয়েছে। এমন অবস্থায় এটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

সুরে পুলিশ বলছে, তারা রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথমে একটি টেলিফোন কল পান। এসময় তাদের জানানো হয়, স্ট্যানওয়েলের ভায়োলা অ্যাভিনিউয়ে এক ব্যক্তি ছুরি ও বেসবল ব্যাট হাতে জাতি বিদ্বেষী স্লোগান দিচ্ছে। সেখানে বেশ কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করেওই ব্যক্তি।

কয়েক মিনিট পর টেসকো কার পার্ক এলাকায় ছুরিকাঘাতে আহত হন এক তরুণ। ওই ব্যক্তিই ছুরি নিয়ে হামলা চালান বলে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তাবাহিনীর সশস্ত্র সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। এসময় তারা ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেন।

এ ঘটনার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে এক টুইটে স্ট্যানওয়েলে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সাড়া দেয়ায় দেশটির এমারজেন্সি সার্ভিসের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। টুইটে তিনি বলেন, আহত ব্যক্তি, তার পরিবার এবং বন্ধুদের প্রতি আমি সমবেদনা প্রকাশ করছি। ঘৃণ্য অতি ডান চরমপন্থার স্থান আমাদের সমাজে নেই।

সূত্র : দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।

শেয়ার করুনঃ