গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবের প্রতিবাদসহ ৫ দফা দাবিতে আগামী ৩০ মার্চ ঢাকায় মানবন্ধন করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এছাড়া একাদশ জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল বাতিল ও নতুন নির্বাচনের দাবিতে এপ্রিল মাস থেকে বিভাগীয় ও জেলাসমূহে সভা-সমাবেশ-গণশুনানীর মতো কর্মসূচি শুরু করবে ফ্রন্ট।

শুক্রবার বিকালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না একথা জানান।

তিনি বলেন, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, নিরাপদ সড়ক, উপজেলা নির্বাচনে অব্যবস্থা, ডাকসু নির্বাচনে অব্যবস্থা তথা ভোট ছিনতাইসহ সামগ্রিকভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ছিনতাই করা, দেশের সীমাহীন অর্থনৈতিক বৈষ্যম বৃদ্ধিসহ সরকার লুটপাটের ব্যবস্থা কায়েম করেছে এর প্রতিবাদে ৩০ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আমরা মানববন্ধন করবো। আমরা সারা দেশে এপ্রিল মাসে বিভাগীয় শহরগুলো কর্মসমাবেশ, সমাবেশ অথবা গণশুনানী শুরু করব। এরপর আমরা জেলাসমূহে যাবো। সারাদেশে এই আন্দোলন ছড়িয়ে দেয়ার জন্য আমাদের এই কেন্দ্রীয় কর্মসূচি থাকবে।

মান্না বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের ভোট ২৯ তারিখ রাতে ডাকাতি করে নিয়ে যাওয়া পরে মানুষ ভোটের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলেছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মানুষ ভোটের দিতে যায়নি, উপজেলা নির্বাচনে ভোটের দিকে যায়নি। পুরো দেশের মধ্যে একথা ছড়িয়ে আছে। নির্বাচন কমিশন একথা স্বীকার করছে। ইসির পাশাপাশি যারা বর্তমান সরকারের সঙ্গে আছে, যুক্তফ্রন্টের নেতা একজন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বলেছেন, পুরো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাটা ভেঙ্গে পড়ছে, দেশের অস্তিত্বের সংকট।

মান্না বলেন, আমরা যে দাবি করেছিলাম এই নির্বাচন (একাদশ সংসদ) বাতিল করতে হবে, নতুন নির্বাচন দিতে হবে- এই দাবিতে আমরা অটল আছি। সেই দাবির ভিত্তিতে আমরা লড়াই গড়ে তুলব। বিজয় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে।

এছাড়া বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে দুইদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচিসমূহ হচ্ছে- ২৬ মার্চ সকাল ৯টায় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ৩১ মার্চ বিকাল তিনটায় রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা।

জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, ইতিমধ্যে ডাকসু নির্বাচনে ভোট ডাকাতি হয়েছে, নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলন হয়েছে। সরকার স্বীকার করেছে নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা বিধানে তারা ব্যর্থ হয়েছে। ২৯ ডিসেম্বর রাতে ভোট ছিনতাই ও ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ভোট ডাকাতি হয়েছে, বিনা নির্বাচনে অনেকে নির্বাচিত হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা ঋণ খেলাপী জনগনের আমানতের কোটি কোটি টাকা লুট করে নিয়েছে যেটা কোনোদিন পরিশোধ হবে না। ১% বিনিময়ে সমস্ত টাকা মওকুফ করে দেয়ার একটা সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে- আমরা এটা প্রত্যাখান করছি। বছরের পর বছর নাগরিকরা অপহরণ হয়ে যাচ্ছে- এটা জনগনের মধ্যে উৎকন্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। দেশের যুব সমাজ-ছাত্র সমাজ. জনগন হতবাক হয়ে তাঁকিয়ে আছে- দেশে কি চলছে? একদলীয় শাসন না স্বৈরাচারি ফ্যাসিবাদী ডিকটেটরী শাসন। এর বিরুদ্ধে জাতি আজকে চাচ্ছে ঐক্যফ্রন্ট ভুমিকা রাখুক। আমরা এপ্রিল মাস থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচি দেয়ার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ড. আবদুল মঈন খান, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, জগলুল হায়দার আফ্রিক, মোশতাক আহমেদ, রফিকুল ইসলাম পথিক, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, শহিদুল্লাহ কায়সার, জাহেদ-উর রহমান. জেএসডির আবদুল মালেক রতন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের হাবিবুর রহমান তালুকদার, ইকবাল সিদ্দিকী, বিকল্পধারার শাহ আহমেদ বাদল, গণস্বাস্থ্য সংস্থার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

বিকাল ৪টায় পল্টনের জামান টাওয়ারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কার্যালয়ে স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক হয়। আসম আবদুর রবের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

শেয়ার করুনঃ