ছবিঃ সাংবাদিক সোহেল আহমদ

গোলাপগঞ্জের কুশিয়ারা তীরবর্তী উত্তর-দক্ষিণাংশের যোগাযোগের একমাত্র সড়ক কটলিপাড়া-বসন্তপুর রাস্তা। এ রাস্তাটির অপরনাম যেন জনদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। দিনকেদিন রাস্তাটি বেহাল দশায় পতিত হয়েছে। ফলে যান চলাচলে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এছাড়াও বর্তমানে রাস্তাটি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাচল করাই দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

কুশিয়ারা পাড়ের একমাত্র এ রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, মোটরবাইকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে থাকে।

কিন্তু, গেল ২ বছর পূর্বের বন্যার ফলে রাস্তাটির বুধবারীবাজার ইউনিয়নের অংশ বেশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বন্যায় চন্দরপুর-বিয়ানীবাজার সড়কের তিলপাড়া অংশ অতিমাত্রায় আক্রান্ত হলে এ রুটে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এমতাবস্থায়, বিয়ানীবাজারসহ পূর্বাঞ্চলের জনগণ বিকল্প রাস্তা হিসেবে বহরগ্রাম রুট দিয়ে কটলিপাড়া-বসন্তপুর রাস্তা ব্যবহার করে চন্দরপুর হয়ে শহরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলে। একদিকে বন্যা অপরদিকে অতিমাত্রায় যান চলাচল সব মিলিয়ে কটলিপাড়া-বসন্তপুর রোডের চন্দরপুর-বহরগ্রাম অংশটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে।

এছাড়াও সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে সড়কটির বানীগ্রাম, আওই অংশেও বিশাল বিশাল খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া, সড়কটির চন্দরপুর থেকে বাদেপাশা ইউনিয়নের অংশ ঘুরেও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থের দৃশ্য চোখে পড়ে।

এ সড়কটি ব্যবহার করে প্রাচীন জনপদ আছিরগঞ্জ ও চন্দরপুর বাজারে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। তাছাড়া আল-এমদাদ ডিগ্রি কলেজ, আল-এমদাদ উচ্চ বিদ্যালয়, আছিরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ, বহরগ্রাম-বানীগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়-সহ অসংখ্য প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এ সড়কটি দিয়েই যাতায়াত করে থাকে।

সড়কটির এমন বেহাল দশায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌছেছে।

বুধবারীবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মস্তাব উদ্দিন কামাল কুশিয়ারা নিউজকে জানান, নদী তীরবর্তী জনগণের যোগাযোগের একমাত্র অবলম্বন কটলিপাড়া-বসন্তপুর রাস্তাটি করুণ অবস্থায় পরিণত হয়েছে। জনদুর্ভোগ লাগবে গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি জানান, কিছুদিন পূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে বহরগ্রাম হতে চন্দরপুর চৌমুহনী পর্যন্ত রাস্তার জরিপ কার্য পরিচালনা করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শীঘ্রই রাস্তাটির সংস্কার কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

বানীগ্রাম বহরগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে দাতা সদস্য মোবারক আলী বলেন, রাস্তাটির পিচ উঠে বড় বড় খানা-খন্দে রূপ নিয়েছে। ইঞ্জিনচালিত বাহনগুলি প্রায় দুর্ঘটনায় পতিত হয়। রাস্তা সংস্কার করা না হলে যান চলাচল বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাকসহ ভারী যানবাহন প্রবেশ করায় রাস্তাটি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।

এদিকে, কটলিপাড়া-বসন্তপুর রাস্তাটি এখনোও শতভাগ পিচঢালা হয়নি। বুধবারীবাজার ইউনিয়নের কটলিপাড়া থেকে শুরু করে বাদেপাশা ইউপির মোল্লাকোণা পর্যন্ত পিচঢালা সম্পূর্ণ হয়েছে। যার ফলে ক্ষোভে ফুঁসছেন রাস্তাটির দক্ষিণাঞ্চলের মানুষজন। তাদের দাবী দীর্ঘদিন থেকে কটলিপাড়া-বসন্তপুর রাস্তাটি তৈরী করা হলেও, এখন পর্যন্ত শতভাগ পিচঢালা সম্ভব হয়নি। অথচ কুশিয়ারা পাড়ের একমাত্র এ যোগাযোগ মাধ্যমটি হাজার হাজার মানুষ একমাত্র অবলম্বন।

২০০৯ সালে আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় গেলে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ এ রাস্তাটির অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এবং যথারীতি কটলিপাড়া থেকে মোল্লাকোণা পর্যন্ত পিচঢালা সম্পুর্ণ করেন। কিন্তু এর পরেই থমকে যায় পিচঢালাই-এর কাজ।

এমতাবস্থায় দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় নিজস্ব অর্থায়নে এবং কিছু এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ইটসলিং-এর কাজ করানো হয়। এর বাইরে রাস্তাটি উন্নয়ন কাজের মুখ দেখে নি আর।

তাই দক্ষিণাঞ্চলের প্রাণের দাবী যত দ্রুত সম্ভব রাস্তাটি পাকাকরণ করে জনদুর্ভোগ লাগবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ মহোদয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে তারা আশাবাদী।

শেয়ার করুনঃ