নোমান মাহফুজ: তখন বিকাল সাড়ে ৪ টা। গোলাপগঞ্জের ঢাকাদক্ষিণ -বিয়ানীবাজার সড়কের মধ্যখানে চন্দরপুর-সুনামপুর ব্রিজের সুনামপুর বাজারের ত্রিমুখী অংশে যেতেই স্থানীয় যুবকরা রাস্তার কাজের জন্য গাড়ি প্রতি চাঁদা কালেকশন করতে দেখা যায়। সরকারী রাস্তার কাজ সরকারের সংশ্লিষ্টরা করবেন? আপনারা কেন চাদা তুলছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তারা ক্ষোভের সাথে বলে সরকার সংশ্লিষ্টরা যদি করবেন তাহলে আপনি-আমি, আমরা কেন এতো দুর্ভোগ পোহাবো? অবশেষে যখন প্রতিবেদকের পরিচয় তারা পেল তখন সবাই একটু স্বস্তির নিঃস্বাশ ফেলে বলে ওঠে, তাহলে তো ভালই হলো, আপনারা সরেজমিন আমাদের এ দুর্দশার চিত্র দেখে যান, আপনাদের কলমের মাধ্যমে আমাদের পাশে দাড়ান।

চন্দরপুর-সুনামপুর ব্রিজের সামনের রাস্তার গর্তগুলো দেখলে যে কেউ মনে করবে হয়তো কোন ড্রেন। সরজমিনে দেখা যায়, এখানকার বড় বড় গর্ত এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে রাস্তার মধ্যে বড় বড় গর্তের কারণে বর্তমানে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। গোলাপগঞ্জ-সুনামপুর বাইপাস সড়কেও একই অবস্থা চোখে পড়ে। এ সড়ক দিয়েই গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও বড়লেখার মানুষজন সহজেই সিলেট শহরে যাতায়ত করে থাকেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির বেহাল দশায় সংশ্লিষ্টদের গাফলতির দোষ দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর দাবী, দ্রুত গর্তগুলো ভরাট, পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করে তোলার। গত দুই বছর পূর্বে বন্যা ও ভারী বর্ষণে চন্দরপুর-সুনামপুর সেতুর সুনামপুর লামা অংশের ত্রিমুখী অংশ তলিয়ে যায়। এতে ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের শেষ প্রান্ত চন্দরপুর-সুনামপুর ব্রীজের সুনামপুর ত্রিমুখী অংশে বড় ধরনের বেশ কয়েকটি গর্তের সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির পানিতে গর্ত গুলো তলিয়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে মোটর সাইকলে ও সিএনজি অটোরিক্সার যাতায়াতে ঘটছে অতিরিক্ত বিঘ্নতা।

এছাড়া প্রতিদিনই গর্তে আটকে পড়ে ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান। চালকরা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গর্তের গহীনতা আন্দাজ করতে না পারায় দিন দিন বাড়ছে দুর্ঘটনা। এছাড়া ব্রীজের ত্রিমুখী এই স্থানে গর্তের পানিতে আশপাশ জুড়ে বিস্তৃত হয়েছে কাঁদা। এতে করে স্থানীয়দের হেটে যাতায়াত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন পূর্ব সিলেটের বিয়ানীবাজার, বারইগ্রাম, বড়লেখার হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। দুর্ভোগী এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি সড়কটিতে। সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় যান চলাচলে দুর্ভোগের পাশাপাশি অতিরিক্ত কষ্টের মধ্যে পড়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী, পার্শ্ববর্তী মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া মুসল্লিরা, পার্শ্ববর্তী প্রায় দেড় শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ, আল-এমদাদ উচ্চ বিদ্যালয়, আল-এমদাদ ডিগ্রি কলেজ, মছলম উদ্দিন খান একাডেমী ও সুনামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন, হেলাল আহমদ, তরুন সমাজকর্মী কামিল আহমদ জানান, সুনামপুর-চন্দরপুর এ সড়ক রাস্তা নাকি খাল! বোঝা যাচ্ছে না। বর্তমান সরকারের আমলে চারিদিকে উন্নয়ন হলেও আমরা এখনো অতিরিক্ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। দীর্ঘদিনের এ সমস্যায় এলাকাবাসী ও চলাচলকারীরা জর্জরিত হলেও সংশ্লিষ্টদের নজরে আসছে না। আমরা দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করে দুর্ভোগ লাঘবের দাবী জানাই।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান জানান, আমরা ড্রেনেজ নির্মাণ করার জন্য লোক পাঠিয়েছিলাম। এলাকাবাসীর অসহযোগীতার কারনে কাজ করা সম্ভব হয়নি। আগামী দু’আড়াই মাসের ভেতরে এই সড়কের একটি টেন্ডার আছে। এটির অনুমোদন পাশ হলেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সড়কটি পুনঃনির্মাণ করা হবে।

শেয়ার করুনঃ