কবি এ কে এম আব্দুল্লাহ। প্রবাসে থাকেন। কর্মব্যস্ত জীবনে কবিতা চর্চা করেন। বাংলাভাষার প্রচারে কাজ করেন। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে তার কবিতা গ্রন্থ ‘ইমেইল বডিতে সময়ের অনুবাদ’। এই গ্রন্থ নিয়ে -মামুন সুলতান এর সামান্য আলোকপাত।

কবিতা অনেক দূর এগিয়েছে। কবিতা বিজ্ঞানের হাত ধরে উড়ে গেছে মঙ্গলগ্রহে। রকেটে চড়ে যাচ্ছে চাঁদে। বিমানে উড়ছে দেশ থেকে দেশান্তরে। কবিতা এখন বিভেদ করে না তারিখ সাল নিয়ে। কবিতা বৃত্তহীন বেদনার পে-ুলাম। বিজ্ঞানের মসৃণ ছায়াপথ। কবিতা স্বীকার করে ‘হায়রে কবে কেটে গেছে কালিদাসের কাল।’ মধুসূদন, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, ফররুখ, জসীম উদদীন সবাই অমর। তাঁদের কবিতাও অমর। তাঁরা যুগের প্রমিথিউজ। যুগ-নির্মাণ সাহিত্য-সৌরভ। ‘চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা – সেই অন্ধকার ভেদ করে কবিতা এখন বনলতাসেনের খোঁপায় দিচ্ছে ফুল- লম্বা বেণী করে হাওয়ায় উদ্দাম ঝড়। বুনোবট দাঁড়িয়ে যায় কবিতা শুনতে। কিন্তু মানুষ! যিনি পাঠ করবেন কবিতার সৌকর্য- উচ্চারণ করবেন- কবিতার মাধূর্য। বিকশিত করবেন চঞ্চল মনের আবেগধেণু। যিনি কবিকে আবিষ্কার করবেন তাঁর সৃজনশীল কবিতা-গুহা থেকে। রহস্য ভেদ করে যিনি স্বাভাবিক বর্ণনে সুবাসিত করবেন কবিতার আতর-আগরের বর্ণাঢ্য বাগানে। সেই মানুষ- সেই পাঠক- কবিতা থেকে যোজন- যোজন দূরত্বে বাস করেন। যিনি আঙ্গুর খেতে খেতে দ্রাক্ষারসে বিমোহিত হবেন- তাকে কবিতা এখন আর নেশায় চূর্ণ করে না। স্কুলে পড়–য়া কোন মেয়ে কিংবা কলেজে পড়–য়া কোন ছেলে পাঠ্য পুস্তকের আড়ালে লুকিয়ে লুকিয়ে কবিতার বই পড়ে না- তাদের হাতে থাকে মোবাইল- তাদের অজুহাত গুগোল। ওদের পাঠ্য এখন গুগোল। ওরা খোঁজে মোটিভেশন। ভিডিও বক্তব্যে ওদের আস্থা। তাই আমরা কোন চিন্তক পাচ্ছি না। ধ্যানী পাঠকের সন্ধানে কবিরা এখন আল্লাহ আল্লাহ জপেন। এতে স্পষ্ট হলো- লেখক আর পাঠকের সম্পর্ক মোটেই নিকটবর্তী নয়। দুজন দুমেরুর বাসিন্দা। তাই এখন সময়ের দাবি- লেখক পাঠকের মনঃবৈষম্য দূর করে চিন্তার ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা। প্রশ্ন হলো- তা কী করে সম্ভব? এ প্রশ্নের উত্তর এতো সহজ নয়। ক্রমান্বয়ে খুঁজে বের করতে হবে। হাতে সময় নেই। যুগ ফুরিয়ে যাচ্ছে। পাঠক হারিয়ে যাচ্ছে। কবিতার পাঠক। তাদের ফেরান। কীভাবে ফেরাবেন সিদ্ধান্ত আপনার অর্থাৎ কবিদের। সুখ-পাঠ্য কবিতা রচনা করেই- কাব্যানন্দ দানের মাধ্যমে ফেরাতে হবে। সেই কবিতা রচনায় ফিরে আসুন অথবা সহজ-ব্যঞ্জনায় বিমুগ্ধ কবিতা চাই। রচনাশৈলী ঋজু, সহজবোধ্য কবিতার ভাষা চাই। হৃদয়ঙ্গম অনুভূতি চাই- আত্মার বিনোদন চাই। সেই চাওয়া সত্য হলে হয়তো পাঠক খুশি হবে।

“ইমেইল বডিতে সময়ের অনুবাদ”- একটি কবিতাগ্রন্থ। কবি এ কে এম আব্দুল্লাহ। ইমেইল বডিতে লেখা হয়েছে আধুনিক- আয়োজনে সময়ের সংবাদ। সিঁড়ি, কাগজের ফুল, লোডশেডিং, আয়না, পোড়া, মাইলফলক জীবন, বিগত জন্মস্ট্যাটাস- কবিতাগুলো ব্যতীত অবশিষ্ট সমূহ কবিতা মুক্তছন্দের গাদ্যিক আঙ্গিকে রচিত। গদ্য-কবিতার অনিবার্য প্রবাহ রক্ষা করে কবি লিখেছেন তাঁর কবিতাগুলো। ছন্দোবন্ধ কবিতা কবি আব্দুল্লাহ লিখতে পেরেছেন এর প্রমাণ আমরা পূর্ব-প্রকাশিত গ্রন্থে পেয়েছি। তাঁর সনেট কবিতাও লিখেছেন। তাই সহজে অনুমেয় কবির ছন্দজ্ঞান সম্পর্কে। গদ্য-কবিতা কেবল গদ্য নয়; এখানেও আছে ছন্দের খেলা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘লিপিকা’ গ্রন্থে গদ্য-কবিতার ব্যবহার করেছেন।‘পায়ে চলার পথ, মেঘলা দিনে, বাণী, মেঘদূত, বাঁশি, ইত্যাদি কবিতা পাঠ করলে গদ্য-কবিতার মধুরতা পাওয়া যায়। সেই মধুরতা-‘ ইমেইল বডিতে সময়ের অনুবাদ’ গ্রন্থে আসুন প্রবেশ করি। ‘আমার ভেতর পরাবাস্তবতা প্রখর হয়ে ওঠে।’- এটি এ কে এম আব্দুল্লাহর ‘ পেনড্রাইভ ও একটি কবিতা’র চরণমাত্র। কবি এ গ্রন্থের প্রথম কবিতার পরাবাস্তবতার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অ্যাপেলেনিয়র ও মালার্মে প্রমুখ কবিরা পরাবাস্তব কবিতার সৃষ্টি করেছেন। বাংলা সাহিত্যে জীবনানন্দ দাশ, শামসুর রাহমান ও আবদুল মান্নান সৈয়দের পরাবাস্তব কবিতার প্রতীক। এক্ষেত্রে আবদুল মান্নান সৈয়দের ‘জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ, মাছ সিরিজ এবং পরাবাস্তব কবিতা’ ইত্যাদি গ্রন্থে পরাবাস্তবতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে। কবি এ কে এম আব্দুল্লাহ র কবিতার সংজ্ঞায় প্রতিস্থাপন করলে বিজ্ঞান পরাবাস্তব কবিতা বলা যেতে পারে। বিজ্ঞানের যাবতীয় কলকবজাগুলো তিনি কবিতার শব্দের অনুষঙ্গ হিসেবে এনেছেন। এই শব্দগুলো একান্ত বৈজ্ঞানিক। সেই শব্দগুলো বাংলা কবিতায় পূর্বে এলেও এতো ব্যাপকভাবে আসেনি। তাই এগুলো কে আমি বিজ্ঞান-পরাবাস্তব কবিতা বলতে চাই।‘আমার চোখে ডাউনলোড হতে থাকে কমলাপুর রেলস্টেশন। রাতজাগা যাত্রির মতো লাল চোখে দেখি সিঁড়িতে শুয়ে থাকা মানুষের দৃশ্য।’ চোখের ভেতরে ডাউনলোড হয় কমলাপুর- প্রবাস জীবনে থাকা একটা মানবচিত্তের স্মৃতিকাতরতা এভাবে শব্দচিত্রের মাধ্যমে কবির মানসপটে ধরা পড়ে। ভাবনার সেই দৃশ্য ওঠে আসে কবিতায়।‘ ফ্লেভারাইজড অন্ধকার’ কবিতায় একই ফ্লেভার পাওয়া যায়। ‘ মেঘের কোন এক সন্ধ্যা শেষে পৃথিবীটা ঢুকে গেলো আমার ভেতর; আমি চিৎকার দিতে থাকি। আর বাবার পকেটে থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে পড়তে থাকে আনন্দ। চোখ বেয়ে বেয়ে ঝরতে থাকে এক একটি গ্রাম। আমার দেহে চোখে লেপটে থাকে গ্রামীণ কাদা। আমি আধবুজা চোখের ফাঁকে দেখতে থাকি খুলির ভেতর মায়ের পুনর্জন্মের ব্যাকুল দৃশ্য।’ ‘মায়ের পুনর্জন্মের ব্যাকুল দৃশ্য দেখা সাধারণ দৃষ্টিতে অসম্ভব। কবি এই অসম্ভবকে সম্ভব করতে পেরেছেন বলে কবিতার শরীরে ‘পরাবাস্তববাদ’ কবিতার আঙ্গিক সুস্পষ্ট।

ফাইভস্টার হোটেল। সেখানে এক্সিবিশন হয়। মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো স্পন্সর করতে আসে। হাইপ্রোফাইল মানুষেরা বক্তা হয়। তাদের মুখ থেকে বেরিয়ে আসে অ্যালকোহল ফ্রি ভাষণ… ‘আমরা সেই ভাষণে রিলিফের প্যাকেটের মতো বুকে জড়িয়ে ধরে হাঁটি। আমাদের দেহ থেকে পা খুলে যায়। চোখ থেকে গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ে জল। আমাদের পাঁজর গেঁথে থাকে শূন্য ক্যানভাসে।’- আঁধারে রঙিন ফ্লেক্সিলোড’- কবিতায় এভাবে কবি ওদের আচার-ব্যবহারে, উচ্চবিত্ত বহুজাতিক রকমারি কোম্পানির এক্সপোর্ট-ইম্পোর্ট করা জীবনের কাব্যিক অথচ গদ্য-জীবনের রহস্য উন্মোচন করেছেন। আমাদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে আমাদের দেহ ছিন্নভিন্ন করে ‘ সন্ধ্যা শেষে আমাদের ইমেজ এক্সপোর্ট হয়ে যায় পিডিএফ ফাইলে।’ কবি এ কে এম আব্দুল্লাহ অত্যন্ত সুচিন্তিত ভাবনায়, সুকৌশলে উচ্চবিত্তের বাহারি জীবনকে মধ্যবিত্ত- ক্যানভাসে প্রবেশ করিয়ে নতুন ভাবনার- নতুন জাগৃতির আবহ সৃষ্টি করতে পেরেছেন।

কবি এ কে এম আব্দুল্লাহ কবিতার বিষয়বস্তু নির্বাচনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বণ করেছেন। প্রেম-প্রায়োগিক পংক্তিমালায় শব্দ-সংযোজিত না করে বিশ্ব-অস্তিরতার- স্যাটেলাইট দৃশ্য নির্মাণ করেছেন। একধরনের আধুনিক সভ্যতার প্লাস্টার লাগিয়ে কবিতাকে রাঙানোর চেষ্টা করেছেন। আধুনিক জীবনের যুগ-যন্ত্রনাকে কবিতার অবলম্বণ করেছেন। ‘জন্ম এবং মোহের বিকল্প মমতা’ – কবিতায় কবি বলছেন- ‘ গলাকেটে আমাদের হত্যা করা হলে বিজ্ঞাপনিসংস্থাগুলো বিজি হয়ে ওঠে। হকারের কণ্ঠ বেয়ে বেয়ে নামে হেডলাইনগুলো। ইলেকট্রিক পাড়াগুলো চমকায় জোনাকপোকার মতো। কেউ কেউ আমাদের মোহে দাঁড়িয়ে থাকে মানববন্ধন নামে গাছতলায়।’- ‘আমাদের হত্যা করা হলে-’ হত্যা হচ্ছে। মানব জাতি সারাবিশ্বে মার খাচ্ছে। সবদেশে মৃত্যুর মহড়া চলছে। কবি বলছেন -‘ বিশ্ববাজারে মৃত্যুর হাট বসে।’ সেই মৃত্যুর সংবাদে আমরা ইমোশনাল হই। ফেস্টুন হাতে মানবতার গান গাই। তারপর অনেক ঘটনা। সেলুলার ফিতার মতো চলতে থাকে রুটিনওয়ার্ক। টকশো, সভা-সমাবেশ, মিছিল, রাবার বুলেট, জল-কামান, ইত্যাদি প্রিন্ট হতে থাকে ভিন্ন ভিন্ন রঙে। ‘এরপর নিশি শেষে চ্যাপ্টার ক্লোজ হয়ে গেলে আবার সব নরমাল হয়ে যায়। আর আমাদের কানে ভেসে আসে ফের … আহারে শাকিলা বানু- হিট হগায়ি… ( আয়না দর্শন ও ব্লাকপ্রতিবিম্ব)

‘ইমেইল বডিতে সময়ের অনুবাদ’ গ্রন্থে কবি তার প্রতিটি কবিতায় অজস্র ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করেছেন। অনেক শব্দ পাঠবোধ্য না হওয়ায় সহজবোধ্য পাঠকের অন্তরে প্রশ্ন থেকে যেতে পারে। বিদেশি শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে লেখককে যথেষ্ট পরিমিত ভাবনা নিয়ে শব্দ-সংযোগ করা জরুরি। কাজী নজরুল ইসলাম আরবি ফারসি হিন্দি উর্দু ইত্যাদি ভাষার শব্দ ব্যবহার করেছেন সত্যি কিন্তু এই ভাষাগুলো ভৌগলিক অবস্থানের কারণে বাংলাভাষার সফরসঙ্গী। তাছাড়া সেই সব ভাষার শব্দগুলো কাজী নজরুলের উত্তরসূরী কবিগণ খুব বেশি করেছেন বলে হয় না। এতে বোঝা যায় বিদেশি শব্দের আশ্রয়ে কাব্যচর্চা অনুকরণীয় কোন দৃষ্টান্ত নয়। তবে এটা কবির একান্ত স্বাধীনতা। হয়তো কবি এ কে এম আব্দুল্লাহ নিরীক্ষার জন্য পাঠকের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন তা যদি হয় তাহলে আমি মনে করি, কবি অত্যন্ত সাহসের মধ্য দিয়ে কাব্যিক ঝুঁকি নিয়েছেন। তিনি কতটুকু সার্থক হবেন অনাগত ভবিষ্যতে তা বিচার্য হবে।

‘ইমেইল বডিতে সময়ের অনুবাদ’- বাহাত্তর পৃষ্ঠার বই। এখানে অনেক কবিতার সংমিশ্রণ। কবিতাগুলো সাম্প্রতিক কালের। তাই সময়ের অনুবাদ শিরোনামীয় শব্দদ্বয় খুবই মাননসই। সেইক্ষেত্রে নামকরণ সার্থক হয়েছে বলে মনে করি। প্রবাসে যাপিত জীবনের দ্যোতি সেইভাবে না আসলেও কবির আত্মকেন্দ্রীক ভাবনা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারেননি। সেই কাব্যিক বুননে উত্তম পুরুষের একবচন ব্যবহার না করে বহুবচনের ব্যবহার লক্ষণীয়। ‘ আমাদের চোখগুলো মানববন্ধন করে। যুগের পর যুগ দাঁড়িয়ে থাকে রাস্তার ধারে। আমাদের আর্তনাদ খুন করে সবগুলো বর্ডার ক্রস করে এগিয়ে যায় উন্নয়ন।’ (পিডিএফ ফাইলে, জীবনের জলছাপ)

কবি আব্দুল্লাহ এ গ্রন্থে উপমা ব্যবহারে যথেষ্ট মনোযোগী ছিলেন। তাই উপমাগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসেছে। তিনি প্রায় কবিতায় উপমার সুন্দর ব্যবহার করেছেন। এতে কবিতাকে দিতে পেরেছেন আশ্চর্য কান্তি। ‘একটি নিজস্ব গল্প এবং অন্যান্য’ – কবিতায় উপমা হিসেবে এসেছে- ‘ আমরা রাস্তা ভুল করা পথিকের মতো টলতে টলতে ওঠে পড়ি কাঠের চাকায়… অথবা ‘ আমি ও প্রতি-জন্ম’ কবিতায় ‘ মধ্যবিত্ত বণিকের মতো অভিলাষী বিষ ঢেলে দেই রাতের রাস্তায়।’

কবি এ কে এম আব্দুল্লাহর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তিনি এ গ্রন্থে চিত্রকল্পের ব্যবহার করেছেন। সাবলিল চাকচিক্যে দৃশ্যগুলো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। কবিতার আকর্ষণকে চোখের সামনে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। প্রায় প্রতিটি কবিতায় সুন্দর সুচারু রূপচিত্র প্রকাশ পেয়েছে। কবি যখন বলেন, মেঘের কোন এক সন্ধ্যা শেষে, পুরো পৃথিবী একটা সাহারা মনে হয়, আমার জন্মগুলো অন্ধকার শো‘রুমে ডিসপ্লে হতে থাকে জ্যোৎ¯œার ভেতর অথবা হেলান দেয়া সব সিনারি ক্লান্ত হয়ে ঝুলে গেলে, অথবা আমাদের শহরে নিরীহ রাস্তায় পড়ে থাকে উচ্ছিষ্টমাখা কনডম, অথবা আকাশে মেঘের ভেতর আগুন জ্বলে উঠলে আমাদের চুলায় ক্ষুধা সেদ্ধ হয়, অথবা জামরুল বাগান মাড়িয়ে দাঁড়াই মাঠের শেষপ্রান্তে, অথবা কারেন্টের তারে বসা পাখি ইত্যাদি ছাড়াও আরও অনেক উদাহরণ দেওয়া যাবে। এভাবে তিনি চিত্রকল্পকে পুঁজি করে কবিতার শরীর সাজিয়েছেন। অপরদিকে কবিতার শিরোনামের ক্ষেত্রে অনেক ভালো লাগার মতো কবিতার নামকরণ করেছেন। ‘ পেনড্রাইভ ও একটি কবিতা, আঁধারে রঙিন ফ্লেক্সিলোড, একটি প্রার্থনার অনুবাদ, রাতের পরাগায়ন, অন্ধকার আগুন, আমার দুঃখ ওড়ে শহরে শহরে, আমি ও প্রতি-জন্ম, সংকেত ও অরণ্য, কালের জলে ভাসমান চোখ ইত্যাদি শিরোনামগুলো ভালো লেগেছে।

‘ইমেইল বডিতে সময়ের অনুবাদ’- একটি চমৎকার কবিতাগ্রন্থ। কবি এ কে এম আব্দুল্লাহ একজন উত্তীর্ণ কবি। জীবনের ছায়ালাপে কবি প্রজন্মান্তরে প্রবেশিত হোক কালে কালে। আজীবন কবিতাপ্রেমিক হিসেবে এই কবির আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক। কবিতার মুগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ুক-পাঠকের হৃদয়-সাগরে।

লেখক: কবি ও প্রকাশক মামুন সুলতান।

শেয়ার করুনঃ