বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সারাদেশে লকডাউন ও সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা থাকলেও সীমিত আকারের ব্যাংকিং লেনদেনে উপচে পড়া ভিড় জমাচ্ছেন গ্রাহকরা। ফলে গ্রাহকদের পাশাপাশি ঝুঁকিতে পড়ছেন ব্যাংকের কর্মকর্তারাও।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সরেজমিনে গোলাপগঞ্জের চন্দরপুর পূবালী ব্যাংকেও এমন উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। ঠাসাঠাসি করে লাইনে দাঁড়াতে দেখা গেছে গ্রাহকেদের।

এছাড়া, পূবালী ব্যাংকের সকল শাখা একসাথে খোলা না থাকায় এই ভিড় আরো বেড়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রাহকরাই। বুধবার পূবালী ব্যাংক চন্দরপুর শাখা খোলা থাকলেও পার্শ্ববর্তী আছিরগঞ্জ বাজার শাখা এবং বুধবারীবাজার শাখা বন্ধ থাকায় ঐসব শাখার গ্রাহকরাও এসে চাপ জমান। শুধু চাপই নয় বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রাহকরা চন্দরপুর পূবালী শাখায় লেনদেন করতে আসায় বেড়েছে ঝুঁকিও।

শুধু এখানেই নয়, দেশের বিভিন্ন ব্যাংকেরও এমন চিত্র বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে উঠে আসছে।

জানা যায়, ১৫ ও ১৬ এপ্রিল পূবালী ব্যাংকের চন্দরপুর শাখা খোলা থাকলেও আগামী ১৯ ও ২০ এপ্রিল আছিরগঞ্জ শাখা এবং ২৩ ও ২৪ এপ্রিল বুধবারীবাজার শাখা খোলা থাকবে। আর এতে করে বিভিন্ন এলাকার গ্রাহক সীমিত আকারের ব্যাংকিং লেনদেনে জড়ো হয়ে ব্যাপক ঝুঁকি বাড়াবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

আল-এমদাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য নিজাম উদ্দিন বলেন, একই তারিখে সকল শাখা খোলা থাকলে গ্রাহকদের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাওয়ার প্রয়োজন পড়তো না। তাছাড়া একসাথে এতো জনসমাগমও ঘটতো না, ফলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে যেতো।

সচেতন মহলের অনেকেই মনে করেন সীমিত আকারের ব্যাংকিং লেনদেন হিতে বিপরীত ঘটাচ্ছে। সীমিত সময়ের ঐ লেনদেনে গ্রাহকরা বাধ্য হয়েই ভিড় জমাচ্ছেন। তাছাড়া প্রতিদিন ব্যাংক খোলা থাকলে একসাথে এতো মানুষের আগমন ঘটতো না। আর এতে ঝুঁকিও থাকতো না। বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে এ ব্যাপারে সুপরিকল্পিত ও নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয়ার আহবান জানান তারা।

এব্যাপারে পূবালী ব্যাংক চন্দরপুর শাখার ম্যানেজার আরাফ মহসিন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ মোতাবেকই আমাদের ব্যাংকগুলো নির্দিষ্ট তারিখে সীমিত সময়ের (১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত) জন্য খোলা রাখতে হয়। কোন শাখা কোন তারিখে খোলা থাকবে তা আমাদের হেড অফিস থেকে নির্ধারিত করে দেয়া হয়। ফলে আমাদের কিছুই করার থাকে না। লেনদেনের সময় গ্রাহকদের সচেতনতাই ঝুঁকি এড়াতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

শেয়ার করুনঃ