বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা জুবায়ের আহমেদ আনসারীর জানাজার নামাজে লাখো মানুষের অংশ নেয়ার ঘটনায়  ব্রা’হ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বেড়তলা গ্রামসহ আশপাশের গ্রামগু’লোর মানুষকে ১৪ দিন ঘর থেকে বের না হওয়ার নির্দে’শনা দিয়েছে প্র’শাসন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁ’কি এড়াতে এ নির্দে’শনা দেয়া হয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রি’ল) সন্ধ্যা’য় সরাইল উপজেলা নির্বা’হী কর্ম’কর্তা (ইউএনও) আবু সালেহ মো. মুসা মুঠোফোনে এ খবর নিশ্চি’ত করেছেন।

এদিন সকাল ১০টায় বেড়তলা এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন জামিয়া রাহমানিয়া মাদরাসা মাঠে দেশবরেণ্য আলেম জুবায়ের আহমেদ আনসারীর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠি’ত হয়। মাঠে জায়গা না হওয়ায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অন্তত দুই কিলোমিটার অংশে মানুষ জানাজার নামাজ পড়েন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত ১১ এপ্রিল সন্ধ্যা ছয়টা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় লকডাউন চলছে। কিন্তু লকডাউন না মেনে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। ফলে করোনাভাইরাস বৃহৎ আকারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁ’কি দেখা দিয়েছে।

অবশ্য এর আগে প্রশাসন বলেছে, ‘ধর্মীয় নেতারা আশ্ব’স্ত করেছিলেন সীমিত পরিসরেই জানাজার নামাজ অনুষ্ঠি’ত হবে। জানাজায় জনস্রো’তে পরিণত হওয়ার বিষয়টি আঁচ করতে পারেনি পুলিশ।

ইউএনও আবু সালেহ মো. মুসা বলেন, বেড়তলা এবং আশপাশের গ্রামগুলোতে আমরা মাইকিং করে বলে দিয়েছি কেউ যেন ঘর থেকে বের না হয়। আগামী ১৪-১৫ দিন তারা যেন এই কোয়ারেন্টাইন মেনে চলে। স্থানীয় মেম্বারের নেতৃ’ত্বে যুবসমাজের ব্যক্তিদের দিয়ে আমরা কমিটি গঠন করে দিচ্ছি- তারা যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো বাড়ি বাড়ি পৌ’ছে দেন। তাদের সুরক্ষার জন্য একান্তই হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন ছাড়া কেউ যেন বের না হয়। আমরা হ্যা’ন্ডমাইক ব্যবহার করে সবাইকে বলে দিয়েছি।

তিনি বলেন, যেহেতু অনেক মানুষ অনাকাঙ্ক্ষি’তভাবে এখানে (বেড়তলা) ছিল- এই এলাকার মানুষগুলো যেন স্বা’স্থ্য ঝুঁকি থেকে নিজেদের এড়িয়ে চলতে পারেন সেজন্য আমরা এই ব্যবস্থা নিয়েছি।

উল্লে’খ্য, সিভিল সার্জ’নের তথ্যমতে শনিবার (১৮ এপ্রিল) পর্যন্ত ব্রাহ্ম’ণবাড়িয়া জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রা’ন্তের সংখ্যা ১৭ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন দুইজন। বাকিরা আইসোলেশনে রয়েছেন।

শেয়ার করুনঃ