করোনাকালের এই মহা দুর্যোগে সব চেয়ে বেশী আক্রান্ত যারা তাঁরা হচ্ছেন আমাদের যুক্তরাজ্য,যুক্তরাষ্ট্র,কানাডা,ফ্রান্স,স্পেন,ইতালি,আরব আমিরাত,সৌদি আরবসহ ইউরোপ আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী ভাই ও বোনেরা। নিজেদের জিবন নিয়ে যারা প্রতিটি মুহুর্ত রয়েছেন আতংকের মধ্যে। প্রতিনিয়ত পাড়া-পড়শীর কারো না কারো করোনা আক্রান্তের খবর অথবা আচমকা মৃত্যুর খবর শোনে নিজেদের মানসিক অবস্থা যেখানে খুবই শোচনীয়। ঠিক সেই মুহুর্তেও আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা দেশের মানুষের কথা ভুলে যাননি এক মুহুর্তের জন্যও। নিজেরা খেয়ে না খেয়ে নিজেদের কথা চিন্তা না করে দেশে থাকা আত্মীয় স্বজন,পাড়া প্রতিবেশীর দিকে বাড়িয়ে দিয়েছেন সাহায্যের হাত।

অতীতের মত বর্তমানেও তাঁরা কেউবা ব্যাক্তি উদ্দোগে আবার কেউবা সাংগঠনিকভাবে দাঁড়িয়েছেন দেশের বিপদগ্রস্ত লোকদের পাশে। আর এরাই হচ্ছেন আমাদের শ্রেষ্ট সন্তান বীর রেমিট্যান্স যোদ্ধা।

একটু সুযোগ পেলেই আমরা যাদেরকে গালাগাল করতেও দ্বিধা করিনা তারাই আমাদের নিঃস্বার্থ প্রবাসী ভাই ও বন্ধু।

দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত ত্রানের খুব কম অংশই তৃনমূল ভুক্তভোগীর দোরগোড়ায় পৌছুচ্ছে। দেশের বিভিন্ন যায়গায় মেম্বার চেয়ারম্যান কাউন্সিলর সহ শত শত ত্রান চোর ধরা পড়ছে প্রায় প্রতিদিন।

একমাত্র নিশ্চিন্তভাবে আমাদের প্রবাসীদের দেয়া ত্রান পৌছুচ্ছে এলাকার সর্বত্র।
তবে এখানেও মাঝেমধ্যে দেখা যায় কিছু অসামঞ্জস্যতা!

দেশের নির্ধারিত হাতে গুনা কয়েকজন অসাধু ভলান্টিয়ার প্রতিনিধির কারণে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত সাহায্যের ত্রান সু-সম বন্টন হচ্ছেনা।

একজন সমাজকর্মী হিসেবে বেশ কয়েকটি ত্রান বিতরণ প্রোগ্রামের সহযোগী হিসেবে ছিলাম। ত্রান বিতরন প্রক্রিয়ায় যে সমস্থ অসামঞ্জস্যতা চোখে পড়ে তা নিম্নরুপ 👇
যেমনঃ

১/ মুখ দেখে পছন্দসই গরীবের নাম লিষ্ট করা
যারা প্রকৃত বিপদগ্রস্ত তাদেরকে সাহায্যের আওতায় না আনা।
২/ভলান্টিয়ারদের অলসতা এবং কাজের প্রতি অমনোযোগী।
৩/উপকারভুগ করার চিন্তা করা।
৪/ভলান্টিয়ার নিজের নাম ফোটানোর জন্য ফটোসেশান করে ত্রান গ্রহিতাকে লজ্জায় ফেলা।
৫/শ্রম দেয়ার বেলায় পিছনে আর ভলান্টারির সময় সবার আগে।ইত্যাদি ইত্যাদি।

আপনাদের সবার কাছে হাত জোড় করে অনুরোধ করছি,,,যারাই এই মহান কাজের দ্বায়িত্ব যেখানেই পাবেন অনুগ্রহ করে আপনারা আমানতের খেয়ানত করবেন না। গরীব দুঃখী বিপদগ্রস্ত লোকের পেটে লাতি মারবেন না। মানুষ আপনাকে ক্ষমা করলেও আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ অবশ্যই দূর্নীতিবাজদের তাঁর গজব দিয়েই শাস্তি দিবেন।

আর প্রবাসী ভাইদের প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ!!!
আপনারা দেশে যাদের ভলান্টিয়ার নিয়োগ করবেন একটু বুঝে শুনে দেখে নিয়োগ করবেন কারন ঝকঝক করলেই যেমন সোনা হয়না ঠিক তেমনি কেউ নেতৃত্ব দিতে পারলেও সৎ নেতা হওয়া যায়না।যত পাই, তত চাই। আছে যার ভুরি ভুরি সে করে পুকুর চুরি। এই প্রবাদগুলো আজকাল দিবালোকের মত সত্য। এমন কিছু লোক নিয়োগ করুন যাদের নেতৃত্বের লোভ নেই আছে মানবিক মূল্যবোধ।
যারা অন্যের হক প্রতিটি কড়ি সু-সম বন্টন না করা পর্যন্ত শান্তি পায়না।

* ১০ জনের ভালোর জন্য সময় এবং শ্রম দেয়াকে যারা সাওয়াব মনে করে আন্তরিকভাবে কাজ করে।
*১০ টাকা বাঁচানোর চিন্তা না করে নিজেদের পকেট থেকে ১ টাকা যারা অতিরিক্ত খরচ করার মনমানসিকতা রাখে।
*কর্ম তৎপর লোক যারা নিজেদের কাজ মনে করে সব অলসতা ভুলে আন্তরিকতার সাথে কাজ করবে।
*আপন-পর দলমত নির্বিশেষে প্রকৃত বিপদগ্রস্ত লোকেদের নাম লিষ্ট করার মত স্বতন্ত্র মনমানসিকতা যার আছে।

কি পেলাম আর কি পেলাম না এই কথার হিসেব না কষে আমার কারণে, আমার সময় এবং শ্রমের কারনে অন্য দশজন উপকৃত হল কি না? আল্লাহকে রাজি এবং খুশী করতে পারলাম কি না? অন্যের হক আদায় করতে পারলাম কি না?এমন চিন্তা চেতনা এবং মনমানসিকতার লোক নিয়োগ করুন।
আশা করি আপনাদের অর্থ এবং শ্রম বৃথা যাবেনা।

পরিশেষে দোয়া করি আল্লাহ প্রতিজন প্রবাসী ভাই এবং বন্ধুকে তাঁর রহমতের চাদরে আবৃত করে রাখুন সব রকম বিপদ/রোগবালাই এবং দুর্যোগের হাত থেকে। আমিন।
———মুহিব রাহমান

শেয়ার করুনঃ