গত ১২ মে, ২০২০ইং মঙ্গলবার গোলাপগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ফেইসবুকে খরাব দেয়া সম্পর্কিত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করা হয়েছে। এদিন কি হয়েছিল সেখানে প্রত্যক্ষদর্শী ছাড়া কেহ পুরো ঘটনা বলতে পারবে না। সিলেট টু লন্ডন ফেইসবুক পেইজ থেকে যে ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে তা পুরো অংশ নয়। খন্ডিত অংশ প্রচার করে ফেইসবুক ব্যবহারকারীদেরকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

ঐদিন পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে বা কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে সিলেট টু লন্ডন ফেইসবুক পেইজের লোকজন ক্যাশ কাউন্টারের সামনে গিয়ে বিল জমাদানকারীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করতে থাকেন। সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী ব্যক্তি গ্রাহকদেরকে ভুল তথ্য দিয়ে বুঝাতে থাকেন সরকার তিন মাসের বিদ্যুৎ বিল না দেয়ার জন্য বলেছে তারপরও কেন বিদ্যুৎ বিলের জন্য এতো চাপাচাপি করা হচ্ছে আর আপনারাই বা কেন লাইনে দাড়িয়ে বিল দিচ্ছেন। এভাবে তিনি বেশ ক’জন গ্রাহককে বলতে থাকলে তাদের ৪৯ মিনিটের লাইভে বিভিন্ন ভাবে গ্রাহকদেরকে উস্কানী দেয়া হয়। তাদের উস্কানীতে গ্রাহকরা ক্যাশ কাউন্টারের সামনে হট্টগোল করতে থাকে। একপর্যায়ে বাহিরে তারা লাইভের জন্য লোকজনকে জড়ো করে রাখলে ভিতরে ক্যাশ কাউন্টারে ঢুকার জন্য ৫/৬ জন যুবক ওয়ান পয়েন্টে প্রবেশ করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পিইউসি খুর্শেদ আলী তাদেরকে ক্যাশের কাছে না যাওয়ার জন্য বলতে থাকেন। এসময় জনৈক যুবক খুর্শেদ আলীকে নাজেহাল করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

এসময় বিদ্যুৎ বিল দিতে অফিসে যান সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর গোলাপগঞ্জ পরিচালক ও সমিতি বোর্ডের সভাপতি আব্দুল আহাদ। তিনি দেখতে পান ক্যাশ কাউন্টারের একটু অদূরে যুবকরা সন্দেহজনক ভাবে অবস্থান নিয়েছে। তখন তিনি তাদেরকে ঐ স্থান থেকে সরে বাহিরে নিয়ে আসেন। এখানে এসে তিনি খরাব ধারণকারীদের কাছে জানতে চান আপনারা কারা? তখন তাদের মধ্যে একজন বলে আমরা সাংবাদিক। আমরা Sylhet To Londom ফেইসবুক পেইজের লোক। তখন তিনি তাদের সাংবাদিকতার কার্ড দেখতে চাইলে ঐ যুবক উত্তর দেয় আপনাকে কার্ড দেখানো যাবে না। তখন তিনি জানতে চান, আপনারা যে এখানে এসেছেন কর্তৃপক্ষের কি অনুমতি নিয়েছেন? তারা তখন এর উত্তর দিতে পারে নি। ঐ সময় পরিচালক আব্দুল আহাদ তাদেরকে বলেন, আপনারা লাইভ করতে পারবেন না, লাইভ করতে হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। এ নিয়ে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে জনৈক যুবক উত্তেজিত হয়ে উঠলে তিনি তাদের লাইভ বন্ধ করে অফিসের বাহির এলাকায় চলে যাওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন।

এদিকে Sylhet To London ফেইসবুকের লাইভ ধারণকারীদের উস্কানীতে ক্যাশ কাউন্টার এলাকায় হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। তখন পুলিশ আসার জন্য থানায় ফোন করা হলে ঐ যুবকরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। তারা যদি লাইভ করার ইচ্ছা তাহলে কেন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে গেইটের প্রবেশ মুখে লাইভ করলনা। বিশেষ উদ্দেশ্যে একদল যুবক নিয়ে ক্যাশ কাউন্টার এলাকার মতো একটি সংরক্ষিত স্থানে লাইভের নামে মানুষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। তারা অবশ্যই জানে প্রতিদিন গোলাপগঞ্জ জোনাল অফিসের ক্যাশ কাউন্টারে ২৫/৩০ লক্ষ টাকা জমা হয়। এখানে কোন শক্ত পাহারা থাকে না। তিন মাসের বিদ্যুৎ বিল মওকুফ করা হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোন ঘোষণা কখনো দেয়া হয়নি। সরকার যেখানে ঘোষণা দেয়নি সেখানে ঝুষযবঃ ঞড় খড়হফড়হ ফেইসবুক ওয়ালারা নিজেদের পক্ষ থেকে কেন কথাটি জনগণের কাছে প্রচার করে সর্বমহলের মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।

মূল কথা হচ্ছে জ্বালানি নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের এনার্জি রেগুলটরী কমিশন সচিব মোঃ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে গত ২৪/০৩/২০২০খ্রিঃ তারিখে জানানো হয়েছে শুধুমাত্র আবাসিক গ্রাহকরা বিলম্ব মাশুল ছাড়া ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল মাসের বিল পরিশোধ করতে পারবেন। এ বিষয়টি পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে গ্রাহকদেরকে অবহিত করার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। বিল পরিশোধ না করলে লাইন কাটা হবে এমন ঘোষণা পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ কখনো দেয়নি। অথচ এইসব বিষয় গ্রাহকদেরকে বলে ঝুষযবঃ ঞড় খড়হফড়হ ফেইসবুকের লোকজন লাইভে প্রচার করতে থাকে। এতে ক্যাশ কাউন্টার এলাকার চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। গ্রাহকরা উত্তেজিত হয়ে পল্লী বিদ্যুতের লোকজনকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাদেরকে মারার জন্য খোজতে থাকে। আর এরই মধ্যে ঐ স্থানে উপস্থিত হন পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা পরিচালক সাংবাদিক আব্দুল আহাদ। যারা লাইভ করেছিল তাদের পক্ষ নিয়ে অনেকেই না বুঝে কমেন্ট করছেন তারা সাংবাদিক, তাদেরকে নাজেহাল করা হয়েছে। ১৩মে বুধবার এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা তুড়ুগাঁয়ের খলিলুর রহমানের পুত্র আশফাকুর রহমান বাবলু থানায় যে অভিযোগ দিয়েছেন তাতে তিনি কোথাও নিজেকে সাংবাদিক বলে পরিচয় দেননি। তার প্রচারিত ফেইসবুক পেইজটি টিভি মিডিয়ার তালিকাভুক্ত এমন প্রমাণও পুলিশের কাছে প্রমাণ করতে পারেন নি।

শেয়ার করুনঃ