আমরা পবিত্র মাহে রমজানের প্রায় শেষের দিকে অবস্থান করছি। পবিত্র ঈদুল ফিতর প্রায় আমাদের দোরগোড়ায়। আমাদের মুসলমানদের সবচেয়ে বড় দুই ধর্মীয় আনন্দ উৎসবের দিন হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা। এর মধ্যে আবার ছোটো থেকে বড় সবার কাপড়চোপড় কেনার চাহিদা ঈদুল ফিতরের সময় থাকে শতভাগ। ঈদুল আজহায় গরু জবাইর কারনে কাপড়চোপড় কেনার মনমানসিকতা সবার থাকে না,তাই ঈদুল ফিতরকে কাপড় কেনার ঈদ বললেই চলে। আর শিশু কিশোরদের তো ঈদের জামা না কিনলেই নয়, ঈদটাই যেন কল্পনার বাহিরে ঈদের কাপড় ছাড়া।

আসলেই নতুন কাপড় ছাড়া ঈদটা বড্ড বেমানান,প্রায় আমাদের কল্পনার বাহিরে। কিন্তু কি আর করার? পরিস্থিতি যে আমাদের মতের বিরুদ্ধে!এবারের করোনার আঘাতটা এসে লেগেছে আমাদের ঈদেও,আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দের দিনটাকেও এবার সাদামাটা রসকষহীন করে দিবে মহামারী করোনা ভাইরাস।

ইউরোপ আমেরিকার কিছু কিছু দেশে করোনা আক্রা’ন্তের হার কমলেও আমাদের অসতর্কতার কারণে আমাদের বাংলাদেশে প্রতিদিন আশংকাজনক হারে বেঁড়েই চলছে করোনায় আক্রা’ন্ত এবং মৃ’ত্যুর সংখ্যা।

এরই মধ্যে সিলেট জেলার সবচেয়ে আতংকের খবর হচ্ছে সিলেট শহরের পার্শ্ব’বর্তী গোলাপগঞ্জে একই পরিবারের ১৪ জন করোনা আক্রা’ন্ত!
এই ১৪ জন সহ গোলাপগঞ্জে ২১ জন সনাক্ত হয়েছেন এক সপ্তাহের ব্যবধানে।

গোলাপঞ্জের মেয়র মহোদয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে আবার গোলাপগঞ্জকে লকডাউন ঘোষণা করেছেন। অবশ্য যা হবার তা হয়ে গেছে,জানিনা ইতোমধ্যে কত-শত জন আক্রা’ন্ত হয়েছেন।

হঠাৎ করেই লকডাউন শিথিল করার কারনে হাট বাজার,শপিংমল, ব্যাংক সহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় জনসাধারণের উপস্থিতি চোখে পড়ার মত। মানুষ আর মানছে না কোনো নিয়ম-কানুন। যে যার মত চলাফেরা করছে। যেন মৃ’ত্যুকে আলিঙ্গন করছে তারা।

এমতাবস্থায় যদি শপিং সেন্টারগুলো ঈদ উপলক্ষে খোলে দেয়া হয়,আর চাপাচাপি করে অন্যবারের মত আমরা এবারও ঈদ শপিং করি তবে মনে রাখা উচিৎ আমাদের ঈদটা আনন্দের না হয়ে বিপদ অথবা মৃ’ত্যুর কারণ হতে পারে। ঈদের বাজার করতে গেলে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা কোনো ক্র’মেই সম্ভব না, ধাক্কাধাক্কি হবেই হবে। বাজারে আসা বারো জায়গার বারো জন এর মধ্যে কে করোনার জীবাণু বহন করছে তা আমাদের জানা নেই।

আল্লাহ না করুক যদি শপিং করতে যেয়ে অন্য কারো কাছ থেকে আমরা কেউ সং’ক্রমিত হয়ে যাই, তবে আমাদের ঈদের এই আনন্দ আর আনন্দ থাকবেনা নিমিষেই তা এক বিষাদে রুপা’ন্তরিত হয়ে যাবে। বাড়িতে ঈদের আনন্দ নয়,শোকের মাতম চলবে।

তাই সিলেটবাসীর প্রতি আমার অনুরোধ অন্তত এইবারের ঈদটা না হয় চলুক একটু সাদামাটা। আপনার বাচ্চাকে বুঝানোর দায়িত্বটা আপনার,দেশের ভয়াবহতা এবং করোনার সং’ক্রমণের ভয় আপনার বাচ্চাদের মনে ঢোকান।

সিলেটের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের প্রতি বিশেষ অনুরোধ,আমি জানি আপনারা খুবই কষ্টে আছেন তারপরও অন্তত এইবার আপনারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটা বন্ধ রাখেন। দেশের মানুষকে বিপদের হাত থেকে বাঁচান।

ঈদের জামা না কিনলে আনন্দ হয়তোবা একটু কম হবে কিন্তু জীবনটাতো নিরাপদ থাকবে। আর ঈদের জন্য যে একেবারে নতুন জামা মার্কেট থেকে কিনতেই হবে এমন কোনো ধর্মীয় বাধ্যবাদকতাও নেই, হ্যাঁ ধুয়ে রাখা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন জামা-কাপড় হতে হবে।
এখন সিদ্ধা’ন্ত আপনার,নতুন কাপড় পড়বেন নাকি সাদা কাফন???
সবাই ভালো থাকুন,বাড়িতে থাকুন নিরাপদে থাকুন।
———মুহিব রাহমান
কলাম লেখক,অনলাইন এক্টিভিষ্ট।

শেয়ার করুনঃ