গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধিঃ গোলাপগঞ্জের ভাদেশ্বর ইউনিয়নের পশ্চিমভাগ মুরারকিয়ার গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় এক গৃহবধূ-সহ ৫ জন আহত হয়েছেন। তারা হলেন পশ্চিমভাগ মুরারকিয়ার গ্রামের আলী হোসেনের স্ত্রী সুমা বেগম, সুমা বেগমের চাচা শ্বশুর ছোটন মিয়া, শাশুড়ি নুরজাহান বেগম, বাউর আনোয়ার হোসেন ও ননদ লাকি আক্তার।

১৬ মে (শনিবার) দুপুরে পশ্চিমভাগ মুরারকিয়ার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় সুমা বেগম বাদী হয়ে একই বাড়ির ৬ জনের বিরুদ্ধে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগ দাখিল করেছেন। বিবাদীগণ হলেন, জুনাব আলীর পুত্র ১। বাছিক আহমদ(২৫) ও মেয়ে ২। রাবিয়া বেগম(২২) এবং কুটন আলীর পুত্র ৩। জনি(২৫), ৪। রনি(২৬), ৫। শুক্কুর(২৮) ও মেয়ে ৬। ডলি বেগম(২৬)।

বাদী ও বিবাদীগণ একই বাড়ির লোক এবং বাদী সুমা বেগমের স্বামী ওমান প্রবাসী।

অভিযোগের আলোকে জানা যায়, বিবাদীগণ খুবই দাঙ্গাবাজ, জোর-জুলুমবাজ, বলবান, দুশ্চরিত্র ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। তারা বিভিন্ন সময় তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে সুমা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যদেরকে গালিগালাজ-সহ মারপিঠ করার হুমকি প্রদর্শন করে থাকে। এমনকি হাঁস-মোরগ তাদের উঠানে গেলে অশ্লীল ভাষায় গালি-গালাজও করে থাকে। সর্বশেষ গত ১৬ মে ২০২০ইং তারিখে সুমা বেগমের তিন বছরের ছোট ছেলে বিবাদীগণের উঠানে গেলে ২ ও ৬নং বিবাদী রাবিয়া বেগম ও ডলি বেগম অশ্লীল ভাষায় গালি-গালাজ করতে থাকে। এসময় তাদের সাথে বাদী সুমা বেগমের তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে সকল বিবাদীগণ একত্রে এসে অশ্লীল ভাষায় গালি-গালাজ করে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি মারতে থাকেন। এমনকি সুমা বেগমের পড়নের জামা কাপড় ছিড়ে শরীরে বিভিন্ন অংশে নিলা-ফুলা জখম করে তারা। এসময় সুমা বেগমকে বাঁচাতে তার চাচা শ্বশুর ছোটন মিয়া, শাশুড়ি নুরজাহান বেগম, বাউর আনোয়ার হোসেন ও ননদ লাকি আক্তার এগিয়ে আসলে বিবাদীগণ তাদেরকেও এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন অংশে নিলা-ফুলা জখম করে। শুধু তাইই নয়, বিবাদীগণ একপর্যায়ে সুমা বেগমের বসতঘরে এলোপাতাড়ি ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। তাদের ইট-পাটকেল ছুঁড়ার ফলে সুমা বেগম ও তার পরিবারের সকলেই আরও ব্যাপক জখমপ্রাপ্ত হয়। এসময় তাদের শোর-চিৎকারে আশপাশের লোকজন আসতে থাকলে এ বিষয়ে মামলা-মোকাদ্দমায় গেলে তাদের প্রাণনাশের হুমকিও প্রদান করেন বিবাদীগণ। এমতাবস্থায় বিবাদীগণের অশ্লীল গালি-গালাজ ও হুমকির মুখে সুমা বেগম ও তার পরিবারের সকলেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ ঘটনা তদন্তে সাক্ষী প্রমাণও পাওয়া যাবে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মহিদুজ্জামান লাভলু জানিয়েছেন আমরা বিচার-বৈঠকের মাধ্যমে দু’পক্ষের মধ্যে আপোষ-মীমাংসার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছি।

এ ঘটনার অভিযোগের প্রেক্ষিতে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার এস আই ফয়জুল করিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

শেয়ার করুনঃ