আজকাল প্রায় ই দেখা যাচ্ছে একজন করোনা আক্রা’ন্ত রোগীকে আমাদের সমাজের লোকেরা ভিন্ন চোখে দেখেন। ভাবটা এমন যেন আক্রা’ন্ত ব্যাক্তি একজন মহাপাপী লোক! আক্রা’ন্ত বিপদগ্র’স্ত লোককে সমাজের অন্য লোকেরা অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতেও দেখা যায়।

এমনকি এলাকা থেকে বের করে দেওয়ার মতও ঘটনা ঘটেছে অনেক জায়গায়। আর যারা পেশাগত কারনে করোনার সংস্প’র্শে আসছেন তাদের কথা না-ই-বা বললাম। ডাক্তার, নার্স, আয়া, পুলিশ ইত্যাদি পেশাজীবীদের লোকজন এই সময়ে বাঁকা চোখে দেখছে। রাজধানীর কিছু কিছু জায়গায় ফ্লাট মালিকরা ডাক্তারদের বাহিরে যেতে আসতে বাঁধা দিচ্ছেন এমনও অভিযোগ আসছে। একজন ডাক্তারের বাড়িতে ডিল ছুড়ার ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। করোনায় মৃত পিতার লাশকে সন্তানেরা ফেলে রাখতে দেখা যাচ্ছে। করোনায় মৃত জনপ্রিয় ডাক্তারের লাশ বহন করার জন্য মসজিদের খাটিয়া ব্যবহার করতে দিচ্ছে না এলাকার জনগন।

এখন কথা হলো একজন করোনা আক্রা’ন্ত ব্যাক্তি কি ইচ্ছা করে এই মরণব্যাধি দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন? না কি অনিচ্ছা স্বত্তেও করোনা ভাইরাসে তিনি আক্রা’ন্ত হয়েছেন? কেউ-ই স্বেচ্ছায় এই মরনব্যাধীকে আমন্ত্রন করেনা, বিষয়টি আমাদেরকে বুঝতে হবে। এবং আক্রা’ন্ত ব্যাক্তিদের প্রতি মানবিক হতে হবে। একজন রোগাক্রা’ন্ত ব্যক্তির অর্ধেক রোগ কমে যেতে পারে তার সাথে অন্যের সহানুভূতি এবং মানবিক আচরণে, আর একজন রোগী মারাও যেতে পারে আপনার আমার অবহেলা কটু কথা এবং অমানবিক আচরনে!!!

আমরা যেহেতু মুসলিম আসুন যেনে নিই রাসুল (সাঃ) কি নির্দেশনা দিয়েছেন রোগীদের ব্যাপারে ? কেমন আচরন করা উচিৎ আক্রা’ন্ত রোগীদের সাথে?

একজন মুসলমানের উপর অন্য মুসলমানের যে কয়টি হক্ব আছে তার মধ্যে অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়াও একটি হক্ব বলে ছহি হাদিসে উল্লেখ আছে।

ছহি মুসলিমের একটি হাদিসে বর্নিত আছে রাসুল (সাঃ) বলেন; কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে বলবেন হে বান্দা আমি যখন রোগাক্রা’ন্ত ছিলাম তুমি আমার শুশ্রূষা করনি, দেখতে যাওনি! বান্দা তখন অবাক হয়ে বলবে আপনি তো রাব্বুল আলামিন আপনাকে কেমনে দেখতে যাব? আল্লাহ তখন বলবেন বান্দারে আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল যদি তুমি তাকে দেখতে যেতে তবে সেটা আমাকেই দেখা হত!!!

আপনার প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার করা খোজ খবর নেয়া এটা হচ্ছে প্রতিবেশীর হক্ব।
ছহি বুখারীর একটি হাদিসে আছে রাসুল (সাঃ) তিন বার কছম খেয়ে বলেন; সে মুমিন নয় যে প্রতিবেশীর হক্ব আদায় করে না।

যে বা যারা আক্রা’ন্ত রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহার করছেন তারা কিন্তু প্রতিবেশীর হক্ব নষ্ট করছেন,মারাত্মক গোনাহের কাজ করছেন।

যেহেতু সব বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের অভিমত হচ্ছে করোনাভাইরাস একটি সংক্রামক ব্যাধি, রোগীর একেবারে কাছে যাওয়া যাবে না। কিন্তু যথাযথ নিয়ম মেনে প্রটেকশন ব্যবহার করে ৩ ফুট দুর থেকে রোগীর দেখভাল করা যায় এবং বিশ্বব্যাপী ডাক্তাররা তা করছেনও, সেহেতু রোগীকে নিজেদের নিরাপত্তা মেইনটেইন করে দেখাশোনা করাও এত ঝুকির কিছু নয়।

তারপরেও আমাদের ভীতু মন-মানসিকতা আর সামাজিক হীনমন্যতার কারণে আমরা যদিও করোনা আক্রা’ন্ত রোগীর কাছে যেতে পারছি না, তথাপি আমরা তো তাদেরকে দুর থেকে সমবেদনা দিতে পারি, সাহায্য সহযোগিতার হাত সম্প্র’সারিত করতে পারি।

তা না করে আক্রা’ন্ত রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহারের অথরিটি আপনাকে কে দিয়েছে?
যেভাবে দেশে করোনা আক্রা’ন্তের হার বাড়ছে, আপনিও যে কাল আক্রা’ন্ত হবেন না এর কি কোনো নিশ্চয়তা আছে?
আর আপনার সাথে আপনার প্রতিবেশী খারাপ ব্যবহার করলে কেমন লাগবে তা কি একবার ভেবে দেখেছেন???

এখনও সময় আছে মন-মানসিকতার পরিবর্তন করুন, আক্রা’ন্ত রোগীদের ঘৃণা নয় ভালোবাসা এবং সহমর্মিতার চোখে দেখুন।

সচেতনতা অবলম্বন করে সবাই ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন।

-মুহিব রাহমান, সিলেট।

শেয়ার করুনঃ