কামিল আহমদ , গোলাপগঞ্জ(সিলেট) থেকে : এখন জ্যৈষ্ঠ মাস। আষাঢ় মাস শুরু হয়নি। আষাঢ় মাস মানেই ঝর ঝর বৃষ্টি। দু এক ফোটা বৃষ্টিতে নদী পাড়ের মানুষের বাড়ি ঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে। আবার অনেকের ঘর ভেঙ্গেঁ গেছে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের সুনামপুর গ্রামে। এর মধ্যে ৪ পরিবার কুশিয়ারা নদীর ভাঙ্গনে আজ নি:স্ব। পাশাপাশি গ্রামের অন্য কয়েকটি বাড়ি নদী গর্ভে চলে যাবে যে কোন সময়। তাই ঘরের অবশিষ্ট অংশে বাঁশের বেড়া দিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে ১৮ সদস্যেও ৪টি পরিবার । এদের মধ্যে স্কুল পড়ুয়া ৬ ছেলে-মেয়ে রয়েছে।

সরেজমিন সুনামপুর গ্রামে কুশিয়ারা নদীতে গ্রাস হওয়া বাড়িঘর ঘুরে দেখা যায়, সম্প্র’তি হাল্কা বৃষ্টিতে এসব পরিবারের ঘর নদীভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। সাহাব উদ্দিনসহ ৪টি ঘরের অর্ধেক অংশ নদীতে চলে গেছে। তাই ঘরের অবশিষ্ট অংশে বাঁশের বেড়া দিয়ে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। একইভাবে গ্রামের মুক্তি’যোদ্ধা ইরমান আলী, জুনাব আলী, আরব আলী, সোনা মিয়া, আমির মিয়া, শুক্কুর আলী,ছোওয়াব আলী ঘরগুলো নদী ভাঙ্গনে কবলে চলে গেছে।

সুনামপুর গ্রামের আলিম, ইরমান আলী, আলি হোসেন ও রফিকুন নেছা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিকরা এসে দেখে ছবি নিয়ে চলে যায়। এরপর আমাদের আর কেউ খোঁজ নেয় না। আমরা এতো অসহায় হয়ে পড়ছি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অতীতে আমাদের বাড়ির অনেক জায়গা টানা বর্ষনে পানির স্রোতে আমাদের ঘরগুলো নদীতে চলে গেছে, যেটুকু অবশিষ্ট ছিল তাও তলিয়ে যাচ্ছে। এখন আমাদের থাকার জায়গা নেই। আমরা এতোটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোন সহযোগিতা পাইনি তাছাড়া স্থানীয় কোন চেয়ারম্যান মেম্বারও আসেনা আমাদেরকে দেখতে।

সাহাব উদ্দিন মিয়ার নবম শ্রেণী পড়ুয়া শিক্ষার্থী মাসুমা ক্ষোভে, দু:খে বলেন, নদীর ভাঙ্গনে আমরা নি:স্ব হয়ে গেছি। এখন আমাদের থাকার মতো স্থায়ী জায়গা নেই। আমাদের অসহায়ত্ব দেখার মতোও কেউ নেই। কোথায় যাবো, কোথায় থাকবো, কি খাবো কেউ খবর নেয় না। আমাদের ঘর নদীর ভাঙ্গনে তলিয়ে যাচ্ছে।

ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল করিম কাসেমী বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তাই ক্ষতিগ্রস্তদের এখন পর্যন্ত কোন সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হয়নি।

গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রা’প্ত নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে ক্ষতিগ্র’স্তরা যোগাযোগ করলে তাদের সহায়তা প্রদান করা হবে।

শেয়ার করুনঃ