চলে গেলেন ইন্জিনিয়ার জনাব আবুল হোসেন, ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন।

দৈনিক সিলেটের দিনকালের প্রধান সম্পাদক লতিফ নূতনের পিতার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন লন্ডন বাংলার ব্যব্স্থাপনা সম্পাদক মোহাম্মদ জাহেদি ক্যারল।

এক শোক বার্তায় তিনি মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

এসময় তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমার একজন মামা ( মায়ের মামাত ভাই ) আমার বন্ধু এডভোকেট কবির আহমদ বাবরের ভাই এবং সিলেটের অন্যতম সংবাদপত্র ‘দৈনিক সিলেটের দিনকাল’র প্রধান সম্পাদক আব্দুল লতিফ নুতন’ এর পিতা সাবেক বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ইন্জিনিয়ার আবুল হোসেন আজ ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাইহি রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থতা ভোগছেন। মহান আল্লাহ যেন আমার প্রিয় মামাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন। হাজার স্মৃতি বিজড়িত এই মামা দীৰ্ঘদিন আমাদের সঙ্গে ছিলেন, শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

ঊপরের গ্রুপের ছবির বাম দিকে সদ্য প্রয়াত আবুল হুসেন বছু মামা , মাঝখানে আমার শ্বশুর বশির উদ্দিন অহমেদ তফাদার এবং ডানে আমার পিতা মঃ আব্দুর রহিম জাহেদি, তারা তিন জনই এখন আর এজগতে নেই, চলে গেছেন ওপারে সুন্দর জগতে। আমাদের জন্য রেখে গেছেন হাজার স্মৃতি ও শিক্ষণীয় অনেক কিছু। আজ এই সময়ে তাদের খুব স্মরণ হচ্হে । ভালো মানুষগুলো একে একে বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছেন, চলে যাচ্ছেন ভালোবাসাৱ প্রিয় মানুষগুলো, আমাদের মায়ার বাধন ছিড়েঁ। বছু মামা এবং আমার আব্বা সম্পৰ্ক যদিও শালা দুলাভাই, রং তামাসা করতেন সময়মত, আবার আব্বাকে পরম শ্ৰদ্ধা করতেন একজন বড় ভাই বা অভিভাবকে মত, সকল ব্যাপারে আব্বা আম্মার পারামর্শ নিতেন এবং সে আনুযায়ী লন্ডন জীবনেৱ বাকি সময়টুকু চালিয়েছেন। প্রথম কয়েকদিন লন্ডন থাকার পর আমার আরেক মামাত বোন রানু আপার বারমিংহামের বাসায় নিয়ে যাই মামাকে, আমরা যাত্রা শুরু করি লন্ডন ভিক্টোরিয়া স্টেশন থেকে বার্মিংহ্যাম সেনট্রেল স্টেশন ন্যাশনাল এক্সপ্রেসে। সম্ভবত এটি ছিল আমার জীবনেৱ প্রথম জার্ণি ন্যাশনাল এক্সপ্রেসে, এর আগে আর অনেকবার বার্মিংহ্যাম গিয়েছি আমাদের প্রাইভেট কারে আব্বার সাথে। এরপর কলচেস্টার, ব্রাইটন, কেন্ট প্রভৃতি শহর নিয়ে যাই কর্মস্থল, কোনো যায়গায়ই এক সাথে বেশি দিন কাজ করেন নি।

আমাদের এলাকায় থাকেন আমার এক খালা ( মায়ের মামাত বোন বিনা খালা ) বছু মামার চাছাত বোন। লন্ডন জীবনেৱ অধিকাংশে সমর বিনা খালার বাসায় দ্বিতীয় নিবাস ছিল মামার। আব্বাকে পিরসাব আর খালু কে ( বিনা খালার স্বামী ) সাধু বলতেন, খালু আসলেই সাধুর মতই ছিলেন, খুব নরম মেযাজের এবং পরোপকারী একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন । আজ থেকে প্রায় তিন দশক আগে উনার বৃদ্ধ মা এবং আমার বৃদ্ধ অন্ধ নানি, অনেক কষ্ট করে দুজন বৃদ্ধ মহিলাকে সুদুর বাংলাদেশ থেকে লন্ডন নিয়ে আসেন। এমন দুঃসাহসিক কাজ করা অনেকের পক্ষে সম্ভব হবে না, খালুর এই ঋণ পরিশোধ করার নয়। এছাড়াও আরেক বার আমার এক মামাত ভাইর বউকে অনেক রিস্ক নিয়ে ইউরোপের এক দেশে মামাত ভাইর কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন, সেই সময় খালুর সাথে আমৱাও ছিলাম। বহু মানুষের উপকার করেছেন, বছর দুয়েক আগে খালু ইন্তেকাল করেছেন, আল্লাহ খালুকে জান্নাত নছিব করুক।

প্রথম অবস্থায় দীর্ঘদিন বছু মামার পরিবার পরিজন দেশে থাকায়, একাকিত্ব জীবন কাটিয়েছেন পরিবার পরিজন ছাড়া, খুব মিস করতেন তাদেরকে। বিশেষ্ করে ঈদ এর সময় তাদের কথা মনে করে অনরগল চোঁখে জল ভাসত, বিনা খালার লফত থেকে উনার লাগেজ বের করে দেশে চলে যাবার প্রস্তুতি নিয়েছেন অনেক বার। প্রথম প্রথম প্রবাসী জীবনে অনেক সংগ্রাম করছেন, এখন উনার ছেলে মেয়ে, স্ত্রী সবাই বিলাতে স্হায়ীভাবে বসবাস করেন। উনার একমাত্র মেয়ে মৌসুমি সেন্টআলবন থাকে, এক ছেলে বারমিংহাম, এক ছেলে আমেরিকা এবং বড় ছেলে বাংলাদেশে থাকে, সবাইকে ছেড়ে মাবুদের ডাকে চলে গেলে গেলেন আজ। গত চার মাস আগে দেশে থাকা অবস্থায় উনার বাড়ী গিয়ে দেখে আসায় আনেকটা শান্তি লাগছে। সবার কথা জিজ্ঞাসা করেছিলেন, এবং অতীতের অনেক কথা স্মরণ করে কিছু স্মৃতিচারণও করেছিলেন।

আজ মামার শান্তি কামনা করি এবং মহান মাবুদের দরবারে প্রার্থনা করি তিনি যেন সকল গুনাহ খাতা ক্ষমা করে জান্নাত নছিব করেন, এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আমিন

শেয়ার করুনঃ