অধুনালুপ্ত সিলেট জেলা বর্তমানে বাংলাদেশের একটি সমৃদ্ধশালী বিভাগ। সিলেট সদর, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলা নিয়ে গঠিত সিলেট বিভাগ। দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি বললেই মনের মধ্যে ভেসে উঠে সিলেট অঞ্চলের কথা। কী অপূর্ব সুন্দর এই পুণ্যভূমি। এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে অনেকেই কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরের সাথে তুলনা করে এর নামকরণ করেন শ্রীভূমি হিসেবে।

আল্লাহর দান প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এ ভূমি। এখানকার পাথর-বালি দিয়ে সারা দেশের ইমারত ও রাস্তাঘাটের উন্নয়নমূলক কাজ চলে। বৃটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত সিলেট বিভাগের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সিপাহশালা ছিলেন বঙ্গবীর জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী। এবং তাঁর ডিপুটি প্রধান ছিলেন হবিগঞ্জের এম,এ রব।

এছাড়া হযরত শাহজালাল (রঃ)-এর পুণ্যস্মৃতি বিজড়িত সিলেটভূমি সাধক, পীর, দরবেশ, ওলি-আউলিয়ার চারণভূমি হিসেবে পরিচিত। খোদার অপরিসীম মহিমায় সিলেট অঞ্চলের মাটির সাথে আরব দেশের মাটির মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

কথিত আছে, ইয়েমেন থেকে একমুষ্টি মাটি নিয়ে ওলিকুল নয়নমণি হযরত শাহজালাল (রঃ) ৩৬০ আউলিয়া-সহ তাঁর মামার আদেশে সিলেট আসেন। সিলেট আসার পূর্বে তাঁর মামা তাঁর হাতে একমুষ্টি মাটি দিয়ে বলেছিলেন যেখানে গিয়ে এই মাটির রঙ ও গন্ধের মিল খুঁজে পাবে সেখানেই তুমি বসতি স্থাপন করে দ্বীন প্রচার করবে। পরবর্তীতে হযরত শাহজালাল (রঃ) তাঁর সঙ্গে আনীত মাটির সাথে সিলেটের মাটির মিল খুঁজে পান এবং এখানেই বসতি স্থাপন করে ইসলাম ধর্ম প্রচার করতে থাকেন।

বিভিন্ন কারণে অতীতে অনেকবার সিলেট নামের অনেক রদবদল হয়েছে। সিলেট অঞ্চলের বিশিষ্টতার অনেক অনেক কারণ রয়েছে। তারমধ্যে সিলেটের বাংলা ভাষার মতো স্বতন্ত্র একটি ভাষা ও বর্ণমালা রয়েছে। সিলেটের বর্ণমালার নাম নাগরী লিপি। সিলেটের ভাষা ও বর্ণমালা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। আর এ ভাষাকে আন্তর্জাতিকভাবে সমৃদ্ধ করার জন্য সমস্ত সিলেট বিভাগের কিছু তরুণকর্মী নিরলসভাবে গবেষণার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি আন্তরিকভাবে তাদের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।
……মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আমান উদ্দিন।

শেয়ার করুনঃ