বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ বিয়ানীবাজারের চারখাই ইউনিয়নের গাছতলা এলাকা থেকে পুলিশ একটি মানব দেহের কংকাল উদ্ধার করেছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকালে উদ্ধার হওয়া কংকালটি চারখাই বাজারের নিখোঁজ ব্যবসায়ী কামাল হোসেনের। তিনি এক বছর পূর্বে নিখোঁজ হয়েছিলেন।

কিন্তু ব্যবসায়ী কামাল হোসেনের সাথে কী হয়েছিল তা জানলে মনে হবে এ যেন ক্রাইম পেট্রোলের ক্রাইমকেও হার মানালো। লোমহর্ষক চাঞ্চল্যকর এ হত্যার রহস্য উদঘাটন করলেন জকিগঞ্জ বিয়ানিবাজার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব সুদিপ্ত রায়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১০/০৮/২০১৯ সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই বাজারের কামাল ষ্টোরের সত্ত্বাধীকারী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কামাল আহমদ নিখোঁজ হলে পাওয়া যায় নি তার কোন তথ্য। দোকান কর্মচারী মূল হত্যাকারী আমিরুদ্দিন পরিবারকে নানা বাহানা করে বলে আসছে নিখোঁজ কামাল আজমির শরীফ রয়েছেন। কখনো সে বলছে ঢাকায় রয়েছেন।

পরিবার নিঁখোজ কামাল এর অপেক্ষা করতে করতে নিখোঁজের তারিখ ১০/০৮/২০১৯ উল্লেখ করে আদালতের দ্বারস্ত হয়। যার মামলা নং ৩৫৮/২০১৯।

অনেক আইনি লড়াই শেষে আদালতের নির্দেশে ২১/০১/২০২০ ইং তারিখ বিয়ানীবাজার থানায় মামলাটি রেকর্ড হয়।

এরপর সিলেটের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ ফরিদ পিপিএম মামলাটির বিশেষ দায়িত্ব দেন জকিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়কে।

দায়িত্ব পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদিপ্ত রায় নিঁখোজ কামালের সন্ধানে মাঠে নেমে অত্যন্ত গুরুত্বের সহিত তদন্ত করে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে মামলার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হন।

আজ প্রধান আসামী আমির উদ্দীন সহ তার সঙ্গীয় কয়েকজনকে গ্রেফতার করে কামাল হত্যার মূল জট খুলে তাদের তথ্যমতে কাঁদাযুক্ত হাটুজল অতিক্রম করে আলীনগর গাছতলা এলাকায় একটি পুকুরে ডুবুরি দিয়ে অনুসন্ধান করে কামালের কঙ্কাল উদ্ধার করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এলাকায় নিহত কামাল একটি ছোট ঘর নির্মাণ করে বসবাস করেন। চারখাইয়ে তার একটি মোদি দোকান ছিলো। সেথায় দোকানের কর্মচারী হিসেবে জকিগঞ্জের আটগ্রামের আমির উদ্দীন কে নিয়োগ করলে আমির উদ্দীন পরিকল্পিত ভাবে কামালকে হত্যা করে লাশ ড্রামে ভরে পুকুরে ফেলে দেয়। এরপর দোকানের মালামাল নিজ এলাকায় বিক্রি করে ফেলে।

শেয়ার করুনঃ