ভারীবর্ষণ ও উজানের ঢলে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ফেঞ্চুগঞ্জে আবারও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে উপজেলার নদী ও হাকালুকি হাওর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এলাকার মানুষদের চরম দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে।

উপজেলার কুশিয়ারা নদী তীরবর্তী পিঠাইটিকর, ছত্তিশ, ভেলকোনা এবং হাকালুকি হাওর তীরবর্তী বাদেদেউলী, যুধিষ্ঠিপুর ও বাঘমারা গ্রামের নিম্নাঞ্চল পানিতে প্লাবিত হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। অনেকের বসতবাড়ির আঙ্গিনা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন নদী ও হাওর তীরবর্তী মানুষজন।

এদিকে, ক্রমাগত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে কৃষি ক্ষেত। ইতোমধ্যে বিভিন্ন শাকসবজি উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাছাড়া, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আমন ধানের উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে বলেও শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া, পানি বৃদ্ধি হওয়ায় পানিবন্দী এলাকায় গবাদিপশু নিয়ে বেপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা। গবাদি পশুর খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সংকট দেখা দিয়েছে।

এরআগে গত জুনমাসের প্রথম সপ্তাহে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের পাশাপাশি ফেঞ্চুগঞ্জেও দেখা দিয়েছিল বন্যা। ঐসময় এ উপজেলার কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। পরবর্তীতে পানি কমতে শুরু করলেও চলতি সপ্তাহে ২য় দফায় পানি বৃদ্ধিতে বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উজানে ভারতের পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। যার প্রভাবে বাংলাদেশের নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়ে থাকে। ভারতের ঐসব এলাকায় আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। ফলে কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি ও বন্যা দেখা দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শেয়ার করুনঃ