ছামি হায়দার, ফেঞ্চুগঞ্জঃ উপরে নীল আকাশ আর নিচে অথৈ স্বচ্ছ জলরাশি। জলের উপর বয়ে চলছে ছোট-বড় নৌকা। আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। নয়নাভিরাম দৃশ্যটি দেশের বৃহত্তম হাকালুকি হাওরের। এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য মন কেড়ে নেয় ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের। তাই তো সেখানে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। চলতি বর্ষায় হাকালুকি উত্তাল যৌবনের জয়গানে মুখরিত হয়ে উঠে। নীল আকাশের সাথে জলরাশির মিতালি বিমোহিত করে পর্যটকদের। বর্ষায় হাকালুকি হাওর দেখলে মনে হবে, এ যেন মহাসাগর। যেদিকে চোখ যায় শুধু জলের হাতছানি। বিশাল এ হাওর ঘিরে স্থানীয় লাখো মানুষের স্বপ্ন ও জীবিকা।

বর্ষা মৌসুমে পর্যটকদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠে এ হাওরের ফেঞ্চুগঞ্জে অবস্থিত জিরো পয়েন্ট পর্যটন এলাকা। করোনাকালেও ভ্রমণ পিপাসুদের ভিড়ে তিলধারনের জায়গা নেই মনোরম এই পর্যটক এলাকায়। বন্ধু বান্ধব কিংবা পরিবার নিয়ে নানা জায়গা থেকে ভ্রমন পিপাসুরা আসছেন ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে খ্যাত এই হাকালুকি হাওরে। সকাল-থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাজারো মানুষের কোলাহলে উৎসবমুখর করে তুলেছে এ এলাকা।

বন্ধুদের নিয়ে হাওরে ঘুরতে যাওয়া সিলেটের শুভ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘করোনাদুর্যোগে কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই। প্রকৃতি খুব টানে। হাকালুকি হাওর এলাকাটি উন্মুক্ত। তাই বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছি। অথৈ জলের হাকালুকি হাওর মনোমুগ্ধকর একটা পরিবেশ। খুব ভালো লাগছে।

আসিফ নামের একজন চাকরিজীবি বলেন, বর্ষায় হাওরের সৌন্দর্য দেখতে অন্যরকম ভালো লাগে। এখানকার পরিবেশ আমাকে বারবার টানে। তাই প্রাণের টানে এখানে ছুটে এসেছি। অসম্ভব ভালো লাগছে।

স্থানীয়রা জানান, এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকি বর্ষায় সাগরে পরিণত হয়, হেমন্তে হয় চারণ ভূমি। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে হাওরের প্রাকৃতিক পরিবেশ, জীব বৈচিত্র দেখে মুগ্ধ হন পর্যটকরা।

শেয়ার করুনঃ