সিলেটের প্রবেশদ্বার খ্যাত পার্শ্ববর্তী উপজেলা দক্ষিণ সুরমা। সুরমা নদীর দক্ষিণ তীরবর্তী এ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের সবকটিকে সিলেট সিটি করপোরেশনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য বিভিন্ন ইউনিয়নসহ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সিলেটের জেলা প্রশাসক, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ও স্থানীয় সরকার পরিচালক বরাবরে পৃথক পৃথক স্মারকলিপি প্রদান করা হচ্ছে।

জানা যায়, গত ৯ আগস্ট সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে সিলেট সিটি করপোরেশনের আয়তন বৃদ্ধির লক্ষ্যে দক্ষিণ সুরমা ও উত্তর সুরমার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামকে সিলেট সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হিসেবে একটি গেজেট প্রকাশ করে। উক্ত গেজেটে সিলেট সদর উপজেলার টুকের বাজার ইউনিয়নের কুমারগাঁও–৮০, মইয়ারচর–৮১ (দাগ নম্বর ৭৭, ৮২, ৮৩, ৮৯, ৯০, ৯১ ব্যতীত), খুরুমখলা শাহপুর–৮২, আখালিয়া–৮৮, খাদিমনগর ইউনিয়নের কুমারগাঁও–৮০, খাদিমপাড়া ইউনিয়নের সাদিপুর ১ম খন্ড–৯৩, টিলাগড়–৯৫, দেবপুর–৯৬, কসবা কুইটুক–১০০, সুলতানপুর চক–১০১, পেশনেওয়াজ–১০২, টুলটিকর ইউনিয়নের সাদিপুর ১ম খন্ড–৯৩, টিলাগড়–৯৫, দেবপুর–৯৬। এছাড়া দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কুচাই ইউনিয়নের হবিনন্দি–১০৭, মনিপুর–১০৮, আলমপুর–১০৯, গোটাটিকর–১১০, বরইকান্দি ইউনিয়নের পিরিজপুর–১১৪, ধরাধরপুর–১১৫, বরইকান্দি–১১৬, গোধরাইল–১২৬ এবং তেতলী ইউনিয়নের ধরাধরপুর–১১৫, বরইকান্দি (অবশিষ্টাংশ)–১১৬, বলদী–১২৫ (আংশিক) (দাগ নম্বর ২১৯৯-২৩৪৯, ৩৫০৯-৩৫১১, ৩৫১৩, ৩৫৩৫) অর্ন্তভুক্ত রয়েছে বলে প্রকাশ করা হয়। অর্ন্তভুৃক্ত এলাকা ছাড়া বাকী এলাকা বিশেষ করে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার অবশিষ্ট বিভিন্ন ইউনিয়নকে সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছে বিভিন্ন ইউনিয়নের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ সামাজিক সংগঠন।

এরই অংশ হিসেবে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) আওতাধীন দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নকে সিলেট সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্তির দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছে সিলেটের সদর দক্ষিণ এলাকার ন্যায়সংগত দাবি আদায় ও সুষম উন্নয়ন তরান্বিত করার লক্ষ্যে গঠিত অরাজনৈতিক সংগঠন ‘সদর দক্ষিণ নাগরিক কমিটি, সিলেট’।

১৮ আগস্ট মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিতিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মীর মাহাবুবুর রহমানের কাছে এ স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয় (ডকেট নং-১৬)। পরে অনুরূপ একটি স্মারকলিপি সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র বরাবরেও দেওয়া হয়। একই দাবিতে আজ সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মুমিন বরাবরেও অনুরূপ একটি স্মারকলিপি পেশ করা হবে।

‘সদর দক্ষিণ নাগরিক কমিটি সিলেট’র সভাপতি ও মোল্লারগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ মো. মকন মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক ও সিটি কাউন্সিলর মো. আজম খানের নেতৃত্বে স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্মারকলিপি প্রদানকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের অন্যতম সহ-সভাপতি দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. সাইফুল আলম, বরইকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হাবিব হোসেন, দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি চঞ্চল মাহমুদ ফুলর, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর খান, অর্থ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. আব্দুস ছত্তার, প্রচার সম্পাদক দিলওয়ার হোসেন রানা, দপ্তর সম্পাদক মো. ছয়েফ খান, ক্রীড়া সম্পাদক আক্কাছ উদ্দিন আক্কাই, পুনর্বাসন সম্পাদক মো. নজরুল হোসেন, শিল্প সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম সুমন, সহ-পরিবেশ সম্পাদক সাংবাদিক সাহাদ উদ্দিন দুলাল, সহ-সাহিত্য সম্পাদক সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম ইমরান, অন্যতম সদস্য মো. সোহেল রানা, বাহার মিয়া, ইমরান আহমদ, বরইকান্দি ইউপি সদস্য শরীফ আহমদ প্রমুখ।

অনুরূপভাবে দক্ষিণ সুরমার কুচাই ইউনয়িনরে পালপুর মৌজাকে সিলেট সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে১৮ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে কুচাই ইউনয়িনরে পালপুর মৌজা ১০৬ এর নাগরিকবৃন্দের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

এর আগে পালপুর মৌজার নাগরিকবৃন্দ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে পালপুর মৌজা ১০৬ কে সিলেট সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভূক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন র্কমসূচি পালন করেন। স্মারকলিপি ও মানববন্ধনে উপস্থিতি ছিলেন ফয়জুল ইসলাম আরিজ, মোহা. আব্দুল হাছিব, নজরুল ইসলাম আকাজ, শামিম আহমদ চৌধুরী, নজমুল হক, মুর্শেদে মুকুল, মোহাম্মদ শাহ আলম, গুলজার আহমদ জগলু, মোহাম্মদ আল আমিন, সুলতান আহমদ চৌধুরী, মামুনুর রশিদ, মোহাম্মদ মান্না, উজ্জ্বল, সাদেক প্রমুখ।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কুচাই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের পালপুর মৌজার পালপুর ও দক্ষিণ কুশিঘাটের অর্ধেক সিলেট সিটি করপোরেশনের হবিনন্দী মৌজায় অবস্থিত। যা পূর্বেই সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। পালপুর ও দক্ষিণ কুশিঘাট গ্রামের বাকী অংশ কুচাই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। গ্রাম দুটির মসজিদ, হবিনন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাহেবের বাজার ও ভোটকেন্দ্র হবিনন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সিটি করপোরেশন এলাকায় অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশ সরকারের সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের বিভাগীয় অফিস, জালালাবাদ গ্যাস স্টেশনসহ সরকারের অনেক কার্যালয় পালপুর মৌজায় অবস্থিত। পালপুর মৌজাটি সিটি করপোরেশনের বহির্ভূত হওয়ায় যেসব কল-কারখানা ও বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে তা থেকে সরকার তেমন কোন রাজস্ব পাচ্ছেনা। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২৬নং ওয়ার্ড থেকে পানির ড্রেন ২৭নং ওয়ার্ডের গোটাটিকর-আলমপুর-হবিনন্দী হয়ে পালপুর মৌজার ভেতরে নির্মিত হয়েছে।

স্মারকলিপিতে নাগরিকবৃন্দ উল্লেখ করেন স্থানীয় সরকারের প্রজ্ঞাপনে সিলেট সিটি করপোরেশনের এলাকা বৃদ্ধি করা হয়। তাতে কুচাই ইউনিয়নের শুধুমাত্র পূর্বের যে এলাকাগুলো সিটিকরপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল সেগুলোই আবার নতুন প্রজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পালপুর মৌজার ১০৬ এর নাগরিকরা আশাবাদী ছিলেন পালপুর মৌজাকে সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কিন্তু তা হয়নি। এলাকার নাগরিকবৃন্দ দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। স্মারকলিপিতে নাগরিকবৃন্দ পালপুর মৌজা-১০৬ কে সিলেট সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়।

শেয়ার করুনঃ