সংযুক্ত আরব আমিরাতে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশী সিলেটের বিয়ানীবাজারের সন্তান সুহেল আহমেদ স্বপন। আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে তিনি স্বেচ্ছায় এ ভ্যাকসিন নিজ দেহে গ্রহণ করেন। আগামী ২১দিন পর তার দেহে ২য় ভ্যাকসিনও প্রয়োগ করা হবে।

চীনা ওষুধ কোম্পানি ‘জায়ান্ট সাইনোফর্ম’ ও আবুধাবিভিত্তিক গ্রুপ ‘ফরটিটু হেলথ কেয়ারের’ চুক্তির ভিত্তিতে আমিরাতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদারকিতে এ ট্রায়াল কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি মূলত করোনা ইনেক্টিভেট ভ্যাকসিন, যা গত ১৬ জুলাই আমিরাতে তৃতীয় দফায় মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়।

এর আগে ভ্যাকসিন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ স্বেচ্ছাসেবকদের Humanity-4 বা মানবতা-৪ এর অংশ হিসেবে করোনা ভ্যাকসিনের এ ট্রায়ালে অংশ নিতে অনুরোধ জানিয়েছিল। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে ইতোমধ্যে ১৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবী ভ্যাকসিনটি নিজেদের শরীরে গ্রহণ করেছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তারা ২৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর দেহে এ ভ্যাকসিন প্রয়োগ করতে চান।

সুহেল আহমদ জানান, ‘যখন জানতে পারলাম যে, করোনার ভ্যাকসিন পরীক্ষায় স্বেচ্ছাসেবী চাওয়া হচ্ছে, তখন আমিও মানবতার কল্যাণে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়ালে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নাম তালিকাভুক্ত করি। এরপর আজ স্বেচ্ছায় নিজ দেহে ওই ভ্যাকসিনের ১ম ডোজ গ্রহণ করি। ২১ দিন পর আবারও ২য় ডোজ প্রয়োগ করা হবে।’

তিনি জানান, ভ্যাকসিন নেয়ার পর শরীরে কোনও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় নি। ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর তারা আমাকে ৩০মিনিট পর্যবেক্ষণে রেখেছে। এরপর বিদায় দিলেও তারা সর্বদা আমাকে পর্যবেক্ষণে রাখবে। সবসময় যোগাযোগ ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, প্রবাসী বাংলাদেশী সুহেল আহমেদ স্বপন বিয়ানীবাজার পৌর এলাকার শ্রীধরা গ্রামের মরহুম ফরমুজ আলী মাষ্টারের ২য় পুত্র। বর্তমানে তিনি আমিরাতের আবুধাবিতে কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি সেখানকার প্রবাসীদের উন্নয়নে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। প্রবাসীদের উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠিত ‘সিলেট বিভাগ প্রবাসী উন্নয়ন সমিতির’ সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। এছাড়া তিনি আবুধাবি আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকেরও দায়িত্বে রয়েছেন।

শেয়ার করুনঃ