শোকাবহ আগষ্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যবৃন্দের স্মরণে ইউকে বিডি টেলিভিশনের মাসব্যাপী ভার্চুয়াল ধারাবাহিক অনুষ্ঠানের সমাপনী আলোচনা “শোকার্ত হৃদয়ের শ্রদ্ধা”র অনুষ্ঠান গত ৩১শে আগষ্ট ২০২০ সোমবার সফলভাবে অনুষ্টিত হয়েছে।

যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ইউ কে বিডি টিভির উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান মাহমুদ শরীফ এর সভাপতিত্বে এবং ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান সাবেক ছাত্রনেতা ও বিশিষ্ট কমিউনিটি লিডার মোহাম্মদ মকিস মনসুর এর পরিচালনায় ও ইউ কে বিডি টিভির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও যুক্তরাজ্য যুবলীগ বৃষ্টল বাথ এন্ড ওয়েষ্ট শাখার সভাপতি খায়রুল আলম লিংকন এর ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত ভার্চ্যুয়াল স্মৃতিচারণ সভা অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ইউকে বিডি টিভির প্রধান উপদেষ্টা বিশিষ্ট সাহিত্যিক কলামিষ্ট ও একুশের গানের রচয়িতা আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী.।

প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের অন্যতম উপদেষ্টা সাবেক সফল বানিজ্যমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর একান্ত রাজনৈতিক সচিব জননেতা তোফায়েল আহমদ এমপি, গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি বিশিষ্ট কুটনীতিক ড.এ কে আব্দুল মোমেন এমপি, বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি সাবেক মন্ত্রী জননেতা রাশেদ খান মেনন, যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য মৌলভীবাজার মহকুমা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফিরোজ ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিষ্টার আশেকুন্নবী চৌধুরী প্রমুখ ।

বিশিষ্ট সাহিত্যিক কলামিষ্ট ও একুশের গানের রচয়িতা আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলাদেশের স্থপতি নয় তিনি হচ্ছেন বিশ্বময় ছড়িয়ে থাকা ৬০ কোটি বাঙ্গালীরা মুক্তি দুত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ১৯৬৮ সালের ১৮ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু এবং ৩৪ জন অন্যান্য বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকারের সাজানো ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ শীর্ষক মামলায় বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তারের পরে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকা সেনানিবাসে নিয়ে যাওয়া হয়।

২০০৪ সালের এই দিনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী সমাবেশে বর্বরতম গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করা; জননেত্রী বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনারে হত্যাসহ বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও দুঃশাসনকে চিরস্থায়ী করা। তিনি সরকারের উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন কভিড ১৯ তথা করোনা ভাইরাসের এই মহামারীতে যেখানে পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো হিমশিম খাচ্ছে সেখানে আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ইনশাআল্লাহ ভালো অবস্থানে রয়েছি। তিনি বলেন যতদিন শেখ হাসিনার হাতে থাকবে দেশ সঠিক পথে থাকবে বাংলাদেশ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড: এ কে আব্দুল মোমেন এম পি বলেন ১৫ই আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কময় দিন।

বক্তৃতার প্রারম্ভে তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান ।শোকাহত চিত্তে আরও শ্রদ্ধা জানান বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তাঁর তিন পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশুপুত্র শেখ রাসেলসহ শহীদদের প্রতি, যাঁরা ১৯৭৫ সালের এ দিনে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে ঘাতকচক্রের হাতে শাহাদতবরণ কারীদের।

বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে তিনি বলেন পলাতকদের মধ্যে যাদের চিহ্নিত করতে পেরেছি তাদের একজনের ব্যাপারে আমরা কিছুটা আশাবাদী। এখনো এটা আইনের মারপ্যাঁচে রয়েছে।

এ ব্যাপারে যা করা দরকার সরকার সেই ব্যবস্থা নিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর আরেকজন খুনিকে দেশে এনে বিচারের সম্মুখীন করতে পারব।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আরেক যে খুনি কানাডায় পালিয়ে রয়েছে সে বিষয়ে সরকার বেশ অগ্রসর হয়েছে। তবে বাকি তিনজন কোথায় আছে বা কি নামে আছে তার সঠিক তথ্য এখনো নেই।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি সাবেক মন্ত্রী জননেতা রাশেদ খান মেনন,বলেন ১৫ আগস্ট জাতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে বাঙালির স্বাধীনতা ও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিল। তারা শুরু করেছিল বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির পালা। ইতিহাসের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া বন্ধ করতে ঘাতক চক্র কুখ্যাত ‘ইনডেমনিটি আইন’ পাস করে।জেলজুলুম নির্যাতন আর অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে বঙ্গবন্ধু আমাদের জন্য প্রতিষ্ঠা করে গেছেন স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর মূলপরিকল্পনাকারীদের বিচারের আওতায় আনার উউদ্দ্যেশ গ্রহণ করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। বৃটেনের বাংলাদেশের হাইকমিশনার হ্যার এক্সিলেন্সি সাঈদা মুনা তাসনীম, বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পাশাপাশি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকীতে হাইকমিশনের বিভিন্ন পোগ্রামের বিবরণ তুলে ধরে তিনি ইউকে বিডি টিভির ভূয়শী প্রসংশা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ, বলেন, ১৫ আগস্ট জাতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে বাঙালির স্বাধীনতা ও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিল। তারা শুরু করেছিল বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির পালা। ইতিহাসের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া বন্ধ করতে ঘাতক চক্র কুখ্যাত ‘ইনডেমনিটি আইন’ পাস করে।জেলজুলুম নির্যাতন আর অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে বঙ্গবন্ধু আমাদের জন্য প্রতিষ্ঠা করে গেছেন স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান বিশিষ্ট কমিউনিটি লিডার ও সাংবাদিক মোহাম্মদ মকিস মনসুর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যবৃন্দের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং অবিলম্বে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের মধ্যে যারা সাজাপ্রাপ্ত কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পলাতক রয়েছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর করার আহবান জানান।

শেয়ার করুনঃ