গোলাপগঞ্জ প্রতিনধিঃ গোলাপগঞ্জের কুশিয়ারা তীরবর্তী কটলিপাড়া-বসন্তপুর সড়কের সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় যুবসমাজ রাস্তার কাজের মান তদারকি করতে গেলে সেখানে ব্যাপক অনিয়ম চোখে পড়ে বলে অভিযোগ তাদের। কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় হাতের টানে কার্পেটিং উঠে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন তারা। এ সংক্রান্ত কিছু ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরালও হয়েছে।

দীর্ঘ দুর্ভোগের পর জনগুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তার মেরামত কাজ শুরু হওয়ায় জনমনে আনন্দের সঞ্চার হয়েছিলো। বিভিন্ন ধাপে এ রাস্তার ১০কিলোমিটার সংস্কার কাজ করার কথা রয়েছে। ১ম ধাপেই প্রায় ৫ কিলোমিটার মেরামত কাজ শুরু হয়েছে, যা বহরগ্রাম থেকে শুরু হয়ে লামা-চন্দরপুর গ্রামের অগ্রভাগে শেষ হবে। এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৪৫লাখ টাকা। কাজটি সম্পন্ন করছে জাফর আহমেদ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তায় সরকারের এতো টাকা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কেন অনিয়ম আর গাফিলতি হচ্ছে তা স্থানীয়দের প্রশ্ন।

রাস্তার কাজে অনিয়মের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয়দের নিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন উপজেলা প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান। শনিবার সকাল ১১টায় তিনি স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে এ রাস্তার মেরামত কাজের বিভিন্ন অংশ ঘুরে ঘুরে দেখেন।

এসময় তিনি উপস্থিত সকলকে রাস্তার কাজ মানসম্মত হবে বলে আশ্বস্ত করেন। কার্পেটিং উঠে যাওয়ার জবাবে তিনি জানান, রাস্তার কাজ টেকসই হয়েছে কিনা তা বুজতে কাজের পর সপ্তাহখানেক সময় লাগে। সপ্তাহখানেক পর হাতের টানে এভাবে আর কার্পেটিং উঠে আসবে না জানিয়ে এর বিভিন্ন কারণ নিয়ে আলোকপাত করেন তিনি।

এদিকে, কার্পেটিং উঠে যাওয়ার অভিযোগ-সহ সংস্কারকাজে পাথরের মিশ্রণেও অনিয়মের অভিযোগ ছিলো স্থানীয়দের। তাদের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার মামুন আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন এখানে ৪ধরনের পাথর সঠিক মানে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অথচ, এ প্রতিবেদক সরেজমিন গিয়েও ৪ ধরনের পাথরের কোন অস্তিত্ব পাননি। কোনকোনও জায়গায় রাস্তার উপরিভাগে কিছু বড় পাথরের দেখা মিললেও পুরো রাস্তাটিরই কাজ হচ্ছে একই ধরনের পাথর (সবচেয়ে ছোট যে পাথর) দিয়ে।

সরেজমিন পরিদর্শনে যাওয়া উপজেলা প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১বছরের গ্যারান্টি চুক্তিতে কাজ দেয়া হয়েছে। রাস্তার কাজের কোন অনিয়ম হলে তা সংশোধন করে দিতে ঐ প্রতিষ্ঠান বাধ্য।

এছাড়া স্থানীয়রা জানিয়েছেন, যতটুকু অংশের কাজ শেষ হয়েছে তা আরোও ১সপ্তাহ পরে এর টেকসই তদারকি করা হবে। সেখানে কোন গাফিলতি দৃশ্যমান হলে এর দায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে। এমন বক্তব্যের বিপরীতে পরিদর্শনে যাওয়া উপজেলা প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান একাত্মতা পোষণ করেছেন বলে জানান স্থানীয়রা। এছাড়া সামনের দিনের কাজগুলোর মান তদারকি এবং সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন উপজেলা প্রকৌশলী। তার এমন আশ্বাসে শান্ত হন স্থানীয়রা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, বুধবারীবাজার ইউপি চেয়ারম্যান মস্তাব উদ্দিন কামাল, প্যানেল চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক আফতার হুসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি বজলুর রশিদ বাইছ, কোষাধ্যক্ষ হিফজুর রহমান, প্রচার সম্পাদক হাজী হারুন মিয়া, মেম্বার দুলু মিয়া, ছাদিক মেম্বার, ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দুলু আহমদ, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা আং মুকিত ও ইকবাল হোসেন, ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি গহরুজ্জামান টুনই, সাধারন সম্পাদক সইবন আহমদ, সাবেক ইউডিসি পরিচালক আব্দুল হাকিম, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-ধর্ম সম্পাদক আবুল হোসাইন, বুধবারীবাজার ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হালিমুর রশিদ রাপু, সাধারন সম্পাদক তুলন আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সালেহ আহমদ সুজন, স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি বেলাল আহমদ জয়, আং খালিক, হাবিবুর রহমান, কনুহর আলী, আতিকুর রহমান, আবুল কাশেম, জাহেদ আহমদ মান্না, মাহমুদুল হাসান, ফাহিম আহমদ, চেরাগ আলী প্রমূখ

শেয়ার করুনঃ