দক্ষিণ সুরমায় ডাকাত আতংক প্রতিরোধে উপজেলাবাসীকে সার্বক্ষণিক নিরপরাধ রাখতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষ করে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে উপজেলাবাসীকে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি মহল গুজব ছড়িয়ে উপজেলাবাসীর মধ্যে ভয়ের সঞ্চার করছে। গত ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা রাতে উপজেলার জালালপুর বাজার থেকে ডাকাত সন্দেহে নিরপরাধ ৮ যুবককে আটক করে ডিবি পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন, নিজ জালালপুর পুর্বভাগ গ্রামের কলেজ ছাত্র মুন্না, তরুণ খেলোয়াড় সেবুল আহমদ ও ৯ বছরের বালক পাভেল সহ ৮জন। পুলিশ কর্তৃক উপরোক্ত ৮ যুবক আটকের সময় উপস্থিত কতিপয় উৎসাহি ব্যক্তিরা তা স্যোসাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে। কারও ফেইসবুক পোষ্টে ষাটজন, কারও পোষ্টে ২৫জন, কারও পোষ্টে অস্ত্রসহ অর্ধশত ডাকাত আটকের ঘটনা প্রকাশ পায়। এতে শুধু উপজেলাবাসী নয়, পুরো বিশ্বজুড়ে জালালপুরের ডাকাত আটকের এ ঘটনা আলোড়ন সৃষ্টি করে। আটককৃত ব্যক্তিদয়ের আত্মীয় স্বজন ছাড়াও ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা তাদের আটকের খবর নিশ্চিত হতে প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করলেও রাতের বেলা কিছু জানতে পারেননি। ১৫ ডিসেম্বর বুধবার সকালে আটককৃতদের স্বজনরা খবর পায় যে, ওরা বিশ্বনাথ থানায় আটক রয়েছে। এখবর পেয়ে জালালপুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা সুলাইমান হোসন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সদস্য তপন চন্দ্র পাল, দি নিউ নেশন ও দৈনিক আজকালের খবরের সিলেট ব্যুরো প্রধান এস এ শফি সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিরা বিশ্বনাথ থানায় যান। থানা পুলিশও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের আলোচনার ভিত্তিতে তাদের সাথে সংঘঠিত ডাকাতির ঘটনার কোন সংযোগ না থাকায় ৭জনকে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে ১জনের ব্যাপারে কিছুটা অসঙ্গতি থাকায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়নি।

এসময় বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ শামীম মুসা, বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছয়ফুল হক, রামপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার খানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে জালালপুর ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে আটককৃতদের তাৎক্ষণিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা সুলাইমান হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু জাহিদ। বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা মাহবুবুর রহমান, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সদস্য তপন চন্দ্র পাল, জালালপুর ইউ/পি আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী ওয়েছ আহমদ, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ সানাউল হক সানা, ইউপি সদস্য ছানা মিয়া, সফিক উদ্দিন, আলী আহমদ, ছাত্রলীগ নেতা মতিউর রহমান, যুবলীগ নেতা আজিজ আহমদ, কামরান হোসেন সহ এলাকা সর্বস্তরের জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে মোহাম্মদ আবু জাহিদ বলেন, অপরাধীদের ব্যাপারে কোন ছাড় নয়, তবে প্রকৃত অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে তাকে গ্রেফতার করতে হবে। অযথা গুজব ছড়িয়ে স্থানীয়দের মনে ভীতির সঞ্চার করে আতংক ছড়াবেন না। গতকালের ঘটনায় নিরপরাধ ব্যক্তিদেরকে আটক করা হয়েছে। যা কোন অবস্থায় সমীচিন নয়। তিনি বলেন, সঠিক তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে প্রকৃত অপরাধী গ্রেফতারে জালালপুরবাসী ছিল, আছে এবং থাকবে। তিনি একেত্রে প্রশাসনের সঠিক নজরদারী কামনা করেন।

এব্যাপারে জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা সুলাইমান হোসেন বলেন, ডাকাত সন্দেহে শ্রমিক, গাড়ী চালক এবং ছাত্র আটকের ঘটনা পুরো ইউনিয়ন সহ দেশবিদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন সঠিক তথ্যের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধী গ্রেফতারে তিনি সুদৃষ্টি কামনা করেন।

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার রাত ৯টার দিকে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর বাজার থেকে ৮ জনকে ধরে নিয়ে আসে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসময় দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর এলাকায় ডাকাতের একটি বড় দল ঢুকেছে বলে স্থানীয় করিমপুর গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয়া হয়। এসময় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ।

শেয়ার করুনঃ