নবীগঞ্জ প্রতিনিধি : প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত হয়েছেন নবীগঞ্জের সৌদি ফেরত ইমরান আহমদ। তিনি উপজেলার জালালসাপ গ্রামের মৃত লনু মিয়ার পুত্র। করোনাকালীন সময়ে বিদেশ ফেরত ইমরান আহমদ প্রলোভনে পড়ে একদল প্রতারকদের হাতে প্রতারণার শিকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন প্রতিকার না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন।

এ ব্যাপারে ইমরান আহমদ বাদী হয়ে সান এগ্রো ফুডস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, গাজীপুর জেলার বড়নল গ্রামের মোঃ শহিদুল্লাহ’র পুত্র মোঃ রেজাউল করিম ও সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার দক্ষিণ টিকরপাড়া গ্রামের ছগাই আলীর পুত্র আলী আহমদ, শুভ প্রকাশ মোঃ আমির সহ ৫ জনকে আসামী করে নবীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। যার নং- ০৩, তারিখ ০৩/০২/২০২১ইং। এমপি মিলাদ গাজীর ভাই নাহিদ গাজী বিষয়টি স্থানীয় ভাবে সমাধানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার ইমরান আহমদ দেশে আসার পর আলী আহমদ শুভ নিজেকে সান এগ্রো ফুডস এর জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাকে ব্যবসায়িক অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব করেন। তার কথা বিশ্বাস করে ইমরান আহমদ কোম্পানীর চেয়ারম্যান রেজাউল করিম এর ঢাকাস্থ অফিসে যান। সেখানে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এক পর্যায়ে ইমরান আহমদ রেজাউল করিমের হিসাব নাম্বারে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ইং তারিখ থেকে বিভিন্ন তারিখে সর্বমোট তের লক্ষ ঊনিশ হাজার ছয়শত টাকা প্রদান করেন। যা একটি চুক্তির মাধ্যমে ২.৭৫% কমিশন হারে মাসিক তিন লক্ষ ঊনিশ হাজার ছয়শত টাকা দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

চুক্তি মোতাবেক ইমরান আহমদ মালামাল নেয়ার কথা থাকলেও কোম্পানীর গুদামে সে সময় গিয়ে কোন মালামাল না পেয়ে আলী আহমদ শুভর সাথে যোগাযোগ করলে তারা তাকে ঢাকায় আসতে বলেন। সেখানে গিয়ে রেজাউল করিম তাকে সবকিছু ফেরত দিবেন বলে আশ্বস্থ করলেও এখন পর্যন্ত কোন টাকা ফেরত দেয়নি। এ বিষয়ে বার বার যোগাযোগ করলে ইমরান আহমদকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আইনী জটিলতায় ফেলে ক্ষতি সাধন করার হুমকী প্রদান করেন।

পরে ইমরান আহমদ এ ব্যাপারে ঢাকাস্থ ক্যান্টম্যান্ট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ক্যান্টম্যান্ট থানা পুলিশ রেজাউল করিম এবং আলী আহমদ শুভ গত ১৮ নভেম্বর এর মধ্যে সবকিছু ফেরত দিবে বলে আশ্বস্থ করেন। উপরোক্ত ১৩ নভেম্বর রাতে মোবাইল ফোনে ইমরান আহমদকে বিভিন্ন হুমকী ধমকি প্রদর্শন করে এবং সম্পূর্ণ টাকা অস্বীকার করে। দীর্ঘ ৪ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও রেজাউল করিম কিংবা আলী আহমদ শুভ ইমরান আহমদের সাথে কোন যোগাযোগ করেনি। বর্তমানে আলী আহমদ শুভ তার নিজ এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে বলে জানা গেছে। ফলে এ নিয়ে ইমরান আহমদের চিন্তার শেষ নেই। বর্তমানে আলী আহমদ শুভ ইমরান আহমদকে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য বার বার হুমকী প্রদর্শন করছে। প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গ দ্বারা ইমরান আহমদকে নিঃশেষ করে দিবে বলে নিয়মিত ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন।

এ ব্যাপারে আলাপকালে প্রবাসী ইমরান আহমদ বলেন, প্রবাসের কিছু জমানো অর্থ সহ আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে কর্জ করে অধিক লাভের আশায় ব্যবসায় অংশীদার হয়েছিলাম। প্রতারকদের বাঁধানো ছকে পা দিয়ে আজ আমি নিঃস্ব। তিনি টাকা উদ্ধার সহ এর সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানান।

শেয়ার করুনঃ