Sunday, 9 August 2026

গোলাপগঞ্জে চৌঘরী যুব সংগঠনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগঃ ভাঙা সড়কে স্বস্তির প্রলেপ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ একটু বৃষ্টি হলেই সড়কের গর্তে জমে পানি, চলাচলে বাড়ে দুর্ভোগ। কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও আবার তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। দীর্ঘদিনের এমন ভোগান্তি থেকে এলাকাবাসীকে কিছুটা স্বস্তি দিতে এবার এগিয়ে এসেছে চৌঘরী যুব সংগঠন। সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষায় না থেকে নিজেদের উদ্যোগে গ্রামীণ সড়কের ভাঙা পিচ ও গর্ত মেরামত করে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সংগঠনের তরুণরা।


শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল থেকে গোলাপগঞ্জের চৌঘরী এলাকার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মেরামত কাজ শুরু করেন সংগঠনের সদস্যরা। হাতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন তারা। স্বেচ্ছাশ্রমে দীর্ঘ সময় ধরে চলে সড়ক সংস্কারের এ কার্যক্রম।


স্থানীয়দের কাছে যে সড়ক ছিল প্রতিদিনের চলাচলের দুর্ভোগের কারণ, সেই সড়কেই নিজেদের শ্রম দিয়ে স্বস্তি ফেরানোর চেষ্টা করেছেন তরুণরা। তাদের এ উদ্যোগে এলাকাবাসীর মধ্যেও দেখা দিয়েছে আনন্দ ও প্রশংসা।


সড়ক সংস্কার কার্যক্রম পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন গোলাপগঞ্জ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মো. বদরুল আলম, রাণাপিং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি সুলতান মাহমুদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাহাব উদ্দিন, সমাজসেবক সোনা মিয়া, মতিউর রহমান, জয়নাল আহমদ ও বশির আহমদ।


এ সময় চৌঘরী যুব সংগঠনের সভাপতি জুনেদ আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক মাহিদ আহমদের নেতৃত্বে সংগঠনের সদস্য রুমেল, জয়নুল, রাহেদ হুসাইন, নয়ন, সাইম, মাসুদ, রনি, মুজাহিদ, রায়হান, আব্দুল আহাদ, রুজেল, মুরশেদ, জামিল, শাহরিয়া, শরিফ ও সারওয়ারসহ অন্যান্য সদস্যরা সংস্কারকাজে অংশ নেন।


এ ছাড়া চৌঘরী যুব সংগঠনের সম্মানিত উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যরাও এ জনকল্যাণমূলক কাজে সহযোগিতা করেন।


মানুষের জন্য তরুণদের এই পথচলাঃ

চৌঘরী যুব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, শুধু সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা নয়, এলাকার মানুষের প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানোই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।


মানুষের চলাচলের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করেই নিজেদের উদ্যোগে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো মেরামতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এলাকার মানুষের কল্যাণে এমন সামাজিক ও জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।


স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, অনেক সময় ছোট একটি গর্তও মানুষের জন্য বড় দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সেই দুর্ভোগকে নিজেদের সমস্যা মনে করে তরুণরা যেভাবে রাস্তায় নেমে কাজ করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাদের এ উদ্যোগ অন্য তরুণদেরও সামাজিক কাজে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।


তরুণদের হাতের শ্রমে যখন ভাঙা সড়কে ফিরে আসে চলাচলের স্বস্তি, তখন সেটি শুধু একটি রাস্তা মেরামত নয় এ যেন মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধেরই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।


শেয়ার করুন