Previous
Next

সর্বশেষ

সারাদেশ

সিলেট

আন্তর্জাতিক

বিজ্ঞপ্তি

Wednesday, 19 August 2026

সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ, গোলাপগঞ্জে ওসির সঙ্গে কর্মরত সাংবাদিকদের বৈঠক

সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ, গোলাপগঞ্জে ওসির সঙ্গে কর্মরত সাংবাদিকদের বৈঠক



গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের গোলাপগঞ্জে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ জেলওয়ার হোসেন স্বপনকে হেনস্তা, অশালীন ভাষায় গালাগাল, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো:ছবেদ আলীর সঙ্গে কর্মরত সাংবাদিকদের মতবিনিময় ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ এবং দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ধরনের বাধা বা হেনস্তার ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

এর আগে একই ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন সাংবাদিক সৈয়দ জেলওয়ার হোসেন স্বপন। তিনি দৈনিক সকালের দিগন্তের সম্পাদক ও দৈনিক নয়াদিগন্তের গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট রাতে তথ্য সংগ্রহের জন্য গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান সাংবাদিক স্বপন। পরে সহযোগী মাহদি রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ফেরার পথে খালেদ আহমেদ নামের এক ব্যক্তি তাদের পথরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি নিজেকে ‘তালাশ টিভি’র সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে স্বপনের সঙ্গে অশোভন ও আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। একপর্যায়ে তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল, হেনস্তা এবং ভিডিও ধারণের চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সাংবাদিক স্বপন ভবিষ্যতে নিজের ও সহযোগীদের নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালনের নিশ্চয়তা চেয়ে পুলিশের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।

বৈঠকে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো:ছবেদ আলী বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ সময় কর্মরত সাংবাদিকরা বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা, হেনস্তা কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক মানবজমিনের গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি এম. আব্দুল জলিল, দৈনিক সিলেটের পত্রিকার গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি মাহফুজ আহমদ চৌধুরী, দৈনিক দিনকালের গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি আজিজ খান, দৈনিক যায়যায়দিনের গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আহমদ, গোলাপগঞ্জ অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমদ, দৈনিক সচিত্র সিলেটের স্টাফ রিপোর্টার রিমন আহমদ, দৈনিক এদিনের গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, গোলাপগঞ্জ অনলাইন প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তামিম আহমদ, হলি সিলেটের গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি ইমন আহমদ এবং সচিত্র সিলেটের গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি মাহদি রহমান প্রমুখ।
গোলাপগঞ্জে সিনিয়র সাংবাদিককে হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগে থানায় জিডি

গোলাপগঞ্জে সিনিয়র সাংবাদিককে হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগে থানায় জিডি



গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিলেটের গোলাপগঞ্জে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সিনিয়র এক সাংবাদিককে হেনস্তা, অশালীন ভাষায় গালাগাল, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির অভিযোগে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এ সাধারণ ডায়েরি করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক সৈয়দ জেলওয়ার হোসেন স্বপন।

জিডি সূত্রে জানা যায়, দৈনিক সকালের দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক ও দৈনিক নয়া দিগন্তের গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি এবং দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতায় যুক্ত সৈয়দ জেলওয়ার হোসেন স্বপন গত ১৬ আগস্ট রাতে তথ্য সংগ্রহের জন্য গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। পরে সেখান থেকে বের হয়ে সহযোগী মাহদি রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ফেরার পথে খালেদ আহমেদ নামের এক ব্যক্তি তাদের পথরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়, ওই ব্যক্তি নিজেকে ‘তালাশ টিভি’র সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাংবাদিক সপনের সঙ্গে অশোভন ও আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। একপর্যায়ে তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল ও হেনস্তা করা হয়। একই সঙ্গে তার ভিডিও ধারণের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ওই ব্যক্তি সাংবাদিক সপন ও তার সহযোগীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে তাদের মধ্যে শারীরিক হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়।

জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তারা ঘটনার বিভিন্ন অংশ প্রত্যক্ষ করেন।

সাংবাদিক সৈয়দ জেলওয়ার হোসেন স্বপনের অভিযোগ, এ ধরনের আচরণের কারণে সাংবাদিকদের স্বাধীন ও নিরাপদ পরিবেশে পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং তথ্য সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভবিষ্যতে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা তার সঙ্গে থাকা কেউ তার ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি কিংবা সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করতে পারেন বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এ ঘটনায় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে নিজের ও সহযোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ছবেদ আলীর যোগাযোগ করা হলে তিনি জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের করা হবে।

Tuesday, 18 August 2026

গোলাপগঞ্জে স্মৃতিময় বিদায়, ভালোবাসায় সিক্ত রোমান আহমদ নোশাদ

গোলাপগঞ্জে স্মৃতিময় বিদায়, ভালোবাসায় সিক্ত রোমান আহমদ নোশাদ


গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি: দীর্ঘদিনের কর্মস্থল গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন থেকে বিদায় নিলেন অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক রোমান আহমদ নোশাদ। নতুন কর্মস্থল হিসেবে তিনি বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে যোগ দিতে যাচ্ছেন। সোমবার গোলাপগঞ্জে তার শেষ কর্মদিবস ছিল।

শেষ দিনে তাকে বিদায় জানাতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত হন। বিদায়ী শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদানের মধ্য দিয়ে সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার প্রতি ভালোবাসা ও আন্তরিকতার প্রকাশ ঘটান।

এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইমাম, রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গ, জুলাই যোদ্ধা, সাত শহীদ পরিবারের সদস্য, স্থানীয় সাংবাদিক, ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা, হিসাব সহকারী, ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা এবং উপজেলা পর্যায়ের কর্মচারীরা তাকে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানান।

বিদায়ী বক্তব্যে রোমান আহমদ নোশাদ গোলাপগঞ্জে কর্মজীবনের নানা স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন এখানে দায়িত্ব পালনকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং উপজেলা প্রশাসনের সহকর্মীদের কাছ থেকে তিনি আন্তরিকতা, সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেয়েছেন। একইভাবে রাজনৈতিক, সামাজিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকেও দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা পেয়েছেন।

তিনি বলেন, “কর্মস্থল পরিবর্তন হলেও গোলাপগঞ্জের মানুষের ভালোবাসা ও এখানকার স্মৃতিগুলো সবসময় মনে থাকবে। দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে সবাই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। নতুন কর্মস্থলেও যেন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারি, সেজন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতা চাই।”

তার বিদায়কে ঘিরে শেষ কর্মদিবসে উপজেলা প্রশাসনে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার নতুন কর্মস্থলের জন্য শুভকামনা জানান এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে সাফল্য কামনা করেন।


Friday, 14 August 2026

গোলাপগঞ্জবাসীর হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন রুমান আহমেদ নোশাদ

গোলাপগঞ্জবাসীর হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন রুমান আহমেদ নোশাদ


গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের অফিস সহকারী রুমান আহমেদ নোশাদকে বদলি করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার তিনি বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবেন।

গোলাপগঞ্জে কর্মরত থাকাকালে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেন নোশাদ। আন্তরিক স্বভাব, সদা হাস্যোজ্জ্বল মুখ এবং সহযোগিতাপ্রবণ মানসিকতার কারণে সেবাপ্রত্যাশী সাধারণ মানুষের কাছে তিনি হয়ে উঠেছিলেন প্রিয়ভাজন হিসেবে।

সেবা গ্রহীতা অনেকেই জানান, যেকোনো প্রয়োজনে রোমান আহমেদ নোশাদ-এর কাছে গেলে তিনি মনোযোগ দিয়ে বিষয়টি শুনতেন এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করার চেষ্টা করতেন। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা এবং প্রয়োজনের সময় পাশে থাকার মানসিকতাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। কর্মক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার পাশাপাশি মানুষের প্রতি তাঁর আন্তরিকতাও প্রশংসিত হয়েছে।

সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা ও সবাইকে আপন করে নেওয়ার আচরণেই সকলের সঙ্গে তৈরি হয়েছে তার গভীর সম্পর্ক। ফলে বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সহকর্মী, পরিচিতজন ও উপজেলাবাসীর মধ্যেই তৈরি হয়েছে আবেগ ও বিষণ্নতা।

গোলাপগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে পাওয়া মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতার কথা স্মরণ করে নোশাদ বলেন, “গোলাপগঞ্জে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা, সম্মান ও সহযোগিতা পেয়েছি, তা সবসময় মনে থাকবে। আমার অবস্থান থেকে মানুষকে সহযোগিতা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। নতুন কর্মস্থলেও যেন সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারি, সেজন্য সবার দোয়া চাই।”

কর্মস্থল বদলে গেলেও গোলাপগঞ্জের মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে স্মরণীয় বলে মনে করেন তিনি।

তাঁর নতুন কর্মস্থলের পথচলা সফল ও সুন্দর হোক—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তাঁর সহকর্মী, পরিচিতজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

আগামী মঙ্গলবার বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগদানের মধ্য দিয়ে নোশাদের নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সূচনা হবে। নতুন দায়িত্বে তাঁর সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনা করেছেন গোলাপগঞ্জবাসী।


Sunday, 9 August 2026

গোলাপগঞ্জে চৌঘরী যুব সংগঠনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগঃ ভাঙা সড়কে স্বস্তির প্রলেপ

গোলাপগঞ্জে চৌঘরী যুব সংগঠনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগঃ ভাঙা সড়কে স্বস্তির প্রলেপ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ একটু বৃষ্টি হলেই সড়কের গর্তে জমে পানি, চলাচলে বাড়ে দুর্ভোগ। কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও আবার তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। দীর্ঘদিনের এমন ভোগান্তি থেকে এলাকাবাসীকে কিছুটা স্বস্তি দিতে এবার এগিয়ে এসেছে চৌঘরী যুব সংগঠন। সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষায় না থেকে নিজেদের উদ্যোগে গ্রামীণ সড়কের ভাঙা পিচ ও গর্ত মেরামত করে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সংগঠনের তরুণরা।


শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল থেকে গোলাপগঞ্জের চৌঘরী এলাকার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মেরামত কাজ শুরু করেন সংগঠনের সদস্যরা। হাতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন তারা। স্বেচ্ছাশ্রমে দীর্ঘ সময় ধরে চলে সড়ক সংস্কারের এ কার্যক্রম।


স্থানীয়দের কাছে যে সড়ক ছিল প্রতিদিনের চলাচলের দুর্ভোগের কারণ, সেই সড়কেই নিজেদের শ্রম দিয়ে স্বস্তি ফেরানোর চেষ্টা করেছেন তরুণরা। তাদের এ উদ্যোগে এলাকাবাসীর মধ্যেও দেখা দিয়েছে আনন্দ ও প্রশংসা।


সড়ক সংস্কার কার্যক্রম পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন গোলাপগঞ্জ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মো. বদরুল আলম, রাণাপিং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি সুলতান মাহমুদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাহাব উদ্দিন, সমাজসেবক সোনা মিয়া, মতিউর রহমান, জয়নাল আহমদ ও বশির আহমদ।


এ সময় চৌঘরী যুব সংগঠনের সভাপতি জুনেদ আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক মাহিদ আহমদের নেতৃত্বে সংগঠনের সদস্য রুমেল, জয়নুল, রাহেদ হুসাইন, নয়ন, সাইম, মাসুদ, রনি, মুজাহিদ, রায়হান, আব্দুল আহাদ, রুজেল, মুরশেদ, জামিল, শাহরিয়া, শরিফ ও সারওয়ারসহ অন্যান্য সদস্যরা সংস্কারকাজে অংশ নেন।


এ ছাড়া চৌঘরী যুব সংগঠনের সম্মানিত উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যরাও এ জনকল্যাণমূলক কাজে সহযোগিতা করেন।


মানুষের জন্য তরুণদের এই পথচলাঃ

চৌঘরী যুব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, শুধু সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা নয়, এলাকার মানুষের প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানোই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।


মানুষের চলাচলের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করেই নিজেদের উদ্যোগে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো মেরামতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এলাকার মানুষের কল্যাণে এমন সামাজিক ও জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।


স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, অনেক সময় ছোট একটি গর্তও মানুষের জন্য বড় দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সেই দুর্ভোগকে নিজেদের সমস্যা মনে করে তরুণরা যেভাবে রাস্তায় নেমে কাজ করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাদের এ উদ্যোগ অন্য তরুণদেরও সামাজিক কাজে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।


তরুণদের হাতের শ্রমে যখন ভাঙা সড়কে ফিরে আসে চলাচলের স্বস্তি, তখন সেটি শুধু একটি রাস্তা মেরামত নয় এ যেন মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধেরই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

Monday, 6 July 2026

চন্দরপুরে ‘তালহা আইটি এন্ড প্রিন্টিং পয়েন্ট’-এর ২য় শাখার উদ্বোধন সম্পন্ন

চন্দরপুরে ‘তালহা আইটি এন্ড প্রিন্টিং পয়েন্ট’-এর ২য় শাখার উদ্বোধন সম্পন্ন



নিজস্ব প্রতিবেদক, গোলাপগঞ্জ: গোলাপগঞ্জ উপজেলার চন্দরপুর বাজারের মেইনরোডস্থ পূবালী ব্যাংকের নিচতলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘তালহা আইটি এন্ড প্রিন্টিং পয়েন্ট’-এর ২য় শাখার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। 

০৬ জুলাই (সোমবার) সকাল ১১টায় স্থানীয় সুধীসমাজ, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে ফিতা কেটে এই নতুন শাখার আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয়।

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ০৫নং বুধবারীবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হেলাল উদ্দিন। প্রধান বক্তা হিসেবে মূল্যবান দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন চন্দরপুর আল-এমদাদ ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম চৌধুরী।

​ইউপি সদস্য সালমান কাদের দিপুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তালহা আইটি এন্ড প্রিন্টিং পয়েন্ট ১ম ও ২য় শাখার পরিচালক মাছুম আহমদ। শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শিক্ষক কামরুল ইসলাম।


​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আল-এমদাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মুক্তার হোসেন, চন্দরপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ডা: আব্দুল মুতলিব, পূবালী ব্যাংক চন্দরপুর শাখার ম্যানেজার মোঃ হেলাল উদ্দিন, চন্দরপুর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাহার উদ্দিন, আল-এমদাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, আছিরগঞ্জ বাজার সিটি শপিং কমপ্লেক্সের সহ-সভাপতি নিয়াজ মাহবুব, আছিরগঞ্জ গণপাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ, তালহা আইটি এন্ড প্রিন্টিং পয়েন্ট ১ম ও ২য় শাখার প্রশিক্ষক জনাবা শুকরিয়া বেগম-সহ আরোও অনেকে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। আধুনিক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি আইটি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এই ট্রেনিং সেন্টারটি তরুণদের আধুনিক কম্পিউটার শিক্ষায় দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং বেকারত্ব দূরীকরণে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। সঠিক দিকনির্দেশনা ও কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে গ্রামীণ অঞ্চলের তরুণরাও এখন ঘরে বসে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখতে পারবে।

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, "ডিজিটাল দুনিয়ায় দক্ষতাহীন ডিগ্রি একটি একমুখী রাস্তার মতো, যা হয়তো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না। কিন্তু ডিগ্রির সাথে যদি যুক্ত হয় কম্পিউটারের আধুনিক দক্ষতা, তবে সফলতার হাজারো দুয়ার এমনিতেই খুলে যায়।" ‘তালহা আইটি’ চন্দরপুরের তরুণদের সেই সৃষ্টিশীলতার পথ দেখাবে এবং তাদের প্রযুক্তির শুধু ব্যবহারকারী নয়, বরং ভবিষ্যৎ নির্মাতা হিসেবে গড়ে তুলবে।

​ফিতা কাটার আনন্দঘন মুহূর্তে উপস্থিত সকলের করতালিতে পুরো অনুষ্ঠান মুখরিত হয়ে ওঠে। উদ্বোধনের পর অতিথিবৃন্দ আইটি প্রতিষ্ঠানের আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব ও প্রশিক্ষণ সুবিধা ঘুরে দেখেন এবং গ্রামীণ পর্যায়ে এমন বিশ্বমানের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। 

অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়।

Sunday, 21 June 2026

প্রকাশিত হলো একেএম আব্দুল্লাহর নির্বাচিত অণুগল্পগ্রন্থ ‘নিষিদ্ধ বৃক্ষ ও ভার্জিন ফল’

প্রকাশিত হলো একেএম আব্দুল্লাহর নির্বাচিত অণুগল্পগ্রন্থ ‘নিষিদ্ধ বৃক্ষ ও ভার্জিন ফল’



বাংলা অণুগল্প সাহিত্যে নতুন সংযোজন হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে কবি ও কথাসাহিত্যিক এ কে এম আব্দুল্লাহর নির্বাচিত অণুগল্পগ্রন্থ ‘নিষিদ্ধ বৃক্ষ ও ভার্জিন ফল’। বইটি প্রকাশ করেছে ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ।

গ্রন্থটিতে লেখকের বিভিন্ন সময়ে রচিত নির্বাচিত অণুগল্প সংকলিত হয়েছে। জীবনের বহুমাত্রিক বাস্তবতা, সামাজিক বৈপরীত্য, মানবিক টানাপোড়েন, প্রেম-অপ্রেম, মূল্যবোধের সংকট এবং সমকালীন মানুষের মনোজগতের নানা দিক সংক্ষিপ্ত অথচ শিল্পিত ভাষায় উঠে এসেছে এসব গল্পে। অণুগল্পের সীমিত পরিসরে গভীর জীবনবোধ ও তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরার ক্ষেত্রে লেখক তাঁর স্বকীয়তা বজায় রেখেছেন।

‘নিষিদ্ধ বৃক্ষ ও ভার্জিন ফল’ শিরোনামটি যেমন কৌতূহল জাগায়, তেমনি গ্রন্থের গল্পগুলোও পাঠককে নিয়ে যায় আত্মঅনুসন্ধান, সামাজিক বাস্তবতা এবং মানবজীবনের নানা অনুচ্চারিত সত্যের মুখোমুখি। প্রতিটি অণুগল্পে রয়েছে সংক্ষিপ্ত বয়ানে গভীর তাৎপর্য নির্মাণের প্রচেষ্টা, যা পাঠ শেষে দীর্ঘস্থায়ী ভাবনার জন্ম দেয়।

সাহিত্যবোদ্ধাদের মতে, বর্তমান সময়ে অণুগল্প পাঠকের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও স্বল্প সময়ে গভীর সাহিত্যিক অনুভূতি অর্জনের সুযোগ করে দেয় এই সাহিত্যধারা। সেই প্রেক্ষাপটে এ কে এম আব্দুল্লাহর এই সংকলন পাঠকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে।

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ জানিয়েছে, বইটি ইতোমধ্যে সাহিত্যপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। অণুগল্পের প্রতি আগ্রহী পাঠকদের পাশাপাশি নতুন পাঠকরাও বইটি থেকে সমকালীন জীবন ও সমাজ সম্পর্কে ভিন্নধর্মী সাহিত্যিক অভিজ্ঞতা লাভ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

লেখক এ কে এম আব্দুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে কবিতা, গল্প, অণুগল্প ও সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর রচনায় সমাজবাস্তবতা এবং মানবমনের সূক্ষ্ম অনুভূতি বিশেষ গুরুত্ব পায়। ‘নিষিদ্ধ বৃক্ষ ও ভার্জিন ফল’ গ্রন্থটি তাঁর সাহিত্যচর্চার একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হবে।

সাহিত্যাঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্য, ভাষার সংযম এবং ভাবনার গভীরতার কারণে গ্রন্থটি পাঠকমহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে এবং বাংলা অণুগল্প সাহিত্যে নতুন আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করবে।

বইটি পাওয়া যাচ্ছে— Ittadibooks.com, rokomary.com সহ বিভিন্ন লাইব্রেরিতে।