Previous
Next

সর্বশেষ

Sunday, 15 May 2022

জৈন্তাপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

জৈন্তাপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি


শাহজাহান কবির খান, জৈন্তাপুর: জৈন্তাপুরে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারন করেছে। ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে বিভিন্ন নদ-নদী দিয়ে পানি প্রবেশ অব্যাহত থাকায় নদ-নদীর পানি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে, বৃষ্টি থামলে নদীর পানি একটু কমলেও বৃষ্টি শুরু হওয়ার সাথে সাথে পানি আবারও বৃদ্বি পায়। পানির নিচে তলিয়ে আছে শত শত একর ফসলি জমি। উপজেলা সদরের সাথে বিভিন্ন গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, জরুরী প্রয়োজন মেটাতে নৌকা দিয়ে হাঁট বাজারে যাতায়াত করছে নিম্নাঞ্চলের মানুষ। নদী ভাঙনে হুমকীর মুখে গ্রামের কাচাঁ রাস্তা ও নদী তীরবর্তী এলাকার বসতবাড়ী। সারী নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে .০৫ সেঃ মিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

গত বুধবার রাত থেকে টানা বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট এবং জৈন্তাপুর ইউনিয়নের গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি রয়েছেন। বেশির ভাগ কাচাঁ রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন গ্রাম-সহ উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষজন। ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সারী নদীর পানি বিপদসীমা.০৫ সেঃ মিঃ উপর দিয়ে অতিত্রুম করছে। তবে শনিবার সকাল থেকে নদীর পানি কিছুটা কমতে দেখা গেলেও রোববার ভোর থেকে পূনরায় দ্রুতগতিতে নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে বর্তমানে নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে পাহাড় ও নদীর তীরবর্তি লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতির আশংকা করছেন আবহাওয়াবিদরা। 

এদিকে রোববার নদ-নদীর পানি কিছুটা কমলেও হাওরের পানি বৃদ্বি অব্যাহত রয়েছে। এবারের বন্যায় উপজেরার মধ্যে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রাস্থ হয়েছে নিজপাট ও জৈন্তাপুর ইউনিয়নের কৃষি পরিবারের মানুষজন। খামারিরা গবাদি পশুর খাদ্য নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন। পানিবন্দি মানুষের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাড়ে ১৬ মেঃ টন চাল বরাদ্ধ দেওয়া হলেও  আবহাওয়া অনুকুলে না থাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের কাছে পৌছানো সম্ভব হচ্ছেনা।। রবিবার ভোর থেকে বন্যা প্লাবিত এলাকায় পরিদর্শণ করেছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ জয়নাল আবেদীন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল বশিরুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ বশির উদ্দিন, অফিসার ইনর্চাজ গোলাম দস্তগীর আহমদ, নিজপাট ইউ/পি চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলী, জৈন্তাপুর ইউ/পি চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল বশিরুল ইসলাম বলেছেন আবহাওয়ার তথ্য মতে এখনো প্রচুর বৃষ্টি হওয়ার আশংকা রয়েছে, নদ-নদীর পানি কিছুটা কমলেও বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা করা যাচ্ছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত নদীর তীরবর্তী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। তারপরও উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগন-সহ সংশ্লিষ্টরা  সার্বক্ষনিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছেন। পানিবন্দি অসহায় মানুষের জন্য যতেষ্ট  ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্ধ রয়েছে।

Saturday, 14 May 2022

চন্দরপুর-সুনামপুর সেতুর এপ্রোচ সড়ক দু'টিতে মারাত্মক ধস: দুর্ঘটনার আশঙ্কা

চন্দরপুর-সুনামপুর সেতুর এপ্রোচ সড়ক দু'টিতে মারাত্মক ধস: দুর্ঘটনার আশঙ্কা


গোলাপগঞ্জের চন্দরপুর-সুনামপুর সেতুর দুই পাড়ের এপ্রোচ সড়ক দুটিতে বিশাল ধস নেমেছে। সেতুর চন্দরপুর ও সুনামপুর পাড়ের সড়ক দুটিতে বিরাট ফাটলের পাশাপাশি ধসে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যেকোনো সময় সড়কটি দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর চন্দরপুর পাড়ে গার্ডার সাইটে বিরাট ফাটল দেখা দিয়েছে। আর এদিকে চলমান অতিবৃষ্টির পানি এই ফাটল দিয়ে ঢুকে রোডের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় বিরাট ধসের সৃষ্টি করেছে। আর তাতে এখানে বড়ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। এ অংশে কিছুদিন পূর্বেও গার্ডার সাইটের ব্লকগুলো ধসে পড়ে সেখানে বিরাট গর্তের সৃষ্টি করেছিলো। ওই সময় সৃষ্ট গর্তে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর বস্তা ফেলে ধস আটকানোর চেষ্টাও করেছিলো। কিন্তু এতোকিছুর পরও এখানকার ধস কোনোভাবেই আটকানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই এখানে দ্রুত সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া না গেলে পুরো রোডটিই ধসে পড়বে। 

চন্দরপুর পাড়ে বিরাট ফাটল। বৃষ্টিতে যা বড় ধরণের ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে।


সুনামপুর পাড়ে গিয়ে দেখা যায় সেখানে বিরাট ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। চলমান অতিবৃষ্টির ফলে এখানকার রোডের নিচের মাটি সরে গিয়ে ব্যাপক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে সড়কটি। সড়কের ভাঙ্গনের অংশে প্রায় মাঝ বরারবর পর্যন্ত মাটি ধসে পড়েছে, ফলে এ অংশের রোডটি প্রায় শূন্যে ঠিকে রয়েছে। আর তাতে মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে এ অংশটি। যেকোনো সময় এখানে মারাত্মক দুর্ঘটনার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

সুনামপুর পাড়ে বিরাট গর্তের সৃষ্টি। সড়কের নিচের মাটি সরে গিয়ে ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি করেছে। 

শাহজান আহমদ নামের একজন পথচারী বলেন, সেতুর দুই পাড়ের এপ্রোচ সড়ক দুটিতে মারাত্মক ধরণের দুটি ধস নেমেছে। যেকোনো সময় এ সড়ক দুটি ভেঙ্গে পড়তে পারে। তাই দ্রুত সময়ে তা সংস্কার করা না হলে বড় ধরণের দুর্ঘটনার পাশাপাশি যাতায়াত ব্যবস্থা একদম বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে সিলেট সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দ্রুত সংস্কার কাজের আশ্বাস প্রদান করেন।

চন্দরপুর-সুনামপুর সেতু দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ শহর ও উপজেলা সদরে যাতায়াত করে থাকেন। এ সেতু দিয়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলার কুশিয়ারা পূর্বাঞ্চলের মানুষজন-সহ পূর্ব সিলেটের বিয়ানীবাজার, বড়লেখা তথা মৌলভীবাজারের বৃহৎ অঞ্চলের মানুষজন সহজেই বিভাগীয় শহরে যাওয়া-আসা করেন। ফলে এ সেতু ও সড়কটি দিয়ে যাতায়াতের চাপ ব্যাপক। তাই এপ্রোচ সড়ক দুটির গর্তগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার করা না হলে সড়কটি ভেঙ্গে গিয়ে দুর্ঘটনার পাশাপাশি যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় সড়কটি ধসে যাওয়ার হাত থেকে দ্রুত রক্ষা করা না হলে জনদুর্ভোগ চরমে গিয়ে পৌঁছবে।
দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাবে ভারপ্রাপ্ত মেয়র’কে সংবর্ধনা

দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাবে ভারপ্রাপ্ত মেয়র’কে সংবর্ধনা


আজকের এই সম্মাননাকে আমি
মাথার মনি করে রাখবো....তৌফিক বক্স লিপন

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র, দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য মোহাম্মদ তৌফিক বক্স লিপন বলেছেন, সিলেটের সাংবাদিকরা আমার আত্মার আত্মীয়। আমি একজন আপাদমস্তক সাংবাদিক প্রেমিক মানুষ। সাংবাদিকদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে পারলে নিজেকে গর্বিত মনে করি। কারণ সাংবাদিকরা সমাজের সকল অসঙ্গতি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তুলে ধরেন। যা সমাজ ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

তিনি বলেন, দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাবের প্রত্যাকটি সদস্য আমার প্রাণের চেয়েও প্রিয়। কারণ তারা তাদের সততা, নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতায় আমার হৃদয়ে শেষ স্থান করে নিয়েছে। দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাবের দেওয়া আজকের সংবর্ধনা আমাকে অভিভূত করেছে। আপনাদের এই সম্মাননা আমি আজীবন মাথার মনি করে রাখবো।

শনিবার (১৪ মে) বিকেলে দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাব আয়োজিত ষ্টেশন রোডস্থ একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট প্রেসক্লাবের পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক কবির আহমদের সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 
প্রেসক্লাব সভাপতি আশরাফুল ইসলাম ইমরানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক শিপুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট রফিকুল হক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আফতাব উদ্দিন, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হাজী এম আহমদ আলী, প্রতিষ্ঠাতা সহ-সাধারণ সম্পাদক কবির আহমদ। ক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালিকের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে সূচিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সহ-সভাপতি শিপন আহমদ। 

কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আজমল আহমদ রোমনের পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রেসক্লাব কোষাধ্যক্ষ শরিফ আহমদ, দপ্তর ও পাঠাগার সম্পাদক খায়রুল আমিন রাফসান, সাহিত্য ও ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ সাহেদ আহমদ শান্ত, কার্যনির্বাহী সদস্য এম সারওয়ার হোসেন সৌরভ, সদস্য ফয়ছল আহমদ রানা, মোঃ রফিক আহমদ, আবুল বশর প্রমুখ। 

অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি সিসিকের ভারপ্রাপ্ত মেয়র মোহাম্মদ তৌফিক বক্স লিপন’কে সম্মানা স্মারক প্রদান করেন দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ। বিজ্ঞপ্তি 
হাজার কোটি টাকা পাচারকারী পি কে হালদার ভারতে গ্রেপ্তার

হাজার কোটি টাকা পাচারকারী পি কে হালদার ভারতে গ্রেপ্তার


হাজার কোটি টাকা পাচারকারী এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক কেলেঙ্কারির মূল হোতা প্রশান্ত কুমার হালদার (পি কে হালদার) ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার (১৪ মে) সকালের দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা।

এর আগে পি কে হালদার ও তার সহযোগী সুকুমার মৃধার বিপুল সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়।

শুক্রবার (১৩ মে) পশ্চিমবঙ্গের অন্তত ৯টি স্থানে একযোগে অভিযান চালিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও বার্তা পেয়েই তল্লাশিতে সক্রিয় হয়েছে ভারতীয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। বাংলাদেশ থেকে পলাতক প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদারের পাঠানো বেআইনি অর্থ সুকুমার মৃধা নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শহরে সম্পত্তি কিনতে ব্যয় করা হয়েছিল। মূলত পিকে হালদারের খবর জানতে গিয়েই এদিন অশোকনগরে সুকুমার নামের ওই মাছ ব্যবসায়ীর বিপুল সম্পত্তির হদিস পেয়েছে ইডি।

এদিকে, মাস খানেক আগে পিকে হালদারের অর্থপাচারের সহযোগিতার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গর্ভনর এসকে সুর চৌধুরী ও সাবেক নির্বাহী পরিচালক শাহ আলমকে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অর্থ লুটপাটে এই দুজন পিকে হালদারকে সহযোগিতা করেছে বলে জবানবন্দি দিয়েছেন এক আসামি।

উল্লেখ্য, পিকে হালদারের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এ পর্যন্ত ৩৪টি মামলা হয়েছে। তার সহযোগীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ১২ জনকে গ্রেপ্তারও করেছে দুদক। এদের মধ্যে ১০ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। 
বাড়ছে সুরমা-কুশিয়ারার পানি: বন্যার আশঙ্কা

বাড়ছে সুরমা-কুশিয়ারার পানি: বন্যার আশঙ্কা


টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে সিলেটের সবকটি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে বন্যার। অনেক এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে রাস্তাঘাট। ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। অনেক বাসাবাড়িতেও ঢুকে পড়েছে পানি। বিপাকে পড়েছেন পানিবন্দী মানুষ।


এদিকে প্রধান দুই নদী সুরমা ও কুশিয়ারাসহ সারি এবং পিয়াইনদীর পানিও বাড়তে শুরু করেছে। সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঢলের কারণে ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়ে পড়েছে সিলেটের গোয়ানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও সুনামগঞ্জের বেশ কয়েকটি এলাকা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্য মতে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী নদ-নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এদিকে, সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট উপজেলা দিয়ে ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করছে। শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে ওই অঞ্চলে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ০ দশমিক ৫৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

সুরমা নদীর কানাইঘাট এলাকার ডেঞ্জার লেভেল ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। এ পয়েন্টে শুক্রবার সকাল ৬টায় ছিল ১৩ দশমিক ৩৪ সেন্টিমিটার। সিলেটে সুরমার ডেঞ্জার লেভেল ১০ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। সকাল ৬টায় এই নদীর পানি ছিল ৯ দশমিক ৫২ সেন্টিমিটার। কুশিয়ারা নদীর শেওলা এলাকার ডেঞ্জার লেভেল ১৩ দশমিক ০৫ সেন্টিমিটার। সকাল ৬টায় এই নদীর পানি ছিল ১০ দশমিক ৮৬ সেন্টিমিটার। সারি নদী গোয়াইঘাটের ডেঞ্জার লেভেল ১২ দশমিক ৩৫ সেন্টিমিটার। সকাল ৬টায় এই নদীর পানি ছিল ১১ দশমিক ৯৫ সেন্টিমিটার। সুনামগঞ্জ সুরমার ডেঞ্জার লেভেল ৭ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। সকাল ৬টায় এই নদীর পানি ছিল ৬ দশমিক ৩২ সেন্টিমিটার।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, সিলেটে বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৭৮ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত ৩ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেন, আগামী ১৮ তারিখ পর্যন্ত সিলেটে বৃষ্টিপাত হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এ সময়ে দিনের চেয়ে রাতে বেশি বৃষ্টিপাত হবে।

এদিকে টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে সিলেটের গোয়াইনঘাটের পিয়াইন ও সারী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে উপজেলার অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। উপজেলা সদরের সাথে প্রত্যন্ত গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সারীঘাট-গোয়াইনঘাট-হাকুর বাজার-গোয়াইনঘাট সড়ক তলিয়ে গেছে পানির নিচে।

এদিকে ভারতের মেঘালয়ে ভারী বর্ষণ ও বৃষ্টিপাতের কারণে বাংলাদেশ অভ্যন্তরের পিয়াইন ও সারী অববাহিকায় পানি বৃদ্ধির কারণেই উপজেলার সবকটি হাওর তলিয়ে গেছে। পিয়াইন ও সারী নদী দিয়ে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার পূর্ব জাফলং, আলীরগাঁও, রুস্তমপুর, ডৌবাড়ী, লেঙ্গড়া, তোয়াকুল ও নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের রাস্তাঘাট ও বাড়ি-ঘর পানিতে প্লাবিত হয়ে উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা এক রকম বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বাড়ি-ঘর প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি গো-চারণ ভূমি পানিবন্ধী হওয়ায় গো-খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এস এম শহিদুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানান, টানা বৃষ্টিপাত হওয়া ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সব নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত তিন দিন ধরেই নিয়মিত বৃষ্টি হচ্ছে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন ভারতের ত্রিপুরাতে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। 
গোলাপগঞ্জে টিলা ধসে ঘুমন্ত সাবেক শিক্ষকের মৃত্যু

গোলাপগঞ্জে টিলা ধসে ঘুমন্ত সাবেক শিক্ষকের মৃত্যু


গোলাপগঞ্জে ধসে পড়া টিলার মাটি চাপায় ঘুমন্ত অবস্থায় প্রাণ হারালেন সাবেক শিক্ষক অপু পাল (৩০)। শনিবার ভোর রাতে উপজেলার লক্ষনাবন্দ ইউনিয়নের চক্রবর্তী পাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই পাপ্পু পালও গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহত অপু লাল উপজেলার লক্ষনাবন্দ ইউপির চক্রবর্তী গ্রামের ডা. নকুল পালের ছেলে ও নিশ্চিন্ত আইডিয়াল একাডেমির সাবেক শিক্ষক। বর্তমানে তিনি বেসরকারি এনজিও সংস্থা আশাতে কর্মরত ছিলেন।

জানা যায়, লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের চক্রবর্তী গ্রামের অপু লাল রায়ের ঘরে পাশেই একটি টিলা ছিল। গত দুই দিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে শনিবার ভোর রাতে এই টিলার মাটি হঠাৎ ঘরের মধ্যে ধসে পড়ে। এতে ঘুমের মধ্যেই ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান অপু লাল রায়। এ ঘটনায় তার ছোট ভাইও গুরুতর আহত হয়েছেন তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন লক্ষনাবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খলকুর রহমান খলকু।
দিল্লিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বহু হতাহত, ২৬ মরদেহ উদ্ধার

দিল্লিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বহু হতাহত, ২৬ মরদেহ উদ্ধার


ভারতের পশ্চিম দিল্লিতে একটি চারতলা ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দগ্ধ অন্তত ৪০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। 


শুক্রবার সন্ধ্যায় পশ্চিম দিল্লির মুন্ডকা মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি চার তলা বাণিজ্যিক ভবনে এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, এ পর্যন্ত ২৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে পুলিশ।এ পর্যন্ত ৪০ জনেরও বেশি লোক দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।ভবনটির একটি তলায় এখনও তল্লাশি চালানো হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, ভবন থেকে প্রায় ৬০-৭০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

ফায়ার বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে আগুনের খবর পাওয়া যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, পুলিশের ধারণা ভবনটির উপরের তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং পুরো ভবনটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

সূত্র : এনডিটিভি