কে. এম. সুহেল আহমদ: সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক সিলেট অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সিলেটে প্রবেশ করে গোলাপগঞ্জ, জকিগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে এ সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন হাজার হাজার বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল চলাচল করে এ সড়ক দিয়ে।
কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে গত ৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, দূরপাল্লার যাত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে দীর্ঘ সময় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সিলেট নগরীতে প্রবেশ ও নগরী থেকে বের হওয়ার অন্যতম এ সড়কে যানজট যেন নিত্যদিনের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, সিলেট-গোলাপগঞ্জ সড়কের হেতিমগঞ্জ বাজার থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্ব দিকে বৃহস্পতিবার সকালে একটি মালবাহী ট্রাকের এক্সেল ভেঙে সড়কের ওপর আটকে পড়ে। এতে সড়কের উভয় পাশে কুচাই এলাকা থেকে গোলাপগঞ্জ পৌর শহর পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
এ বিষয়ে প্রতিবেদক সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে ফোন করে বিষয়টি অবহিত করেন। জবাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানানো হয়, বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হওয়া জরুরি। তবে তারাও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানান।
এদিকে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছবেদ আলীর কাছে ওই দিনের যানজট নিরসনে পুলিশের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, তারা বিষয়টি অবগত হয়েছেন এবং যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অবশেষে প্রশাসনের সহায়তায় রাত ৯টার দিকে সড়কে আটকে থাকা ট্রাকটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতে সড়ক প্রশস্তকরণ, ডিভাইডার নির্মাণ এবং সড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি সড়কের ওপর অবৈধভাবে যানবাহন দাঁড় করানো বন্ধ করা এবং দুর্ঘটনা কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কোনো যানবাহন বিকল হলে দ্রুত তা সরিয়ে নেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে এ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
