বৃটিশরা কেন ‘ম্যাগনেটিক’ পিলার স্থাপন করেছিল? জানুন এর আসল রহস্য!

বৃটিশরা কেন ‘ম্যাগনেটিক’ পিলার স্থাপন করেছিল? জানুন এর আসল রহস্য!

বৃটিশদের ম্যাগনেটিক পিলার।

দেশের মাটিতে পুঁতে থাকা ম্যাগনেটিক পিলার নিয়ে যেন রহস্যের শেষ নেই। অনেকে এগুলোকে মহামূল্যবান সম্পদ ভেবে ভূল করে বসে। নানানজনের নানান মত। অনেক গুজব ও জনশ্রুতি আছে এই প্রাচীন ‘ম্যাগনেটিক’সীমানা পিলার স্থাপন নিয়ে। কেউ কেউ এটিকে প্রাচীন মূল্যবান ‘ম্যাগনেটিক’ পিলার বলে আখ্যায়িত করেন। আবার কেউ কেউ বলছেন এর মাধ্যমে বৃটিশরা এদেশের সব গোপন তথ্য চুরি করে নিয়ে যায়।


তবে আসল ঘটনা হচ্ছে- এদেশে বৃটিশ শাসনামলে পিলারগুলোকে ফ্রিকুয়েন্সি অনুযায়ী একটি থেকে আরেকটির দুরত্ব মেপে মাটির নীচে পুতে রাখা হয়েছিলো। যেগুলোর মধ্যে পিতল, তামা, লোহা, টাইটেনিয়ামসহ ধাতব চুম্বক রয়েছে। এগুলোর সমন্বয়ে গঠিত হওয়ার কারনে বজ্রপাতের সময়ে ইলেকট্রিক চার্জ সরাসরি এই পিলারগুলো শোষন করে আর্থিং এর কাজ করতো। আর এতে করে বজ্রপাতের সময় মানব সভ্যতা ছিলো সুরক্ষিত।

কিন্তু কিছু অসাধু লোক ওই পিলারগুলোকে উচ্চ দামে বিক্রি করা যায় এরকম গুজব ছড়িয়ে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। এ কারনে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পিলারগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। 

পিলারগুলোর তামা পিতল, টাইটেনিয়াম জাতীয় ধাতবের সমন্বয়ে তৈরী বলে এগুলো বিদ্যুৎ সুপরিবাহী। তাই এগুলো মহামুল্যবান বলে অপপ্রচারের ফলে এসব পিলার চুরি হতে থাকে। বর্তমানে বেশিরভাগ পিলারই গুজবে কান দেয়া মানুষজন উঠিয়ে নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, এ পিলারগুলো থেকে উচ্চ মূল্যের অর্থ উপার্জনের আশায় সর্বশান্ত হয়েছেন অনেকেই। কোটি টাকা উপার্জনের আশায় লাখ লাখ টাকা ইনভেস্ট করে দিনশেষে প্রতারণার শিকার হয়েছেন অনেকেই। 

অথচ এগুলোর আসল রহস্য হচ্ছে বৃটিশরা বজ্রপাত রোধের জন্য এ প্রযুক্তির পিলারগুলো সারা দেশজুড়ে মাটির নিচে পুতে রেখেছিল। যা একটি নির্দিষ্ট দুরত্ব পর পর ফ্রিকুয়েন্সি মেপে মেপে স্থাপন করে হয়েছিল। বর্তমানে যেমনটা মোবাইল ফোনের টাওয়ার বসানোর সময় একটা থেকে আরেকটার দুরত্ব আর ফ্রিকুয়েন্সি মেপে ম্যাপ করে বসানো হয়।

এজন্য আগেকার সময়ে বজ্রপাতে নিহত হওয়ার সংখ্যা ছিল নিতান্তই নগণ্য। যা এখন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে মানুষের চিন্তার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। তাই বজ্রপাতে মৃত্যু রোধকল্পে সরকারকে বৃটিশদের মতো করে পিলার স্থাপনের উদ্যোগ আবার গ্রহণ করা উচিৎ বলেও মতামত দিচ্ছেন অনেকে।

Previous Post Next Post