এক দশকে বসবাস অযোগ্য হবে সিলেটঃ নতুন গবেষণা

এক দশকে বসবাস অযোগ্য হবে সিলেটঃ নতুন গবেষণা


সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে আগামী এক দশকের মধ্যে সিলেট মহানগরী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে কানাডার ক্যালগারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের মোট ছয়জন গবেষকের গবেষণাপত্রটি আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘সাসটেইনেবল সিটিজ অ্যান্ড সোসাইটি’তে প্রকাশিত হয়েছে। 

এতে বলা হয় অত্যধিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এ মহানগরীতে কঠিন হয়ে পড়বে মানুষের বসবাস।

শুধু সিলেট মহানগরীই নয়, একই শঙ্কা ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা মহানগরীর জন্যও প্রকাশ করা হয়েছে। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, অস্বাভাবিক জনঘনত্ব, কংক্রিটের বাড়িঘর, এয়ারকন্ডিশনিং, কলকারখানার আধিক্য, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাভূমি ভরাট, গাছপালা কেটে ফেলা, যানবাহনের অত্যধিক বৃদ্ধি প্রভৃতির কারণে তাপমাত্রা অত্যধিক বৃদ্ধি পাচ্ছে।

‘সারফেস আরবান হিট আইল্যান্ড ইনটেনসিটি ইন ফাইভ মেজর সিটিজ অব বাংলাদেশ: প্যাটার্নস, ড্রাইভার অ্যান্ড ট্রেন্ডস’ শীর্ষক গবেষণাপত্রে গবেষকরা বিগত ২০ বছরের তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে আমলে নিয়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক পর্যবেক্ষণ করেছেন। গবেষণায় প্রায় ৮ হাজার স্যাটেলাইট ইমেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের পর্যবেক্ষণ বলছে, গ্রামের তুলনায় সিলেট মহানগরীর তাপমাত্রা বিগত কুড়ি বছরে ১ দশমিক ১০ ডিগ্রি বৃদ্ধি পেয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, এমনিতেই জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর সঙ্গে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, এয়ারকন্ডিশনার ব্যবহার বেড়ে যাওয়া, সবুজায়নের অভাব, পরিবেশ ধ্বংসসহ নানা কারণে এখন সিলেটসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোর তাপমাত্রা অত্যধিক বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষ এখন শহরমুখী। মানুষের চাপেও শহরে তাপমাত্রা বাড়ছে। মানুষের শরীরের নিজস্ব তাপমাত্রা রয়েছে, যাকে বলা হয় মেটাবলিক হিটিং। প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ১০০ ওয়াট। শহরাঞ্চলে জনঘনত্বের কারণে এই তাপমাত্রা যুক্ত হচ্ছে পরিবেশের সঙ্গে।

বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সিলেট মহানগরী বসবাসের অযোগ্য হতে আর মাত্র এক দশক সময় লাগবে।

তাপমাত্রা বৃদ্ধিরোধে গবেষকরা বেশি করে বৃক্ষরোপণ, সবুজের পরিমাণ বৃদ্ধি, পরিবেশের ক্ষতি না করা, পরিকল্পিত নগরায়ণ, বাড়িঘর তৈরিতে ছিদ্রযুক্ত পরিবেশবান্ধব ইট ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন।

Previous Post Next Post