গোলাপগঞ্জের একজন গীতিকার ফজলুর রহমান ফলু

গোলাপগঞ্জের একজন গীতিকার ফজলুর রহমান ফলু




সিলেট অঞ্চল- সংগীত এবং মরমী কবিদের অঞ্চল নামেই ব্যাপক সমাদৃত। রাধারমণ, শাহ আবদুল করিম, শীতলংশাহ, দ্বীন ভবানন্দ, হাসন রাজা, আরকুম শাহ, দূর্বিন শাহ প্রমুখ বাউল সাধকগণ এ অঞ্চলেরই কৃতি সন্তান। যারা বাংলা সংগীত, বাউল সংগীত রচনা করে সিলেটকে বিশ্বব্যাপী নিয়ে গিয়েছেন অনন্য উচ্চতায়। এ অঞ্চলে পুঁতি রচনা, গীতিকবিতা, বাউল সংগীত কিংবা মরমী সংগীত রচনার ইতিহাস বেশ পুরোনো। কালের বিবর্তনে একের পর এক গীতিকবি, বাউল-মরমী কবিগণ রচনা করেছেন তাদের নিজস্ব সংগীতের সুর।


তেমনি নতুন প্রজন্মের একজন গীতিকার ফজলুর রহমান ফলু। যিনি প্রবাসে ব্যবসায়িক কাজে শত ব্যস্ততার মাঝেও বাংলা সঙ্গীত রচনায় অর্জন করেছেন ব্যাপক জনপ্রিয়তা। দেশ ও বাংলা ভাষার টানে তিনি সুদূর যুক্তরাজ্যে বসবাস করেও বাংলা সংস্কৃতিতে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন সর্বদা। প্রতিনিয়ত রচনা করে চলেছেন অসংখ্য সঙ্গীত। তিনি বাংলাদেশ বেতার সিলেটের নিয়মিত তালিকাভুক্ত একজন গীতিকার। 


গীতিকার ফজলুর রহমান ফলু পরিচিতিঃ

গীতিকার ফজলুর রহমান ফলু'র পৈতৃক নিবাস সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার বুধবারীবাজার ইউনিয়নের কুশিয়ারা নদী তীরবর্তী লামা-চন্দরপুর গ্রামে। লামা-চন্দরপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান তিনি। তাঁর পিতার নাম মরহুম হাজী চুনু মিয়া, মাতা খায়রুন্নেছা খানম। সিলেটের মুরাদপুর সেনানীবাস সংলগ্ন হাজী চুনু মিয়া ভিলেজ তাঁর পিতার নামেই প্রতিষ্ঠিত এবং কাচা লংকা রেস্টুরেন্টের পরিচালক সমাজসেবী সাইস্তা মিয়ার বড় ভাই তিনি। ৬ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে ফজলুর রহমান ৪র্থ। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ফজলুর রহমান-সহ ৪ ভাই ও ১ বোন যুক্তরাজ্যে, ১ ভাই আমেরিকায় এবং ১ভাই ও ১ বোন দেশে অবস্থান করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর স্ত্রী ও ১ পুত্র সন্তান রয়েছে।


শিক্ষাজীবনঃ

ফজলুর রহমান ফলু বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করলেও তাঁর জন্ম, বেড়ে উঠা ও শিক্ষাজীবন হয়েছে দেশের মাটিতেই। তিনি ১৯৮৮ইং সালে স্থানীয় আল-এমদাদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সহিত এস,এস,সি পরীক্ষায় কৃতকার্য হোন। এরপর ১৯৯০ সালে ঢাকাদক্ষিণ ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। কলেজে পড়ালেখাকালীন তিনি ছাত্র রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন। তিনি ঢাকাদক্ষিণ ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাংঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এইচ,এস,সি শেষ করে ১৯৯৪ সালে তিনি সিলেট এমসি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান শাখায় ভর্তি হোন। তবে ওইসময়ে অধ্যায়নরত অবস্থায় তিনি যুক্তরাজ্য পাড়ি জমান।


লেখক ফজলুর রহমানঃ

গীতিকার ফজলুর রহমান ফলু ছাত্রছীবন থেকেই লেখালেখিতে সম্পৃক্ত ছিলেন। আল-এমদাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ালেখাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের মাসিক সংকলনে তাঁর বেশ কিছু লেখা প্রকাশিত হয়েছিলো। এছাড়া ওই সময়েই তাঁর বিভিন্ন ধরণের লেখা লোকাল পত্র-পত্রিকায়ও প্রকাশিত হতো।


প্রবাস জীবন ও গীতিকার হয়ে উঠাঃ

গীতিকার ফজলুর রহমান ফলু এমসি কলেজে অধ্যানরত অবস্থায় যুক্তরাজ্য পাড়ি জমান। যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানোর পর তিনি বিভিন্ন ধরণের ব্যবসায়িক কাজে জড়িয়ে পড়েন। এসময় প্রবাসের ব্যস্ততায় লেখালখিতে অনেকটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়ে যায় তাঁর। সর্বশেষ ২০১৫ সাল থেকে তিনি গীতি রচনা শুরু করেন। এরপরের বছর ২০১৬ সালে তাঁর লেখা ৩২টি গান একসাথে 'চ্যানেল এস' প্রকাশ করে। এরপর থেকেই ফজলুর রহমান ফলু ব্যাপক আলোচনায় চলে আসেন। ক্রমান্বয়ে প্রকাশিত হতে থাকে তাঁর এলবাম ও জনপ্রিয় সংগীত। এখন পর্যন্ত তাঁর রচনায় ১৩২টি গান ইউটিউব-সহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর সংগীত রচনার প্রতিভায় ২০১৮ সালে তাকে একজন নিয়মিত গীতিকারের তালিকাভুক্ত করে বাংলাদেশ বেতার সিলেট।


মিউজিক স্টুডিও প্রতিষ্ঠাঃ

গীতিকার ফজলুর রহমান ফলু যুক্তরাজ্যে বসবাস করলেও মন পড়ে থাকে মাতৃভূমির মাটি ও মানুষের প্রতি। সমাজ ও মানুষের সেবায় ফজলুর রহমান ফলু ও তাঁর পরিবারের রয়েছে অবাধ বিচরণ। তেমনি একজন গীতিকার হিসেব সিলেটের সংগীত অঙ্গনের কথা চিন্তা করে নগরীর উপশহরে প্রতিষ্ঠা করেছেন 'এফ আর মিউজিক স্টুডি'। যেখানে সিলেটের প্রতিভাবান শিল্পীদের পাশাপাশি সংগীত চর্চায় সুযোগ পাবেন উদীয়মান শিল্পীরাও।

এব্যাপারে ফজলুর রহমান ফলু জানিয়েছেন, আমি সঙ্গীতাঙ্গনের অনেককেই দেখেছি যারা ঢাকা শহরে গিয়ে সংগীত চর্চা করে থাকেন। মূলত তাদের কথা চিন্তা করেই সিলেটে এ স্টুডিওটি প্রতিষ্ঠা করেছি। যাতে সিলেটের প্রতিভা সিলেটের মাঠিতেই ফুটে উঠে। 

এছাড়াও সিলেটের গীতিকার ও শিল্পীদের মধ্যে যারা আর্থিক অস্বচ্ছলতায় নিজেদের প্রতিভা ফুটিয়ে তুলতে পারছেন না তাদেরকে FR Music Studio-এর পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলেও ঘোষণা দেন ফজলুর রহমান ফলু। যেকোনো প্রয়োজনে এফ আর মিউজিক স্টুডিও-এর নিম্নের নাম্বারে যোগাযোগ করার আমন্ত্রণ জানান তিনি।
মোবাইলঃ ০১৭২৯-২৬৫৫৮০।


Previous Post Next Post
>
>