Saturday, 19 February 2022

গোলাপগঞ্জে যুবক নিহতের ঘটনায় রাস্তা অবরোধ

গোলাপগঞ্জে যুবক নিহতের ঘটনায় রাস্তা অবরোধ


গোলাপগঞ্জে পৌর এলাকার ৯নং ওয়ার্ডের নুরুপাড়া রঙ্গাই বিছরা গ্রামে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে তারিফ রহমান (২৬) নামের এক যুবক খুনের ঘটনায় রাস্তা অবরোধ করেছে এলাকাবাসী। 

শুক্রবার  রাত ১০টার দিকে গোলাপগঞ্জ-ঢাকাদক্ষিণ সড়ক অবরোধ করে তারা ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি করে। এসময় রাস্তার দুদিকে শতাধিক গাড়ি আটকে থাকে। ভোগান্তিতে পড়েন গাড়িতে থাকা যাত্রী সাধারণ। 

খবর পেয়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ গোলাম কবির সেখানে ছুটে আসেন। তিনি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে অবরোধকারীরা রাস্তা অবরোধ তুলে নেয়। 
 
অবরোধকারীরা জানান, আগামী ২৪ঘন্টার ভিতরে যদি হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা না হয় তাহলে সিলেট জকিগঞ্জ সড়ক অবরোধ করা হবে ।

উল্লেখ্য, আজ (শুক্রবার) বিকেলে গোলাপগঞ্জের পৌর এলাকার ৯নং ওয়ার্ডের নুরুপাড়া রঙ্গাই বিছরা গ্রামে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে পৌর এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের রনকেলী নয়াগ্রাম এলাকার তখলিছ আলীর পুত্র  তারিফ রহমান (২৬) নিহত হন। এ ঘটনায় একই গ্রামের তছন আলীর পুত্র আবু সুফিয়ান (২০) ও পারভেজ আহমদ (২১) গুরুতর আহত হন। 
গোলাপগঞ্জে খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, নিহত ১

গোলাপগঞ্জে খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, নিহত ১


গোলাপগঞ্জের পৌর এলাকার ৯নং ওয়ার্ডের নুরুপাড়া রঙ্গাই বিছরা গ্রামে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে তারিফ রহমান (২৬) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। 

শুক্রবার বিকেলে  ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় আরো দুজন আহত হয়েছেন। তাদের অবস্থাও আশংকাজনক বলে জানা যায়।

নিহত যুবক পৌর এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের রনকেলী নয়াগ্রাম এলাকার তখলিছ আলীর পুত্র।
 
নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের ভাই রেজন আহমদ। আহতরা হলেন একই গ্রামের তছন আলীর পুত্র আবু সুফিয়ান (২০) ও পারভেজ আহমদ (২১) । 

গোলাপগঞ্জ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম জানান, শুক্রবার বিকেলে ফুটবলে খেলাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় এক পক্ষের ছুরিকাঘাতে তারিফ রহমান নামের এক যুবক হাসপাতালে নেয়ার পথে নিহত হয়। এ ঘটনায় আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন, তাদের সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। 

এ ব্যাপার গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। 

Thursday, 17 February 2022

সিলেটের এক কেজি চায়ের দাম ১৬ কোটি টাকা

সিলেটের এক কেজি চায়ের দাম ১৬ কোটি টাকা


বিশ্বের সবচেয়ে দামী চা সিলেটের ‘দ্যা গোল্ডেন বেঙ্গল টি’। যার প্রতিটি পাতায় আছে সোনার পরত। এর দাম কেজি প্রতি ১৬ কোটি টাকা। ২০২২ সালের মে মাসে এই চায়ের আত্মপ্রকাশ ঘটবে ঐতিহাসিক লন্ডন টি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে।

বিশ্বের সবচেয়ে দামী এ চা এসেছে বাংলাদেশের সিলেট জেলা থেকে। প্রকারে ব্ল্যাক টি, কিন্তু স্বচ্ছ পেয়ালায় সোনালি  রঙেই দৃশ্যমান হয়। ‘দ্যা গোল্ডেন বেঙ্গল’ চা প্রস্তুতের প্রক্রিয়াটিও বেশ সময়সাপেক্ষ। এর জন্য সময় লেগেছে প্রায় সাড়ে চার বছর। ৯০০ কেজি উৎপাদিত চা থেকে মাত্র এক কেজি চা পাতা বাছাই করা হয়। যার প্রতিটি পাতায় রয়েছে ২৪ ক্যারেট সোনার প্রলেপ। 

এ বছরেই আত্মপ্রকাশ ঘটতে চলেছে ‘দ্যা গোল্ডেন বেঙ্গলে’র। সৌজন্যে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রিমিয়াম চায়ের প্রতিষ্ঠান- লন্ডন টি এক্সচেঞ্জ। লন্ডন টি এক্সচেঞ্জের কর্ণধার আলিউর রহমান বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত, আমার সোনার বাংলা, তার নাম অনুযায়ী এর নামকরণ।

আলিউর রহমান আরও বলেন, এই চা প্রস্তুত করতে সময় লেগেছে প্রায় সাড়ে চার বছর। নোবেল প্রাইজ উইনার্সদের এই চা পাতা উপহার দিতে পারবো বলে মনে করছি। বিশ্বের সবচেয়ে দামী চা, ‘দ্যা গোল্ডেন বেঙ্গলে’র ঠিকানা লন্ডনের ১০৩ ব্রিক লেনে অবস্থিত লন্ডন টি এক্সচেঞ্জ।

জানা গেছে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি জাপানি চায়ের ভক্ত ছিলেন। আর বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দামি চায়ের নামকরণের অনুপ্রেরণাও তিনি। দ্য গোল্ডেন বেঙ্গল। সোনার বাংলা। দাম প্রতি কেজিতে ১৪ লাখ পাউন্ড। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৬ কোটি টাকা।
অনলাইনেই চলবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান: শিক্ষামন্ত্রী

অনলাইনেই চলবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান: শিক্ষামন্ত্রী


শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান অনলাইনে চলবে। আর ২২ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আরও ১০ থেকে ১৪ দিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ব্রিফিংয়ে সব প্রতিষ্ঠানকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। এদিকে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যাদের দুই ডোজ টিকা দেওয়া আছে, শুধু তারাই সরাসরি ক্লাসে অংশ নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

এ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ম ডোজ টিকা পেয়েছেন এক কোটি ২৬ লাখ ৫৭ হাজার ২২২ জন। আর দুই ডোজ টিকা পেয়েছেন ৩৪ লাখ ৪০ হাজার ৪৪৮ জন।

এর আগে বুধবার রাত ১০টার দিকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। 
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরু ২২ ফেব্রুয়ারি

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরু ২২ ফেব্রুয়ারি


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীরে পাঠদান ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চালু করা হবে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকে পাঠদান শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আরও দুই সপ্তাহ পর নেওয়া হবে।  বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের পাঠদানের সময়সূচি ঠিক করে নেবে। তবে ২২ তারিখ থেকেই শ্রেণিকক্ষে ক্লাস চালু করতে পারবে।

করোনা পরিস্থিতিতে কঠোর বিধিনিষেধ মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু রাখার নির্দেশ দেন দীপু মনি। বলেন, সব ক্ষেত্রে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিধিবিধান থাকবে।  

শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা টিকা নেননি, তাদের টিকা নিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী।

প্রাথমিকে ক্লাস শুরুর বিষয়ে তিনি বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে গঠিত জাতীয় পরামর্শক কমিটি মনে করে ২২ তারিখের পর করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া শুরু করবে। পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে প্রাথমিকেও ক্লাস শুরুর মতো পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এখনও যে অবস্থা আছে তাতে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে নিয়ে আসছি না। আমরা আরেকটু অপেক্ষা করছি। কারণ তাদের তো টিকা দেওয়া হয়নি।  আমরা সপ্তাহ দুয়েক সর্বোচ্চ দেখব। আমরা আশা করছি সপ্তাহ দুয়েক পর সংক্রমণ কমে আসবে এবং আমরা তাদের শ্রেণিকক্ষে নিয়ে আসতে পারব।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকে অর্থাৎ ১২ বছরের নিচে যারা তাদের টিকাদানের ব্যাপারেও একটা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিষয়গুলো দেখছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে।  স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার পর ১২ বছরের নিচের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হবে।  

দেশে করোনা সংক্রমণের কারণে ২১ জানুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি সংক্রমণ কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে বলছে করোনা নিয়ন্ত্রণে গঠিত জাতীয় পরামর্শক কমিটি। যুগান্তরকে বুধবার রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন জাতীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম।

জাতীয় কমিটির পরামর্শ ছিল ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে সুপারিশ করা হয়েছে। তবে শিশুদের নয়। ১২ বছর বা তার বেশি বয়সি শিশুরা যারা দুই ডোজ টিকা নিয়েছে, তাদের এখন স্কুলে যেতে কোনো বাধা নেই। 

বুধবার রাত ১০টায় জাতীয় পরামর্শক কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বসেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। 

বৈঠক শেষে জাতীয় পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা যুগান্তরকে বলেছিলেন, যেহেতু সংক্রমণ হার অনেকটা কমেছে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে বলেছি। কখন থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে সেটি শিক্ষামন্ত্রী জানিয়ে দেবেন।

তবে প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলার বিষয়ে কোনো সুপারিশ দেওয়া হয়নি জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে।    

Wednesday, 16 February 2022

মুনিয়া হত্যা মামলায় কারাগারে মিম

মুনিয়া হত্যা মামলায় কারাগারে মিম


কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়া হত্যা মামলার অন্যতম আসামি সাইফা রহমান মিমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই।

মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) মিমকে তার ধানমন্ডির বাসা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয় বলে গণমাধ্যমকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি বনজ কুমার মজুমদার।

পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ জানান, মিমকে রিমান্ডে চাওয়া হয়নি, কিন্তু তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা পর্যন্ত জেলে আটক রাখার আবেদন করা হয়। প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় রিমান্ড চাওয়া হবে।

সাইফা রহমান মিম জাতীয় সংসদের হুইপ ও চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনের সাবেক স্ত্রী। মিম এ হত্যা মামলার ৬ নম্বর আসামি।

আরো পড়ুন: মুনিয়া হত্যা মামলায় হুইপপুত্রের সাবেক স্ত্রী মিম গ্রেপ্তার

গত ২৬ এপ্রিল রাতে গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন মোসারাতের বড় বোন নুসরাত জাহান। এ মামলায় গত জুলাই মাসে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত গত ১৮ আগস্ট পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। ফলে মামলা থেকে অব্যাহতি পান সায়েম সোবহান আনভীর।

এরপর মুনিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমদ আকবর সোবহান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে গত ৬ সেপ্টেম্বর মামলা করা হয়। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ আদালতে মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে ওই মামলা করেন।

পরে আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন। ওই মামলায় আগাম জামিন চেয়ে আনভীর হাইকোর্টে আবেদন জানান। 
২৬ ফেব্রুয়ারি পর সিলেটে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নেওয়া বন্ধ

২৬ ফেব্রুয়ারি পর সিলেটে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নেওয়া বন্ধ


নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নানা আলোচনা-সমালোচনার মাঝেই দেশে এখন পর্যন্ত প্রথম, দ্বিতীয় ও বুস্টার মিলিয়ে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে ১৭ কোটি ৬৮ লাখ ৬৬ হাজার ৭৮৮ ডোজ। তবে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, সিলেট সহ সারাদেশে প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন প্রয়োগ কার্যক্রম শেষ হচ্ছে ২৬ ফেব্রুয়ারি। যারা এখন পর্যন্ত প্রথম ডোজ পাননি তাদের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইনের আওতায় এনে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

এরপর আর কোনো স্থানেই প্রথম ডোজ না দিয়ে দ্বিতীয় ও বুস্টার ডোজের ভ্যাকসিন প্রয়োগের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। আর তাই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অগ্রাধিকার দিয়ে এই সময়ের মধ্যেই প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন প্রয়োগ কর্মসূচি শেষ করতে চাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, সরকারিভাবে দেশের ৭০ শতাংশ জনসংখ্যাকে ভ্যাকসিন দেওয়ার পরিকল্পনা।
 
এই পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের ১১ কোটি ৯২ লাখ ২১ হাজার ৯৫৩ জনকে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের। এর মাঝে ১০ কোটি ৯ লাখ ১১ হাজার ২১ ডোজ ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আরও এক কোটি ৮৩ লাখ ১০ হাজার ৯৩২ জনকে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ প্রয়োগ করতে হবে। আর তাই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ২৬ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ সংখ্যক জনসংখ্যাকে ভ্যাকসিন প্রথম ডোজ প্রয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি আমরা সারাদেশে একটি ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন করতে যাচ্ছি। এদিন আমাদের সর্বোচ্চসংখ্যক ভ্যাকসিন দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা আছে। আমরা এই ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে সবাইকে ভ্যাকসিন নেওয়ার আহ্বান জানাই। এর মাধ্যমে আমাদের প্রথম ডোজ দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করা হবে।

সবাইকে ভ্যাকসিন নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে আমরা দ্বিতীয় ও বুস্টার ডোজ দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকব। তাই আর দেরি না করে সবাই এসে কোভিডের ভ্যাকসিন গ্রহণ করুন। নিজে সুরক্ষিত থাকুন ও দেশকে সুরক্ষিত রাখুন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে— যারা কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ও যারা মৃত্যুবরণ করেছিলেন তাদের বেশিরভাগই ভ্যাকসিন নেননি। যারা ভ্যাকসিন নিয়েছেন তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুহার কম। এমন অবস্থায় আমরা সবাইকে আহ্বান করছি ভ্যাকসিন গ্রহণ করে নিজেকে ও দেশকে সুরক্ষিত রাখার জন্য।

যারা এখন পর্যন্ত এক ডোজও পাননি তাদের ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভ্যাকসিন গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরাও। তিনি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত ১০ কোটির অধিক প্রথম ডোজের ভ্যাকসিন প্রয়োগ করেছি। ২৬ ফেব্রুয়ারির আগে আমরা আরও কিছুদিন সময় পাচ্ছি। আশা করছি এর মাঝেও সামর্থ্যের সবটুকু দিয়েই আমরা সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষকে ভ্যাকসিন দিতে পারব। রাজধানীতে ইতোমধ্যেই ভাসমান নাগরিকদের মাঝে ও দোকান কর্মচারীদের আমরা ভ্যাকসিন প্রয়োগ করছি। অন্যান্য পেশারও যদি কেউ এখন পর্যন্ত প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন না পেয়ে থাকে তবে তাদের আমরা তা গ্রহণ করার আহ্বান জানাই।
 
আশা করছি আমাদের যে সক্ষমতা তাতে ২৬ ফেব্রুয়ারির আগে আরও অন্তত ৫০ লাখ মানুষকে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজের আওতায় নিয়ে আসতে পারবো। তিনি বলেন, এই কয়েকদিনের নিয়মিত ভ্যাকসিন কার্যক্রম শেষে আমরা ২৬ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রথম ডোজের ভ্যাকসিন দেবো। এদিন আমরা সর্বোচ্চ সংখ্যক জনসংখ্যাকে ভ্যাকসিন দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, ২৬ ফেব্রুয়ারির মাঝেই আমরা প্রথম ডোজের ভ্যাকসিন প্রয়োগ শেষ করব। এরপরে আমরা দ্বিতীয় ডোজ ও বুস্টার ডোজ ভ্যাকসিন প্রয়োগের বিষয়ে জোর দিতে চাই। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) এর পরিচালক ডা. মো. শামসুল হক বলেন, আমাদের ভ্যাকসিনের কোনো সঙ্কট নেই। প্রতিটা কেন্দ্রেই নিয়মিতভাবে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি যারা এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিন নেননি তারা খুব দ্রুতই সেটা গ্রহণ করে নিজেদের সুরক্ষিত করবেন।

এ দিকে বিভিন্ন জেলা পর্যায়েও ভ্যাকসিন প্রয়োগের জন্য নেওয়া হচ্ছে নানা রকমের পরিকল্পনা। দেশে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত এক ডোজ ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন ৯ কোটি ৭৬ লাখ ৩৪ হাজার ৭০৯ জন। কিন্তু এই সময়ে ভ্যাকসিন প্রয়োগে পিছিয়ে ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অধিবাসীরা। তবে এই জেলাতেও বেড়েছে ভ্যাকসিন প্রয়োগের হার। এর আগে, দেশে ২৭ জানুয়ারি প্রথম করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

একই দিন ভ্যাকসিনের নিবন্ধনের জন্য সুরক্ষা প্ল্যাটফর্মের ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন (www.surokkha.gov.bd) সীমিত আকারে উন্মুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে অফিসিয়ালি এই ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনে নিবন্ধন শুরু করা হয়। কর্মসূচি উদ্বোধনের একদিন পর অর্থাৎ ২৮ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) প্রাথমিকভাবে ৫৪১ জনকে ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়। এদিন জানানো হয় ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা শুরু হবে জাতীয় পর্যায়ে।

২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় পর্যায়ে ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু করা হয়। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সারা দেশে ভ্যাকসিন প্রয়োগ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। বিভিন্ন জেলায় ভ্যাকসিন প্রয়োগ কার্যক্রমে জড়িত কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এর পরপরই বিভিন্ন জেলায় ভ্যাকসিন প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে ৮ এপ্রিল থেকে ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগ শুরু হয়। ২৫ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, ২৬ এপ্রিল থেকে দেশে ভ্যাকসিনের প্রয়োগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমএনসিঅ্যান্ডএইচ শাখার লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. শামসুল হক বলেন, ২৩ এপ্রিল থেকে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজের জন্য এসএমএস পাঠানো হচ্ছে না।

২৬ এপ্রিল থেকে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ প্রয়োগ আপাতত বন্ধ করা হচ্ছে। তবে এটি চালু কবে হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতার ওপরে নির্ভর করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দেশে ১৯ জুন থেকে শুরু হতে হয় চীন থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া সিনোফার্মের প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন প্রয়োগ কার্যক্রম। রাজধানীর চারটি মেডিকেল কলেজসহ দেশের অন্যান্য ৬৩ জেলায় এক যোগে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু করে সরকার। চীন সরকারের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া এই ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য ১০টি ক্যাটাগরিতে পাঁচ লাখ মানুষকে টার্গেট করা হয়।