Thursday, 2 April 2026

ব্রিটিশ রাজকীয় সম্মাননা ‘এমবিই’ খেতাবে ভূষিত গোলাপগঞ্জের আবু তাহের


ব্রিটিশ রাজকীয় সম্মাননা পদক 'এমবিই' খেতাবে ভূষিত হতে যাচ্ছেন সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার কৃতি সন্তান অ্যাকাউন্ট্যান্ট আবু তাহের। সমাজসেবা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ রাজকীয় সম্মাননায় ভূষিত করা হচ্ছে। আগামী ১৩ মে উইন্ডসর ক্যাসেলে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে রাজা তৃতীয় চার্লস তার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা তুলে দেবেন। ইতিমধ্যে রাজার পক্ষ থেকে তার নামও ঘোষণা করা হয়েছে।

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি আবু তাহেরের বাড়ি গোলাপগঞ্জ উপজেলার চন্দরপুর গ্রামে। তিনি মরহুম মক্তার আলী ও মরহুমা মাছুমা খাতুনের ছেলে। ১৯৮৭ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানোর পর তিনি পেশাগত জীবনে নিজেকে একজন দক্ষ অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৯৯ সালে পূর্ব লন্ডনে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘মাহি অ্যান্ড কোং সার্টিফাইড প্র্যাকটিসিং অ্যাকাউন্ট্যান্টস’। বর্তমানে তিনি ইনস্টিটিউট অব সার্টিফাইড প্র্যাকটিসিং অ্যাকাউন্ট্যান্টস-এর ফেলো সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক ও আইনি পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী আবু তাহেরের সৃজনশীলতায় প্রবাস জীবন, মানবতা ও সমাজ সচেতনতা ফুটে ওঠে। ছড়া, কবিতা, প্রবন্ধ ও নাটক মিলিয়ে তার প্রকাশিত গ্রন্থ ও নাটকের সংখ্যা ১০টিরও বেশি। বিলেতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চাকে বেগবান করতে ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘সংহতি সাহিত্য পরিষদ’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতির দায়িত্ব পালন করা আবু তাহের নতুন প্রজন্মের ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের মাঝে বাংলা সাহিত্য পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

মানবসেবামূলক কাজেও তিনি সমানভাবে সক্রিয়। ‘ভিশন কেয়ার ফাউন্ডেশন’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে দেশের অসচ্ছল মানুষদের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন নিয়মিত। এছাড়া ‘মাছুমা মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর মাধ্যমে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং ‘টি-ফাইভ টেইলরিং ট্রেনিং সেন্টার’-এর মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতেও নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

শিক্ষা খাতেও তার অবদান উল্লেখযোগ্য। গোলাপগঞ্জের চন্দরপুর আল এমদাদ ডিগ্রি কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি কাজ করেছেন। পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যমের ‘ব্রিজ অ্যাকাডেমি’ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। বর্তমানে বাংলাদেশে ‘হ্যাভেন কেয়ার হোম’ নামে একটি বৃদ্ধ ও অসহায় মানুষের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কাজও এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি।

এই সম্মাননা পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় আবু তাহের বলেন, মানুষের কল্যাণ, সংস্কৃতির বিকাশ এবং প্রজন্মের মধ্যে মূল্যবোধ গড়ে তোলাই তার কাজের মূল লক্ষ্য। তিনি মনে করেন, ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে সমাজের কল্যাণে অবদান রাখাই প্রকৃত অর্জন।

ব্যক্তিগত জীবনে তার স্ত্রী মিতা তাহের যুক্তরাজ্যের পরিচিত কণ্ঠশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক। দুই পুত্র ও এক কন্যাসন্তানসহ তারা বর্তমানে লন্ডনে বসবাস করছেন।

শেয়ার করুন