Monday, 21 February 2022

চন্দরপুরে পিচ্ছিল সড়কে নোহা-কার খাঁদে (ভিডিও)

চন্দরপুরে পিচ্ছিল সড়কে নোহা-কার খাঁদে (ভিডিও)


গোলাপগঞ্জের চন্দরপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মাইক্রোবাস (কার) খাঁদে এবং অপর আরেকটি মিনিবাস (নোহা) গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, সিলেট থেকে বিয়ানীবাজারগামী মাইক্রোবাস(কার) চন্দরপুরের যুক্তরাজ্য প্রবাসী আতিকুর রহমানের বাড়ির নিকট আসলে হঠাৎ করে গাড়িটির চাকা ফুটো হয়ে যায়। এসময় চালক গাড়িটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও রাস্তা মারাত্মক পিচ্ছিল হওয়ায় তা খাঁদে পড়ে যায়। এঘটনার সময় অপর আরেকটি নোহা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়।


মাইক্রোবাস(কার) চালক জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাস্তাটি মারাত্মক পিচ্ছিল থাকায় কোনোভাবে গাড়িটিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় নি। রাস্তা থেকে পিচ্ছিল খেয়ে গাড়িটি সোজা পাশের কাদাযুক্ত জমিনে পড়ে যায়। এতে গাড়িটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

তবে এ দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও গাড়ি দুটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চন্দরপুর-বিয়ানীবাজার সড়ক দিয়ে মাটি পরিবহন করে আসছে খোলা ট্রলি। আর এতে করে ট্রলি থেকে অতিরিক্ত মাটি উপচে পড়ায় পাকা রাস্তায় মাটির আস্তরণ সৃষ্টি হয়েছে। রোববার বিকেল থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির ফলে রাস্তাটি মারাত্মক পিচ্ছিল আকার ধারণ করে যান ও জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, এধরণের বাহন দিয়ে অতিরিক্ত মাটি পরিবহনের ফলে পাকা রাস্তায় মাটির আবরণ তৈরি হয়েছে। আজ সামান্য বৃষ্টির ফলে রাস্তাটি মারাত্মক পিচ্ছিল আকার ধারণ করে। এতে যান ও জনসাধারণের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তাদের দাবী, এ ধরণের মাটি পরিবহনে জান-মালের নিরাপত্তা যেমন ঝুঁকিতে পড়ে ঠিক তেমনি বিটুমিন নষ্ট হয়ে সড়কটিও হয়ে পড়ে দুর্বল। এব্যাপারে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন।




Sunday, 20 February 2022

ছবিতে দেখুন বানিগাজীতে পুড়ে যাওয়া বসতঘরের ধ্বংসাবশেষ

ছবিতে দেখুন বানিগাজীতে পুড়ে যাওয়া বসতঘরের ধ্বংসাবশেষ

রান্নাঘরের ধ্বংসাবশেষ।
গত শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ন'টায় গোলাপগঞ্জের বানিগাজী গ্রামের দুটি বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সৌদি আরব প্রবাসী আব্দুল ফয়েজ মাস্টার এবং বুধবারীবাজার ইউনিয়ন যুবলীগের কোষাধ্যক্ষ ও পূবালী ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল হামিদের যৌথঘরের ৬টি রুমই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডের ছবি।
আব্দুল ফয়েজ ও আব্দুল হামিদের এই সেই যৌথ বসতঘর। যার পুরোটাই পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া একটি কক্ষের ধ্বংসাবশেষ।
অপর আরেকটি কক্ষের পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ।
পুড়ে যাওয়া একটি ঝুলন্ত ফ্যান।
অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরের দেয়াল।
অগ্নিকাণ্ডে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মায়া আর মমতা দিয়ে গড়া অনেক শখের ঘরটি
মেঝেতে পড়ে আছে পুড়ে যাওয়া জিনিসপত্র
ছাই হয়ে পড়ে আছে ঘরের আসবাবপত্র।
মেঝেতে পুড়ে ছাই হয়ে পড়ে আছে ব্যবহৃত জিনিসপত্র
ব্যবহারযোগ্য কিছুই নেই আর অবশিষ্ট।
এছাড়া, অগ্নিকাণ্ডের সময় আগুনের ব্যাপকতায় পার্শ্ববর্তী আব্দুল মুহিতের বসতঘরেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে আব্দুল মুহিতের বসতঘরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
আব্দুল মুহিতের আংশিক পুড়ে যাওয়া ঘর।

আরোও পড়ুনঃ 

বানিগাজীতে দু'টি বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডঃ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি






আগামী ২ মার্চ চন্দরপুর ইসলামি যুব সংঘের সুন্নি মহাসম্মেলন

আগামী ২ মার্চ চন্দরপুর ইসলামি যুব সংঘের সুন্নি মহাসম্মেলন


আগামী ০২ মার্চ (বুধবার) চন্দরপুর ইসলামি যুব সংঘের ২০তম সুন্নি মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এদিন সকাল ১০টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চন্দরপুর স্থায়ী মাঠে (চন্দরপুর-আছিরগঞ্জ রোডের পার্শ্ববর্তী মাঠে) ইসলামি এ সুন্নি মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

চন্দরপুর ইসলামি যুব সংঘ আয়োজিত এ সুন্নি মহাসম্মেলনে আছিরগঞ্জ আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হযরত মাওলানা নুরুল হুদা'র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নসিহত পেশ করবেন হযরত আল্লামা হাফিজ ফখর উদ্দিন চৌধুরী, ছাহেব জাদায়ে ফুলতলী।

বিশেষ অতিথির নসিহত পেশ করবেন হযরত আল্লামা নেছার আহমদ চাঁদপুরী, হযরত মাওলানা মোঃ আব্দুল আউয়াল ফয়সাল বিন তাহেরী কুমিল্লা, হযরত মাওলানা মুফতি নেছার উদ্দিন চট্টগ্রামী।

আমন্ত্রিত উলামায়ে কেরাম হিসেবে উপস্থিত থেকে নসিহত পেশ করবেন রায়গড় পুরান বাজার হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার হযরত মাওলানা আব্দুর রউফ, রায়গড় পুরান বাজার হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক হযরত মাওলানা আসাদ উদ্দিন ফারুকী এবং হযরত মাওলানা আব্দুল কুদ্দুছ নুরী চন্দরপুরী।

এছাড়া আরোও দেশ বরেণ্য উলামায়ে কেরাম নসিহত পেশ করবেন। চন্দরপুর ইসলামি যুব সংঘের পক্ষ থেকে এ সুন্নি মহাসম্মেলনে সকলের দোয়া ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে সকলকে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।


২২ ফেব্রুয়ারির পর বিধিনিষেধ থাকছে না

২২ ফেব্রুয়ারির পর বিধিনিষেধ থাকছে না


আগামী ২২ ফেব্রুয়ারির পর থেকে করোনার বিধিনিষেধ আর থাকছে না। ২৬ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে এক কোটি টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। 

রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে ১ কোটি করোনা টীকা দেয়া হবে। জাতীয় পরিচয় পত্র ছাড়াই স্থায়ী ঠিকানা লিখে নিয়ে গিয়েই টীকা দেয়া যাবে।  ২২ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনও করোনা বাধা নিষেধ থাকবে না। তবে মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক থাকবে।

এছাড়া করোনার সংক্রমণ কমে যাওয়ায় আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হচ্ছে। যদিও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো খুলবে ১ মার্চ থেকে।

এদিকে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে ‘বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন’ হবে। 

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশিদ আলম এ তথ্য দিয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জানিয়েছিলেন, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি আমরা দেশব্যাপী করোনার ভ্যাকসিনের একটা ক্যাম্পেইন করতে যাচ্ছি। সেখানে আমরা লক্ষ্যমাত্রা রেখেছি সর্বোচ্চ সংখ্যক টিকা দেওয়ার। এর মাধ্যমে আমাদের প্রথম ডোজ দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করা হবে। পরবর্তী সময়ে আমরা বুস্টার ডোজ এবং দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকবো। কাজেই আর বিলম্ব না করে আপনারা সবাই টিকা নিয়ে নিন।

উল্লেখ্য, করোনার ওমিক্রন সংক্রমণ রোধে দ্বিতীয় দফায় এবারের বিধিনিষেধ ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত বাড়িয়ে গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
বাধ্যতামূলক হচ্ছে জয় বাংলা স্লোগান

বাধ্যতামূলক হচ্ছে জয় বাংলা স্লোগান


'জয় বাংলা'কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়েছে।  এ বিষয়ে সার্কুলার দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বাধ্যতামূলকভাবে সকলে এই স্লোগান ব্যবহার করবে।

রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
 
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এক ব্রিফিংয়ে বলেন, সকল সাংবিধানিক পদ, সরকারি, বেসরকারি অফিসে কর্মরতদের বক্তব্যে জয় বাংলা স্লোগান দিতে হবে। 

সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অ্যাসেম্বলি, সভা সেমিনারে, সমাবেশে জয় বাংলা স্লোগান ব্যবহার করতে হবে। দু'একদিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। 
দক্ষিণ আফ্রিকায় ঘুমন্ত বাংলাদেশিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

দক্ষিণ আফ্রিকায় ঘুমন্ত বাংলাদেশিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা


প্রবাস ডেস্কঃ দক্ষিণ আফ্রিকার ঘুমন্ত বাংলাদেশি এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় হত্যাকারী আফ্রিকান কর্মচারী তার বাসা ও দোকানে থাকা টাকা এবং মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার দিকে আফ্রিকার প্রিটোরিয়ার হামাস্ক্রাল শহরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের নাম মোহাম্মদ হাসান (৩৩)। তিনি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের জিরতলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য জিরতলী গ্রামে মৃত আমিন উল্যা দরবেশের ছেলে।

এদিকে সাত বছর আগে আফ্রিকায় কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন হাসানের বড় ভাই টিপু।

জিরতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল আলম লালু এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১৬ বছর আগে আফ্রিকায় যান মোহাম্মদ হাসান। আফ্রিকায় তার ছোট ভাই হেলালও থাকেন। আফ্রিকায় যাওয়ার পর ভাইদের সহযোগিতায় প্রিটোরিয়ার হামাস্ক্রাল শহরে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করার জন্য ওই আফ্রিকান এক যুবককে কর্মচারী হিসেবে কাজ দেন হাসান।
দীর্ঘদিন পর বাড়ি আসবেন, তাই টাকা ও মূল্যবান মালামাল নিজের বাসায় রাখেন হাসান। শুক্রবার রাতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাসায় গিয়ে খাওয়ার পর আফ্রিকান কর্মচারীসহ ঘুমিয়ে পড়েন হাসান। রাতের কোনো একসময় আফ্রিকান ওই কর্মচারী ঘুমের মধ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হাসানের ওপর হামলা চালিয়ে টাকা ও মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

হাসানের চিৎকারে পাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ খবর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের বাড়ি পৌঁছলে বাড়িতে শোকের মাতম শুরু হয়। 
যে কারণে যেভাবে হত্যার পর ছয় টুকরা করা হয় প্রবাসীর স্ত্রীকে!

যে কারণে যেভাবে হত্যার পর ছয় টুকরা করা হয় প্রবাসীর স্ত্রীকে!


কেন, কীভাবে হত্যা করা হয়েছিল সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের প্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন জোসনাকে- সেই তথ্য বের করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। একটি ফার্মেসি থেকে জোসনার ছয় টুকরো লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতারের পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য জানাল সিআইডি।

এ ঘটনায় শুক্রবার গ্রেফতার করা হয় ফার্মেসির মালিক জিতেশ চন্দ্র গোপ, তার বন্ধু অনজিৎ চন্দ্র গোপ ও অসীত চন্দ্র গোপকে।

শনিবার দুপুরে সিআইডির সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ দেন সিআইডির এলআইসি শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তাধর।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থানার পৌর এলাকার ব্যারিস্টার আবদুল মতিন মার্কেটের অভি মেডিকেল হল নামের একটি ওষুধের দোকান থেকে শাহনাজ পারভীন জোসনার ছয় টুকরো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জোসনা জগন্নাথপুর থানার নারকেলতলা গ্রামের সৌদি প্রবাসী ছরুক মিয়ার স্ত্রী। এ ঘটনায় ওই দিনই নিহতের ভাই হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

সিআইডি জানায়, শাহনাজ জোসনা ২০১৩ সাল থেকে জগন্নাথপুর পৌর শহরে নিজের বাসায় দুই ছেলে, এক মেয়ে, বৃদ্ধা মা ও ভাই-বোনদেরকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতারকৃতদের বরাত দিয়ে মুক্তাধর জানান, ওষুধপত্র কেনার সুবাদে অভি মেডিকেল হলের মালিক জিতেশের সঙ্গে জোসনার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। জোসনা কিছুদিন ধরে গোপন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি জিতেশ জোসনার মায়ের প্রেশার মাপার জন্য তাদের বাড়িতে যান। তখন জোসনা তার গোপন সমস্যার কথা জিতেশকে জানালে তিনি তাকে দোকানে যেতে বলেন। ওই দিন বিকালে জোসনা জিতেশের দোকানে গেলে তাকে দোকানে কাস্টমার রয়েছে বলে অপেক্ষা করতে বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।

মুক্তাধর আরও জানান, অনেক রাত হলে বাসায় যাওয়ার জন্য জোসনার অস্থিরতা বেড়ে যায়। তখন ওই ফার্মেসির মধ্যে তাকে একটি ঘুমের ওষুধ খেতে দেন জিতেশ। এতে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন জোসনা। তখন জিতেশ, তার দুই বন্ধু অনজিৎ এবং অসীত গোপ তাকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করেন। জিতেশ তার ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার কক্ষে জোসনাকে বসিয়ে রাখেন। সেখানে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে তাকে ঘরে রেখে ফার্মেসির তালা বন্ধ করে বাইরে চলে যান জিতেশ।

এরপর রাত গভীর হলে আশপাশের দোকান যখন বন্ধ হয়ে যায় তখন জিতেশ ও তার দুই বন্ধু ফার্মেসি খুলে এনার্জি ড্রিংকস পান করে ধর্ষণ করেন।

বিষয়টি শাহনাজ তার পরিবারকে জানিয়ে দেবেন বললে জিতেশ ও তার বন্ধুরা তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং মুখে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে ওই ফার্মেসিতে থাকা ফল কাটার ছুরি দিয়ে লাশটি দুই হাত, দুই পা এবং বুক পেটসহ ছয়টি টুকরা করেন। এরপর দোকানে থাকা ওষুধের কার্টুন দিয়ে খণ্ডিত অংশগুলো ঢেকে রেখে ফার্মেসিতে তালা লাগিয়ে চলে যান। পরে খণ্ডিত লাশ পাশের একটি মাছের খামারে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু ভোর হয়ে যাওয়ায় এবং লোকজন চলে আসায় তারা সেই কাজটি করতে পারেননি।

সংবাদ সম্মেলনে মুক্তাধর বলেন, এ ঘটনার পর সিআইডির এলআইসি শাখার একাধিক দল আসামি গ্রেফতারের জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায়। শুক্রবার রাজধানীর ভাটারা থানার নুরেরচালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিতেশকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর জগন্নাথপুর থানার পৌর এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় অনজিৎ এবং অসীত গোপকে।

গ্রেফতার জিতেশ চন্দ্র গোপ কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার শহিলা গ্রামের যাদব চন্দ্র গোপের ছেলে, অনজিৎ চন্দ্র গোপ একই এলাকার রসময় চন্দ্র গোপের ছেলে ও অসীত চন্দ্র গোপ নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার সুয়াইর অলিপুর গ্রামের পতিত পবন গোপের ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- সিআইডির বিশেষ সহকারী পুলিশ সুপার রাকিবুল ইসলাম ও মোহাম্মদ শাহজাহান খান।