Wednesday, 23 February 2022

১০ জনের নাম চূড়ান্ত করল সার্চ কমিটি

১০ জনের নাম চূড়ান্ত করল সার্চ কমিটি


নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে ১০ ব্যক্তির নাম চূড়ান্ত করেছে সার্চ কমিটি। সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে মঙ্গলবার বিকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করা হয়। রাত সোয়া ৮টায় এ বৈঠক শেষ হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বৈঠকে সার্চ কমিটি ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করেছে। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি এই ১০ জনের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে হস্তান্তর করা হবে।

কমিটির প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির বাকি পাঁচ সদস্য বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন, লেখক-অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক, মহা হিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক (সিএজি) মুসলিম চৌধুরী এবং সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন অংশ নেন।

ত্রয়োদশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের লক্ষ্যে গঠিত সার্চ (অনুসন্ধান) কমিটির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে দেশের সব রাজনৈতিক দল। ব্যক্তি এবং পেশাজীবীদের মধ্যেও এ নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, রোববারের বৈঠকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা ২০ জনের যাবতীয় তথ্য পর্যালোচনার পর ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করা হয়। ওই ১০ জনের বিষয়ে যে কোনো ধরনের বিতর্ক এড়াতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা এবং মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আরও খোঁজ-খবর নেওয়া হয়। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি ১০ জনের নাম মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। এই ১০ জনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) পদে দুইজন এবং নির্বাচন কমিশনার পদে আটজনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই তালিকা থেকেই একজনকে সিইসি এবং চারজনকে নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। এই ইসির অধীনেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন।

সূত্র আরও জানায়, সিইসি পদে এবার বিচার বিভাগের কারও না আসার সম্ভাবনাই বেশি। কয়েকজন সাবেক সচিব ও একটি বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা প্রাথমিকভাবে সিইসি পদে আলোচনায় রয়েছেন। নির্বাচন কমিশনার পদে অবসরপ্রাপ্ত আমলা, বিচারক, নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কেউ থাকতে পারেন। তালিকা চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দায়িত্ব গ্রহণে সম্মত কিনা, সে বিষয়েও তাদের মতামত নেওয়া হবে।

এদিকে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর আগে প্রস্তাবিত ১০ জনের নাম জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে কিনা তা নিয়ে সার্চ কমিটির শনিবারের বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে। এ নিয়ে মিশ্র মত থাকলেও অধিকাংশ মনে করেন, আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের (সার্চ কমিটি) তালিকা পাঠাতে হবে। এই তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশের প্রয়োজন হলে সেই বিষয়ে রাষ্ট্রপতি সিদ্ধান্ত দেবেন। প্রয়োজন হলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সেটি করবে।

তবে রাষ্ট্রপতির কাছে তালিকা পাঠানোর আগে তা জনসমক্ষে প্রকাশের জন্য দাবি জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনসহ কয়েকটি বেসরকারি সংগঠন। তাদের দাবি, তালিকা প্রকাশ হলে সাধারণ মানুষ সার্চ কমিটির তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের অতীত ও বর্তমান কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা সুযোগ পাবে। নিয়োগের পর এ নিয়ে বিতর্কের সুযোগ থাকবে না। 
বানিগাজীতে পুড়ে যাওয়া বসতঘর পরিদর্শনে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা ও সিলেট জেলা পুলিশ

বানিগাজীতে পুড়ে যাওয়া বসতঘর পরিদর্শনে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা ও সিলেট জেলা পুলিশ



গোলাপগঞ্জের বানিগাজীতে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া সেই বসতঘর পরিদর্শন করেছেন গোলাপগঞ্জ মডেল থানা এবং সিলেট জেলা পুলিশের মোবিলাইজেশন কন্টিনজেন্ট এর অফিসার ফোর্স। মঙ্গলবার রাত ১১টায় গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের এসআই মোফাখখারুল ইসলামের নেতৃত্বে তারা পুড়ে যাওয়া ঘর পরিদর্শন করেন।

এসময় অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত ঘর পরিদর্শন করে এসআই মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, পুড়ে যাওয়া ঘরের ধ্বংসাবশেষ দেখে আমি গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছি। ঘরটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি ঘরের স্বত্বাধিকারীদের সাথে কথা বলে তাদের প্রতি সহানুভূতি জানান।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বানিগাজী গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী আব্দুল ফয়েজ মাস্টার এবং বুধবারীবাজার ইউনিয়ন যুবলীগের কোষাধ্যক্ষ ও পূবালী ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল হামিদের যৌথ ঘরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় যৌথঘরের ৬টি রুমই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

এছাড়া, অগ্নিকাণ্ডের সময় আগুনের ব্যাপকতায় পার্শ্ববর্তী আব্দুল মুহিতের বসতঘরেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে আব্দুল মুহিতের বসতঘরেও আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

এ দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়া বসতঘরের প্রায় ১৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে, হঠাৎ করে এমন দুর্ঘটনায় একমাত্র বসতভিটা হারিয়ে একদম নিঃস্ব হয়ে গেছেন ফয়েজ মাস্টার এবং আব্দুল হামিদের পরিবার। তারা সরকারের বিশেষ সহযোগিতা কামনা করেন।

এছাড়া হঠাৎ করে নিঃস্ব হওয়া পরিবার দুটিকে সরকারী-বেসরকারি পর্যায়ের সহযোগিতার প্রয়োজন বলেও মনে করেন সমাজের সচেতন মহল।
গোলাপগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ মটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত

গোলাপগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ মটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত

প্রতীকী ছবি

গোলাপগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ মটরসাইকেল আরোহী যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।  

মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপজেলা পরিষদের সামনের ঢাকাদক্ষিণ-গোলাপগঞ্জ সড়কে এ ঘটনাটি। তাৎক্ষণিক আহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি। তবে এই তিন যুবকের বিয়ানীবাজার উপজেলায় বলে জানা গেছে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলা পরিষদের সামনের ঢাকাদক্ষিণ-গোলাপগঞ্জ সড়কে নতুন কালভার্ট নির্মাণে পুরনো কালভার্ট ভেঙ্গে একটি বড় গর্ত খুড়া হয়েছে। যানবাহন চলাচলের জন্য রাস্তার সাইটে একটি রাস্তা মাটি ভরাট করে তৈরী করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে গোলাপগঞ্জ থেকে আসা একটি দ্রুত গতির মটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণে হারিয়ে এই গর্তের মধ্যেই পড়ে যায়। এতে মটরসাইকেলে থাকা ৩ জন আরোহী গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রেরণ করা হলে অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। 
 
সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জুয়েল আহমদ নামের এক স্থানীয় ব্যবসায়ী। তিনি জানান, মটরসাইকেলের যে যুবক চালাচ্ছিল তার অবস্থা বেশি আশংকাজনক। 


সূত্রঃ জিভয়েস২৪
 কুলাউড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে পথশিশুর পা বিচ্ছিন্ন

কুলাউড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে পথশিশুর পা বিচ্ছিন্ন

কুলাউড়া রেলস্টেশনে চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের চাকায় কাটা পড়ে ডান পা হারিয়েছে ১০ বছরের এক পথশিশু। মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। ওই শিশুটি স্টেশন এলাকায় থাকে। তাৎক্ষণিক তার নাম জানা যায়নি। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে কুলাউড়া রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার মুহিব উদ্দিন আহমদ জানান, মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি কুলাউড়া রেলস্টেশনে ঢুকছিল। এ সময় রেললাইনে রাখা একটি বোতল কুড়াতে যায় ওই পথশিশুটি। স্টেশনে ট্রেন ঢুকায় লোকজন চিৎকার-চেঁচামেচি করে বাধা দিলেও বোতলটি কুড়াতে গিয়ে পথশিশুটির ডান পা ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে যায়। 

পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে সিলেট হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

Monday, 21 February 2022

কাল থেকে খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

কাল থেকে খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

ফাইল ছবি

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমে আসায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি)। আগামীকাল থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হচ্ছে।

তবে বেশ কিছু নিয়ম মানতে হবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কীভাবে চলবে এ বিষয়ে গাইডলাইন প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ ২০ নির্দেশনা দিয়ে একটি আদেশ জারি করেন।

নির্দেশনাগুলো হলো-

১. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যে সকল শিক্ষার্থী কোডিড-১৯ টিকার ২য় ডোজ গ্রহণ করেছে সে সকল শিক্ষার্থী সশরীরে শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবে।

২. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশমুখসহ অন্যান্য স্থানে কোডিড-১৯ অতিমারি সম্পর্কিত সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে করণীয় বিষয়সমূহ ব্যানার বা অন্য কোনো উপায়ে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা।

৩. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশ পথে সকল শিক্ষক-কর্মচারী-শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্রের মাধ্যমে নিয়মিত তাপমাত্রা মাপা ও তা পর্যবেক্ষণ করার ব্যবস্থা করা।

৪. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি বিবেচনায় অনলাইন-ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে শিখন-শেখানো কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

৫. শিক্ষার্থীদের জন্য বিতরণকৃত অ্যাসাইনমেন্টসমূহের কার্যক্রম যথারীতি অব্যাহত থাকবে।

৬. শিক্ষার্থীদের ক্লাস রুটিন ইতোপূর্বে প্রেরিত নির্দেশনা মোতাবেক প্রণয়ন করতে হবে।

৭. শিক্ষার্থীদের ভিড় এড়ানোর জন্য প্রতিষ্ঠানের সবগুলো প্রবেশ-প্রস্থান মুখ ব্যবহার করার ব্যবস্থা করা। যদি কেবল একটি প্রবেশ-প্রস্থান মুখ থাকে সেক্ষেত্রে একাধিক প্রবেশ-প্রস্থান মুখের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা।

৮. প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের আনন্দঘন পরিবেশে শ্রেণি কার্যক্রমে স্বাগত জানানোর ব্যবস্থা করা।

৯.প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিন শিক্ষার্থীরা কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করবে এবং বাসা থেকে যাওয়া-আসা করবে সেই বিষয়ে তাদেরকে শিক্ষণীয় ও উদ্বুদ্ধকারী ব্রিফিং প্রদান করার ব্যবস্থা করা।

১০. প্রতিষ্ঠানের একটি কক্ষ প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ আইসোলেশন কক্ষ হিসেবে প্রস্তুত রাখা।

১১. প্রতিষ্ঠানের সকল ভবনের কক্ষ, বারান্দা, সিঁড়ি, ছাদ এবং আঙিনা যথাযথভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার ব্যবস্থা করা।

১২. প্রতিষ্ঠানের সকল ওয়াশরুম নিয়মিত সঠিকভাবে পরিষ্কার রাখা এবং পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা রাখা।

১৩. প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী, অভিভাবকসহ অন্য কেউ প্রবেশ-অবস্থান-প্রস্থানের সময় সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালন করা।

১৪. প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারী এবং অন্য কেউ সঠিকভাবে মাস্ক পরিধান করার বিষয়টি নিশ্চিত করা।

১৫. প্রতিষ্ঠানে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দ্বারা হাত ধোয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা।

১৬. শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বসার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা। এক্ষেত্রে পারস্পরিক ৩ (তিন) ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যবস্থা করা।

১৭. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ, ড্রেন ও বাগান যথাযথভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং কোথাও পানি জমে না থাকে তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা।

১৮. প্রতিষ্ঠানসমূহে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির সংখ্যা নিরূপণ করা।

১৯. প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে আনন্দঘন শিখন কার্যক্রমের মাধ্যমে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত করা।

২০. প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকদের সঙ্গে সভা করে এ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

প্রসঙ্গত, করোনা বেড়ে যাওয়ায় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গত ২১ জানুয়ারি থেকে বন্ধ আছে। এই ছুটি ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

উল্লেখ্য, দেশে প্রথমবার করোনা সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে দেড় বছর পর ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেওয়া হয় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও চালু হয়। 
ইউক্রেন সীমান্তে পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করল রাশিয়া'

ইউক্রেন সীমান্তে পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করল রাশিয়া'


রোস্তভ প্রদেশের ইউক্রেন সীমান্ত দিয়ে রাশিয়ার প্রবেশ করার চেষ্টা করা ইউক্রেন সেনাবাহিনীর একটি দলকে ঠেকিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে রাশিয়া। 

রাশিয়ার গণমাধ্যম ইন্টারফ্যাক্স দেশটির সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, নাশকতা করতে রাশিয়ায় প্রবেশের চেষ্টা চালায়  ইউক্রেনের সেনাদের একটি দল।  তাদের ঠেকাতে গুলি ছোড়া হয়। এ ঘটনায় ইউক্রেনের পাঁচ অনুপ্রবেশকারী নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে রাশিয়ার দক্ষিণ ফেডারেল বিভাগ।  

এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস বিবৃতি দিয়ে দাবি করেছিল, দক্ষিণ-পূর্ব রোস্তভ প্রদেশের সীমান্তে থাকা তাদের একটি স্থাপনা ইউক্রেনের গোলাবর্ষণে পুরোপুরি ধসে পড়েছে।  যেখানে হামলা চালানো হয়েছে সেখান থেকে ১৫০ মিটার দূরে ইউক্রেনের সীমান্ত। 

তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দুটি ঘটনাই মিথ্যা বলে দাবি করা হয়েছে।  দেশটির পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, রাশিয়ায় নাশকতা চালাতে ইউক্রেনে কোনো দল যায়নি। 

তাছাড়া ইউক্রেনের সেনাবাহিনী কোনো গোলা ছোড়েনি। 

এদিকে রোস্তভের এ ঘটনাকে বেশ গুরুতর মনে করা হচ্ছে।  কারণ রাশিয়ার সেনাবাহিনী সরাসরি ইউক্রেনকে দায়ি করেছে। এর আগে রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এরকম অভিযোগ করে আসছিল। 


সূত্র: আলজাজিরা, ইন্টারফ্যাক্স 
রায়হানের পর সিলেটে ফের পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগঃ যুবকের মৃত্যু

রায়হানের পর সিলেটে ফের পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগঃ যুবকের মৃত্যু


সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের নির্যাতনে এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ ওঠেছে। এমন অভিযোগ তুলে সড়ক অবরোধ করেছে এলাকাবাসী।

মারা যাওয়া যুবকের নাম উজির মিয়া (৪০)। তার বাড়ি উপজেলার শত্রুমর্দন গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত কাঁচা মিয়ার ছেলে।

সোমবার সকালে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান উজির মিয়া। এর পর দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পাগলাবাজার এলাকায় স্থানীয় লোকজন সড়কে লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন এলাকাবাসী।

সেখানে তার লাশ রেখে এলাকাবাসী বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এসময় রাস্তায় নামে স্থানীয় হাজারো মানুষ।

মরদেহ সড়কে রেখে সড়ক অবরোধের কারণে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। অবরোধস্থল স্থানীয় পাগলাবাজার এলাকার উভয় পাশে সড়কে দীর্ঘ প্রায় ১০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়।

এদিকে অবরোধকারীদের শান্ত করতে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ারুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে তোপের মুখে পড়েন। পরে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তিনি।

এসময় ইউএনওর গাড়ি লাশের ওপর দিয়ে চলে গেছে- এমন কথা প্রচার হলে স্থানীয় জনতা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। যদিও এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

এলাকাবাসী প্রতিবাদ সমাবেশে বলেন, ৯ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাতে শান্তিগঞ্জ উপজেলার শত্রুমর্দন গ্রামের উজির মিয়াকে থানার এসআই দেবাশীষ, এসআই প্লাটন কুমার সিংহ ও এএসআই আক্তারুজ্জান তাকে নিজ বাড়ি থেকে সন্দেহজনক আটক করে থানায় নিয়ে যায়। থানায় নিয়ে তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়।

পরের দিন বুধবার তাকে সুনামগঞ্জ আদালতে নিয়ে যাওয়া হলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরে গুরুতর আহত উজির মিয়াকে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে এবং সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
 
মৃত উজির মিয়ার ছোট ভাই ডালিম মিয়া জানান, তার ভাইকে পুলিশ ধরে নিয়ে থানায় নির্যাতন করে। পরদিন তাকে একটি চুরির মামলায় আদালতে পাঠালে জামিনে মুক্ত হন। এরপর থেকে উজির মিয়া গুরুতর অসুস্থ হন। এ অবস্থায় সোমবার সকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।

উজির মিয়ার ভাতিজা ছাত্রলীগ কর্মী ইমরান বলেন, আমার চাচাকে চুরি মামলা দিয়ে আটক করে থানা হাজতে নিয়ে নির্মমভাবে মারধর করেছে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে শান্তিগঞ্জ থানাকে নির্যাতনের কথা জানাই। তারা বিষয়টি দেখি দেখছি করতে আমার চাচার মৃত্যু হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, শান্তিগঞ্জ থানার এসআই দেবাশীষ ও এসআই প্লাটন কুমার সিংহ  তার চাচার ওপর অমানবিকভাবে নির্যাতন করেছেন। চাচা জামিন পেয়ে পরিবারের কাছে পুলিশি নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন।

উজির মিয়ার পরিবার ও তার স্বজনরা এ ঘটনায় শান্তিগঞ্জ থানার এসআই আলাউদ্দিন, এসআই দেবাশীষ, এসআই প্লাটন কুমার সিংহের বিচারের দাবি জানান। অবরোধ চলাকালে স্থানীয়রা এসব পুলিশ অফিসারদের গ্রেফতারেরও দাবি জানান।

অবরোধ-বিক্ষোভের খবর খবর পেয়ে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাঈদ ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার-উল-হালিম ঘটনাস্থলে যান। তাদের হস্তক্ষেপে বিকাল ৫টার দিকে বিক্ষুব্ধ লোকজন সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

এদিকে উজির মিয়ার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণের জন্য নেওয়ার সময় তার সুরতহাল সবার সামনে করার দাবি জানান বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। পরে সবার সামনে তার সুরতহাল করা হয় বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা  জানিয়েছেন, উজির মিয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনে চিহ্ন রয়েছে- যা তারা ভিডিও করে রেখেছেন।

এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মুক্তাদীর হোসেনের বক্তব্যের জন্য তার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাঈদ ঘটনাস্থলে গিয়ে বলেন, ওই ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিচার হবে। লাশের ময়নাতদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শান্তিগঞ্জের ইউএনও আনোয়ারুজ্জামান বলেন, উজির মিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করে। তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য ওখানে গিয়েছিলাম আমি। লোকজন আমার ওপর চড়াও হলে আমি দ্রুত ওখান থেকে চলে আসি। আমার গাড়ি লাশের ওপর দিয়ে আসেনি।

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, আসামিকে আটক করা হয়েছিল ৯ ফেব্রুয়ারি। একদিন হাজতে রেখে পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি চলে যান। এরপর কোনো একদিন হয়তো তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। শুনেছি আজকে সকালে নাকি তার মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ও তাদের অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাঈদ ঘটনাস্থলে গেছেন। তিনি না আসা পর্যন্ত এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলতে পারছি না।