Thursday, 31 March 2022

সুবর্ণজয়ন্তীর স্বাধীনতা প্রাপ্তি ও প্রত্যাশাঃ মো. আব্দুল মালিক

সুবর্ণজয়ন্তীর স্বাধীনতা প্রাপ্তি ও প্রত্যাশাঃ মো. আব্দুল মালিক



সুবর্ণজয়ন্তীর স্বাধীনতা প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা
মো. আব্দুল মালিক

দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে জন্ম নেয় পাকিস্তান। এতে বিভাজিত হয় বাঙালি জাতির ভৌগলিক সীমানা। ব্রিটিশ উপনিবেশের কড়াই থেকে পূর্ববাংলার বাঙালি জনগোষ্ঠী গিয়ে পড়ে পশ্চিম পাকিস্তানি ভূস্বামীদের নব্যউপনিবেশে, জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে। যা মেনে নিতে পারেনি সচেতন বাঙালি সমাজ। বিজাতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন ও জাতিসত্তার অস্তিত্বের প্রশ্নে দ্বন্দ্বের পরিণতি হিসেবে মাতৃভাষার অধিকারের বিষয়টি সামনে চলে আসে। জাতীয় পরিষদে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবির ভেতর দিয়ে বাঙালির জাতীয় চেতনার উন্মেষ শুরু করেন। রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে জিন্নাহর উর্দুর ঘোষণা বাঙালি জাতিকে জাগিয়ে তোলে। আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে ছাত্র—শিক্ষক—সচেতন সমাজ। বায়ান্নতে রক্ত ঝরে রাজপথে। বাঙালির জাতীয় মুক্তি আন্দোলন সুস্পষ্ট গতিপথ অর্জন করে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তখন উপনিবেশবিরোধী আন্দোলন এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়েছে। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের প্রভাবে দ্রুত বিশ্বের উপনিবেশ ব্যবস্থার পতন ও স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার হিড়িক পড়ে যায়। আর তারই আলোয় আলোকিত অগ্রসর বাঙালি সমাজ পশ্চিম পাকিস্তানি শাসন—শোষণের বিরুদ্ধে প্রগতিশীল চিন্তাচেতনা ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নেয়। তাদের চিন্তায়, কর্মে ও লেখনীতে মূর্ত হয়ে ওঠে মুক্তচিন্তার দ্যুতি। একটি শোষণ, বঞ্চনাহীন অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের স্বপ্নে বিভোর বুদ্ধিজীবী মহল মুক্তি সংগ্রামের তাত্ত্বিক পথপ্রদর্শক হয়ে ওঠেন। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের চেতনার স্ফুলিঙ্গকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিয়ে ধারাবাহিক আন্দোলনে অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠেন তাঁরা। তাঁদের প্রতিটি কর্ম, কবিতা, গল্প, নাটক, স্লোগান, প্রবন্ধ সাগরমুখী নদীর মতো একমুখী হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রভাষা বাংলা ও জাতিসত্তার অস্তিত্বের জন্য চাই স্বাধীনতা। তাইতো পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ ধারাবাহিক আন্দোলন করে আসছিলেন। যার গৌরবময় অধ্যায় ১৯৫২—এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪—এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৬—এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন, ১৯৬২—এর শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ এর ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯—এর গণ—অভ্যুত্থান “১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচণ ও ১৯৭১—এর মুক্তিযুদ্ধ। আমাদের জাতীয় জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায় হচ্ছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, যার মধ্য দিয়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ, একটি নতুন মানচিত্র। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জায়গা করে নেওয়া রুপকথার গল্পের মতো রোমাঞ্চকর কোন গল্প ছিলো না। এর সাথে যেমন জড়িয়ে আছে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর নির্মম অত্যাচার ও নিপীড়নের কালো অধ্যায়, তেমনি রয়েছে বীর বাঙালির সশস্ত্র সংগ্রাম ও প্রতিবাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। আমাদের স্বাধীনতার জন্য ত্রিশ লক্ষ মানুষকে শহীদ হতে হয়েছে, সম্ভ্রম হারাতে হয়েছে অগণিত মা বোনকে। রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল আমাদের সবুজ শ্যামল প্রান্তর। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমাদের আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ। 

স্বাধীনতার মাস মার্চ। বাঙালি জাতির জন্য সবচেয়ে বেদনা ও আনন্দের এ মাস। তার চেয়েও বড় কথা আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পরবর্তী স্বাধীনতার মাস। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি রাষ্ট্রকে যখন ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল, ঠিক তখনই স্বাধীনতা বিরোধী, পরাজিত শক্তি বাঙালির স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে বাংলাদেশকে অন্ধকারে ঠেলে দিতে চেয়েছিল, কিন্তু  তাদের সে চক্রান্ত সফল হয়নি। বিগত পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশ এগিয়েছে অনেক। একসময় যে দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলে উপহাস করা হতো, সেই বাংলাদেশ আজ এশিয়া তথা বিশ্বে একটি সম্ভাবনাময় দেশ। ১৯৭১ সালে সদ্য স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশের মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকার বার্ষিক বাজেট আজ পরিণত হয়েছে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেটে। সেদিনের ১২৯ ডলার মাথাপিছু আয়ের দেশটিতে বর্তমান মাথাপিছু আয় ২৫৯১ ডলারে উন্নীত হয়েছে। সময় পেরিয়েছে, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও এগিয়েছে। আমাদের বৃদ্ধি এবং প্রবৃদ্ধির সময়ও প্রত্যাশার সঙ্গে সংগতি রেখেই ঊর্ধ্বগতি পেয়েছে। মাথাপিছু আয়, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ, দেশজ উৎপাদন ও বৈদেশিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও ব্যবহার এবং সম্পদ উৎপাদন ও আহরণ দৃশ্যমান হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, সে কথা নির্মোহভাবেই বলা যায়। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪২তম এবং এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ১৩তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকারে গত দুই যুগে সিঙ্গাপুর ও হংকংকে ছাড়িয়ে আজকের অবস্থানে উঠেছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাপী মহামারির কারণে যেখানে দেশে দেশে প্রবৃদ্ধির গতি ব্যাহত হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে জাতিসংঘের স্বীকৃতি লাভ করেছে এবং মধ্যম আয়ের দেশে পদার্পণ করেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রতিবেদন মতে, গত দেড় যুগে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচনের অগ্রগতি তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু রোধ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সামাজিক সূচকে উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। শ্রমশক্তিতে কর্মক্ষম মানুষের অংশগ্রহণ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বেশি। দেশে সাক্ষরতার হার ৭৪.৭ শতাংশ। সরকার এসডিজি এবং জাতীয় অঙ্গীকারের ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে চলেছে। যার মধ্যে সাক্ষরতা বিস্তার, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বিগত কয়েক বছরে জনগণের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৭২.৮ বছর। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে  ঝরে পড়ার হার কমে যাওয়ায় শিক্ষার হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের ১০০% মানুষ এখন বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে বলে সরকার সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন। আইসিটি খাতে রপ্তানি বিষয়টি অবাস্তব মনে হলেও ২০২১ সালে আইসিটি খাত থেকে আয় হবে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। অন্যান্য রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রেমিট্যান্স আয় ২৪.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। খাদ্যে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে অনেক আগেই। ২০২১ সালে দেশের খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিলো ৪ কোটি মেট্রিক টন। ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে চতুর্থ। দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৪৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছ। ২০১৮—১৯ অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ ছিলো ৩৬০ কোটি ডলার, যা উন্নয়নের আরেক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। ২০২০—২১ সালে অতিমারির কারণে যা কিছুটা কমেছে। গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে রাজধানীতে ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মেট্রোরেল স্থাপন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা ১৬টি স্টেশনে ঘণ্টায় প্রায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা রাখবে। বাঙালির স্বপ্নের ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু’র কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে, যা নিজস্ব বাজেটেই সম্পন্ন হচ্ছে। বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ মহাকাশে ‘বঙ্গবন্ধু—১’ স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মতে, লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ। যেকোনো সময় জরুরি ভিত্তিতে সেবা পেতে আধুনিক বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও চালু হয়েছে ‘৯৯৯’ কল সেবা। এছাড়া জনগণের সেবাদানে অন্যান্য কল সেবাগুলো চালু হয়েছে; দুদক, নারী নির্যাতন বা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, সরকারি তথ্যসেবা, স্বাস্থ্য বাতায়ন, দুর্যোগের আগাম বার্তা, জাতীয় পরিচয়পত্র তথ্য ও মানবাধিকার সহায়ক কল সেন্টার। 

এসব তথ্য—উপাত্তের ভিত্তিতে বলা যায়, একটি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবেই পালন করছেন। তবে বাস্তবিক অর্থে একটি দেশের প্রকৃত সমৃদ্ধি বা অগ্রগতি নির্ভর করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামকের ওপর। যেমন জনগণের জীবনযাত্রার বাস্তব রূপ, ব্যক্তিগত ও সামাজিক নিরাপত্তা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, জীবনমুখী—কর্মকেন্দ্রিক মানসম্মত শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও গবেষণা, কর্মসংস্থান প্রভৃতি বিষয়গুলো উন্নয়নের প্রকৃত চিত্র প্রদর্শন করে।

স্বাধীনতার অর্ধশতক পরে একদিকে যেমন মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে অন্যদিকে সমাজে শ্রেণিবৈষম্য বেড়েছে। প্রবৃদ্ধির ঊর্ধ্বগতি কিংবা মাথাপিছু আয় অর্থনৈতিক সক্ষমতার সূচক হলেও আধুনিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থার প্রভাবে বাংলাদেশে ও ধনী—দরিদ্রের ব্যবধান বেড়েছে, বেড়েছে সামাজিক অস্থিশীলতা এবং নিরাপত্তাহীনতা। দেশের আর্থিক খাতের দুটি দুষ্ট ক্ষত হলো খেলাপি ঋণ ও অর্থ পাচার। এ দুটির মধ্যে আবার পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী ২০২১ সালে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা। অর্থ পাচার রোধে দেশে শাস্তির বিধান থাকা সত্ত্বেও কেন এ পাচার বন্ধ হচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। বস্তুত, দুর্নীতি বেড়েছে বলেই অর্থ পাচারের হারও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এসব দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিরা, সরকার ও রাজনীতির ঘনিষ্ঠ সহযোগী।

এছাড়াও বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক পরিবেশসহ বেশকিছু ক্ষেত্রে এখনও সমস্যা রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পরম লক্ষ্য ছিলো গণতন্ত্র, জনগণের মৌলিক অধিকার, বাক, ব্যক্তি, সংবাদমাধ্যম ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করা। এসবকে ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেই আপামর জনসাধারণ সেদিন অস্ত্র হাতে শত্রুর মোকাবেলায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো। বিগত পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশ যতদূর এগিয়েছে তা নিঃসন্দেহে পরম গৌরব ও আনন্দের। তবে দুর্নীতি রোধ, মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন, বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ, উচ্চশিক্ষাকে গবেষণামুখী করা একটি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রত্যাশা উপর্যুক্ত সমস্যাগুলি মোকাবিলা করে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার পাশাপাশি আগামীতে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশে^ নেতৃত্ব দিবে। 

Wednesday, 30 March 2022

গোলাপগঞ্জের চন্দরপুরে ডাকাতদের হাত থেকে ২টি সিএনজি উদ্ধার

গোলাপগঞ্জের চন্দরপুরে ডাকাতদের হাত থেকে ২টি সিএনজি উদ্ধার


গোলাপগঞ্জের চন্দরপুরে ডাকাতদের হাত থেকে ২টি সিএনজি চালিত অটোরিক্সা আটক করেছে স্থানীয় জনতা। বুধবার (৩০ মার্চ) ফজরের কিছু পূর্বে চন্দরপুর সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে অটোরিক্সা দুটি আটক করা হয়। পরে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশে খবর দিলে অটোরিক্সা দুটি থানায় নিয়ে আসা হয়।

জানা যায়, রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে বিয়ানীবাজারের দিকে থেকে সিলেট নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে চন্দরপুর সিএনজি স্ট্যান্ডে গাড়ি দুটি (সুমন পরিবহন ১- মৌলভীবাজার থ ১২-০৫৮০ এবং অপরটি তাহমিদ & তামিম পরিবহন) নিয়ে আসে ডাকাতরা। এখানে এসে একটি গাড়ির স্টার্ট বন্ধ হয়ে গেলে স্থানীয় ব্যবসায়ী জায়দুল ইসলামকে দেখতে পেয়ে সহযোগিতার অনুরোধ জানায় তারা। এসময় জায়দুল ইসলাম লক্ষ্য করেন গাড়িটির স্টার্টিং তার কেটে গাড়িটিকে চালানো হয়েছে। পরে আরেক ব্যবসায়ী সুহেদ আহমদকে ডাকেন জায়দুল ইসলাম। এসময় জায়দুল ইসলামের বিচক্ষণতা টের পেয়ে গাড়ি দুটি ফেলে রেখেই পালিয়ে যায় ডাকাতরা। তবে অজ্ঞাত এ ডাকাতদের চিনতে পারেননি তিনি।

পরে স্থানীয় জনতা জড়ো হয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে গাড়ি দুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গোলাপগঞ্জ মডেল থানার এসআই ফয়জুল করিম। তিনি জানান, স্থানীয় ব্যবসায়ীর বিচক্ষণতায় গাড়ি দুটি ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ডাকাতরা। পরে গাড়ি দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গাড়ি দুটির মালিক খোঁজা হচ্ছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Tuesday, 29 March 2022

স্বপ্নে এসে বারবার ধর্ষণ!

স্বপ্নে এসে বারবার ধর্ষণ!


স্বপ্নে নাকি বারবার ধর্ষণ করেছেন তান্ত্রিক! এবার এই অভিযোগ নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হলেন এক মহিলা। কয়েক মাস আগে ওই মহিলার ছেলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। আর এরপরই ছেলেকে নিয়ে তান্ত্রিক প্রশান্ত চতুর্বেদীর কাছে যান ওই মহিলা।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের বিহারের অরঙ্গাবাদ জেলার কুডওয়া থানা এলাকায়। খবর- আজকাল'র।

ছেলেকে নিয়ে গেলে ওই তান্ত্রিক বেশ কিছু মন্ত্র পড়তে এবং আচার মেনে চলার নির্দেশ দেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। ১৫ দিন পর এই ছেলেটির মৃত্যু হয়। তারপর ওই তান্ত্রিকের কাছে গিয়ে ছেলের মৃত্যুর কারণ জানতে চান ওই মহিলা। অভিযোগ, সেদিনই তাকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করেছিলেন ওই তান্ত্রিক। কিন্তু কোনও প্রকারে রক্ষা পান তিনি।

মহিলার অভিযোগ করে বলেন, এরপর থেকেই তান্ত্রিক আমার স্বপ্নে এসেছেন এবং বারবার ধর্ষণ করছেন। পুলিশে অভিযোগ জানানোর পর ওই তান্ত্রিকের খোঁজ করা হয়।

তান্ত্রিককে খুঁজে পাওয়ার পর এ বিষয়ে তিনি বলেন, অভিযোগকারী মহিলাকে আমি চিনি না। কখনো দেখিনি।

তিনি আরও বলেন, উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ না থাকায় ওই তান্ত্রিককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।  

সূত্রঃ ডিবিসি নিউজ
উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ দমনে বর্তমান সরকার সাফল্য অর্জন করেছেঃ ইউএনও গোলাম কবীর

উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ দমনে বর্তমান সরকার সাফল্য অর্জন করেছেঃ ইউএনও গোলাম কবীর


 গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধিঃ গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ গোলাম কবীর বলেছেন, সহিংসতা, উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ দমনে বর্তমান সরকার সাফল্য অর্জন করেছে। কারো ধর্মানুভূতিতে আঘাত করে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে সরকার সব সময় কঠোর।ধর্মের সঠিক শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে সচেতনা সৃষ্টি করে উগ্রবাদী ও সমাজবিরোধীদের সহিংসতার পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে।তিনি গতকাল মঙ্গলবার বেসরকারি সংস্থা আইডিয়া আয়োজিত সেনসিটাইজেশন ওয়ার্কশপের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এশিয়া ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় আয়োজিত ওয়ার্কশপে সভাপতিত্ব করেন  গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (প্রশাসন) মোঃ হারুনুর রশীদ চৌধুরী। সহিংসতা উগ্রবাদ প্রতিরোধে স্থানীয়, ধর্মীয় এবং আদিবাসী নেতৃবৃন্দের সাথে সেনসিটাইজেশন ওয়ার্কশপে ফেসিলেটর ছিলেন বেসরকারি সংস্থা আইডিয়ার সুদীপ্ত চৌধুরী, এশিয়া ফাউন্ডেশনের হামিদুল হক ও পিস প্রকল্পের রুজিনা বেগম।সমাপনী অধিবেশনে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ নুরুল হক,মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অভিজিৎ কুমার পাল, যুব উন্নয়ন অফিসার মোঃ আব্দুল আহাদ, গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ আহমদ চৌধুরী, কৈলাশ শাহনূর আলিয়া মাদ্রাসার সুপার মাওলানা এনামুল হক,সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, গোলাম দস্তগীর খান ছামিন প্রমুখ। 
জেলা বিএনপির নবনির্বাচিত সম্পাদক এমরান চৌধুরীকে কামিল তালুকদারের অভিনন্দন

জেলা বিএনপির নবনির্বাচিত সম্পাদক এমরান চৌধুরীকে কামিল তালুকদারের অভিনন্দন


সিলেট জেলা বিএনপির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এড. এমরান আহমদ চৌধুরীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ঢাকাদক্ষিণ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক কামিল তালুকদার।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক শুভেচ্ছা বার্তায় এ অভিনন্দন জানান তিনি। বার্তায় তিনি এমরান চৌধুরী-সহ নবনির্বাচিত সকল নেতৃবৃন্দের প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।

এর আগে মঙ্গলবার দিনব্যাপী সিলেটের ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রারি মাঠে জেলা বিএনপির কাউন্সিল ও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমাবেশ শেষে ২য় অধিবেশনে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। যা চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। এরপর শুরু হয় গণনা। গণনা শেষে সভাপতি পদে আব্দুল কাইয়ুম এবং সাধারণ সম্পাদক পদে এড. এমরান আহমদ চৌধুরীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

বেলা দেড়টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ পরবর্তী গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল গফফার।

তিনি বলেন, সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ৮৬৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল কাহের শামীম পেয়েছেন ৬৭৫ ভোট।  

সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী এমরান আহমদ চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ৭৯৮ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আলী আহমদ পেয়েছেন ৫৭৪ ভোট। এছাড়া অপর দুই প্রার্থী আফম কামাল ৭২ ও আব্দুল মান্নান ৮১ ভোট।  

এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ৬২৩ ভোট পেয়ে শামীম আহমদ নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী মুজিবুর রহমান পেয়েছেন ৪৬৮ ভোট। এছাড়া লোকমান আহমদ পেয়েছেন ৪৩৯ ভোট।  

সম্মেলন পরবর্তী কাউন্সিলররা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে শীর্ষ ৩টি পদে নেতৃত্ব নির্বাচন করেন।

এর আগে, সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।  

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, মোট ১ হাজার ৮১৮ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ হাজার ৫৬০ জন।
সিলেট জেলা বিএনপির সম্পাদক হওয়ায় এমরান চৌধুরীকে জায়দুল ইসলাম শিপু'র অভিনন্দন

সিলেট জেলা বিএনপির সম্পাদক হওয়ায় এমরান চৌধুরীকে জায়দুল ইসলাম শিপু'র অভিনন্দন


সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় এড. এমরান আহমদ চৌধুরীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক জায়দুল ইসলাম শিপু ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এ অভিনন্দন জানান। শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি লিখেন, একজন যোগ্য নেতা হিসেবেই এড. এমরান আহমদ চৌধুরীকে নেতাকর্মীরা নির্বাচিত করেছেন। আশা করি তাঁর হাত ধরেই সিলেট জেলা বিএনপি নিজস্ব গতি ফিরে পাবে।

এসময় তিনি নির্বাচিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দের প্রতিও প্রাণঢালা অভিনন্দন জানান। 

এর আগে মঙ্গলবার দিনব্যাপী সিলেটের ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রারি মাঠে জেলা বিএনপির কাউন্সিল ও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমাবেশ শেষে ২য় অধিবেশনে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। যা চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। এরপর শুরু হয় গণনা। গণনা শেষে সভাপতি পদে আব্দুল কাইয়ুম এবং সাধারণ সম্পাদক পদে এড. এমরান আহমদ চৌধুরীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

বেলা দেড়টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ পরবর্তী গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল গফফার।

তিনি বলেন, সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ৮৬৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল কাহের শামীম পেয়েছেন ৬৭৫ ভোট।  

সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী এমরান আহমদ চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ৭৯৮ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আলী আহমদ পেয়েছেন ৫৭৪ ভোট। এছাড়া অপর দুই প্রার্থী আফম কামাল ৭২ ও আব্দুল মান্নান ৮১ ভোট।  

এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ৬২৩ ভোট পেয়ে শামীম আহমদ নির্বাচিত হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী মুজিবুর রহমান পেয়েছেন ৪৬৮ ভোট। এছাড়া লোকমান আহমদ পেয়েছেন ৪৩৯ ভোট।  

সম্মেলন পরবর্তী কাউন্সিলররা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে শীর্ষ ৩টি পদে নেতৃত্ব নির্বাচন করেন।

এর আগে, সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।  

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, মোট ১ হাজার ৮১৮ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ হাজার ৫৬০ জন।
সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ যুক্তরাজ্য'র উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত

সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ যুক্তরাজ্য'র উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত


মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ যুক্তরাজ্য এর উদ্যোগে আলোচনা সভা ও কবিতাপাঠ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৮ মার্চ) ইস্ট লন্ডনের হেনবারি স্ট্রিটস্থ একটি হলে কবি আতাউর রহমান মিলাদের সভাপতিত্বে এবং এ কে এম আব্দুল্লাহর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় শুরুতে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সকল শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে একমিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আলোচনা সভায় উপস্থিত সকলে স্বধীনতা সময়কার ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করেন। 

দ্বিতীয় পর্বে ছিল কবিতাপাঠ। প্রথমে মহান স্বাধীনতা নিয়ে কবিতা পাঠ শুরু করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে কবিতায় তুমুল আড্ডা জমে। এসময় একের পর এক কবিতা পাঠ করতে থাকেন সকলে। কবিতাপাঠের এই তুমুল আড্ডায় অংশ নেন গবেষক ফারুক আহমেদ, কবি মিলটন রহমান, কবি ইকবাল হোসেন বুল বুল, কবি মোসাইদ খান, কবি শামীম আহমদ, লেখক আনোয়ার শাহজাহান, ছড়াকার হিলাল সাইফ, কবি জুয়েল রাজ, কবি মুহাম্মদ মুহিদ, কবি আতাউর রহমান মিলাদ, এ কে এম আব্দুল্লাহ প্রমূখ।