কবি এ.কে.এম আব্দুল্লাহ’র জন্মদিন আজ



গোলাপগঞ্জের কুশিয়ারা পাড়ের কৃতি সন্তান, যুক্তরাজ্য প্রবাসী, কবি ও সাহিত্যিক এ.কে.এম আব্দুল্লাহ’র জন্মদিন আজ। ১৯৭০ সালের এই দিনে গোলাপগঞ্জের বুধবারীবাজার ইউনিয়নের বনগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কবি এ.কে.এম আব্দুল্লাহ। তাঁর পিতা মরহুম ক্বারী মোহাম্মদ ছুরাব আলী, মাতা মরহুমা ফাতিরা খাতুন। তিনভাই ও তিন বোনের মধ্যে কনিষ্ঠ সন্তান তিনি।


কবি ও কথা সাহিত্যিক এ কে এম আব্দুল্লাহ ১৯৯২সাল থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বসবাস করছেন। প্রবাসী এ কবি, গদ্যকার  দীর্ঘদিন থেকে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করলেও নিজেকে বাংলা সাহিত্য চর্চায় নিয়োজিত রেখেছেন নিয়মিত। বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর লেখা কবিতা,উপন্যাস ও গল্পগ্রন্থ। রয়েছে বেশ কিছু যৌথ প্রকাশনা। ইংরেজিতে অনুবাদ কবিতা প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন সংকলনে।  এছাড়াও তিনি সফলভাবে সম্পাদনা করছেন অণুগল্প সংকলন ‘শব্দবিন্দু’ ও ড্যাশ-অনলাইন ম্যাগাজিনসহ বিভিন্ন লিটলম্যাগ। এ কে এম আব্দুল্লাহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পত্রিকা, অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা , সাহিত্য ব্লগ, লিটলম্যাগসহ বিভিন্ন মাধ্যমে লিখে চলেছেন নিয়মিত।


কবির শিক্ষা জীবনঃ
কবি এ কে এম আব্দুল্লাহর লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয় বাড়ির পাশের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন শেষে তিনি স্থানীয় আল-এমদাদ হাইস্কুল এন্ড কলেজে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করেন। এরপর সিলেট এম সি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। 

সাহিত্য চর্চায় কবিঃ
কবি এ কে এম আব্দুল্লাহ কিশোর বয়সে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়াকালীন থেকেই লেখা-লেখি শুরু করেন। তবে মধ্যে কিছুটা বিরতি শেষে প্রবাসে পাড়ি জমানোর পর শত ব্যস্ততায়ও নিজেকে সাহিত্য চর্চায় আবার নিয়োজিত করেন। তাঁর অসাধারণ লেখনীতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে হয়েছেন ব্যাপক সমাদৃত। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পেয়েছেন বেশ কিছু সম্মাননা পুরষ্কারও।

তাঁর প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ — যে শহরে হারিয়ে ফেলেছি করোটি, ইমেল বডিতে সময়ের অনুবাদ, উপন্যাস ক্ষুধা ও সৌন্দর্য এবং টি ব্রেকের গল্প গল্পগ্রন্থ পাঠক মহলে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। একইসাথে পাঠকের কাছে হয়েছে ব্যাপক প্রশংসিত। তাঁর লেখায় সমাজে ঘটেযাওয়া নানা ঘটনা তার উপলব্দিতে বাস্তবতাবোধের এক শৈল্পিক রুপ যেনো প্রকাশিত হয়। এ কে এম আব্দুল্লাহ’র লেখা পাঠকমনের খোরাক মিটিয়ে আনন্দ, চেতনাবোধ ও অনুপ্রাণিত করে তুলেছে পাঠকের মন। 

তাছাড়া তাঁর লেখা বইগুলোর উপর বেশ কিছু চমৎকার পাঠপ্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়েছে জনপ্রিয় জাতীয় পত্রিকা ইত্তেফাক,দৈনিক জনকণ্ঠ, সিলেট বেতার, চ্যানেল আই অনলাইন, সাহিত্যবার্তা, কুশিয়ারা নিউজ,জলধি-সহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়।

গ্রন্থাবলীঃ
এ কে এম আব্দুল্লাহ’র প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে “ইমেইল বডিতে সময়ের অনুবাদ, সচেতনা, হৃদয়ে রক্তক্ষরণ, মাটির মাচায় দণ্ডিত প্রজাপতি, যে শহরে হারিয়ে ফেলেছি করোটি” প্রভৃতি।

তাঁর লেখা উপন্যাসসমূহের মধ্যে রয়েছে – ক্ষুধা ও সৌন্দর্য।
গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'টি ব্রেকের গল্প'। 

সম্পাদনাঃ
কবি এ কে এম আব্দুল্লাহর সম্পাদনা ও প্রকাশনায় বাংলা ও ইংরেজি উভয় সংস্করণে ড্যাশ ওয়েব ম্যাগ ডটকম নামের একটি অনলাইন ম্যাগাজিন সাহিত্য অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। যা মাসিক সংকলন নিয়ে অল্পদিনের মধ্যেই সাহিত্য অঙ্গনে সমাদৃত হতে সক্ষম হয়েছে। তাছাড়া কবি এ কে এম আব্দুল্লাহ সম্পাদনা করেন অণুগল্প সংকলন শব্দবিন্দু। 

সংগঠকঃ
এ কে এম আব্দুল্লাহ একজন সফল সংগঠক হিসেবেও বেশ সুনাম অর্জন করেছেন। তিনি প্রতাষ্ঠা করেছেন কবিতাস্বজন, পয়েট্রি ক্লাব ইউকে। সংহতি সাহিত্য পরিষদ,সম্মিলিত সাহিত্য পরিষদসহ বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠনের সাথেও রয়েছেন সম্পৃক্ত। বর্তমানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ ইউকে-এর কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।

এছাড়া তিনি শিক্ষার উন্নয়নের জন্য গঠিত সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে আল এমদাদ হাইস্কুল ও কলেজ এডুকেশন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

পুরস্কারঃ
কবি তাঁর অসাধারণ লেখনীর জন্য ব্যাপক সমাদৃত হয়েছেন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে। পেয়েছেন বেশ কিছু সম্মাননা পুরস্কার ও স্বর্ণ মেডেল। ২০১৯ইং সালের ০৩ জানুয়ারি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত শান্তিনিকেতনের সৎসংঘ পাঠাগারের পক্ষ থেকে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা দশটি বইয়ের লেখককে সম্মাননা এওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এসময় বাংলাদেশের দুইজন লেখককে মনোনীত করে শান্তিনিকেতন সৎসংঘ পাঠাগার। এরমধ্যে কবি এ কে এম আব্দুল্লাহর লেখা কবিতাগ্রন্থ 'যে শহরে হারিয়ে ফেলেছি করোটি' বইটিকে সেরা মনোনীত করে কবিকে সম্মাননা এওয়ার্ডে ভূষিত করে শান্তিনিকেতন সৎসংঘ পাঠাগার। এছাড়া পেয়েছেন ভারতের রাজস্হানের ড.শ্যাম সুন্দর মেমোরিয়াল ট্রাস্টের (শতবছর পূর্তি পালন উপলক্ষে) পক্ষ থেকে ২৫ হাজার রুপি ও একটি স্বর্ণ মেডেল পুরস্কার। উল্লেখ্য এই সংগঠন প্রতিবছর সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদানের জন্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সাহিত্যিকদের এ পুরষ্কার দিয়ে থাকে। এছাড়া কবি আব্দুল্লাহ সাহিত্যেও পেয়েছেন বেশ কিছু সম্মাননা পুরষ্কার। কবির এ প্রাপ্তিতে যোগ হোক নতুন মাত্রা। জন্মদিনে কুশিয়ারা নিউজ পরিবারের পক্ষ থেকে কবির প্রতি অজস্র শুভেচ্ছা।