Monday, 7 June 2021

১৩ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকার সম্পূরক বাজেট পাস

১৩ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকার সম্পূরক বাজেট পাস


১৩ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকার সম্পূরক বাজেট সংসদে পাস হয়েছে। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য এ বাজেট  পাস হয়।

সোমবার (৭ জুন) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ‘নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) বিল-২০২১’ উত্থাপন করেন। পরে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। আগামী ৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া অর্থবছরের কার্যক্রম নির্বাহের জন্য সংযুক্ত তহবিল থেকে মঞ্জুরিকৃত অর্থের বেশি বরাদ্দ ও নির্দিষ্টকরণের কর্তৃত্ব প্রদানের জন্য এ সম্পূরক বিল আনা হয়।

বরাদ্দকৃত ব্যয়ের চাইতে কোনো মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যয় বৃদ্ধি হলে বা বরাদ্দকৃত টাকা খরচ করতে না পারলে তা অনুমোদন করতে যে বিল পাস করা হয় বা নতুন যে বরাদ্দ দেয়া হয়, তাই মূলত সম্পূরক বিল।

এর আগে সম্পূরক বাজেটের ওপর সরকারি ও বিরোধীদলের সদস্যরা আলোচনা করেন। এ সময় সবচেয়ে বেশি সমালোচনার মুখে পড়তে হয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে। প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম প্রশ্নে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র এমপিদের নানান প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। উঠে আসে স্বাস্থ্যখাতের নানান অনিয়ম, দুর্নীতিও। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক এ বিষয়ে কোনো উত্তর দেননি।

সম্পূরক বাজেটের উপর বিরোধীদল জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও গণফোরামের ১১ জন সংসদ সদস্য ১৯০টি ছাঁটাই প্রস্তাব দেন। তবে সেগুলো কণ্ঠভোটে বাতিল হয়। ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো দিয়েছেন জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম, কাজী ফিরোজ রশীদ, মুজিবুল হক চুন্নু, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, লিয়াকত হোসেন খোকা, রওশন আরা মান্নান, বিএনপির হারুনুর রশীদ, রুমিন ফারহানা, মোশারফ হোসেন, গণফেরামের মোকাব্বির খান, স্বতন্ত্র রেজাউল করিম বাবলু।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের ১৯টি মঞ্জুরি দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সম্পূরক বাজেটটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। ছাঁটাই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। বিদায়ী অর্থবছরের মূল বাজেটে ৬২টি মন্ত্রণালয়/বিভাগের অনুকূলে পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। সংশোধিত বাজেটে ১৯টি মন্ত্রণালয়/বিভাগের বরাদ্দ ১৩ হাজার ৯৮৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৪৩টি মন্ত্রণালয়/বিভাগের বরাদ্দ ৪২ হাজার ৪৮১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা হ্রাস পেয়েছে। সার্বিকভাবে ২৯ হাজার ১৭ কোটি টাকা হ্রাস পেয়ে সংশোধিত বরাদ্দ নিট দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা।

সম্পূরক বাজেটে স্থানীয় সরকার বিভাগ সর্বোচ্চ দুই হাজার ৮৯০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। ১২৬টি চলমান এবং ৩১টি নতুন প্রকল্পে অর্থের সংস্থান করায় এ অতিরিক্ত বরাদ্দ পাচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। আর সবচেয়ে কম ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ। এ বিভাগের ১২টি চলমান প্রকল্পের অর্থের জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ দরকার।

২০২০-২১ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। মহামারির সঙ্কটে সেই গতিপথ ঠিক থাকেনি। সংশোধনে তা ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩ জুন জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের সাধারণ বাজেট পেশ হয়। একই সাথে পেশ হয় চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট।

হেফাজতের নতুন কমিটি থেকে মামুনুল বাদ

হেফাজতের নতুন কমিটি থেকে মামুনুল বাদ


কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন বিলুপ্ত কমিটির যুগ্মমহাসচিব আলোচিত নেতা মামুনুল হক।

মামুনুল হককে কমিটি থেকে বাদ দিয়ে  সোমবার (৭ জুন) রাজধানীর খিলগাঁও চৌরাস্তায় মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়।

কমিটিতে জুনায়েদ বাবুনগরীকে আমির ও নুরুল ইসলাম জিহাদীকে মহাসচিব করে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করে হেফাজতে ইসলাম।

এছাড়াও এই কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন বিলুপ্ত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী সহ অনেকেই।

আরও পড়ুন: হেফাজতের নতুন কমিটি ঘোষণা

আগের কমিটিতে শায়খুল হাদিস আজিজুল হকের ছেলে মামুনুল হক হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব পদ ছাড়াও ছিলেন ঢাকা মহানগর কমিটির সেক্রেটারি। গত নভেম্বরে এক ধর্মীয় সভায় রাজধানীর ধোলাইখাল থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অপসারণের হুমকি দিয়ে আলোচনায় আসেন মামুনুল।

গত ২৮ মার্চ হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতাল চলাকালে সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় গাড়ি ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ করে ব্যাপক সহিংসতা সৃষ্টি করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা তিন মামলায় প্রধান আসামি করা হয় মামুনুল হককে। এরপর ৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টে তার নারী কেলেংকারি ইস্যুতে ভাঙচুর ও নাশকতার আরো দুইটি মামলায়ও প্রধান আসামি মামুনুল হক।

এছাড়া, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা ও ধর্ষণের অভিযোগে গত ৩০ এপ্রিল মামুনুলের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় ধর্ষণ মামলা করেন তার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণা।

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে গত ১৮ এপ্রিল রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

২০১০ সালে হেফাজতে ইসলাম নামের সংগঠনটি গড়ে তোলেন কওমী মাদরাসাকেন্দ্রিক ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব শাহ আহমদ শফী।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর আহমদ শফী মারা যান। এরপর ১৫ নভেম্বর প্রতিনিধি সম্মেলন করে হেফাজতে ইসলামের ১৫১ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আমির নির্বাচিত হন আগের কমিটির মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরী। আর নতুন মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছিলেন নূর হোসাইন কাসেমী, যিনি গত ১৩ ডিসেম্বর মারা যান।

হেফাজতের নতুন কমিটি ঘোষণা

হেফাজতের নতুন কমিটি ঘোষণা



কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। জুনায়েদ বাবুনগরীকে আমির ও নুরুল ইসলাম জিহাদীকে মহাসচিব করে ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটি গঠন করা হয়। সোমবার (৭ জুন) সকাল ১১ টায় রাজধানীর খিলগাঁও চৌরাস্তায় মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ কমিটির ঘোষণা দেয়া হয়।

নব গঠিত এ কমিটিতে বাদ পড়েছেন বিলুপ্ত কমিটির যুগ্মমহাসচিব মামুনুল হক ও সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী-সহ অনেকেই। বিতর্কিত হওয়ায় তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। 

কমিটিতে নায়েবে আমির হিসেবে রাখা হয়েছে ৯ জনকে। তারা হলেন- মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী, মাওলানা মুহিব্বুল হক (সিলেট) ও মাওলানা উবায়দুর রহমান মাহবুবসহ (বরিশাল), মাওলানা আবদুল হক (ময়মনসিংহ), মাওলানা ইয়াহইয়া (হাটহাজারী মাদরাসা), মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস (ফরিদাবাদ মাদরাসা), মাওলানা তাজুল ইসলাম ও মাওলানা মুফতী জসিমুদ্দীন (হাটহাজারী মাদরাসা)।

যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে নাম রয়েছে ৫ জনের। তারা হলেন- মাওলানা সাজেদুর রহমান (বি-বাড়িয়া), মাওলানা আবদুল আউয়াল (নারায়নগঞ্জ), মাওলানা লোকমান হাকীম (চট্টগ্রাম), মাওলানা আনোয়ারুল করীম (যশোর) ও মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী।

সহকারী মহাসচিব হিসেবে আছেন মাওলানা জহুরুল ইসলাম ও মাওলানা ইউসুফ মাদানী। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মাওলানা মীর ইদ্রিস (চট্টগ্রাম), অর্থ সম্পাদক হিসেবে মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ আলী (মেখল) ও সহ-অর্থ সম্পাদক হিসেবে আছেন মাওলানা মুফতী হাবিবুর রহমান কাসেমী (নাজিরহাট)।

প্রচার সম্পাদক করা হয়েছে মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানীকে (সাভার) এবং সহ-প্রচার সম্পাদক করা হয়েছে মাওলানা জামাল উদ্দীনকে (কুড়িগ্রাম)। দাওয়া বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আছেন মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সোবহানী (উত্তরা) এবং সহকারী দাওয়া হিসেবে আছেন মাওলানা ওরম ফারুক (নোয়াখালী)।

এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে ৯ জনকে। তারা হলেন- মাওলানা মোবারাকুল্লাহ (বি.বাড়িয়া), মাওলানা ফয়জুল্লাহ (মাদানীনগর), মাওলানা ফোরকানুল্লাহ খলিল (চট্টগ্রাম), মাওলানা মোশতাক আহমদ (খুলনা), মাওলানা রশিদ আহমদ (কিশোরগঞ্জ), মাওলানা আনাস (ভোলা), মাওলানা মাহমুদুল হাসান (ফতেহপুরী) এবং মাওলানা মাহমুদুল আলম (পঞ্চগড়)।

কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন- সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, নাছির উদ্দিন মুনির, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, কেন্দ্রীয় নেতা জাকারিয়া নোমান ফয়জী, খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, হাসান জামিল, মুফতি হারুন ইজহারসহ নানা ইস্যুতে বিতর্কে জড়িয়ে পড়া হেফাজতের নেতারা।

একইভাবে আল্লামা আহমদ শফীর হত্যা মামলার অভিযুক্ত নেতাদেরও বাদ দেওয়া হয়েছে কমিটি থেকে। এছাড়া সদ্য বিলুপ্ত কমিটিতে একক আধিপত্য বিস্তারকারী ‘রাবেতা’ ও ‘জমিয়ত’ সিন্ডিকেটও ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের ১৫ নভেম্বর জুনায়েদ বাবুনগরীকে আমির করে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট হেফাজতের কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেখানে হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানীসহ শফী অনুসারী কাউকে রাখা হয়নি। 

Sunday, 6 June 2021

এবারও খুলছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: খোলার দাবিতে সিলেটে বিক্ষোভ

এবারও খুলছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: খোলার দাবিতে সিলেটে বিক্ষোভ



শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ১৩ জুন থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার আশাবাদ জানালেও করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারও তা সম্ভব হচ্ছে না।

দীর্ঘ ১বছর ধরে টানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

এরই প্রেক্ষিতে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ট্যাক্স বাতিলের দাবিতে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে সিলেটের শিক্ষার্থীরা। 

রোববার (৬ জুন) দুপুরে সিলেটের চৌহাট্টায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচি চলাকালে বক্তারা বলেন, সারা দেশে করোনা পরিস্থিতির অজুহাতে দীর্ঘ ১৫ মাস যাবৎ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। হাট বাজার, অফিস আদালত, শপিংমল সবকিছুই চালু অথচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সরকারের এই সতর্কতার বাণী কার্যত অথর্বতায় পরিণত হয়েছে। গত ১৫ মাসে কোনো সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা না করে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রত্যেকবার ছুটি বাড়িয়েছে। যা ক্রমশই শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে ধ্বংস করছে।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় ছাত্রদের অসংগঠিত অবস্থার সুযোগ নিয়ে এবার প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর ১৫% ট্যাক্সের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিগত সময়েও বারবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর করের বোঝা চাপানোর চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে তা ব্যর্থ হয়েছে। অথচ এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর বিগত সময়ের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণ ট্যাক্স প্রস্তাব করা হয়েছে। যা নানা কৌশলে ছাত্রদের কাছ থেকে আদায় করা হবে। 

বক্তারা জানান, সরকার ক্যাম্পাস বন্ধ রেখে বিভিন্ন সময় ছাত্রদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বললেও এক্ষেত্রে ছাত্রদের আর্থিক সুরক্ষার দিকটি বিবেচনা করেনি। ফলে এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে, অনির্দিষ্টকাল ধরে ক্যাম্পাস বন্ধ রাখা কোনভাবেই ছাত্রদের স্বার্থে নয় বরং ছাত্রদের ওপর বিভিন্ন অন্যায় অন্যায্য সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার স্বার্থেই করা হচ্ছে। আবার এটি শুধু বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়। আজ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর যেভাবে অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপানো হল, সেরকম নানা অন্যায় সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতেও অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপর চাপানো হতে পারে। ফলে আমরা বাধ্য হয়ে ‘ট্যাক্স নয়, ক্লাস চাই’ এই দাবিতে রাস্তায় নেমেছি।

এসময় বক্তব্য রাখেন এমসি কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুর রহিম, শাবিপ্রবি শিক্ষার্থী সাত্ত্বিক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল নেত্রী তানজিনা বেগম, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মনীষা ওয়াহিদ, মদন মোহন কলেজের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা, মেট্রোপলিটনের শিক্ষার্থী তারেক চৌধুরী, সিলেট সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী কাজী পলাশ, জুমায়েল বক্স প্রমুখ।
দুই বছর ধরে ওই নারীকে ধর্ষণ করছিলেন মামুনুল: নারায়ণগঞ্জের এসপি

দুই বছর ধরে ওই নারীকে ধর্ষণ করছিলেন মামুনুল: নারায়ণগঞ্জের এসপি


নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হক শরিয়ত মোতাবেক বিয়ে করার বিষয়ে কোনো তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণাদি দিতে পারেননি।

এমনকি, কোন কাজি তাঁর বিয়ে পড়িয়েছেন, সেটিও তিনি সঠিকভাবে বলতে পারেননি।

রোববার (০৬ জুন) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন তিনি। নারায়ণগঞ্জে নাশকতা ও ধর্ষণের অভিযোগে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে দায়ের করা ছয়টি মামলায় আঠারো দিনের রিমান্ড শেষে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার।   

পুলিশ সুপার আরোও জানান, ‘মামুনুল যেগুলো বলেছেন, সেগুলো বাস্তবিক অর্থে কোনো বিয়ে নয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে যেটা আছে, কাউকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক করা ধর্ষণের আইনের মধ্যে পড়ে। মামুনুল দুই বছর ধরে ওই নারীকে ধর্ষণ করে আসছেন।’

পুলিশ সুপার আরও জানান, ‘ধর্ষণের যে অভিযোগ ওই নারী করেছেন, সেটির প্রাথমিকভাবে প্রমাণ আমরা পেয়েছি। আমরা আশা করছি, ওই নারী সুবিচার পাবেন। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের যে সময় আছে, ওই সময়ের মধ্যে আমরা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারব বলে আশা করছি।’

মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মামুনুলের বিরুদ্ধে করা ছয়টি মামলা থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও পিবিআই পৃথকভাবে তদন্ত করছে। সবগুলো মামলায় তিনদিন করে ১৮দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মামুনুল হক বেশকিছু চাঞ্চল্যকর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন এবং তা যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।

এর আগে, শনিবার ১৮দিনের রিমান্ড শেষে মামুনুল হককে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাওছার আহমেদের আদালতে সশরীরে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালতের নির্দেশে পুলিশ তাকে গাজীপুরের কাসিমপুর কারাগারে ফেরত পাঠান।

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসীর মৃত্যু

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসীর মৃত্যু

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় এক প্রবাসী নিহত হয়েছেন। শনিবার (০৫ জুন) সৌদি সময় দিনগত রাত ২টায় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ব্রিজের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ঐ প্রবাসীর মৃত্যু হয়। নিহত ওই প্রবাসীর নাম সাইফুল ইসলাম রিপন (২৯)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের বড় ভাই শাহজাহান ইসলাম শিপন। 

নিহত রিপন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভা ৭নম্বর ওয়ার্ডের আতাউদ্দিন মাঝির বাড়ির আবু নাছেরের ছেলে।

নিহতের বড় ভাই আরও জানান, তার ছোট ভাই ৫ বছর আগে সৌদি আরবে যান। সে সেখানে নিজের গাড়িতে করে বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ করত। শনিবার দিনগত রাত ২টার দিকে দোকানের মালামাল ডেলিভারি দিয়ে আল নেওয়াজ থেকে দামাম আসার পথে আল নেওয়াজ সড়কে তার গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ব্রিজের সাথে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। 

গ্রাম থেকে শহর সারাদেশে মিলবে একদামে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট

গ্রাম থেকে শহর সারাদেশে মিলবে একদামে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট


এবার গ্রাম থেকে শহর- সারাদেশে মিলবে একদামে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা। রাজধানী ঢাকা হোক, আর দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সিলেট হোক, অথবা কোনো ইউনিয়ন হোক- ইন্টারনেট সেবাদাতাদের একই দামে সংযোগ দিতে হবে সারা দেশে একই দামে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নির্ধারণ করে দিচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। নির্ধারিত দামের কম নেওয়া যাবে, বেশি নয়।

বিটিআরসি এই কর্মসূচির নাম দিয়েছে ‘এক দেশ, এক রেট’। ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সূত্রে জানা গেছে, ‘এক দেশ, এক রেটের’ আওতায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য তিনটি প্যাকেজ থাকবে। এই প্যাকেজগুলোর দাম আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি বিটিআরসি।

সূত্র জানিয়েছে, প্রথম প্যাকেজের মূল্য হতে পারে মাসে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা, গতি হবে ৫ এমবিপিএস (মেগাবাইট পার সেকেন্ড)। দ্বিতীয় প্যাকেজের মূল্য হতে পারে মাসিক ৮০০ টাকার মধ্যে, এর গতি হবে ১০ এমবিপিএস এবং তৃতীয় প্যাকেজের গতি হতে পারে ২০ এমবিপিএস, দাম হবে মাসিক ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে।

ইন্টারনেট সেবাদাতারা বলছেন, এই দাম কার্যকর হলে ঢাকায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের দাম প্যাকেজ প্রতি মাসে ১০০ থেকে ২০০ টাকা কমবে। তবে বেশি সুফল পাবেন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা। ঢাকা ও চট্টগ্রামে ব্যান্ডউইডথ সঞ্চালনের ব্যয় কম বলে ইন্টারনেট সেবার দাম কম রাখতে পারে সেবাদানকারীরা। ব্যান্ডউইডথ ইউনিয়ন পর্যন্ত নিতে ব্যয় অনেক বেশি। এ কারণে সেখানে দামও বেশি রাখা হয়।

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের গ্রাম এলাকায় ইন্টারনেটে আউটসোর্সিংয়ের কাজ করেন তরুণ উদ্যোক্তা বেলাল সরকার। তিনি এখন ২৫ এমবিপিএস গতির একটি সংযোগ ব্যবহার করেন মাসে আড়াই হাজার টাকা দিয়ে। আরেকটি বিকল্প সংযোগের পেছনে তাঁর মাসিক ব্যয় এক হাজার টাকা, যেখানে দুই এমবিপিএসের বেশি গতি পাওয়া যায় না বলে জানান তিনি।

বেলাল সরকার বলেন, যদি ১ হাজার ২০০ টাকায় ২০ এমবিপিএস গতি পাওয়া যায়, সেটা হবে খুব ভালো খবর। এতে ইন্টারনেটে আউটসোর্সিংয়ের কাজ করা উদ্যোক্তাদের ব্যয় কমবে। সাধারণ মানুষও উপকৃত হবে। তিনি বলেন, অনেক সময় দেখা যায়, গতির কথা যেটা বলা থাকে, সেটা পাওয়া যায় না। আবার প্রতিশ্রুত গতি দেওয়া হয় ‘ক্যাশ’ সার্ভার থেকে। কিন্তু আউটসোর্সিংয়ে সব ধরনের সার্ভারে একই গতি দরকার।

বিটিআরসির হিসাবে, দেশে গত মার্চ শেষে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সংযোগ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৮ লাখ। করোনাকালে এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এক বছর আগেও সংযোগ সংখ্যা ১৮ লাখ কম ছিল। ইন্টারনেট সেবাদাতাদের দাবি, একটি সংযোগের বিপরীতে অন্তত চারজন ব্যবহারকারী রয়েছেন। ওদিকে মোবাইল অপারেটরদের তারহীন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ কোটি ৫৬ লাখ। উল্লেখ্য, সর্বশেষ ৯০ দিনে একবার ইন্টারনেটে প্রবেশ করলেই তাঁকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ধরা হয়।

করোনাকালে দেশে ইন্টারনেটের প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই বেড়েছে। পড়াশোনা, ঘরে বসে অফিসের কাজ করা এবং বিনোদনের জন্য ইন্টারনেট নির্ভরতা তৈরি হয়েছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন ও শহরের সুবিধা গ্রামে পৌঁছে দেওয়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার উল্লেখ করে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, শহরে মানুষ একরকম দামে ইন্টারনেট পাবে, হাওরে-পাহাড়ে আরেক দামে পাবে, এটা হতে পারে না। তিনি বলেন, ইন্টারনেট হলো ডিজিটাল যুগের মহাসড়ক। গ্রামের মানুষকে সেই মহাসড়কে যুক্ত করতে ইউনিয়নগুলোকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের আওতায় আনা হচ্ছে এবং ইন্টারনেটের ‘এক দেশ, এক রেট’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বিটিআরসি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) প্রায় ১ হাজার ১০০ ইউনিয়নে ফাইবার অপটিক কেব্‌ল সংযোগ স্থাপন করেছে। অন্যদিকে ইনফো সরকার-৩ প্রকল্পের মাধ্যমে জনগণের অর্থে ২ হাজার ৬০০ ইউনিয়নকে ফাইবার অপটিক কেব্‌ল সংযোগের আওতায় আনা হয়েছে। দেশে ইউনিয়নের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮৮। টেলিযোগাযোগমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের মধ্যে সব ইউনিয়ন ফাইবার অপটিক কেবলের আওতায় আসবে।

ইন্টারনেটের তুলনামূলক দামের হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপনকারী যুক্তরাজ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট কেব্‌লডটইউকে-তে দেখা যায়, বাংলাদেশ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের দামের দিক দিয়ে বিশ্বে ৫৮তম। মানে হলো, ৫৭টি দেশে দাম বাংলাদেশের চেয়েও কম। এ দেশে মাসে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগের গড় দাম ৩১ ডলারের কিছু বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৬০০ টাকা। ভারতে একই দর ১৪ ডলারের নিচে।

ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবির সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক বলেন, ব্যান্ডউইডথ সঞ্চালনের ব্যয় কমাতে পারলে তৃণমূলে কম মূল্যে ইন্টারনেট সেবা দেওয়া সম্ভব। যদি দেখা যায়, সঞ্চালন ব্যয় বেশি পড়ছে, তাহলে কারও পক্ষে কম দামে দেওয়া সম্ভব হবে না। নতুন দাম বেঁধে দেওয়ার পর মান ঠিক থাকবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, গতি গ্রাহক বুঝে নেবেন। কেউ নির্ধারিত দামের বাড়তি বিক্রি করতে পারবে না।