Wednesday, 30 June 2021

নববধূকে কাঁধে নিয়েই উত্তাল নদী পেরোলেন স্বামী

নববধূকে কাঁধে নিয়েই উত্তাল নদী পেরোলেন স্বামী


ডেস্ক নিউজ:: হাতে হাত রেখে একসঙ্গে চলার অঙ্গীকার নিয়ে বসেছিলেন বিয়ের পিঁড়িতে। বিপদে-আপদে একসঙ্গে থাকবেন, দিয়েছিলেন সেই প্রতিশ্রুতিও। মাত্র কয়েকঘণ্টার মধ্যেই তেমন পরীক্ষার মুখোমুখি হন নবদম্পতি।

বলা হচ্ছে ভারতের বিহার রাজ্যের কিষাণগঞ্জের বাসিন্দা শিবকুমারের কথা। সোমবার (২৯ জুন) তার বিয়ে হয় নেপাল সীমান্তের সিংহীমারি গ্রামের মেয়ে সুনীতার সঙ্গে। পরদিন (মঙ্গলবার) নববধূকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হন তিনি।

এরই মধ্যে ওই এলাকায় শুরু হয় তুমুল বৃষ্টি। বেড়ে যায় গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে চলা পাহাড়ি নদীর স্রোত। নববধূর হাতে হাত রেখে শিবকুমার ঘাটে পৌঁছালে মাঝি জানায়, এই খরস্রোতে নৌকা টানা অসম্ভব। কিন্তু নবদম্পতির তো ফেরার উপায় নেই! সদ্য বিবাহিত শিবকুমার তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্ত নিলেন, স্ত্রীকে কাঁধে নিয়েই নদী পার হবেন।

স্ত্রীকে কাঁধে তুলে স্রোত ভেঙে এগোতে লাগলেন শিবকুমার। লক্ষ্য, পার হওয়ার মতো জায়গা খুঁজে বার করা। তখনও পরনে বিয়ের শেরোয়ানি। পায়ে নতুন জুতা। নতুন বৌ সুনীতার পরনে বিয়ের জোড়। হাতবোঝাই চুড়ি ঝুনঝুন করছে চলার তালে তালে। তিনি আর বাধা দেবেন কী!

এভাবে চলতে চলতে চলতে শেষে মিলল নদীর স্রোতা। সেখানে এক কিলোমিটার চওড়া নদীর স্রোতও তুলনায় কম। সেই পানি ঠেলে একসময় তারা গিয়ে ওঠেন বাড়ির কাছে। হইহই করে ওঠে আগে থেকেই খবর পেয়ে পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন।

নদীর বিপদের কথা কিন্তু শিবকুমারের অজানা ছিল না। তিনি বলেন, ‘নদীর গতিপ্রকৃতি ভাল না। কখন কী হবে, কেউ জানে না।’ এ কথা জেনেও স্ত্রীকে কাঁধে নিয়ে পার হলেন কেন? জবাবে সলজ্জ হাসেন নতুন বর। বরযাত্রীরা তখন বলে ওঠেন, ‘ছেলে তো বিয়ের পর প্রথমদিনই বাজিমাত করে দিলো!’

লাজুক হাসি তখন সুনীতার মুখেও।

পারলেন কী করে এতটা পথ নতুন বৌকে কাঁধে করে নিয়ে আসতে? স্রোত ভেঙে হাঁটতে অসুবিধা হল না? মুখে হাল্কা হাসি। ২৬ বছর বয়সী শিবকুমার বলেন, ‘লজ্জা লাগছিল। কিন্তু উপায় তো ছিল না। পানির স্রোত বাড়ছে দেখে মাঝি না করে দিল। আমরা কি তাহলে নদী পেরিয়ে বাড়ি যাব না?’

জাতীয় সংসদে বাজেট পাস

জাতীয় সংসদে বাজেট পাস


নির্দি'ষ্টকরণ বিল পাসের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট পাস হয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার সংসদ অধিবেশন এ বাজেট পাস হয়। 

অর্থ'মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল পাসের প্রস্তাব করলে কণ্ঠ'ভোটে তা পাস হয়। এরপর সংসদে উপস্থিত সবাই টেবিল চাপড়ে অর্থম'ন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এর আগে ৩ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এরপর প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সংসদ অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনা হয়।

বাজেট পাসের পর বুধবারই রা'ষ্ট্রপতি তাতে সম্মতি দেবেন। পরদিন ১ জুলাই নতুন অর্থবছর থেকে তা বাস্তবায়ন ‍শুরু হবে।

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের, জাতীয় পার্টির (জেপি) সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং অর্থ'মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার বাজেট আলোচনা শেষ হয়।

এবারের বাজেটে প্রাধিকার পেয়েছে দেশের প্রা'ন্তিক জনগোষ্ঠী। বাজেটটি করা হয়েছে সরকারের অতীতের অর্জন এবং উদ্ভূত বর্তমান পরিস্থিতির সমন্বয়ে। বাজেটে সঙ্গত কারণেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে স্বাস্থ্য খাতকে। 

পাশাপাশি কোভিড-১৯ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজসমূহের বাস্তবায়ন, কৃষি খাত, খাদ্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনাকে অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। 

২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে মোট ব্যয়ের আকার ধরা হয়েছে ছয় লাখ তিন হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এটি মোট জিডিপির ১৭ দশমিক পাঁচ শতাংশ। পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে তিন লাখ ৭৮ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে দুই লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা।

পরীমনিকে ধর্ষণ চেষ্টায় গ্রেফতার অমি ৩ দিনের রিমান্ডে

পরীমনিকে ধর্ষণ চেষ্টায় গ্রেফতার অমি ৩ দিনের রিমান্ডে


পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যা'চেষ্টায় গ্রেফতার তার সহকারী তুহিন সিদ্দিকী অমিকে মানবপাচার ও পাসপো'র্ট আইনের পৃথক দুই মামলায় ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জু'র করেছেন আদালত।

বুধবার শুনানি শেষে ঢাকার পৃথক দুই মেট্রো'পলিটন ম্যাজিস্ট্রে'ট এ রিমান্ড মঞ্জু'র করেন। দুই মামলার তদ'ন্ত কর্মকর্তা তাকে দশ দিন করে মোট বিশ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন।

আর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে রিমান্ডের আদেশ দেন। 

গত ১৪ জুন দুপুরে রাজধানীর উত্তরা-১ নম্ব'র সেক্ট'রের-১২ নম্ব'র রোডের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এর আগে মঙ্গলবার পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যা'চেষ্টার মামলায় ব্যবসায়ী নাসিরউদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমির জামিন মঞ্জু'র করেন আদালত। 

এর আগে গত ২৩ জুন চিফ জুডিশিয়াল ম্যা'জিস্ট্রে'ট আদালত দুই আসামির পাঁচ দিন করে রিমা'ন্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।

গত ১৪ জুন ধর্ষ'ণ-হত্যা'চেষ্টা'র অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন ও তার বন্ধু অমির নাম উল্লেখ করে আরও চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করে পরীমনি সাভার থানায় মামলা করেন।

১৫ জুন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তার বন্ধু অমিসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় করা মাদক মামলায় সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ‘গত ৮ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার বনানীর বাসা থেকে কস্টিউম ডিজাইনার জিমি (৩০), অমি (৪০) ও বনিসহ (২০) দু’টি গাড়িতে করে তারা উত্তরার উদ্দেশে রওনা হন। পথে অমি বলে বেড়িবাঁধের ঢাকা বোট ক্লাবে তার দুই মিনিটের কাজ আছে।’

‘অমির কথামতো তারা সবাই রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা বোট ক্লাবের সামনে গিয়ে গাড়ি দাঁড় করায়। কিন্তু বোট ক্লাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অমি কোনো এক ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে কথা বলে। তখন ঢাকা বোট ক্লাবের সিকিউরিটি গার্ডরা গেট খুলে দেয়। অমি ক্লাবের ভেতরে গিয়ে বলে এখানকার পরিবেশ অনেক সুন্দর, তোমরা নামলে নামতে পার।’

এজাহারে পরীমনি আরও বলেন, ‘তখন আমার ছোট বোন বনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বোট ক্লাবে প্রবেশ করে ও বারের কাছের টয়লেট ব্যবহার করে। টয়লেট থেকে বের হতেই এক নম্বর বিবাদী নাসির উদ্দিন মাহমুদ আমাদের ডেকে বারের ভেতরে বসার অনুরোধ করেন এবং কফি খাওয়ার প্রস্তাব দেন। আমরা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলে অমিসহ এক নম্বর আসামি মদপানের জন্য জোর করেন। আমি মদপান করতে না চাইলে এক নম্বর আসামি জোর করে আমার মুখে মদের বোতল প্রবেশ করিয়ে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। এতে আমি সামনের দাঁতে ও ঠোঁটে আঘাত পাই।’

‘এক নম্বর আসামি (নাসির উদ্দিন মাহমুদ) আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং আমার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করেন ও আমাকে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তিনি উত্তেজিত হয়ে টেবিলে থাকা গ্লাস ও মদের বোতল ভাঙচুর করে আমার গায়ে ছুড়ে মারেন। তখন কস্টিউম ডিজাইনার জিমি নাসির উদ্দিন মাহমুদকে বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করে জখম করেন।’

এর আগে গত ১৩ জুন রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসে ধর্ষণ-হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে বিচার চান পরীমনি। এরপর বিষয়টি নিয়ে রাতে সংবাদ সম্মেলন করেন।

বিনা কারণে বাইরে বের হলেই গ্রেপ্তার করে মামলা

বিনা কারণে বাইরে বের হলেই গ্রেপ্তার করে মামলা


সারাদেশে করোনার বিস্তার রোধে বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে ৭ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ (সর্বাত্মক লকডাউন) আরোপ করেছে সরকার। এ সময় অনুমোদিত কারণের বাইরে কেউ রাস্তায় বের হলেই গ্রেফতার করে মামলা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।

বুধবার (৩০ জুন) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, এবার লকডাউন ভঙ্গ করে বের হলে আইনি ঝামেলায় পড়তে হবে। রিকশা ব্যবহার করা গেলেও কোনো ইঞ্জিনচালিত যানবাহন ব্যবহার করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এছাড়া মাঠে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। এবারে আমরা প্রথমবারের মতো ২৬৯ ধারায় মামলা দিতে যাচ্ছি। অকারণে কেউ যদি ঘর থেকে বের হয় তবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার করা হবে। এরপর তাদের আদালতে প্রেরণ করা হবে।

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, ন্যূনতম ৬ মাসের জেল ও জরিমানা হতে পারে এই আইনে মামলা হলে।

লকডাউনে ২১ নির্দেশনা, যা চলবে যা চলবে না

লকডাউনে ২১ নির্দেশনা, যা চলবে যা চলবে না


সারাদেশে করোনার বিস্তার রোধে বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে ৭ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ (সর্বাত্মক লকডাউন) আরোপ করেছে সরকার। বুধবার (৩০ জুন) বিধিনিষেধ আরোপ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এ সময়ে জরুরি সেবা দেয়া দফতর-সংস্থা ছাড়া সরকারি-বেসরকারি অফিস, যন্ত্রচালিত যানবাহন, শপিংমল-দোকানপাট বন্ধ থাকবে। খোলা থাকবে শিল্প-কারখানা, জনসমাবেশ হয় এমন কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না এই সময়ে।

বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯) সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ২১টি শর্ত যুক্ত করে ১ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকাল ৬টা থেকে ৭ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপ হয়েছে বলে জানানো হয়।

যা আছে ২১ শর্তে :

১. সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।

২. সড়ক, রেল ও নৌপথে গণপরিবহন (অভ্যন্তরীণ বিমানসহ) ও সকল প্রকার যন্ত্রচালিত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।

৩. শপিংমল/মার্কেটসহ সকল দোকানপাট বন্ধ থাকবে।

৪. সকল পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে।

৫. জনসমাবেশ হয় এ ধরনের সামাজিক (বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান-ওয়ালিমা, জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি), রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

৬. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতসমূহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

৭. ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

৮. আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন- কৃষি পণ্য ও উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্য সেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, রাজস্ব আদায় সম্পর্কিত কার্যাবলি, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবা, ব্যাংক, ফার্মেসি ও ফার্মাসিটিক্যালসসহ অন্যান্য জরুরি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহের কর্মচারী ও যানবাহন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে যাতায়াত করতে পারবে।

৯. পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ট্রাক/লরি/কাভার্ড ভ্যান/কার্গো ভেসেল এ নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত থাকবে।

১০. বন্দরসমূহ (বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল) এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ এ নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত থাকবে।

১১. শিল্প-কারখানাসমূহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে।

১২. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠন/বাজার কর্তৃপক্ষ/স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

১৩. অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। নির্দেশনা অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

১৪. টিকা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে।

১৫. খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাবার বিক্রয় (অনলাইন/টেকওয়ে) করতে পারবে।

১৬. আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু থাকবে এবং বিদেশগামী যাত্রীরা তাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের টিকিট প্রদর্শন করে গাড়ি ব্যবহারপূর্বক যাতায়াত করতে পারবে।

১৭. স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মসজিদে নামাজের বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দেবে।

১৮. ‘আর্মি ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় মাঠ পর্যায়ে কার্যকর টহল নিশ্চিত করার জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা মোতায়েন করবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্থানীয় সেনা কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।

১৯. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সমন্বয় সভা করে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব ও আনসার নিয়োগ ও টহলের অধিক্ষেত্র, পদ্ধতি ও সময় নির্ধারণ করবেন। সেই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে বিশেষ কোন কার্যক্রমের প্রয়োজন হলে সেই বিষয়ে পদক্ষেপ নিবেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগসমূহ এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

২০. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

২১. স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক তার পক্ষে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রদান করবেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় এর আগে গত ২৮ জুন থেকে তিন দিনের সীমিত বিধিনিষেধ দেয় সরকার। সেই বিধিনিষেধের মেয়াদ আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় শেষ হবে।

Tuesday, 29 June 2021

মালয়েশিয়ায় পৃথক অভিযানে বাংলাদেশিসহ ২৩৫ অভিবাসী আটক

মালয়েশিয়ায় পৃথক অভিযানে বাংলাদেশিসহ ২৩৫ অভিবাসী আটক



মালেয়েশিয়ার দুই প্রদেশ থেকে বাংলাদেশিসহ মোট ২৩৫ জনকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন পুলিশ। দেশটির অবৈধ অভিবাসীবিরোধী অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

মঙ্গলবার (২৯ জুন) রাতে গণমাধ্যম ও অভিবাসন বিভাগের বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার ভোর ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দেশটির মালাক্কা প্রদেশ ও কুয়ালা তেরেঙ্গানু নামক ২টি পৃথক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ২৩৫ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়। আটক ২৩৫ জনের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি ও ইন্দোনেশিয়ার ১৭ জন নাগরিক রয়েছেন।

এদিকে কুয়ালা তেরেঙ্গানু এলাকার কয়েকটি নির্মাণ সেক্টরে অভিযান পরিচালনা করে ২০০ জন অভিবাসী আটক করা হয়েছে। তবে এই অভিযানে কতজন বাংলাদেশি বা অন্যান্য দেশের কতজন নাগরিক রয়েছেন প্রতিবেদন তা উল্লেখ করা হয়নি।

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হামজা জয়নুদ্দিন এক বিবৃতিতে বলেন, আটক সকল বিদেশিদের ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/১৯৬৩ এর অধীনে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া এই বিদেশিদের অবৈধভাবে নিয়োগের অভিযোগে তাদের নিয়োগকারীদেরকে একই আইনের আওতায় তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় থাকা সকল অভিবাসীদের প্রচলিত আইন মানতে হবে। এদিকে দেশটির মালাক্কা প্রদেশে ইমিগ্রেশন বিভাগের যৌথ অভিযানে একটি ডুরিয়ান (জাতীয় ফল) বাগানে লুকিয়ে থাকার সময় ৩৫ জন অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে।

এর মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি ও ১৭ জন ইন্দোনেশিয়ান নাগরিক রয়েছেন। তাদেরকে বৈধ কাগজপত্র না থাকার কারণে আটক করা হয়েছে। আটক সকল অভিবাসীদেরকে মাচাম্বু ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে পাঠানোর আগে কোভিড-১৯ এর স্ক্রিনিং,করানো পরীক্ষা করতে জেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে (পিকেডি) নেয়া হয়েছে।

প্রবাসীদের রেমিট্যান্সে দেশে ৪৬ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড রিজার্ভ

প্রবাসীদের রেমিট্যান্সে দেশে ৪৬ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড রিজার্ভ



করোনা মহামারির মধ্যেই বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন ৪৬ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। এ মাইলফলকের এ রেকর্ড রিজার্ভ সৃষ্টি হয়েছে  প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ভর করেই।

মঙ্গলবার (২৯ জুন) দিনশেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬ দশমিক শূন্য ৮২ বিলিয়ন ডলার, যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতি মাসে চার বিলিয়ন ডলার হিসাবে দেশের এ রিজার্ভ দিয়ে ১১ মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ থাকতে হয়।

চলতি মাসে জুনের শুরু থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত ১৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা তার আগের বছর (২০২০ সাল) একই মাসের থেকে ১০ কোটি ডলার বেশি। গত ২০২০ সালের জুন মাসে দেশে প্রবাসী আয় আসে ১৬৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, অর্থবছরের শুরু থেকে দেশে এখন পর্যন্ত (২৮ জুন) দুই হাজার ৪৫৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। হিসাব বলছে, আগের বছরের তুলনায় এ বছর রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির হার ৩৬ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা জানান, আসন্ন ঈদকে (কোরবানির ঈদ) সামনে রেখে প্রবাসীরা বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। প্রতি বছরেরই দুই ঈদের আগে অন্য সব মাস থেকে রেমিট্যান্স বেশি পাঠান রেমিট্যান্স যোদ্ধারা।

এর আগে চলতি বছরের বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) দিনশেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। ১ জুন (মঙ্গলবার) দিনশেষে প্রথমবারের মতো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়ায় ৪৫ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলারে। তার আগে ৩ মে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৫ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছিল। ২৪ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ দাঁড়িয়েছিল ৪৪ দশমিক শূন্য দুই বিলিয়ন ডলার।

২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ ছিল ৪৩ বিলিয়ন ডলার, ১৫ ডিসেম্বর ৪২ মিলিয়ন এবং ২৮ অক্টোবর রিজার্ভ ৪১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল।

অন্যদিকে রিজার্ভে রফতানি আয়েরও প্রভাব আছে। চলতি বছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) পণ্য রফতানি থেকে ৩৫ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার আয় করে দেশ, যা তার আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ ২০২০ সালের ১১ মাসে (জুলাই-মে) তিন হাজার ৯৫ কোটি ৯১ লাখ (৩০ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছিল।