Wednesday, 4 August 2021

পরীমনির বিরুদ্ধে মামলা করবেন নাসির

পরীমনির বিরুদ্ধে মামলা করবেন নাসির



ডেস্কঃ চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নাসির মাহমুদ। 

গণমাধ্যমকে নাসির জানান, সম্মানহানি করা, মিথ্যা অপবাদ, পারিবারিকভাবে অপদস্থ করাসহ বেশ কিছু বিষয়ে যে কোনো সময় তিনি রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় পরীমনির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবেন। 

বুধবার নাসির মাহমুদ বলেন, আমি মামলা করার জন্য প্রস্তুত।আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে মামলা দায়ের করব। আমার বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে তার সবই মিথ্যা। আমাকে পারিবারিকভাবে হয়রানি করা হয়েছে, সমাজে অপদস্থ করা হয়েছে।মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগের কারণে আমার দীর্ঘদিনের অর্জিত মান-সম্মান সবকিছুই শেষ হয়ে গেছে।

প্রসঙ্গত, গত ৯ জুন মধ্যরাতে সাভারে অবস্থিত ঢাকা বোট ক্লাবে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ঘটনার চার দিন পর ১৩ জুন রাত ৮টার দিকে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে এবং রাত ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘটনা প্রকাশ করেন নায়িকা পরীমনি।

পর দিন ১৪ জুন সকালে ব্যবসায়ী নাসিরউদ্দিন মাহমুদ ও অমিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা করেন তিনি।ওই দিন বিকালে উত্তরা থেকে নাসির ও অমিসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। এর পর ডিবির গুলশান জোনাল টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) মানিক কুমার সিকদার বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। 

ওই মামলায় গত ১৫ জুন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিভানা খায়ের জেসি নাসির ও অমির সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে ওই মামলায় রিমান্ড শেষে পরীমনির মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় তাদের।

২৯ জুন পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলায় প্রধান আসামি নাসিরউদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমি জামিন পান।পরে ৩০ জুন দিবাগত রাত ৮টার দিকে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে নাসির মুক্তি পান।

কারামুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাসির উদ্দিন। সত্যিকারে অন্যায় করলে আফসোস ছিল না- এমন আক্ষেপ করে এই ব্যবসায়ী বলেন, বড় রকমের ভিকটিম হলাম। কোনো দিন হাজত দেখিনি। রিমান্ডে ১২ দিনসহ ১৮ দিন জেলহাজতে কাটিয়েছি। আমাকে আটক করার পরও কেউ আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি। একজন সেলিব্রিটির (পরীমনি) অভিনয়ে আমি সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেলাম।

এদিকে আজ (বুধবার) বিকেলে পরীমনির বাসায় অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব। এ সময় তার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আটক করা হয়।
র‍্যাবের অভিযানে পরীমনি ‘আটক’

র‍্যাবের অভিযানে পরীমনি ‘আটক’

ফাইল ছবি


ডেস্কঃ চিত্রনায়িকা পরীমনির বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব।

বুধবার বিকাল ৪টায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। র‍্যাবের তরফ থেকে জানানো হয়েছে ‘সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের’ ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানের আগে যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার বাসা ঘিরে রাখে, তখনই তিনি ফেসবুকে লাইভে আসেন। নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে লাইভে এসে বাঁচার জন্য পরিচিতজনদের কাছে আকুতি জানান। যদিও সেই সময় তিনি দাবি করেন, পুলিশ পরিচয়ে তার বাসায় অন্য কেউ হামলা চালাচ্ছেন। 

লাইভে থেকেই তিনি পরিচিত কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের ফোন দেন। পাশাপাশি তিনি বনানী থানায়ও ফোন দেন।এ সময় নিজেকে বাঁচাতে কান্নাকাটি করেন।    

লাইভে তিনি বলেন, আমি মরব আর কেউ কিছু বলবে না? মরতে তো একদিন হবেই। আমি এই লাইভ কাটব না। যতক্ষণ না থানা থেকে পুলিশ আসবে, মিডিয়া আসবে ততক্ষণ লাইভ চলবে। ভাই আপনারা কেউ বুঝতে পারছেন আমার অবস্থা? এইখানে কাছেই থানা। অথচ তারা আসছে না। আমার তো তাদের হেল্প লাগবে।  তিনদিন ধরে আমি বিছানা থেকে উঠতে পারছি না। আমার পরিচিতরা কই। একটু আসবেন দেখবেন? এরা কারা? ভাঙচুর করছে। এসব আল্লাহ সহ্য করবে না। আপনারা কত মানুষ এই লাইভ দেখছেন। কেউ কিছু বলছেন না। আমার বাসায় আমার বুড়ো নানা এসেছেন। আপানারা মিডিয়ার কেউ আসবেন? আমি তো মরে যাচ্ছি। 

লাইভে দেখা যায়, তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় নিশ্চত হওয়ার পর দরজা খুলেছেন। ততক্ষণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাসার সবার মোবাইল ফোন জব্দ করেছে। পাশাপাশি পরীমনির লাইভ বন্ধ করার জন্য বলেন। পরে তিনি লাইভ বন্ধ করেন। 

গত জুন মাসে রাজধানীর একটি ক্লাবে পরীমনিকে হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে নাসির ইউ আহমেদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। সে অভিযোগও তিনি ফেসবুক লাইভে এসে জানান। এরপর তা আমলে নেয় প্রশাসন। পরবর্তী সময়ে পরীর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। যদিও প্রধান অভিযুক্ত নাসির গ্রেফতারের কয়েক দিন পরই জামিনে মুক্তি পেয়ে যান।
গোলাপগঞ্জ উপজেলাজুড়ে টিকাদানের স্থান নিয়ে বিভ্রান্তঃ জানুন সঠিক তথ্য

গোলাপগঞ্জ উপজেলাজুড়ে টিকাদানের স্থান নিয়ে বিভ্রান্তঃ জানুন সঠিক তথ্য



করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে শুরু হচ্ছে ইউনিয়নভিত্তিক টিকাদান কার্যক্রম। এ লক্ষ্যে গোলাপগঞ্জের সবক'টি ইউনিয়নের টিকাদানের স্থান ও সময়সূচী প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত স্থান ও সময়সূচী অনুযায়ী আগামী ০৭ আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট সকাল ৯টা হতে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উপজেলার সবক'টি ইউনিয়নের ১,২,৩নং ওয়ার্ডে (সাবেক ১নং ওয়ার্ড) একযোগে ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে।


তবে প্রকাশিত স্থান ও সময়সূচী নিয়ে বিভ্রান্ত দেখা দিয়েছে উপজেলাজুড়ে। প্রকাশিত তালিকায় সাবেক ১নং ওয়ার্ড অর্থাৎ বর্তমান ১,২,৩নং ওয়ার্ডে টিকাকেন্দ্র স্থাপনের কথা উল্লেখ থাকায় তা নিয়ে বিভ্রান্ত হচ্ছেন ইউনিয়নের অন্যান্য ওয়ার্ডবাসী। অনেকেই মনে করছেন পুরো ইউনিয়নবাসী ১,২,৩নং ওয়ার্ডে স্থাপিত টিকাকেন্দ্রে গিয়ে ভ্যাকসিন নিতে হবে। যা আদৌ সঠিক নয়।

গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ শাহীনুর ইসলাম শাহীন কুশিয়ারা নিউজকে জানিয়েছেন ০৭ আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট তারিখে নির্ধারিত ওয়ার্ডবাসীকেই ভ্যাকসিন দেয়া হবে। অর্থাৎ ইউনিয়নের সাবেক ১নং ওয়ার্ড তথা বর্তমান ১,২,৩নং ওয়ার্ডে স্থাপিত বুথে শুধুমাত্র ১,২,৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারাই ভ্যাকসিন গ্রহণ করবেন। ইউনিয়নের অন্যান্য ওয়ার্ডবাসীর জন্য পরবর্তীতে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি। এব্যাপারে কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান জানিয়েছেন তিনি।


এছাড়াও তিনি বলেন, যারা ইতোমধ্যে সুরক্ষা অ্যাপে টিকার নিবন্ধন করেছেন তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে টিকা নিতে হবে। আর যারা এখনও নিবন্ধন করেননি তারা নিজ ওয়ার্ডের বুথে ন্যাশনাল আইডি কার্ড নিয়ে টিকা নিতে পারবেন।


গোলাপগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়নভিত্তিক টিকাদানের স্থান ও সময়সূচীঃ


গোলাপগঞ্জে ইউনিয়নভিত্তিক করোনার টিকাদানের সময় ও স্থান

গোলাপগঞ্জে ইউনিয়নভিত্তিক করোনার টিকাদানের সময় ও স্থান



করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে শুরু হচ্ছে ইউনিয়নভিত্তিক টিকাদান কার্যক্রম। এ লক্ষ্যে গোলাপগঞ্জের সবক'টি ইউনিয়নের সাবেক ১নং ওয়ার্ডের (বর্তমান ১,২,৩নং ওয়ার্ড) টিকাদানের সময় ও স্থানের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।


তালিকানুযায়ী আগামী ০৭ আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট সকাল ৯টা হতে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উপজেলার সবক'টি ইউনিয়নের ১,২,৩নং ওয়ার্ডে একযোগে গণহারে ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে।

 
উপজেলার ইউনিয়নভিত্তিক টিকাদানের সময় ও স্থানঃ


পরীমনির বাসায় র‍্যাবের অভিযান

পরীমনির বাসায় র‍্যাবের অভিযান



ডেস্কঃ চিত্রনায়িকা পরীমনির বনানীর বাসায় অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব হেডকোয়ার্টারের সদস্যরা। 

বুধবার বিকাল ৪টা থেকে এ অভিযান চালাচ্ছে র‍্যাব। তবে ঠিক কি কারণে এ অভিযান তা র‍্যাবের সংবাদ সম্মেলনের পরই জানা যাবে। 

এদিকে অভিযানের আগে পরীমনি দাবি করেন তার বাসায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম করে কেউ হামলা চালাচ্ছে।
 
লাইভে তিনি বলেন, আমি মরব আর কেউ কিছু বলবে না? মরতে তো একদিন হবেই। আমি এই লাইভ কাটব না। যতক্ষণ না থানা থেকে পুলিশ আসবে, মিডিয়া আসবে ততক্ষণ লাইভ চলবে। ভাই আপনারা কেউ বঝতে পারছেন আমার অবস্থা? এইখানে কাছেই থানা। অথচ তারা আসছে না। আমার তো তাদের হেল্প লাগবে।  তিনদিন ধরে আমি বিছানা থেকে উঠতে পারছি না। আমার পরিচিতরা কই। একটু আসবেন দেখবেন? এরা কারা? মূর্খরা ভাঙচূর করছে। এসব আল্লাহ সহ্য করবে না। আপনারা কত মানুষ এই লাইভ দেখছেন। কেউ কিছু বলছেন না। আমার বাসায় আমার বুড়ো নানা এসেছেন। আপানারা মিডিয়ার কেউ আসবেন? আমি তো মরে যাচ্ছি। 

লাইভে দেখা যায়, তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় নিশ্চত হওয়ার পর দরজা খুলেছেন। ততক্ষণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাসার সবার মোবাইল ফোন জব্দ করেছে। পাশাপাশি পরীমনির লাইভ বন্ধ করার জন্য বলেন। পরে তিনি লাইভ বন্ধ করেন।
বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে নিহত ১৭

বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে নিহত ১৭



বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের তেলিখাড়ি নামক স্থানে বজ্রপাতে ১৭ জন নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে পাঁচজন নারী ও ১২ জন পুরুষ। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। 

নিহতরা সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের জনতারহাট ডাইলপাড়া গ্রামে থেকে শিবগঞ্জের পাঁকা ইউনিয়নের দক্ষিণপাঁকার তেলিখাড়ি গ্রামের হোসেন আলীর বাড়িতে বৌ আনতে যাচ্ছিলেন। 

এসময় বৃষ্টি শুরু হলে লোকজন নৌকা থেকে নেমে পদ্মার পশ্চিমপাড়ে ফেরিঘাটের একটি ঘরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানে অবস্থানকালে ব্যাপক বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। ফলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ১৭ জন। 

এ ঘটনায় অচেতন হয়ে পড়েন আরও সাতজন। তারা সবাই শিশু। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে তাদের নিজ নিজ গ্রামে নেওয়ার জন্য নৌকা পদ্মা নদী পাড়ি দিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এসব মরদেহ বাখের আলী ঘাটে নামানো হবে। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার এএইচএম আব্দুর রাকিব ঘটনাস্থলের পথে রয়েছেন বলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

Tuesday, 3 August 2021

সিলেটের নাসুমের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ধরাশায়ী অস্ট্রেলিয়া

সিলেটের নাসুমের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ধরাশায়ী অস্ট্রেলিয়া



স্পোর্টস ডেস্কঃ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে বাংলাদেশ টাইগার দল। পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম খেলায় অস্ট্রেলিয়াকে ২৩ রানে হারিয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। এ জয়ে সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল টাইগাররা। টি-টোয়েন্টির সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে এই প্রথম অসিদের বিপক্ষে জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ দল।

মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ১০ উইকেট হারিয়ে ১০৮ রানে থামে অজিদের ইনিংস।

এই জয়ে ৫ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।  এর আগে দুই দল এই ফরম্যাটে ৪ বার মুখোমুখি হলেও প্রতিটি ম্যাচ ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে।

সবগুলো ম্যাচেই জয় তুলে নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। অর্থাৎ পঞ্চমবারের দেখায় অজিদের হারালো বাংলাদেশ।

বোলিংয়ে নেমেই অস্ট্রেলিয়াকে কাঁপিয়ে দেয় বাংলাদেশ। ১১ রানেই ৩ উইকেট হারায় সফরকারীরা। ইনিংসের প্রথম বলেই অ্যালেক্স ক্যারিকে (০) বোল্ড করে দেন মেহেদি হাসান। 

পরের ওভারের চতুর্থ বলে আরেক ওপেনার জস ফিলিপসকে (৯) স্টাম্পড করেন উইকেটরক্ষক সোহান। বোলার ছিলেন নাসুম আহমেদ। তৃতীয় ওভারে মঞ্চে আসেন সাকিব। প্রথম বলেই বোল্ড করে দেন মোইজেস হেনরিক্সকে (১)।

১১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর অজি অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েড আর মিচেল মার্শ ইনিংস মেরামতের চেষ্টা শুরু করেন। দুজনে রান তুলছিলেন বটে, তবে বাংলাদেশি বোলারদের সামনে সহজ ছিলেন না। ২৩ বলে ১৩ রান করা ম্যাথু ওয়েডকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন নাসুম আহমেদ।

লেগ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল পুল করতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে মুস্তাফিজের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন ওয়েড। ৪৪ বলে ৪র্থ উইকেট জুটিতে আসে ৩৮ রান। ১৪তম ওভারে অ্যাস্টন আগারকে ফেরান নাসুম আহমেদ (৭)।

টাইগার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বাকি অজি ব্যাটসম্যানরা খাবি খেলেও বাংলাদেশের পথের কাঁটা হয়ে ছিলেন মিচেল মার্শ। এই অজি অলরাউন্ডার দেখেশুনে খেলছিলেনও ভালোই। তবে ১৬তম ওভারে তার প্রতিরোধ ভাঙেন নাসুম। এই স্পিনারের বলে সুইপ শট খেলতে গিয়ে হাওয়ায় বল তুলে দেন মার্শ।

তবে ১০-১৫ গজ দৌড়ে ডাইভ দিয়ে ক্যাচ তালুবন্দি করেন শরিফুল। ফলে শেষ হয় মার্শের ৪৫ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় সাজানো ৪৫ রানের ইনিংস।

মার্শের বিদায়ের পর কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় অজিরা। ৯৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলা দলটি ১৮তম ওভারে হারায় অ্যাস্টন টার্নারের উইকেট।

মোস্তাফিজের করা ওই ওভারের দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি হাঁকানোর পরের বলে ক্যাচ তুলে দেন টার্নার (৮)। এক্সট্রা কাভারে থাকা মাহমুদউল্লাহ বাকি কাজ সহজেই সারেন। শেষ ১২ বলে অজিদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩১ রান। তবে ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে টাইকে (০) মোহাম্মদ নাঈমের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান শরিফুল। ওই ওভারের পঞ্চম বলে অ্যাডাম জাম্পা (০) তথা নবম উইকেট হারায় অজিরা। ওই ওভারে আসে মাত্র ৩ রান। শেষ ওভারে ১ উইকেট হাতে রেখে অজিদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৮ রান। ওভারের শেষ বলে স্টার্ককে (১৪) বোল্ড করেন ফিজ। ওভারে আসে ৪ রান।

বল হাতে ৪ ওভারে ১৯ রান খরচে ৪ উইকেট নেন নাসুম আহমেদ। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজ ও শরিফুল। এর মধ্যে ৪ ওভারে মাত্র ১৬ রান খরচ করেছেন ফিজ। ১টি করে উইকেট গেছে মেহেদী হাসান ও সাকিব আল হাসান।

এর আগে শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে মিচেল স্টার্কের করা ইনিংসের দ্বিতীয় বলে ছক্কা মেরে নিজের ও দলের রানের খাতা খোলন নাঈম শেখ। ওই ওভারে আর কোনো রান দেননি স্টার্ক।

পরের ওভারে হ্যাজেলউড দেন ২ রান। তৃতীয় ওভারেই জাম্পাকে দিয়ে স্পিন আক্রমণ শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। শুরু থেকেই নড়বড়ে ছিলেন সৌম্য সরকার। চতুর্থ ওভারের তৃতীয় বলে তাকে বোল্ড করে দেন জস হ্যাজেলউড। শরীর বরাবর আসা বলটি ৯ বলে ২ রান করা সৌম্যর ব্যাট ছুঁয়ে স্টাম্পে গিয়ে লাগে।

পঞ্চম ওভারে আবার স্টার্ক আসেন বোলিংয়ে। আবারও তার ওভারের দ্বিতীয় বলে মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা হাঁকান নাঈম। এবার বল গিয়ে পড়ে গ্যালারিতে। অস্ট্রেলিয়ার জৈব সুরক্ষার শর্ত অনুযায়ী সেই বল আর ব্যবহৃত হয়নি। নতুন বল দিয়ে খেলা শুরু হয়। উইকেটে সেট হয়ে যাওয়া নাঈমকে থামান জাম্পা। তার বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান ২৯ বলে ২ চার ২ ছক্কায় ৩০ রান করা নাঈম।

দ্বিতীয় উইকেট পতনের পর ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন দুই সিনিয়র সাকিব আর মাহমুদউল্লাহ। মাঝে অ্যাস্টন আগারের বলে মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ ছাড়েন টার্নার। সাকিব ও মাহমুদউল্লাহর জুটিতে রান আসে ৩১ বলে ৩৬। এই জুটি ভাঙে মাহমুদউল্লাহর বিদায়ে।

হ্যাজেলউডের বলে ম্যাট হেনরিকসের তালুবন্দি হন ২০ বলে ১ ছক্কায় ২০ রান করা মাহমুদউল্লাহ। এরপর নুরুল হাসান (৩) অ্যান্ড্রু টাইয়ের বলে দ্রুত বিদায় নেন। ১৭তম ওভারের শেষ বলে বিদায় নেন সাকিবও। হ্যাজেলউডের বলে বোল্ড হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৩ বলে ৩৬ রান। ইনিংসটি ৩টি চারে সাজানো।

সাকিবের বিদায়ের পরের ওভারেই মিচেল স্টার্কের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তরুণ শামিম হোসেন (৪)। এরপর স্টার্কের করা ইনিংসের শেষ ওভারের শেষ বলে বোল্ড হওয়ার আগে ১৭ বলে ২৩ রান করেন আফিফ হোসেন। অবশ্য শেষ ওভারের চতুর্থ বলে তাকে বোল্ড করেছিলেন স্টার্ক।

কিন্তু আম্পায়ার নো বল ডাকেন। ফ্রি হিটেও ক্যাচ দিয়েছিলেন আফিফ। ৬ বলে ৭ রানে অপরাজিত থাকেন মেহেদী হাসান।

বল হাতে ৩ উইকেট নিয়েছেন অজি পেসার জশ হ্যাজেলউড। ২ উইকেট গেছে স্টার্কের দখলে। আর ১টি করে উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন অ্যাডাম জাম্পা ও অ্যান্ডু টাই।ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন ৪ উইকেট তুলে নেওয়া নাসুম আহমেদ।