Tuesday, 10 August 2021

বুর্জ খলিফার চূড়ায় শুটিং করে তাক লাগালেন নারী (ভিডিও)

বুর্জ খলিফার চূড়ায় শুটিং করে তাক লাগালেন নারী (ভিডিও)



মাটি থেকে ৮২৮ মিটার উপরে উঠলে অনেকেরই ভয়ে গলা শুকিয়ে আসবে, হাত-পা কাঁপবে। অথচ সেই উচ্চতায় হচ্ছে বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিং, তাতে দেখা যাচ্ছে কেবল এক নারীকে। সম্প্রতি এমনই এক ‘অসাধ্য’ সাধন করেছে আমিরাতের এমিরেটস এয়ারলাইন্স। কোনো ধরনের ‘গ্রিন স্ক্রিন’ বা স্পেশাল ইফেক্টস ছাড়াই বুর্জ খলিফার চূড়ায় এক নারীকে দাঁড় করিয়ে বিজ্ঞাপনের শুটিং সেরেছে তারা। কিন্তু কীভাবে?

দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস জানিয়েছে, এমিরেটসের বিজ্ঞাপনচিত্রে দেখা যাওয়া ওই সাহসী নারীর নাম নিকোল স্মিথ-লুডভিক। তিনি পেশাদার স্কাইডাইভিং ইনস্ট্রাক্টর। বুর্জ খলিফার চূড়ায় ওঠা হাতেগোনা কিছু মানুষের তালিকায় সম্প্রতি যোগ হয়েছে তার নাম। এর আগে দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুম ও হলিউড তারকা টম ক্রুজসহ অল্প কয়েকজনের বুর্জ খলিফার চূড়ায় ওঠার সৌভাগ্য হয়েছিল।


কী আছে বিজ্ঞাপনে?

৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওক্লিপে দেখা যায়, এমিরেটসের কেবিন ক্রুদের ইউনিফর্ম পরা নিকোলের হাতে কয়েকটি সাদা বোর্ড রয়েছে, যাতে আমিরাতকে যুক্তরাজ্যের ভ্রমণ সংক্রান্ত আম্বার তালিকায় যুক্ত করায় খুশি হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। শুরুতে এটিকে আর দশটা সাধারণ জায়গার মতো মনে হলেও ক্যামেরা দূরে যেতেই পরিষ্কার হয়ে ওঠে নিকোলের অবস্থান। দেখা যায়, তিনি একা দাঁড়িয়ে রয়েছেন বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন বুর্জ খলিফার চূড়ায়।



যেভাবে করা হয় বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিংঃ

এমিরেটস কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, বিজ্ঞাপনটি চিত্রায়িত হয়েছে ব্যাপক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা আর কঠোর সুরক্ষা প্রোটোকল অনুসরণের ভিত্তিতে। কাজটি মোটেও সহজ ছিল না। ৮২৮ মিটার উঁচু বুর্জ খলিফার চূড়ায় উঠে মাত্র ১ দশমিক ২ মিটার অর্থাৎ চার ফুটের চেয়েও ছোট একটি প্ল্যাটফর্মের ওপর দাঁড়িয়ে সব কাজ সারতে হয়েছে মডেলকে।


এমিরেটস জানিয়েছে, বিজ্ঞাপনের মডেল খুঁজতে তাদের নিজস্ব কেবিন ক্রুদের মধ্য থেকেই আগ্রহীদের ডাকা হয়েছিল, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন যোগ্যও ছিলেন। তবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শেষ পর্যন্ত একজন পেশাদার স্কাইডাইভার ইনস্ট্রাক্টরকেই বেছে নেয়া হয়। এরপরও বিজ্ঞাপনচিত্রের গোটা শুটিও ও এর প্রস্তুতিকালে নিরাপত্তার বিষয়টি ছিল সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে।

এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, বুর্জ খলিফার চূড়ায় দাঁড়ানোর জন্য একটি পোলযুক্ত কাস্টম প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছিল। ইউনিফর্মের নিচ দিয়ে লুকিয়ে প্ল্যাটফর্মের ওই পোলটি নিকোলের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল, এছাড়া চূড়ার আরও দুটি প্রান্তের সঙ্গে সরাসরি বাঁধা ছিলেন তিনি।


সোনালি আলো পেতে শুটিং শুরু হয়েছিল একদম সূর্যোদয়ের সময়। সূর্য ওঠার অনেক আগেই চূড়ায় ওঠা শুরু করে বিজ্ঞাপন সংশ্লিষ্ট টিম। বুর্জ খলিফার ১৬০ তলা থেকে শীর্ষে পৌঁছতে তাদের প্রায় ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট সময় লেগেছিল বলে জানিয়েছে এমিরেটস কর্তৃপক্ষ।

চূড়ায় পৌঁছতে টিউবের ভেতর কয়েক ধাপে মই সংযুক্ত করতে হয়েছিল বিজ্ঞাপন টিমকে। তারা সেখানে ছিলেন পাঁচ ঘণ্টার মতো। পুরো সিকোয়েন্স ধারণ করতে ব্যবহার করা হয়েছিল একটি ড্রোন।

এমিরেটস জানিয়েছে, ৮২৮ মিটার উঁচুতে ধারণ করা এ বিজ্ঞাপন গোটা বিশ্বের মধ্যেই সর্বোচ্চ উচ্চতায় ধারণ করা বিজ্ঞাপনগুলোর মধ্যে অন্যতম।


প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট স্যার টিম ক্লার্ক বলেন, বুর্জ খলিফার চূড়ায় শুটিংয়ের অনুমতি পাওয়া কিছু বিশিষ্টজনের মধ্যে যেতে পেরে আমরা গর্বিত। আমাদের সুন্দর শহর দুবাইকে দেখাতে পেরে আমরা আরও বেশি গর্ববোধ করছি।

জানা গেছে, দর্শকদের জন্য প্রাসঙ্গিক বার্তা সংযোজন করে এমিরেটসের নেটওয়ার্কের বিভিন্ন দেশে বিজ্ঞাপনটি দেখানো হবে। এর প্রথম টিভি ক্যাম্পেইন শুরু হবে যুক্তরাজ্যে।

Monday, 9 August 2021

পবিত্র আশুরা ২০ আগস্ট

পবিত্র আশুরা ২০ আগস্ট



বাংলাদেশের আকাশে সোমবার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। বুধবার (১১ আগস্ট) শুরু হচ্ছে মহররম মাস ও নতুন বছর ১৪৪৩ হিজরি। আগামী ২০ আগস্ট শুক্রবার (১০ মহররম) পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নূরুল ইসলাম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা শায়লা শারমীন এ তথ্য জানান।
হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো ছবি-ভিডিও ১বার দেখার পরই ডিলিট

হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো ছবি-ভিডিও ১বার দেখার পরই ডিলিট



প্রযুক্তি ডেস্কঃ ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষায় হোয়াটসঅ্যাপ নিয়ে এসেছে ভিউ ওয়ানস নামের নতুন ফিচার। ভিউ ওয়ানস ফিচার ব্যবহারকারীরা হোয়াটসঅ্যাপে কোনো ছবি বা ভিডিও পাঠালে প্রাপক শুধু একবার দেখার পরই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিলিট হয়ে যাবে।

যে কোনো সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ছবি বা ভিডিও পাঠানো হোক তা সেভ, শেয়ার করা যাবে না। এমনকি ফোনে যদি কারও সেভ করার অপশনটি অন থাকে, সেক্ষেত্রেও ওই ভিডিও বা ছবি সেভ হবে না বলে জানিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ।


আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে, ভিউ ওয়ানস ফিচারের মাধ্যমে পাঠানো কোনো মিডিয়া যদি ১৪ দিনের মধ্যে না খোলা হয় তবে তা স্বয়ংক্রিয় ভাবে ডিলিট হয়ে যাবে।

এ ফিচারটি ব্যবহারের জন্য হোয়াটসঅ্যাপের লেটেস্ট ভার্সন আপডেট করতে হবে। ভিউ ওয়ানস ফিচারে কোনো কিছু পাঠাতে আগের মতোই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। প্রথমে যে কোনো চ্যাট বা গ্রুপ খুলে ছবি-ভিডিও পাঠানোর জন্য আইফোন বা অ্যান্ড্রয়েডের ক্ষেত্রে ক্যামেরা আইকন ও পেপারক্লিপে গিয়ে ছবি-ভিডিও সিলেক্ট করতে হবে।

তারপর ছবি ও ভিডিও পাঠানোর আগে টেক্সটবারের ডান দিকে ভিউ ওয়ানস অপশনটি ক্লিক করলেই ছবি সেন্ড হবে। হোয়াটসঅ্যাপ লোগোর মতো সবুজ রঙের বৃত্ত দিয়ে এ ফিচারটি চিহ্নিত করা হয়েছে।

হোয়াটসঅ্যাপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আমাদের ফোনে ছবি বা ভিডিও তোলার মানেই হলো ফোনের মেমোরির অনেকটা অংশ আটক করে রাখা। অথচ যে ছবি-ভিডিও আমরা শেয়ার করি সেগুলো স্থায়ীভাবে সেভ করে রাখার প্রয়োজন হয় না।

সেই কারণে এ নতুন ফিচারটি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য নিয়ে এসেছে। এ ফিচারের সাহায্যে ব্যবহারকারীদের পক্ষে তাদের প্রাইভেসি ধরে রাখতেও সুবিধে হবে।
ঘরে বসে কোভিড টিকা নিয়ে ফেসবুকে ছবি, গ্রেফতার ২ জন

ঘরে বসে কোভিড টিকা নিয়ে ফেসবুকে ছবি, গ্রেফতার ২ জন



বাসায় বসে টিকা দেওয়ার ঘটনায় এক যুবক ও তার সহযোগীকে আটক করেছে পুলিশ। চট্টগ্রামের খুলশি এলাকার নিজ বাসায় বসে করোনার টিকা দিয়ে ফেসবুকে ছবি ও স্ট্যাটাস দেন তিনি।এরপর ওই স্ট্যাটাস ভাইরাল হলে তোলপাড় শুরু হয়। এরপর তাদের নগরীর খুলশী থানার জাকির হোসেন রোড থেকে রোববার রাতে ও সোমবার ভ্যাকসিন গ্রহীতা ও সহায়তাকারীকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. হাসান (৩৫) ও মোবারক আলী (৩৩)।

সরকারের গণটিকা কর্মসূচিতে গত ৭ অগাস্ট চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে তিনটি করে কেন্দ্রে ৯০০ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। টিকাদানে বয়স্ক নারী, পুরুষ ও প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যেই শনিবার নিজ ঘরে বসে টিকা নেওয়ার ছবি ও সহযোগিতাকারীকে ধন্যবাদ দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন মো. হাসান নামের এক ব্যক্তি।

হাসান পোস্টে উল্লেখ করেন, ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। অশেষ ধন্যবাদ বন্ধু মো. মোবারক আলীকে কভিড ভ্যাকসিন প্রদানে সহায়তা করার জন্য। আলহামদুলিল্লাহ মর্ডানার ১ম ডেজ সম্পন্ন।

পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর রোববার রাত থেকে হাসানের ফেইসবুক আইডি নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। 

এ ঘটনায় রোববার রাতেই হাসানকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) আবু বক্কর সিদ্দিক।
সেনাক্যাম্পে আগুনের গুজবঃ গোলাপগঞ্জের ৪জন-সহ গ্রেফতারকৃত ৭জন রিমান্ডে

সেনাক্যাম্পে আগুনের গুজবঃ গোলাপগঞ্জের ৪জন-সহ গ্রেফতারকৃত ৭জন রিমান্ডে



সিলেটের মুরাদপুর সেনানিবাসের বহুতল ভবনে আগুন লেগেছে এমন গুজব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়ানোর দায়ে গ্রেফতারকৃত সেই ৭ ভুয়া সাংবাদিকের ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (৯ আগস্ট) সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করে পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করলে আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সোমবার বিকেলে কুশিয়ারা নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা  শাহপরাণ থানার এস.আই দেবাংশু পাল।

এর আগে ২৫ জুলাই সিলেটের পৃথক পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে গুজব ছড়ানো ৭ ভুয়া সাংবাদিককে গ্রেফতার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৯। পরে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন র‍্যাব-৯ এর এএসপি ও মিডিয়া অফিসার সোমেন মজুমদার।


পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহপরাণ (রহ.) থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ৭জন হলেন- গোলাপগঞ্জরে আশফাকুর রহমান (২২), রেজা হোসাইন (২০), সোহেল আহমদ (২৩), আবুল কাশেম (৩৫), শাহপরান এলাকার আলাউদ্দিন আলাল (৪৭), মোগলাবাজারের রাজন আহমদ (২৮), ও বিমানবন্দর এলাকার মোক্তার হোসেন মান্না (২৮)। 
ক্লাসরুমে টুকরা করে অধ্যক্ষকে পুঁতে ফেলা হয় নিজ স্কুলের মাঠেই

ক্লাসরুমে টুকরা করে অধ্যক্ষকে পুঁতে ফেলা হয় নিজ স্কুলের মাঠেই



স্কুলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে খুন হন সাভারের রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মণ। র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে সোমবার সকালে এক খুদে বার্তায় অভিযান চালানোর এ তথ্য সাংবাদিকদের জানানো হয়।

র‍্যাব বলছে, মিন্টু বর্মণকে হত্যার পর লাশ ছয় টুকরা করে স্কুলের মাঠে পুঁতে ফেলা হয়। দেহ থেকে মিন্টুর মাথা বিচ্ছিন্ন করে উত্তরায় একটি ডোবায় ফেলা দেওয়া হয়। ২৮ দিন ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

সাভারের রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকায় মিন্টু বর্মণের লাশ উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে। মিন্টুর এক সহকর্মীসহ র‍্যাবের হাতে আটক তিনজনও র‍্যাবের অভিযান দলের সঙ্গে রয়েছেন।

মিন্টু চন্দ্র বর্মণ সাত বছর ধরে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি সেখানকার আমিন মডেল টাউন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করতেন।

২০১৯ সালে মিন্টু চন্দ্র বর্মণসহ চারজন মিলে জামগড়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়েন। অন্য তিন সহপ্রতিষ্ঠাতা হলেন রবিউল ইসলাম, মোতালেব ও শামসুজ্জামান। মিন্টু চন্দ্র বর্মণ ছিলেন এর অধ্যক্ষ। গত ১৩ জুলাই থেকে তার সন্ধান মিলছিল না।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, যাদের আটক করা হয়েছে, তাদের ভাষ্যমতে, স্কুলের শ্রেণিকক্ষেই মিন্টু বর্মণকে কুপিয়ে খুন করা হয়। লাশ ছয় টুকরা করে স্কুলের মাঠেই পুঁতে ফেলা হয়। এরপর বিচ্ছিন্ন মাথা ফেলা হয় দক্ষিণখানের আশকোনা এলাকায়। আটক সবাই খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টাকারীদের মৃত্যুদণ্ডঃ গুলি বা ফাঁসিতে ঝুলানোর রায়

শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টাকারীদের মৃত্যুদণ্ডঃ গুলি বা ফাঁসিতে ঝুলানোর রায়



গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় ১০ আসামির সবার মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে।

এই রায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যদণ্ডাদেশের (ডেথ রেফারেন্স) অনুমোদন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকরে বিচারিক আদালতের দেওয়া আদেশ পরিবর্তন করে দিয়েছেন। 

ঢাকার ২ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মমতাজ বেগম ২০১৭ সালের আগস্টে এ মামলার রায়ে ‘হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত পদ্ধতিতে গুলি করে’ ১০ আসামির দণ্ড কার্যকর করতে বলেছিলেন।

আসামিদের ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ এবং আসামিদের আপিল ও জেল আপিল খারিজ করে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ চলতি বছর ১৭ ফেব্রুয়ারি আসামিদের সবার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।

সোমবার প্রকাশিত ৮৬ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে যেকোনো পদ্ধতি (ফায়ারিং স্কোয়াডে বা ফাঁসে ঝুলিয়ে) অনুসরণ  করে দণ্ডিত ১০ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করতে পারবে।

এর ব্যাখ্যায় উচ্চ আদালত বলেছে, গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নজির যেহেতু খুব একটা দেখা যায় না, সেক্ষেত্রে আমরা মনে করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উভয় পদ্ধতির যে কোনো একটি অনুসরণ করে তা কার্যকর করতে পারে।

ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৬৮ ধারায় বলা হয়েছে, আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে আমৃত্যু ফাঁসিতে ঝুলিয়ে। আর ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৩৪ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, এ আইনের অধীনে মৃত্যুদণ্ড হলে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে অথবা মৃত্যু পর্যন্ত গুলি চালিয়ে তা কার্যকর করা যাবে।

তবে বাংলাদেশে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো নজির নেই। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়ে জজ আদালত আসামিদের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে বললেও হাইকোর্ট তা বদলে দিয়েছিলেন। 

সে প্রসঙ্গ তুলে ধরে কোটালীপাড়ার মামলায় হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে একমাত্র বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় উভয় পদ্ধতির যে কোনো একটি অনুসরণ করার কথা বিচারিক আদালত আদেশ দিয়েছিলেন।

কিন্তু ফায়ারিং স্কোয়াডে জনগণের উপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান ফৌজদারি কার্যবিধি আইনে না থাকায় হাইকোর্ট বিভাগ ওই আদেশ পরিবর্তন করে শুধু দণ্ডিত ব্যক্তির গলায় রশি ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেন।

হাইকোর্ট বলেছেন, বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৩৪এ ধারায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দু’ধরনের পদ্ধতি থাকলেও বর্তমান মামলায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক দণ্ডিতদের গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেন। এ ধরনের পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নজির যেহেতু খুব একটা দেখা যায় না, সেক্ষেত্রে আমরা মনে করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উভয় পদ্ধতির যে কোনো একটি অনুসরণ করে তা কার্যকর করতে পারে।

সুতরাং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সম্পর্কিত আদেশ পরিবর্তন করা হল।

এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ওয়াসিম আক্তার ওরফে তারেক ওরফে মারফত আলী, রাশেদ ড্রাইভার ওরফে আবুল কালাম ওরফে রাশেদুজ্জামান ওরফে শিমন খান, ইউসুফ ওরফে মোসাহাব মোড়ল ওরফে আবু মুসা হারুন, শেখ ফরিদ ওরফে মাওলানা শওকত ওসমান, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই ও মাওলানা আব্দুর রউফ ওরফে আব্দুর রাজ্জাক ওরফে ওমর।

২০০০ সালের ২০ জুলাই কোটালীপাড়ার শেখ লুৎফর রহমান মহাবিদ্যালয়ের উত্তর পাশে তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের জন্য মঞ্চ নির্মাণের সময় মাটিতে পুঁতে রাখা ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পাওয়া যায়। পরদিন ৮০ কেজি ওজনের আরও একটি বোমা উদ্ধার করা হয় কোটালীপাড়ার হেলিপ্যাড থেকে।

তার এক দিন পর নিজের নির্বাচনি এলাকায় দাদার নামে প্রতিষ্ঠিত ওই কলেজ মাঠে জনসভায় শেখ হাসিনার ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল।

ওই ঘটনায় কোটালীপাড়া থানার উপপরিদর্শক নূর হোসেন বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন।


তথ্যসূত্রঃ যুগান্তর