Friday, 6 May 2022

সৌদিতে বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা

সৌদিতে বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা


সোদি আরবে কর্মস্থল থেকে বাংলাদেশের যুবক আবদুর রহমানের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ মে) দুপুরে আবদুর রহমানের বাবা মো. হানিফ ও ভাই আবুল কাশেম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তাদের অভিযোগ, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। আবদুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছে বাবা-মা। ছেলের মরদেহটি দেশে আনতে আকুতি জানিয়েছে অসহায় পরিবারটি।

আবদুর রহমান লক্ষ্মীপুরের কমলগর উপজেলার চরলরেন্স ইউনিয়নের উত্তর চরলরেন্স গ্রামের বাসিন্দা।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১ মে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের নিকটস্থ আল হারমোলিয়াহ এলাকায় আবদুর রহমানের কর্মস্থল এক ছাগলের খামার থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ৷

সৌদিতে কর্মরত আবদুর রহমানের দুলাভাই মো. ইউছুফের বরাত দিয়ে পরিবারের জানায়, আবদুর রহমানের সঙ্গে সুদানি এক সহকর্মীর ঝগড়া হয়েছিল। ঝগড়ার একদিন পর তার (আবদুর রহমান) রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। স্থানীয়রা ইউছুফকে জানিয়েছে-আবদুর রহমানকে খুন করা হয়েছে। কিন্তু মরদেহ রাস্তার পাশে ফেলে রেখে গাড়িচাপায় মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করে সেখানকার মালিকপক্ষ। তবে এ ঘটনায় পুলিশ এক সৌদি নাগরিক ও একজন সুদানি নাগরিককে আটক করে৷

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের ছেড়ে দিয়েছে বলেও জানায় নিহতের পরিবার।

নিহতের মা লাকী বেগম জানান, সৌদিতে ঈদের আগের দিন বিকেলে ছেলের সঙ্গে তিনি মোবাইলফোনে কথা বলেছিলেন। এরমধ্যে হঠাৎ করে আবদুর রহমান চিৎকার দিয়ে বলে উঠে মা 'আজরাইল' আসে। তাৎক্ষণিকভাবে ফোনকল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে বারবার ফোন দিলেও কল রিসিভ করা হয়নি। বাড়ি থেকে চেষ্টা চালিয়েও তার সঙ্গে টানা দুই দিন যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এতে মেয়ে জামাই ইউছুফকে আবদুর রহমানে কর্মস্থলে পাঠানো হয়। সেখানে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের মর্গে গিয়ে তার মরদেহ দেখতে পায় ইউছুফ।

পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে স্থানীয় এক আত্মীয়ের মাধ্যমে ভালো চাকরির আশায় আবদুর রহমান সৌদিতে পাড়ি জমায়। কিন্ত সেখানে গিয়ে জানতে পারেন মরুভূমিতে উট চড়ানো হচ্ছে তার চাকরি। এ কাজ তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তবুও বহু কষ্টে তিনি দুই বছর এ কাজ করেছেন। করোনার সময়ও তার কোনো ছুটি ছিল না। এর মাঝে কারণে-অকারণে মালিকপক্ষ তাকে মারধর করত। পরে অতি নির্যাতনে সেখান থেকে তিনি পালিয়ে অন্যত্র চলে যান। যুক্ত হন নতুন আরেকটি কাজে।

নতুন কর্মস্থলের কাজটি হচ্ছে মরুভূমিতে। ছাগলের খামারের শ্রমিক হিসেবে তিনি কাজ শুরু করেন। নতুন কর্মস্থলে সুদানি সহকর্মীদের সঙ্গে তার প্রায়ই ঝগড়া হতো।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আবদুর রহমানের মরদেহের মাথার পেছনে জখম রয়েছে। শরীরের বাকি অংশগুলো অক্ষত।

কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত ঘটনা জেনেছি। তাদেরকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। তাদেরকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে। প্রয়োজনে আমরাও যোগাযোগ করব।

এ ব্যাপারে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। মরদেহ দেশে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পরিবার থেকে এখনও কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।

ইউএনও আরও বলেন, যেহেতু পরিবারের দাবি- আবদুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। সে বিষয়ে তারা সৌদিতে বাংলাদেশি দূতাবাসে অভিযোগ করতে পারে।

অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন এ কর্মকর্তা। 
৪৭ হাজার টন তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ৪ জাহাজ

৪৭ হাজার টন তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ৪ জাহাজ


চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ৪৭ হাজার ৪৪ মেট্রিক টন সয়াবিন ও পাম-তেল নিয়ে পৌঁছেছে চারটি জাহাজ।

শুক্রবার (৬ মে) বন্দরের সচিব ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে জানান, বহির্নোঙর থেকে জেটিতে আসার পর খালাস প্রক্রিয়া শুরু হবে।

জাহাজ চারটির মধ্যে, ওনিয়েন্ট চ্যালেঞ্জ ২১ হাজার মেট্রিক টন, এন এস স্টিলা ৭ হাজার মেট্রিক টন, মেঘনা প্রাইড জাহাজ সাত হাজার ৭৯৯ মেট্রিক টন ও সানজিন ১১ হাজার ২৪৫ মেট্রিক টন নিয়ে বহির্নোঙরে ভিড়েছে।

এর আগে ২ মে ২ কোটি ২৯ লাখ লিটার অপরিশোধিত সয়াবিন তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে এমভি ওরিয়েন্ট চ্যালেঞ্জ নামে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি জাহাজ।

এরই মধ্যে জাহাজটির তেল খালাস শেষ হয়েছে। সিটি গ্রুপ, সেনাকল্যাণ এডিবল অয়েল, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল ও বসুন্ধরা গ্রুপ এসব সয়াবিন তেল আমদানি করে থাকে।

সিপিএর তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ২২ দশমিক ৯ মিলিয়ন লিটার সয়াবিন তেল এসেছে এবং শুক্রবার ইন্দোনেশিয়া থেকে আরও ১৩ হাজার টন পাম তেল আসবে।

জানা গেছে, সিঙ্গাপুর থেকে ২২ দশমিক ৯ মিলিয়ন লিটার অপরিশোধিত সয়াবিন তেল নিয়ে ‘এমভি ওরিয়েন্ট চ্যালেঞ্জ’ জাহাজটি গত ২৬ এপ্রিল যাত্রা শুরু করে বৃহস্পতিবার (৫ মে) রাতে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার পতাকাবাহী ‘এমটি সুমাত্রা পাম’ জাহাজটি ১৩ হাজার টন পাম তেল নিয়ে ২৬ এপ্রিল দেশটির ‘লুবুক গিয়াং বন্দর’ থেকে যাত্র শুরু করেছে। এই জাহাজটি আজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে।

সিপিএ সেক্রেটারি উমর ফারুক জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সয়াবিন তেল নিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। দেশের শীর্ষ চার কোম্পানি সিটি গ্রুপ, সেনাকল্যাণ ভোজ্যতেল, বাংলাদেশ ভোজ্যতেল ও বসুন্ধরা গ্রুপ এ তেল আমদানি করেছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশে ইন্দোনেশিয়ার জাহাজের স্থানীয় এজেন্ট মোহাম্মদি ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক কাজী আবু নাঈম জানান, ‘এমভি সুমাত্রা পাম’ জাহাজটি শুক্রবার চট্টগ্রাম বন্দরে আসার কথা রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের শীর্ষ পাম তেল রপ্তানিকারক দেশ। বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় পাম তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করে থাকে। দেশটি (ইন্দোনেশিয়া) ২৮ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে পাম তেল রফতানি নিষিদ্ধ করেছে।

বাংলাদেশ বছরে প্রায় ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন টন পামতেল আমদানি করে। এর ৯০ শতাংশ ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা হয়। আর বাকি ১০ শতাংশ আসে মালয়েশিয়া থেকে। 
রমজান মাসজুড়ে মেহনত করায় ইমামকে গাড়ি উপহার দিল স্পেনের মুসলিমরা

রমজান মাসজুড়ে মেহনত করায় ইমামকে গাড়ি উপহার দিল স্পেনের মুসলিমরা


পবিত্র রমজান মাসজুড়ে মেহনত করায় মসজিদের ইমামকে বিলাসবহুল গাড়ি উপহার দিল স্পেনের মুসলিমরা। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মরক্কান বংশোদ্ভূত ওই ইমামের কাছে গাড়ির চাবিটি হস্তান্তর করেন তারা।

ইমামকে মুসুল্লিদের গাড়ি উপহারের এই বিরল ঘটনা নিয়ে বুধবার আলজাজিরা বিশেষ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে জানানো হয়, ইমামকে গাড়ি উপহার দেয়ার মুহূর্তের ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল।

স্পেনের লেইদা শহরের মুসলিমরা ইমামকে এই সম্মান দিয়েছে। তারা তাকে যে গাড়িটি দিয়েছে, তার মডেল হলো- অডি এ-৬।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ফুল ছিটিয়ে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে গাড়ির চাবিটি ইমামের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে। এ সময় মুসুল্লিরা ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে পরিবেশ মুখরিত করে তোলেন।

মরক্কোর একটি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ওই ইমামের নাম শায়খ ওসামা। তিনি স্পেনের ওই মসজিদে গত সাত বছর যাবত ইমামতি করছেন।
 
মরক্কোর উত্তর-পশ্চিম ল্যারাচি শহরের উপকণ্ঠ তার জন্মস্থান। তিনি ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন।
 
আলেম ও কুরআনের বাহককে যথার্থ সম্মান প্রদান করতেই ইমামকে এই বিলাসবহুল গাড়িটি উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছে বলে জানালেন ওই মসজিদের কয়েকজন মুসুল্লি।
 
শায়খ ওসামা গাড়িটি উপহার পেয়ে বেশ আপ্লুত। তিনি বলেন, ‘আজ আমি অনেক আনন্দিত। হঠাৎ মসজিদের কয়েকজন মুসুল্লি বিলাসবহুল গাড়িটি নিয়ে হাজির। আল্লাহর শুকরিয়া আদায় ও অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি।’ 

Thursday, 5 May 2022

পর্যটকদের ওপর হামলার পর জাফলংয়ে প্রবেশ ফি নেওয়া বন্ধ

পর্যটকদের ওপর হামলার পর জাফলংয়ে প্রবেশ ফি নেওয়া বন্ধ


সিলেটের জাফলং পর্যটনকেন্দ্রে প্রবেশ ফি (টিকিট) কেনাকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের ওপর অতর্কিত হামলার পর ঈদ উপলক্ষে আগামী সাতদিন প্রবেশ ফি নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে এখন থেকে আগামী সাতদিন জাফলং পর্যটনকেন্দ্রে ঢুকতে প্রবেশ ফি হিসেবে ১০ টাকা দেওয়া লাগবে না পর্যটকদের।

বৃহস্পতিবার (৫ মে) সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় সিলেটের জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান জাগো নিউজকে এতথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, এখন থেকে পর্যটনকেন্দ্রে প্রবেশের জন্য ১০ টাকার এন্ট্রি ফি আগামী সাতদিন না নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, জাফলং পর্যটনকেন্দ্রে প্রবেশ ফি কাটার দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য সব কিছু করা হচ্ছে। পর্যটকরা যাতে নিরাপদে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারেন সেজন্য জেলা ও পুলিশ প্রশাসন কাজ করছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান বলেন, ‘জাফলং পর্যটনকেন্দ্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও উন্নয়নকাজের জন্য পর্যটনকেন্দ্রে প্রবেশ ফি ১০ টাকা করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। আমার আগের জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পর্যটন সংক্রান্ত কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। স্থায়ীভাবে প্রবেশ ফি প্রত্যাহার করতে হলে ওই কমিটির সভায় আলাপ আলোচনা করে তা করতে হবে।’

এদিকে পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল আহমদ। একই সঙ্গে তিনি গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অপসারণ ও জাফলং পর্যটনকেন্দ্রে প্রবেশ ফি হিসেবে ১০ টাকা নেওয়া বন্ধের দাবি জানান।

উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল আহমদ বলেন, জাফলং পর্যটনকেন্দ্রে ১০ টাকার টিকিটের জন্য পর্যটকদের ওপর হামলা বৃহত্তর জৈন্তাবাসীর জন্য লজ্জার। অবিলম্বে অযৌক্তিক এ টিকিট কাউন্টার বন্ধ করে দিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘জাফলং শুধু গোয়াইনঘাট উপজেলার নয়, এটি বৃহত্তর জৈন্তাবাসীর সম্পদ। এখানে পর্যটকরা নিরাপত্তা না পেলে আসবেন না। এজন্য আমরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবো।’

এর আগে দুপুর ২টার দিকে ১০ টাকার টিকিট না কাটায় লাঠিসোটা নিয়ে পর্যটকদের ওপর হামলা করেন উপজেলা প্রশাসনের টোল কাউন্টারে নিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবকরা। হামলায় নারী, শিশুসহ অনন্ত পাঁচ পর্যটক আহত হন। এ ঘটনায় হামলাকারী পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। 
জাফলংয়ে পর্যটকদের ওপর হামলা, মূল হোতাসহ আটক ৫ (ভিডিও)

জাফলংয়ে পর্যটকদের ওপর হামলা, মূল হোতাসহ আটক ৫ (ভিডিও)


সিলেটের জাফলংয়ে পর্যটকদের ওপর বেপরোয়া হামলা চালিয়েছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা। এ সময় তারা নারী পর্যটকদেরও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মে) দুপুরে জাফলং পর্যটন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার মূল হোতাসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৫ মে) বিকেল ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ।


আটকদের মধ্যে দুজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- উপজেলার পন্নগ্রামের মৃত রাখাল চন্দ্র দাসের ছেলে লক্ষ্মণ চন্দ্র দাস (২১) ও একই উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে সেলিম আহমেদ (২০)।

জানা গেছে, টিকিট বিক্রি ও ছবি তোলার নামে স্বেচ্ছাসেবক নামধারী কতিপয় যুবক পর্যটকদের সঙ্গে চাঁদাবাজি করছিলেন। তারা একটি ছবি তুলে পর্যটকদের জিম্মি করে এক হাজার থেকে ১৫শ’ টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের জেরে ওই যুবকরা বাঁশের লাঠি দিয়ে পর্যটকদের ওপর বেপরোয়া হামলা চালায়। এ সময় তরুণীরা তাদের সঙ্গীদের বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাদেরও মারধর, হেনস্তা করা হয়।

জাফলং ট্যুরিস্ট পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের দ্রুত আটকের চেষ্টা চলছে।

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনাটি জানার পর আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছি।সব অভিযুক্তদের দ্রুত আটক করার চেষ্টা চলছে।

ভিডিওঃ
বিয়ানীবাজারে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের ৬জন আহত, ঈদ কেটেছে হাসপাতালে

বিয়ানীবাজারে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের ৬জন আহত, ঈদ কেটেছে হাসপাতালে


বিয়ানীবাজারে একটি পরিবারের ঈদ কেটেছে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। গত ২৭ এপ্রিল (বুধবার) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়ে ওই পরিবারটির ৬জন সদস্য ভর্তী আছেন হাসপাতালে। এরমধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশংকাজনক। পরিবারের ৬ সদস্য আহত হওয়ায় এই পরিবারটির সকল সদস্যরা ঈদ কাটিয়েছেন হাসপাতালে।

হামলায় আহতরা হলেন, বিয়ানীবাজার উপজেলার জলঢুপ কমলাবাড়ি গ্রামের খোরশেদ আলমের পুত্র আজাদ হোসেন, আজাদ হোসেনের পুত্র শামিমুল হক,  শাহেদুল হক, শফিকুল হক, সাইদুল হক, বদরুল হক। 

এ ঘটনায় বিয়ানীবাজার থানায় একটি মামলা (মামলা নং-৪, তারিখ ২/০৫/২০২২ ইংরেজি) দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী আজাদ হোসেন । 

মামলার এজহার সূত্রে জানা যায় , গত ২৭ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বিয়ানীবাজার উপজেলার দক্ষিণ পাড়িয়াবহর গ্রামের মৃত মনির আলীর ছেলে আবুল কালাম ওয়েছ, মহব্বত আলীর ছেলে বিলাল উদ্দিন, বিলাল উদ্দিনের ছেলে আহমদ গংরা প্রায় অর্ধ শতাধিক লোক নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসজ্জিত হয়ে আজাদ হোসেনের বাড়ির সামনে তাদের সেনেটারি ও ফার্ণিচার দোকানে হামলা চালায়। 

এসময় তাদের হামলায় আজাদ হোসেনের ৫ ছেলে ও তিনিও আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে আহত শামীমুল হক ও বদরুল হকের চিকিৎসা হলেও আজাদ হোসেন ও তার তিন ছেলে সাহেদুল হক, সাইদুল হক এবং শফিকুল হকের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। 

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী আজাদ হোসেন বলেন, আবুল কালাম ওয়েছ ও বিলাল উদ্দিন গংরা আমাদের দোকান ও বাড়ির জায়গা দখলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে আসছিল। আবুল কালাম ওয়েছ বিয়ানী বাজার থানার সাবেক ওসি সৈয়দ মোনায়েম ইসলাম খুনের ২নং আসামী। সে তার সহযোগিদের নিয়ে আমার ছেলেদের প্রাণের মাররা জন্য এ হামলা চালিয়েছে। এমনমি আসামীরা সিলেট ওসমানী হাসপাতালেও এসে আমাদের হুমকি দিচ্ছে। আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আমার ছেলেদেরও অবস্থা আশংকাজনক। 

এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ হিল্লোল রায় জানান, এ ঘটনায় উভয় পক্ষ বিয়ানীবাজার থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে। আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ চেষ্টা করছে। 
স্থগিত থাকা বুধবারীবাজার ইউপি নির্বাচন ১৫ জুন

স্থগিত থাকা বুধবারীবাজার ইউপি নির্বাচন ১৫ জুন



স্থগিত থাকা গোলাপগঞ্জের বুধবারীবাজার ইউনিয়ন নির্বাচন আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একই তারিখে বুধবারীবাজার ইউনিয়ন-সহ বিভিন্ন কারণে স্থগিত থাকা দেশের ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদের ভোটগ্রহণের তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, বুধবারীবাজার ইউনিয়নে বিগত নির্বাচনে যারা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তাদের আর মনোনয়ন জমা দিতে হবে না। 

তফসিল ঘোষণার পর ভোটগ্রহণের কয়েকদিন আগে স্থগিত করার ফলে গোলাপগঞ্জের বুধবারীবাজার ইউনিয়নে পুনরায় নির্বাচন হবে। 

এ লক্ষ্যে ভোটগ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট সিনিয়র জেলা/জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নির্দেশনা পাঠিয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

উল্লেখ্য গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর উপজেলার বুধবারীবাজার ইউনিয়নের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু সীমানা জটিলতার কারণে নির্বাচনের কয়েকদিন আগে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। স্থগিত হওয়ার কারণে আগামী ১৫ জুন এ ইউপিতে পুনরায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

তথ্যসূত্রঃ আরটিভি নিউজ