Sunday, 16 March 2025

রমজানের মাহাত্ম্য নষ্ট করে ইফতারি নামক কুপ্রথা

রমজানের মাহাত্ম্য নষ্ট করে ইফতারি নামক কুপ্রথা



শুরুটা করছি একটি ঘটনা দিয়ে-

রমজান মাসের ঠিক চার মাস পূর্বে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন শামীম আহমদ ও হেলেনা বেগম। বিয়ের পর প্রথম রমজান মাসে ইফতারি আসবে সেই আশায় থাকেন বরের পিত্রালয়ের লোকজন। সিলেটের ঐতিহ্য হিসেবে যথারীতি হেলেনার বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়িতে ইফতার পাঠানোও হয়। কিন্তু সেই ইফতার সামগ্রী শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মনমতো হয়নি। আর সেটা নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নানান কথা শুনতে হয় হেলেনাকে। এরই জেরে নিজ ঘরে ফ্যানের সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন হেলেনা। ঘটনাটি সিলেটের জৈন্তাপুরের। 

পুরো দেশেব্যাপী এরকম ৮/১০টি ঘটনা প্রতি রমাজনেই ঘটে থাকে। এরকম আত্মহত্যার ঘটনা এমনকি ডিভোর্স, অত্যাচার-নির্যাতনে কত বিবাহিতার সংসার তছনছ হয়ে যায় তার ইয়ত্তা নেই।  ইফতারি, আম-কাঠালী, বরের আত্মীয়স্বজনদের কাপড়চোপড় উপহার সামগ্রী-সহ হরেক রকমের কুপ্রথা যেন আমাদের সভ্য সমাজের মানুষজন অসভ্যভাবে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন। এসব রেওয়াজ কতশত পরিবারের হাহাকার বয়ে আনে তা আমরা ক'জনই জানি? সামাজিক রীতির নামে সিজনালভাবে আমরা আত্মহত্যা, ডিভোর্স আর পারিবারিক কলহের জন্ম দিচ্ছি সেদিকে আমাদের কারো ভ্রুক্ষেপই নেই!

অথচ, রমজান মাস সিয়াম সাধনার মাস। নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, দান-সদকা ইত্যাদি ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার নৈকট্যলাভের সুযোগ মেলে এ মাসে। কিন্তু পবিত্র এই মাসে ইফতারি নামক নিন্দিত কাজ ক্ষুণ্ণ করছে রমজানের মাহাত্ম্য। ইফতারি প্রথা দরিদ্রদের জন্যে এক মহাআতঙ্কের নাম ও ধনবানদের জন্যে এক বিলাসী প্রথা।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই প্রথার প্রচলন রয়েছে। আর এটা এমনভাবে মহামারী আকারে ছড়িয়ে গেছে যে, শ্বশুরবাড়ি থেকে ইফতারি আসতেই হবে। অনেক সময় দরিদ্র বাবা মেয়ের সুখের জন্যে নিজের কষ্ট লুকিয়ে রেখে হাসিমুখে মেয়ের শ্বশুরবাড়ি ইফতার পাঠায়। অন্যদিকে ইফতার প্রেরণেই যে মেয়ের নিষ্কৃতি মিলবে- এমন নয়। বাড়ির অন্য বউদের শ্বশুরবাড়ি থেকে পাঠানো ইফতারের সঙ্গে তুলনাও করা হয়। যার শ্বশুরবাড়ি থেকে যত বেশি ইফতার আসে তার ততো সুনাম। তেমনি যে মেয়ের বাবার সে সক্ষমতা কম তিনি ইফতার দিয়ে খুশি করতে না পারলে অনেক ক্ষেত্রে কথা শুনতে হয় মেয়েকে।
হয়তো মেয়েটি জানে তার বাবার অবস্থা তবুও শ্বশুরবাড়িতে নিজের সম্মানজনক অবস্থান ধরে রাখতে অনেক সময় ভেতরে চাপা কষ্ট নিয়েই বাবাকে অনুরোধ করে। মেয়ের আবদার ফেলতে পারেন না বাবা। যেভাবেই হোক টাকা সংগ্রহ করেন। সামাজিকতার এই নিয়মের চাহিদা মেটাতে কেউ সুদে টাকা নেন, কেউ গরু বিক্রি করেন কেউবা নিজের চিকিৎসার টাকা দিয়ে ইফতার সামগ্রী কিনে মেয়ের বাড়িতে পাঠান।

পক্ষান্তরে বিত্তশালী পরিবারগুলোতে চলে ইফতার প্রেরণের প্রতিযোগিতা। কে কতো বেশি ইফতার পাঠালো, কতো খরচ করলো- এ জাতীয় হিসাব-নিকাশে চলে যায় রমজান মাস।

তবে এই প্রথার বিরুদ্ধে সোচ্চার বর্তমান প্রজন্ম। অনেকেই এ কুপ্রথা ভেঙ্গে দিতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। আমি নিজেও এই প্রথার ঘোর বিরোধী। আমার বিয়ের পর এবারের রমজানই প্রথম রমজান মাস। সে উপলক্ষে আমার শ্বশুর বাড়ি থেকে ইফতারি আসবে এমন প্রস্তাবনা শুনার সাথে সাথেই আমি তা শক্তভাবে বারণ করি। সবাইকে বুঝিয়ে বলি এসব কুপ্রথা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা উচিৎ। কিন্তু শশুড়বাড়ির লোকজন সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যাহার করতে মোটেও রাজি নন। কিন্তু আমার অনড় অবস্থান এবং বিস্তর আলোচনার পর উনারাও নিজেদের সিদ্ধান্ত বদল করেন। 

উপরোক্ত আলোচনা থেকে একটি বিষয় বেশ পরিষ্কার, আর তা হচ্ছে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে এসব কুপ্রথা আমাদের সমাজে বেশ শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে পড়েছে। আমার শ্বশুরালয়ের সকলেই সমাজ সচেতন মানুষ। অথচ এই কুপ্রথাকে উনারাও সহজে বর্জন করার পক্ষে নয়। তার একমাত্র কারণ আমাদের সমাজের দৃষ্টিকোণ। আমার ঘরে ইফতারি না আসলে হয়তো উনাদের মেয়ের সম্মান কমে যাবে, অথবা আশেপাশের অনেকের ইফতারি আসবে আমার ঘরে না আসলে তা বেমানান দেখাবে এমন চিন্তা প্রত্যেক শ্বশুরালয়ের মানুষজনের মনে বিচরণ করে। বাস্তবে ঘটেও তা। সুতরাং ইফতারি প্রথা বর্জন করতে হলে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। 

আমি এব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। কে কি মনে করলো তাতে আমার ভ্রুক্ষেপ নেই। ইফতারি না আসলে যে গৃহকর্ত্রীর সম্মান কমে যাবে কিংবা তা মানদণ্ডে বিচার করা হবে তার পক্ষে আমি মোটেও নই। প্রসঙ্গত বলতে হয় যে, শ্বশুরালয় থেকে চাইলেই ৫০০ মানুষের ইফতারি আসবে এমন সামর্থ্যও উনাদের রয়েছে, মাশাআল্লাহ। কিন্তু চাইলেই ইফতারি পাওয়া যাবে তবে সমাজ থেকে ব্যাধি দূর করা চাইলেই সম্ভব নয়। তাই আমরা যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে এসব ব্যাপারে এখনই সোচ্চার না হই তবে তা দূর করতে আরোও এক মহাকাল পথ পাড়ি দিতে হবে।

সমাজে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই এসব কুপ্রথা সামাজিক ব্যাধি হিসেবে প্রতিষ্ঠালাভ করে ফেলেছে। তাই আসুন সবাই এসব কুদৃষ্টিভঙ্গি ও ইফতারি, আমকাঠালী-সহ সকল কুপ্রথার ব্যাপারে সোচ্চার হই। মনে রাখবেন, এসব কুপ্রথাকে যারা উৎসাহিত করেন তারা সকলেই আত্মহননকারী, বিবাহ বিচ্ছেদ ও নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর জন্য সমান অপরাধী। তাই এসব কুপ্রথাকে উৎসাহিকরণ নয়, দৃঢ়তার সহিত বর্জন করুন। কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায় বলতে হয়-

আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে?
তোমার ছেলে উঠলে গো মা রাত পোহাবে তবে!'

বর্তমান প্রজন্মের সকলেই সচেতন, তাই এ প্রজন্ম জেগে উঠলেই রাত পোহাবে তাতে কোনো সন্দেহ নাই।

সালমান কাদের দিপু
সম্পাদক ও প্রকাশক
কুশিয়ারা নিউজ।

Saturday, 15 March 2025

মায়ের সহায়তায় মেয়েকে ধর্ষণ, থানায় বাবার অভিযোগ

মায়ের সহায়তায় মেয়েকে ধর্ষণ, থানায় বাবার অভিযোগ


ঝিনাইদহের শৈলকুপায় মায়ের সহায়তায় ১২ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শনিবার (১৫ মার্চ) বিকেলে ভুক্তভোগীর বাবা থানায় একটি অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ওই কিশোরীর বাবা একজন ব্যবসায়ী। তিনি ব্যবসার কারণে বাড়িতে থাকতে পারেন না।

এই সুযোগে স্ত্রী ফরিদা পারভীন তার ১২ বছর বয়সী কন্যাকে ভগবাননগর গ্রামের রবির ছেলে শরিফুল ইসলাম শরীফ ও কৃষ্ণ কুমার মণ্ডলের ছেলে সন্ন্যাসী মণ্ডলের কাছে ইচ্ছার বিরুদ্ধে পাঠিয়ে দিতেন। 

অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, গত ৭ মার্চ ভগবাননগর গ্রামের জোছনার মালিকানাধীন ভাড়া বাড়িতে শরীফ এসে তার স্ত্রীকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে নাবালিকা কন্যাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে পাশবিক নির্যাতন চালান। এ ছাড়া একইভাবে গত ৮ মার্চ রাত ৯টার দিকে সন্ন্যাসী কুমার পার্শ্ববর্তী কুলচারা গ্রামের তোজামের বাড়িতে নিয়ে তার কন্যাকে দ্বিতীয়বার ধর্ষণ করেন। 

বাদী অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, এ ঘটনা কেউ যাতে দেখতে না পায় সে জন্য তার স্ত্রী ফরিদা পারভীন ঘরের বাইরে থেকে পাহারা দিতেন।

গত ১২ মার্চ তার মেয়ে ধর্ষণের এসব ঘটনা তাকে জানালে স্ত্রীর সঙ্গে বাদীর ঝগড়া ও কথা-কাটাকাটি হয়।

এ বিষয়ে ফুলহরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন বলেন, ‘লোকমুখে ঘটনাটি শুনেছি। অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম শরীফ ৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল পূলহরি ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ব্যাপারে থানার ওসি মাসুম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি একটু জটিল মনে হচ্ছে। তার পরও আমরা অভিযোগ গ্রহণ করেছি। তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গত ১২ মার্চ তার মেয়ে ধর্ষণের এসব ঘটনা তাকে জানালে স্ত্রীর সঙ্গে বাদীর ঝগড়া ও কথা-কাটাকাটি হয়।

এ বিষয়ে ফুলহরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন বলেন, ‘লোকমুখে ঘটনাটি শুনেছি। অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম শরীফ ৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল পূলহরি ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ব্যাপারে থানার ওসি মাসুম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি একটু জটিল মনে হচ্ছে। তার পরও আমরা অভিযোগ গ্রহণ করেছি। তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



সূত্র: কালেরকণ্ঠ
রমজান মাসে বিয়ে বাড়িতে ‘উচ্চ শব্দে’ গান, হামলায় আহত ১৫

রমজান মাসে বিয়ে বাড়িতে ‘উচ্চ শব্দে’ গান, হামলায় আহত ১৫


হবিগঞ্জের বাহুবলে উচ্চ শব্দে গান বাজানোর অভিযোগে বিয়ে বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর করেছে একদল যুবক। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার দুপুরে বাহুবলের লামাতাশি ইউনিয়নের ঘোষপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

স্থানীয়রা জানান, ঘোষপাড়া গ্রামের হামিদ মিয়ার মেয়ে শারমিন আক্তারের সঙ্গে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ইমন মিয়ার বিয়ে ঠিক হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে কনের বাড়িতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান চলাকালে সাউন্ড বক্সে গান বাজানো হচ্ছিল। এসময় সদর উপজেলার আলমপুর গ্রামের কয়েকজন এসে গান বন্ধ করতে বলেন।

এর জেরে শুক্রবার দুপুরে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে কনের বাড়িতে হামলা চালায় একদল যুবক। এতে কনের মা-চাচিসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।

আহতদের মধ্যে দুজনকে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল ও তিন জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বাহুবল থানার ওসি মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম বলেন, “হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” 
প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় সাবেক শিবির নেতা আটক

প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় সাবেক শিবির নেতা আটক



বরিশালের উজিরপুরে গভীর রাতে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তির অবস্থায় ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা মাইনুল ইসলামকে আটক করেছেন স্থানীয়রা। পরে তাঁকে পুলিশে দেওয়া হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামে মুসল্লিবাড়িতে এক প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে তাঁকে আটক করা হয়। ওই বাড়িসংলগ্ন মসজিদে আগে ইমামতি করতেন মাইনুল। তার বাড়ি উজিরপুর উপজেলার পশ্চিম শোলক গ্রামে।

মাইনুল গৌরনদী উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে। তবে জামায়াত দাবি করেছে, মাইনুল শিবিরের বহিষ্কৃত কর্মী।

স্থানীয়রা জানান, মসজিদসংলগ্ন পাশের বাড়ির এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে মাইনুলের অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায়ই তিনি (মাইনুল) ওই নারীর ঘরে অবাধে যাতায়াত করতেন। ওত পেতে থাকা স্থানীয় লোকজন বৃহস্পতিবার রাতে নারীসহ মাইনুলকে আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে নারীসহ মাইনুলকে গৌরনদী থানায় নিয়ে আসে।

গৌরনদী মডেল থানার এসআই মো. জুয়েল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটক ব্যক্তিকে অসামাজিক ও অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার দায়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামীর গৌরনদী উপজেলা শাখার আমির মাওলানা আল আমিন বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি আগে শিবির করতেন। নানা বদমান থাকায় তাঁকে অনেক আগে বহিষ্কার করা হয়েছে। শিবিরের বর্তমান কমিটির কোনো নেতার মোবাইল ফোন নম্বরও মাইনুলের কাছে নেই বলে দাবি করেন মাওলানা আল আমিন।
আগামী ঈদ নিজ দেশে করবে রোহিঙ্গারা: প্রধান উপদেষ্টা

আগামী ঈদ নিজ দেশে করবে রোহিঙ্গারা: প্রধান উপদেষ্টা



প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এই ঈদে না হোক আগামী ঈদে রোহিঙ্গারা নিজের দেশে ঈদ করতে পারবেন সেই প্রত্যাশা করি। শুক্রবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, রোহিঙ্গাদের দুঃখ দেখে সমাধান করতে জাতিসংঘ মহাসচিব এসেছেন। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফেরাতে সারা দুনিয়ার সঙ্গে প্রয়োজনে লড়াই করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা সবাই চাই, প্রতি ঈদের নামাজ শেষে দাদা-দাদী নানা-নানির কবর জিয়ারত করতে। কিন্তু তারা তা পারছৎ না৷ তাই আগামী ঈদ তাদের নিজ দেশে করার আশা করছি। রোহিঙ্গাদের কথা শোনার জন্য মহাসচিব ক্যাম্পে এসেছেন। তাদের কথাও শুনেছেন তিনি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে লাখো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সেনাপ্রধানসহ দেশি-বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। 

Wednesday, 12 March 2025

অলআউট অ্যাকশনে যাচ্ছে ডিবি

অলআউট অ্যাকশনে যাচ্ছে ডিবি



সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, যেমন- ধর্ষণ, খুন, লুট ও ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও অপরাধ দমনে নতুন করে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।

‘অপরাধী যে হোক, ছাড় না দেওয়া’ নীতিতে কাজ করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নৈরাজ্য রুখতে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে পুলিশ ও র‌্যাব। ‘অল আউট অ্যাকশনে’ যাচ্ছে ডিবি।

সরকারের কঠোর হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছিল রোববার (৯ মার্চ) আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে।

ওই ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছিলেন, দেশে যেই ঘটনা এখন চলছে এর সঙ্গে জড়িতরা যে ধর্ম, মত বা পথের হোক না কেন কেউ ছাড় পাবে না। সরকার এতদিন বিষয়টি সহ্য করলেও আজ থেকে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৭১টি পুলিশ চেকপোস্টসহ সিটিটিসি, এটিইউ, এপিবিএন ও র‌্যাবের টহলদল দায়িত্ব পালন করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবারের তথ্য) ডিএমপির ৫০টি থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অপরাধীদের গ্রেপ্তারে রাজধানীতে বিশেষ অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, এটি আরও বাড়ানো হবে। অপরাধীদের ধরতে আরও কঠোর হবে ডিএমপি।

সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে র‌্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীসহ দেশে র‌্যাবের ‘রোবাস্ট প্যাট্রল ও বিশেষ চেকপোস্ট’ স্থাপন করা হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব সারাদেশে তৎপর রয়েছে।

 গত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলাম, সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে। গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় অপরাধীদের গ্রেপ্তার চলমান এবং বিচারের কাজ দ্রুত ও সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে ও সরকার তৎপর। ছাত্র-যুবকদের জন্য লক্ষাধিক চাকরির ব্যবস্থা ও তরুণদের জন্য জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণের বিষয় ও গতকালের আলোচনায় উত্থাপিত হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে দৃশ্যমান পদেক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলার‌্যান্স দেখাবে এবং সে লক্ষ্যে সমন্বিত তৎপরতা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।’

এদিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষভাবে তৎপর রয়েছে। চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘অল আউট অ্যাকশনে’ যাচ্ছে ডিবি।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, ডিবি বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘অল আউট অ্যাকশনে’ যাচ্ছে ডিবি। তা ছাড়া ছোট-বড় যেকোনো অপরাধ ও অপরাধীর ক্ষেত্রে ‘জিরো টলার‌্যান্স’ নীতি অবলম্বন করেছে ডিবি।
পুলিশের ওপর বাম নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগে ঢাবিতে মধ্যরাতে বিক্ষোভ

পুলিশের ওপর বাম নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগে ঢাবিতে মধ্যরাতে বিক্ষোভ



রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বাম ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তার প্রতিবাদে এবং ছাত্র ইউনিয়ন নেত্রী ও গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক লাকি আক্তারসহ ফ্যাসিবাদের দোসরদের গ্রেফতারের দাবিতে মধ্যরাতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। 

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাত ১টায় এই বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল পাড়া থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহবাগে এসে শেষ হয়। এসময় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লাকিকে গ্রেফতারের দাবি জানায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। 

এসময় শিক্ষার্থীরা ‘ওয়ান টু থ্রি ফোর, শাহবাগ নো মোর, ল তে লাকি, তুই হাসিনা তুই হাসিনা, আমার ভাই কবরে, লাকি কেন বাহিরে, আমার সোনার বাংলায় শাহবাগের ঠাঁই নাই, শাহবাগ না জাস্টিস, জাস্টিস জাস্টিস, সারা বাংলায় খবর দে, শাহবাগের কবর দে, শাহবাগী হামলা করে, ইন্টেরিম কই করে'- ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী এবি জুবায়ের বলেন, ২৪-এর বাংলায় শাহবাগের ঠাঁই নাই। ২০১৩ সালে গণজাগরণ মঞ্চ তৈরি করে যারা হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল তারা আবারও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। আমাদের পুলিশ ভাইদের ওপর হামলা করেছে। আমরা বেঁচে থাকতে এই বাংলাদেশে শাহবাগীদের স্থান হবে না।

তিনি বলেন, আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু কুখ্যাত শাহবাগীরা তাদের ওপর হামলা করেছে। এই বাংলাদেশে আমরা কোনোদিন শাহবাগীদের পুনরুত্থান মেনে নিবো না। আমরা ছাত্রসমাজ, আমাদের দেহে একবিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত তাদের উদ্দেশ সফল হতে দিবো না। 

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, শাহবাগীরা দেখো আমরা লুঙ্গি পড়ে চলে আসছি। আপনারা দেশের আইন-শৃঙ্খলাকে বিনষ্ট করার জন্য আজকে পুলিশের ওপর হামলা করেছেন। অতি দ্রুত লাকিসহ সবাইকে গ্রেফতার করতে হবে। 

উপদেষ্টাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, হাসিনা থেকে শিক্ষা নেন। না হলে আর একটি গণঅভ্যুত্থান দেখতে পাবেন।