জাফলংয়ের পথে ১১তম ভ্রমনঃ আতাউর রহমান আফতাব

জাফলংয়ের পথে ১১তম ভ্রমনঃ আতাউর রহমান আফতাব


জাফলংয়ের পথে ১১তম ভ্রমন
স্মৃতি কথা কয়-------
আতাউর রহমান আফতাব


১৯৮৬ সনে আমরা প্রথম ভ্রমন করি জাফলং। সাথী ছিলাম তিন জন। আমি, আমার মামাতো ভাই কবির মিয়া ও মুক্তিযোদ্ধা আমান উদ্দিন শেখ। 

দীর্ঘ ১৫ বছর পর কবির মিয়া ইংল্যাণ্ড থেকে দেশে এসেছেন। তার ইচ্ছে জাফলং ভ্রমন করবেন। ইতিপূর্বে আমি কোথাও ভ্রমন করতে যাইনি দর্শনীয় স্থানে। আমি তখন আছির গঞ্জ হাইস্কুলের শিক্ষক। 

ভোরে ঘুম থেকে উঠে আমরা ৩ জন লাইন বাসে চড়ে জাফলংয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে গেলাম। তখন দুপুর ১২ টা বাজেঁ। 

চোঁখ জুড়ানে দৃশ্য, পিয়াইন নদীর শীতল জলে দর্শনার্থীরা জলকেলী করছে। তখন চা-নাস্তার একটা ভালো রেষ্টুরেন্ট ও ছিল না। মেঘালয় থেকে নিসৃত ঝর্ণাধারা থেকে পিয়াইন নদী সৃষ্টি হয়েছে। হাত ক্যামেরা দিয়ে মানুষ ছবি তুলছে। তবে, প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে সেখানে দৈনন্দিন হাজার হাজার মানুষ,শত শত যানবাহন নিয়ে যায়, আসে। 


পরবতী' সময়ে বহুবার জাফলং ভ্রমন করি আমি একাকী ও দলগতভাবে। সেখানে আমার বোনের বাড়ি ছিল। ১৯৮৮ বা ১৯৮৯ সালের দিকে তারা সেখানে একটি বাড়ি কিনেছিল। আত্মীয়তার সম্পর্কে আমাকে সেখানে যেতে হত।

স্মরণীয় ভ্রমন বৃত্তান্তের মধ্যে ১৯৯৮ সনের জাফলং ভ্রমন  ও ২০০৪ সনের ঘটনাবলি চিত্মাকর্ষক ছিল।

১৯৯৮ সনে হাজী আরকান আলী মিয়া বৃটেন থেকে ফিরে জাফলং ভ্রমনের সিদ্ধান্ত নিলেন। আমার সাথে নতুন পরিচয় তিনি ভাল কবিতা লিখেন। হাজী আরকান আলী সাহেব সে বছর আমাকে একটি ডাইরী উপহার করেন। 

আমি আমার মাদ্রাসার ছাত্রদের নিয়ে ২০০৪  সালে শিক্ষা সফরের উদ্দেশ্যে জাফলং ভ্রমন করি। তখন ছিল বর্ষাকাল। আমার প্রিয় ছাত্রদের নিয়ে জাফলংসহ বিভিন্ন স্থানে বহুবার ভ্রমন করি। জাফলংসহ বিভিন্ন স্থানের ভ্রমন কাহিনী নিয়ে আমি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি করেছি। 


২০২০ সনের ডিসেম্বর মাসের জাফলংয়ের উদ্দেশ্যে ১১ তম ভ্রমন আমার স্মরণীয় আরেকটি অধ্যায়। আমি ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে অবসর গ্রহন করলেও আমার ভ্রমন পিপাসু ছাত্ররা আমাকে সেখানে টেনে নিয়ে যায়। ছবিতে ছাত্রদের মধ্যে রয়েছে সালাম, সুহেল, মাসুম,আতিক-সহ আরো অনেকে। আমি আমার ছাত্রদের জন্য দোয়া করি, তাদের ভালোবাসি।

Previous Post Next Post
>
>