Monday, 9 November 2026

সাবেক ছাত্রদল নেতা শাহজাহান চৌধুরীর স্বদেশ আগমনে সংবর্ধনা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক অবদান স্মরণ

সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ইউরোপ অর্গানাইজেশন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীর স্বদেশ আগমন উপলক্ষে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

রবিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সিলেট সিটি করপোরেশনের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড জাতীয়তাবাদী পরিবারের উদ্যোগে নগরীর বালুচর নতুনবাজারে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সিলেট মহানগর ছাত্রদল নেতা জাকারিয়া সাইফুলের সঞ্চালনায় এবং সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা এম.এ. রহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি শেখ ফারুক উদ্দিন, বিএনপি নেতা ফজলু মিয়া, সিলেট মহানগর কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদ আহমদ, বিএনপি নেতা আনোয়ার হুসেন, সাবেক ছাত্রদল নেতা ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিশিষ্ট সমাজসেবক জয়নাল আবেদিন আবেদ, সিলেট জেলা যুবদলের সদ্য সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হুসেন গেদু, সিলেট মহানগর যুবদলের সদ্য সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক হুসেন আহমেদ, সিলেট জেলা যুবদলের সদ্য সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন আহমেদ, শাহপরান (রহ.) থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুপা মিয়া, সিলেট জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সামাদ লস্কর মুনিম, এমসি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সেলিম আহমেদ সাগর ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সানাউল হুসেন সনি।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদল নেতা মুহিবুল ইসলাম শুভন, শহিদুল ইসলাম শিপলু, সৈয়দ সজিব, মামুন আহমেদ ও মারুফ আহমেদ এবং ওয়ার্ড যুবদল নেতা জামাল আহমেদ, এমরান আহমেদ ও রাজু মিয়া প্রমুখ।

বক্তারা শাহজাহান চৌধুরীর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ছাত্রদলের কঠিন সময়ে তিনি সম্মুখ সারিতে থেকে সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার উদ্যোগ ও নেতৃত্বেই ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। সংগঠনকে সুসংগঠিত রাখতে তার নিরলস প্রচেষ্টা ও অবদানের কথা স্মরণ করেন বক্তারা।

তারা আরও বলেন, দলকে সুসংগঠিত করতে গিয়ে বিগত সময়ে শাহজাহান চৌধুরী বিভিন্ন হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তার ত্যাগ, সাহস ও সাংগঠনিক অবদান জাতীয়তাবাদী পরিবারের নেতাকর্মীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বক্তারা তার আগামী দিনের পথচলা ও সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যকালে শাহজাহান চৌধুরী আয়োজকবৃন্দকে ও উপস্থিত অতিথিদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর স্বদেশের মাটিতে ফিরে সকলের ভালোবাসা ও আন্তরিক অভ্যর্থনা পেয়ে তিনি অভিভূত। ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আদর্শিক বন্ধনের। ছাত্রদলের শুরুর দিনগুলো থেকে শুরু করে নানা প্রতিকূল সময়ে যারা সংগঠনের পাশে ছিলেন, তাদের অবদান কখনো ভুলে যাওয়ার নয়।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক জীবনে অনেক বাধা, প্রতিকূলতা, হামলা ও মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবুও জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও বিশ্বাস থেকে কখনো বিচ্যুত হননি। কারণ আদর্শের রাজনীতি কখনো ভয়ভীতি কিংবা নির্যাতনের কাছে মাথা নত করে না। জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী কাউকে হামলা-মামলার ভয় দেখিয়ে দাবিয়ে রাখা যায় না। যারা দলের দুঃসময়ে সাহস ও ত্যাগের সঙ্গে রাজপথে ছিলেন, তারাই সংগঠনের প্রকৃত শক্তি।

শাহজাহান চৌধুরী বলেন, প্রবাসে অবস্থান করলেও দেশের মাটি, মানুষের ভালোবাসা এবং দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক সবসময় অটুট ছিল। অতীতের মতো আগামীতেও জাতীয়তাবাদী আদর্শকে বুকে ধারণ করে দলের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে উঠে সংগঠনের ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সবশেষে ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড জাতীয়তাবাদী পরিবারের নেতাকর্মীসহ উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি এবং আগামী দিনের পথচলায় সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে অতিথিরা শাহজাহান চৌধুরীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। এ সময় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ফুলের তোড়া দিয়ে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

(বিজ্ঞপ্তি)