Tuesday, 29 June 2021

মালয়েশিয়ায় পৃথক অভিযানে বাংলাদেশিসহ ২৩৫ অভিবাসী আটক

মালয়েশিয়ায় পৃথক অভিযানে বাংলাদেশিসহ ২৩৫ অভিবাসী আটক



মালেয়েশিয়ার দুই প্রদেশ থেকে বাংলাদেশিসহ মোট ২৩৫ জনকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন পুলিশ। দেশটির অবৈধ অভিবাসীবিরোধী অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

মঙ্গলবার (২৯ জুন) রাতে গণমাধ্যম ও অভিবাসন বিভাগের বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার ভোর ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দেশটির মালাক্কা প্রদেশ ও কুয়ালা তেরেঙ্গানু নামক ২টি পৃথক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ২৩৫ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়। আটক ২৩৫ জনের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি ও ইন্দোনেশিয়ার ১৭ জন নাগরিক রয়েছেন।

এদিকে কুয়ালা তেরেঙ্গানু এলাকার কয়েকটি নির্মাণ সেক্টরে অভিযান পরিচালনা করে ২০০ জন অভিবাসী আটক করা হয়েছে। তবে এই অভিযানে কতজন বাংলাদেশি বা অন্যান্য দেশের কতজন নাগরিক রয়েছেন প্রতিবেদন তা উল্লেখ করা হয়নি।

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হামজা জয়নুদ্দিন এক বিবৃতিতে বলেন, আটক সকল বিদেশিদের ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/১৯৬৩ এর অধীনে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া এই বিদেশিদের অবৈধভাবে নিয়োগের অভিযোগে তাদের নিয়োগকারীদেরকে একই আইনের আওতায় তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় থাকা সকল অভিবাসীদের প্রচলিত আইন মানতে হবে। এদিকে দেশটির মালাক্কা প্রদেশে ইমিগ্রেশন বিভাগের যৌথ অভিযানে একটি ডুরিয়ান (জাতীয় ফল) বাগানে লুকিয়ে থাকার সময় ৩৫ জন অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে।

এর মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি ও ১৭ জন ইন্দোনেশিয়ান নাগরিক রয়েছেন। তাদেরকে বৈধ কাগজপত্র না থাকার কারণে আটক করা হয়েছে। আটক সকল অভিবাসীদেরকে মাচাম্বু ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে পাঠানোর আগে কোভিড-১৯ এর স্ক্রিনিং,করানো পরীক্ষা করতে জেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে (পিকেডি) নেয়া হয়েছে।

প্রবাসীদের রেমিট্যান্সে দেশে ৪৬ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড রিজার্ভ

প্রবাসীদের রেমিট্যান্সে দেশে ৪৬ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড রিজার্ভ



করোনা মহামারির মধ্যেই বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন ৪৬ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। এ মাইলফলকের এ রেকর্ড রিজার্ভ সৃষ্টি হয়েছে  প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ভর করেই।

মঙ্গলবার (২৯ জুন) দিনশেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬ দশমিক শূন্য ৮২ বিলিয়ন ডলার, যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতি মাসে চার বিলিয়ন ডলার হিসাবে দেশের এ রিজার্ভ দিয়ে ১১ মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ থাকতে হয়।

চলতি মাসে জুনের শুরু থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত ১৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা তার আগের বছর (২০২০ সাল) একই মাসের থেকে ১০ কোটি ডলার বেশি। গত ২০২০ সালের জুন মাসে দেশে প্রবাসী আয় আসে ১৬৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, অর্থবছরের শুরু থেকে দেশে এখন পর্যন্ত (২৮ জুন) দুই হাজার ৪৫৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। হিসাব বলছে, আগের বছরের তুলনায় এ বছর রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির হার ৩৬ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা জানান, আসন্ন ঈদকে (কোরবানির ঈদ) সামনে রেখে প্রবাসীরা বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। প্রতি বছরেরই দুই ঈদের আগে অন্য সব মাস থেকে রেমিট্যান্স বেশি পাঠান রেমিট্যান্স যোদ্ধারা।

এর আগে চলতি বছরের বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) দিনশেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। ১ জুন (মঙ্গলবার) দিনশেষে প্রথমবারের মতো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়ায় ৪৫ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলারে। তার আগে ৩ মে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৫ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছিল। ২৪ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ দাঁড়িয়েছিল ৪৪ দশমিক শূন্য দুই বিলিয়ন ডলার।

২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ ছিল ৪৩ বিলিয়ন ডলার, ১৫ ডিসেম্বর ৪২ মিলিয়ন এবং ২৮ অক্টোবর রিজার্ভ ৪১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল।

অন্যদিকে রিজার্ভে রফতানি আয়েরও প্রভাব আছে। চলতি বছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) পণ্য রফতানি থেকে ৩৫ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার আয় করে দেশ, যা তার আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ ২০২০ সালের ১১ মাসে (জুলাই-মে) তিন হাজার ৯৫ কোটি ৯১ লাখ (৩০ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছিল।

লুয়টের সভায় আং ওহাব খান'র মৃত্যুতে শোক প্রকাশ ও দোয়া অনুষ্ঠিত

লুয়টের সভায় আং ওহাব খান'র মৃত্যুতে শোক প্রকাশ ও দোয়া অনুষ্ঠিত



করোনা মহামারিজনিত কঠোর বিধি-নিষেধের কারণে দীর্ঘ প্রায় দেড় বৎসর ভার্চুয়াল মিটিংয়ের পর প্রথমবারের মত গত রবিবার (২৭ জুন) নির্বাহী সদস্যদের সশরীরে উপস্থিতির মধ্য দিয়ে ট্রাষ্টের সহ সভাপতি আব্দুল বারী আযাদের বার্মিংহামস্থ বাসভবনে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আবহে অনুষ্ঠিত হয় কার্যকরী কমিটির সভা। এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ট্রাষ্টের সভাপতি মনসুর আহমেদ। 


আশরাফুল হক খান রুমানের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পরপরই সেক্রেটারি আব্দুল কুদ্দুস খান সভার আলোচ্যসূচী ও বিগত সভার কার্যবিবরণী পাঠ করে শোনান। এরপর একে একে আলোচনায় অংশ নেন বদরুল হক চৌধুরী মালেক (উপদেষ্টা), কামরান আহমেদ সিকন্দরী, মামুনুল হক সাজু, নূরুস সুফিয়ান চৌধুরী, আব্দুল হাফিজ ফজলু, সিরাজুল গোফরান চৌধুরী, সাহেদুর রহমান, মাহমুদুল হাসান রাসেল, আলী হোসেন লয়লু, আবু হানিফ, সুরমান মিয়া, সমসু মিয়া(ট্রাস্টি) প্রমুখ। 

দীর্ঘ আলোচনাশেষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্তসমূহ হল-

১) চার সপ্তাহের মধ্যে যাকাত ফান্ডের অর্থে দুটি ট্রাক্টর দুই গরীব কৃষকের নিকট হস্তান্তর ২)যাকাত ফান্ডে উত্তোলিত অর্থে জাফরাবাদ,বিবিদইল, খুজখালু গ্রামের তিনটি দুঃস্থ পরিবারের জন্য তিনটি গৃহনির্মাণ কাজের যথাশীঘ্র  আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ৩)ট্রাস্টিদের নিয়ে ইউকে অথবা ইউকের বাইরে আনন্দ ভ্রমণ ৪) ৫ম লুয়েট ব্যডমিন্টন ট্যুর্নামেন্ট আগষ্ট,২০২১-এ আয়োজন ৫) তাৎক্ষণিক আবেদনের প্রেক্ষিতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর অগ্নিদগ্ধ এক ব্যক্তির চিকিৎসায় ২০ হাজার টাকা অনুদান।


এ ছাড়াও সভায় সদ্য প্রয়াত ইউনিয়নের প্রবীণ মুরব্বি বিশিষ্ট সমাজসেবী ও সালিশ ব্যক্তিত্ব জনাব আব্দুল ওহাব খান (খোকা খা)’র মৃত্যুতে লালাবাজার ইউনিয়ন এডুকেশন ট্রাস্ট, এর পক্ষ থেকে শোক প্রকাশপূর্বক তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষভাবে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সহ সভাপতি সাহেদুর রহমান। 


উল্লেখ্য, একেবারে ঘরোয়া পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সভার বিশেষ আকর্ষণ ছিল আব্দুল বারী আযাদের পরিবার কর্তৃক নিজ হাতে তৈরি বিভিন্ন পদের মজাদার ও মুখরোচক সব খাবার। সভাপতি মনসুর আহমেদসহ সভায় উপস্থিত সবাই আং বারী আযাদের এ বিশাল আয়োজনের জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ট্রাষ্টের পক্ষ থেকে উক্ত সভার স্মারক অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে নিয়ে মনসুর আহমেদ আং বারী আযাদের হাতে তুলে দেন।পরে  সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

সালিসে কিশোরীকে বিয়ে, আলোচিত সেই চেয়ারম্যান বরখাস্ত

সালিসে কিশোরীকে বিয়ে, আলোচিত সেই চেয়ারম্যান বরখাস্ত


সালিস বৈঠকে কিশোরীকে বিয়ে করা আলোচিত সেই চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। সোমবার (২৮ জুন) রাতে স্থানীয় সরকার বিভাগের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 

জানা গেছে, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ৬ নম্বর কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহিন হাওলাদার সালিশ করতে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোরীকে বিয়ে করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৪ (৪) (ঘ) ধারার অপরাধ সংঘটিত করায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এছাড়া কেন তাকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হবে না তা পত্র প্রাপ্তির ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে জবাব পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। 

বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি শুনেছি। লিখত অফিস আদেশ এখনও হাতে পাইনি।

জানা গেছে, কনকদিয়া ইউনিয়নের নারায়নপাশা গ্রামের বাসিন্দা মো. রমজান (২৫) একই ইউনিয়নের চুনারপুল এলাকার অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি মেয়েটির বাবা। তিনি বিষয়টি কনকদিয়া ইউপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. শাহিন হাওলাদারকে জানান। পরে চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার আনুষ্ঠানিকভাবে ওই যুবক ও কিশোরীর বিয়ে দেওয়ার কথা বলে কনকদিয়া ইউপি কার্যালয়ে সালিস বৈঠকের আয়োজন করেন। সে অনুযায়ী গত শুক্রবার সকাল ৯টায় দুই পরিবারের সদস্যরা ইউপি কার্যালয়ে যান। 

সেখানে মেয়েটিকে দেখে পছন্দ হয়ে যায় চেয়ারম্যানের। তিনি মেয়েটিকে বিয়ে করার আগ্রহ দেখান। মেয়ের বাবা এতে রাজি হলে বিকেলেই কাজি ডেকে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে মেয়েটিকে বিয়ে করেন চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার। বিয়ের কাবিন নামায় মেয়েটির জন্মতারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২০০৩ সালের ১১ এপ্রিল। কিন্তু বিদ্যালয়ে দেওয়া জন্মনিবন্ধন ও পিএসসি পাসের সনদ অনুযায়ী মেয়েটির জন্মতারিখ ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল। বিয়ের পর মেয়েটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান চেয়ারম্যান। তবে বাড়িতে তার প্রথম স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন না।

বিয়ের পর দিন শনিবার (২৬ জুন) কিশোরী নসিমন বেগম (১৪) চেয়ারম্যানকে তালাক দেন। এরপর সোমবার (২৮ জুন) সকালে প্রেমিক রমজান হাওলাদারের বড় ভাই হাফেজ মো. আল ইমরান বাদী হয়ে হাওলাদারসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আমলি আদালতে মামলা করেন।

ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি গত ২১ জুন অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার স্ত্রী আছে। সেই সংসারে তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলেকেও বিয়ে দিয়েছেন।

সকল ইউপি নির্বাচন স্থগিত, দায়িত্বে থাকবেন বর্তমান জনপ্রতিনিধিরাই

সকল ইউপি নির্বাচন স্থগিত, দায়িত্বে থাকবেন বর্তমান জনপ্রতিনিধিরাই



করোনা ভাইরাসের কারণে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান জনপ্রতিনিধিরাই দায়িত্বে থাকবেন।

সোমবার (২৮ জুন) রাতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

গত ৩ মার্চ প্রথমধাপের ৩৭১টি ইউপির তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ভোট হওয়ার কথা ছিলো ১১ এপ্রিল। কোভিড পরিস্থিতির কারণে ভোট স্থগিত করা হয়। পরে গত ৩ জুন ভোটের তারিখ পুনঃনির্ধারণ করে ২১ জুন করা হয়।

তবে সীমান্তবর্তী এলাকায় কোভিড পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় ১৬৭টি ইউপির ভোট স্থগিত করা হয়। বাকি ২০৪টি ইউপিতে গত ২১ জুন ভোট অনুষ্ঠিত হয়।

Monday, 28 June 2021

ভূমধ্যসাগর থেকে বাংলাদেশিসহ ১৭৮ অভিবাসন প্রত্যাশী উদ্ধার, মৃত ২

ভূমধ্যসাগর থেকে বাংলাদেশিসহ ১৭৮ অভিবাসন প্রত্যাশী উদ্ধার, মৃত ২


ভূমধ্যসাগর থেকে ভাসমান অবস্থায় বাংলাদেশিসহ ১৭৮ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে তিউনিসিয়ার নৌবাহিনী। রোববার তিউনিসিয়া উপকূল থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। ওই সময় উদ্ধার করা হয়েছে দুজনের মরদেহ। উদ্ধারদের বেশিরভাগই বাংলাদেশি। যারা নৌকায় অবৈধভাবে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা করছিলেন। উদ্ধার অন্যরা হলো ইরিত্রিয়া, মিসর, মালি ও আইভরি কোস্টের নাগরিক।

পরে তিউনিসিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ যেকরি জানান, অভিবাসনপ্রত্যাশীরা নৌকায় ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইউরোপ যাচ্ছিল। পথে তাদের নৌকা ভেঙে যায় এবং সেটি ডুবে যেতে থাকে। পরে সংকেত পেয়ে তিউনিসিয়া নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে।

এর আগে গত ২৫ জুন ভূমধ্যসাগরে ভাসমান অবস্থা থেকে ২৬৪ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়। পরে তিউনিসিয়া কোস্টগার্ড জানায়, ২৬৪ বাংলাদেশি ও তিন মিসরীয় নাগরিকসহ ২৬৭ অভিবাসনপ্রত্যাশী একটি নৌকায় অবৈধভাবে লিবিয়া থেকে ইউরোপ যেতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু মাঝ সমুদ্রে নৌকাটি বিকল হয়ে গেলে বিপদে পড়েন তারা।

এরপর এসব অভিবাসনপ্রত্যাশীকে তিউনিসিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় বেন গুয়েরদেন বন্দরে পৌঁছাতে সাহায্য করে দেশটির নৌবাহিনী। পরে তাদের আইওএম এবং রেড ক্রিসেন্টের হাতে তুলে দেয়া হয়।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্যমতে, চলতি বছরের শুরু থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপের পথে যাত্রা করে। এ সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় শতকরা ৭০ ভাগ বেশি।

সুরমা-কুশিয়ারা'সহ সিলেটের ৭৮টি নদী-খাল খননের উদ্যোগ

সুরমা-কুশিয়ারা'সহ সিলেটের ৭৮টি নদী-খাল খননের উদ্যোগ



সুরমা-কুশিয়ারাসহ সিলেট জেলার ৭৮টি ছোট-বড় নদ-নদী ও খাল খনন করার উদ্যোগ নিয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সুপারিশের ভিত্তিতে এ উদ্যোগ নেয় হয়েছে।

সিলেট জেলার প্রধান নদী সুরমা-কুশিয়ারাসহ ছোট-বড় নদী ও খালগুলো নাব্যতা হারিয়ে বিপন্নের পথে। নদী ভরাটের কারণে বোরো চাষীরা হাহাকার করেন ওই মৌসুমে। সুরমা-কুশিয়ারা এখন যৌবনহারা। এমনকি ভাঙনের কবলে বদলে গেছে সিলেটের কয়েকটি অঞ্চলের মানচিত্র।

সিলেটের নদ-নদী ও খালসমূহ অতীতে একাধিবার খননের উদ্যোগ নিয়েও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন কিছুদিন আগে সিলেটের নদ-নদী ও খালসমূহের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দ্রুত খনন করতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার প্রেরণ করেন।

প্রেরিত ডিও লেটার প্রাপ্তির পর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একটি টিম নদী ও খালগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দাখিল করেন এবং পরবর্তীতে কানাইঘাট উপজেলার নকলা ও জৈনকা খাল খনন করা হয়। এছাড়াও বাকি ৭৬টি নদী ও খাল দ্রুত খননের উদ্যোগ নিয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। বিষয়টি গত ২৪ জুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবরে জানান পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি।

উল্লেখ্য, সিলেটে পানির বড় উৎস সুরমা ও কুশিয়ারা নদী। এই দুই নদীর নাব্য হারিয়ে যাচ্ছে বলে অন্যান্য নদী এবং খালের মাছ ও জলজ উদ্ভিদও মরে যাচ্ছে। ২১৭ মাইল দীর্ঘ সুরমা নদী বিভিন্নস্থান এখন ভরাট। এক সময় এসব নদী দিয়ে চলাচল করত পণ্যবাহী জাহাজ। যা এখন কল্পনাও করা যায় না। নৌকা চালালেও আটকে যায় বিভিন্ন স্থানে। সুরমা-কুশিয়ার ছাড়াও সিলেটের অন্যান্য নদী এবং খালও নাব্যতা হারিয়ে আজ বিপন্ন প্রায়।

সিলেট জেলার উপজেলাগুলোতে প্রবাহমান নদীগুলো হচ্ছে- সুরমা, কুশিয়ারা, পিয়াইন, সারী, পুরকচি, কাপনা, ডাকসা, বাসিয়া, বড়রাখা, বেটুয়া, জুরী, সোনাই, বড়গাং, ধামাই, ক্ষেপা, কাটা, মরাকাপনা, বড়ডারগা, ধলাই, বাজাসিং, মাকুন্দ, কাপনা, ব্রাক্ষণা, হাটখোলা ও কুড়া নদী।